Home / ইসলাম / ফতোয়া / পৃথিবী বসবাসের অনুপযোগী হওয়ার সত্ত্বেও ইসলাম কিভাবে বলে অধিক সন্তান নিতে

পৃথিবী বসবাসের অনুপযোগী হওয়ার সত্ত্বেও ইসলাম কিভাবে বলে অধিক সন্তান নিতে

ইসলামে নারীর শিক্ষাআমাদের এক ভাই প্রশ্ন করেছেন যে, “রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন, “তোমরা অধিক সন্তান প্রসবকারিনী মহিলাদের বিয়ে করো।” অথচ বর্তমান সময়ের ডাক্তারগণ বলছেন ১/২ সন্তান নিতে কারণ পৃথিবীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে আর এতে করে পৃথিবী বসবাস অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। তাহলে কিভাবে ইসলাম পৃথিবী বসবাস অনুপযোগী হওয়ার মতো একটি কথা বলতে পারে?

উত্তরঃ আলহামদু লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামি-ন; ওয়াস সলা-তু ওয়াস সালা-ম ‘আলা- রসূলিল্লাহ। ওয়া বা’দ …..
এই প্রশ্নটি সচারচার আমাদের নাস্তিক ভাইয়েরা করে থাকেন। প্রশ্নটি করতে গিয়ে তারা বাস্তবতার মোড়কে, যুক্তির নিরিখে নিজেদের অজ্ঞতাকে ঢেঁকে বিজ্ঞতাকে জাহির করার চেষ্টা করে থাকেন। তাদের এই অপচেষ্টার বিপরীতে শত শত জ্ঞানীর মাঝে দুই জন মনীষীর দুটি উক্তি হৃদয়গম করা যেতে পারে।
এদের মধ্যে একজন হলেন স্যার ফ্রান্সিস বেকন। [স্যার ফ্রান্সিস বেকন (২২শে জানুয়ারি, ১৫৬১ – ৯ই এপ্রিল, ১৬২৬) একাধারে একজন ইংরেজ দার্শনিক, আইনজ্ঞ, কুটনৈতীক এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার পথপ্রদর্শক। আইনজীবি হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করলেও তিনি বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের প্রবক্তা এবং জ্ঞানান্ধতা ও গোঁড়ামি বিরোধী হিসেবে সুখ্যাত হন। ফ্রান্সিস বেকনকে অভিজ্ঞতাবাদের জনক বলা হয়। তিনি দর্শনিক চিন্তাধারার কিছু মৌলিক তত্ব প্রবর্তন করেন যেগুলোকে বেকনিয়ান মেথডও বলা হয়ে থাকে। কোন জিনিষের উৎস অনুষন্ধানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অনুসন্ধানের প্রক্রিয়াগুলো তিনিই প্রবর্তন করেন। এইসব প্রক্রিয়াকে সংক্ষেপে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া বলা হয়। – সূত্র: উইকিপিডিয়া] স্যার ফ্রান্সিস বেকন বলেছিলেন, “যে বিজ্ঞানকে অল্প জানবে সে নাস্তিক হবে, আর যে ভালো ভাবে বিজ্ঞানকে জানবে সে অবশ্যই ঈশ্বরে বিশ্বাসী হবে।”
অতএব, স্যার ফ্রান্সিস বেকনের মতে আমাদের নাস্তিক ভাইয়েরা বিজ্ঞান সম্পর্কে অল্প জ্ঞানের অধিকারী। আর তাই “অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী” এই প্রসিদ্ধ প্রবাদটির বাস্তবতা তাদের কৃত-কর্মের মাধ্যমে হয়তো অনেকেই অনুধাবন করেছেন।
আরেক জন মনীষী আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, “ধর্ম ছাড়া যে বিজ্ঞান সেটা হল পঙ্গু আর বিজ্ঞান ছাড়া যে ধর্ম সেটা হল অন্ধ।”
কাজেই যদিও আমাদের এই নাস্তিক ভাইয়েরা তাদের দেয়া যুক্তিকে বাস্তব সম্মত ও বিজ্ঞান সম্মত বলে দাবী করে; মূলতঃ তাদের যুক্তি না বাস্তব সম্মত আর না বিজ্ঞান সম্মত। ইনশা আল্লাহ! আমাদের পরবর্তী আলোচনায় এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে।
মানবীয় দৃষ্টিকোন থেকে যদি বলি তাহলে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পৃথিবী বসবাস অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে এই কু-যুক্তি বা ভয় দেখিয়ে [“১/২ জনের বেশি মানব সন্তানকে দুনিয়াতে আসতে দেয়া যাবে না”] এই নীতি প্রোনয়ণ করা সম্পূর্ণ মানবতা বিরোধী।
এই দুনিয়া বা পৃথিবী হচ্ছে মানুষের বসবাসের জন্য; কাজেই মানুষেরই অবাধ বিচরণ স্থল হবে এই পৃথিবী। এখানে যারা ইতিমধ্যে এসে গেছে তারাই এই দুনিয়ায় মোজ-মাস্তি, আনন্দ-ফূর্তি করবে, এই দুনিয়ার নাজ-নিয়ামত ভোগ করবে আর এই স্লোগান দিবে যে, “খাও দাও ফুর্তি করো”; অপর দিকে যারা এখনো এই দুনিয়াতে আসেনি, তারা যেন এই দুনিয়ায় আসতে না পারে, এই জন্য ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা করে অনাগতদের পথকে সংকির্ণ করে দেয়া অথবা বন্ধ করে দেয়া মানব সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার শামিল। আর তাদের উদ্দেশ্যও এই যে, আমরা একাই খাবো, একাই ফূর্তি করবো।
চিন্তা করেন! মানব সন্তান দুনিয়াতে আসার পূর্বেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রের যের ধরেই নিজেদেরকে স্মার্ট দাবীদার নাস্তিকদের আর তথাকথিত আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ভাবধারীদের কর্মসূচীতে দেখা যাচ্ছে যে, তারা বিবাহপূর্ব লিভ টুগেদার (বা জেনা-ব্যভিচার) অতপর এবোশন করে শত-সহস্র মানব সন্তাকে ডাস্টবিনে ফেলে রেখে যাচ্ছে। তাদের এই জঘন্য নীতির কারনেই আজ মানব সন্তানকে রক্ষা করতে মানবতা (?) কর্মীদের এই স্লোগান দিতে দেখা যাচ্ছে: “অনাকাঙ্ক্ষিত শিশু ডাস্টবিনে নয়, দানবাক্সে ফেলুন”, বলা হচ্ছে: “ওরাও বাঁচতে চায়”। কাজেই জেনে রাখুন “বিপন্ন মানবতার নৃশংসতম হত্যার আরেক নাম-গর্ভপাত”।
আশ্চর্যের বিষয় এদেরকেই আবার দেখবেন মানবাধীকার আন্দোলনে চিৎকার করে গলা ফাটাচ্ছে। মূলতঃ এরা মানবাধিকারের স্লোগানে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করে থাকে। আর আমরা সাধারণ বলদরাও তাদের প্রতি আবেগে আপ্লুত হয়ে পরি।
………..
এবার বাকি থাকল তাদের কু-যুক্তি যে, “জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবী বসবাস অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে অথচ ইসলাম বলে অধিক সন্তান প্রসবকারিনী মহিলাকে বিয়ে করতে, বেশি বেশি সন্তান নিতে ইত্যাদি..”। এ প্রসঙ্গে আমার বাস্তব জীবনের একটি ঘটনা বলি …
(২০০৯ বা ২০১০ সালে) একদিন রাতে গতি নিয়ে হাটছিলাম প্রায় নির্জন এক রাস্তা দিয়ে। দুই অমুসলিম বন্ধুও সেই পথ ধরে হাটছিল। যখন আমি তাদেরকে অতিক্রম করছিলাম তখন আমার কানে ভেসে আসল তাদের একজন বলছে যে, “এই মাদ্রাসাগুলো থেকেই জঙ্গী তৈরী হচ্ছে.. । কাজেই এই মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দিতে হবে।” ইতিপূর্বেই আমি তাদের থেকে ৪/৫ কদম অগ্রসর হয়ে গিয়েছিলাম, কথাটি শুনার পর দাড়িয়ে গেলাম। অতঃপর তাদের সাথে আমার কথোপকথন নিম্নরুপ-
আমিঃ আমি একজন জেনারেল শিক্ষিত, অনার্স পড়ছি ইংলিশ লিটারেচার নিয়ে। আপনি আমাকে বাংলাদেশের এমন একটি মাদ্রাসার নাম বলেন যেখানে জঙ্গীবাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় অথবা পুলিশ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণে নয়, অল্প সংখ্যক অস্ত্র পেয়েছে? একটি মাদ্রাসার নাম বলেন?
দুই বন্ধুঃ নিশ্চুপ।
আমিঃ তাহলে কেন মিথ্যা বলছেন যে, মাদ্রাসাগুলোতে জঙ্গী তৈরী হচ্ছে..? মাদ্রাসা যদি না থাকতো আজ মানবতা বলতে কিছুই থাকতো না। মাদ্রাসাগুলোতেই যথাযথভাবে শিক্ষা দেয়া হয়- অন্যায় না করার, বড়দেরকে সম্মান করার। আমি আপনাদেরকে বলি আমি ইউনিভার্সিটিতে পড়ি। এটা সবাই জানে, পেপার পত্রিকা, টেলিভিশন সাক্ষ্য যে, প্রকাশ্যে এই ইউনিভার্সিটির ছাত্ররাই একে অন্যকে হত্যা করছে। এই ছাত্রদের মধ্য থেকেই মেয়েদেরকে ইভটিজিং করছে বা ধর্ষণ করছে। পুলিশ তল্লাশি করে এই ইউনিভার্সিটির হোস্টেলগুলো থেকেই বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করছে। গোলাগুলির শব্দ এই ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসগুলো থেকেই পাওয়া যাচ্ছে। কাজেই জঙ্গি আর সন্ত্রাস তৈরী হচ্ছে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইউনিভার্সিটিগুলো থেকে, মাদ্রাসা থেকে নয়। মাদ্রাসা থেকে মানুষ তৈরী হচ্ছে… আলহামদু লিল্লাহ!
প্রথম বন্ধুঃ কিন্তু এই মাদ্রাসার আধুনিক শিক্ষার মান উন্নত না। এখানে কম্পিউটার শিখানো হয় না। তথ্য-প্রযুক্তি বা বিজ্ঞান সম্পর্কে পড়াশুনা হয় না।…
আমিঃ হ্যা, আপনি এটা বলতে পারেন যে, মাদ্রাসাগুলোতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নাই কাজেই এখানে কম্পিউটারের ব্যবস্থা করতে হবে, তথ্য-প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের জানতে হবে। কিন্তু এটা বলতে পারেন না যে, মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। যদি মানুষের মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞান না থাকতো তাহলে মানুষ উগ্র, বিশৃংখল হয়ে যেত তখন সমাজ ধ্বংস হয়ে যেত। ধর্মীয় জ্ঞানই মানুষকে সহনশীল হতে শিখায়।
দ্বিতীয় বন্ধু বিষয়টি মেনে নিয়ে কিছুটা আগ্রহী হয়ে অন্য প্রসঙ্গে আমাকে একটি পরামর্শ দিতে চাইলেন এইভাবে-
দ্বিতীয় বন্ধুঃ আচ্ছা আপনাদের মুসলমানদের মধ্যে হুজুরদের একটা সমস্যা হচ্ছে, তারা কোন জন্ম নিয়ন্ত্রণ করে না। বেশি বেশি সন্তান নেয় আর আপনাদেরকে বেশি বেশি সন্তান নিতে বলে; এটা তো একটা বড় সমস্যা। আমাদের কথাতো মানবে না, আপনি হুজুর মানুষ আবার এ বিষয়গুলোতে জ্ঞানও আছে, আপনি তাদেরকে বিষয়টি একটু বুঝান যেন মুসলমানরা বেশি সন্তান না নেয়।
আমিঃ আচ্ছা আমাকে একটু খোলাসা করে বলেন বেশি সন্তান নিলে কি কি সমস্যা আপনি মনে করেন? (কথোপকথোনের এই পর্যায়ে প্রথম বন্ধু হয়তো তার ব্যস্ততার কারণে নয়তো আমার প্রতি তার বিতৃষ্ণার কারণে চলে যেতে উদ্যত হলেন কারণ এটা ছিল আমার সাথে তার দ্বিতীয় অযাচিত সাক্ষাত ইতিপূর্বেও আমার সাথে প্রথমবার “কুর‘আনে বৈজ্ঞানিক ভুল আছে” এই বিষয় নিয়ে তার কোচিং সেন্টার ওরুফে বাসায় একটা ছোট্ট বাহাস হয়েছিল। যাইহোক কৃত্রিম হাসি মুখ নিয়ে অবশেষে তিনি চলেই গেলেন আর পূণ উদ্যম নিয়ে রয়ে গেলেন দ্বিতীয় বন্ধু।)
এবার দ্বিতীয় বন্ধুঃ বাংলাদেশের আয়াতনের তুলনায় জনসংখ্যা বেশি হয়ে যাচ্ছে এতে করে ভূমি সংকট দেখা দিবে, কৃষি জমিগুলোয় গৃহ বা বাসস্থান তৈরী করা হচ্ছে এভাবে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। ফলে মানুষের খাদ্যে সংকট দেখা দিবে।
আমিঃ আমরা মুসলিমরা জন্ম নিয়ন্ত্রনের পক্ষে নই বরং ইসলাম বলে বেশি বেশি সন্তান নেয়ার জন্য। আলহামদু লিল্লাহ! ইসলামের এই সীদ্ধান্তটি অত্যধিক বাস্তব এবং জরুরীও বটে। (লোকটি অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালো। মনে হচ্ছে, উনি ভাবছিল যে, আমাকে দিয়ে হুজুরদেরকে একটু বুঝাবে সেই আমি নাকি উল্টো উনাকে বুঝাচ্ছি। যাইহোক লোকটির আগ্রহের কোন ঘাটতি দেখলাম না। আমি কথায় এগিয়ে চললাম..)
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ স. এই মর্মে বলেছেন, “আমার উম্মত গরীব হয়ে যাবে এই ভয় আমি করি না..।”
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ স. বলেছেন, [এমন একটি সময় আসবে যখন একটি ডালিম খাবে একদল লোক..] হাদীসটি হলো- “…একদল লোক একটি মাত্র ডালিম ফল ভক্ষণ করে পরিতৃপ্ত হবে এবং তার খোসার নিচে ছায়া অবলম্বন কররে।..”
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ স. আরোও বলেছেন, “…একটি মাত্র দুগ্ধবতী উটনী একটি সম্প্রদায়ের জন্য যথেষ্ট হবে। একটি দুগ্ধবতী গাভী একটি গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে। আর একটি দুগ্ধবতী ছাগী কয়েকটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে।…”
আর আলহাদু লিল্লাহ! বাস্তবতা দেখেন যেখানে আগে একটি গাভী দুধ দিত ১ থেকে ৩ কেজি সেখানে এখন একটি গাভী দুধ দেয় ১৮ থেকে ২২ কেজি।
(আমরা কথা বলছিলাম আর হাটছিলাম। এক পর্যায়ে আমরা মোটামুটি বড় পুকুর পাড়ের একটি রাস্তায় সুন্দর পরিবেশে এসে দাড়ালাম। আমাদের আলোচনা চলছে..)
পুকুরের একাংশ দেখিয়ে বললাম …
পূর্বে যদি এতটুকু জমির মধ্যে ধান হতো ৫ মন এখন এই জমির মধ্যেই ধান হয় ১৫-২০ মন। কাজেই এই সব কিছুই প্রমাণ করে যে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা মানুষকে এমন প্রযুক্তিজ্ঞান দিয়ে থাকেন যা তাদের সমসাময়িক অবস্থাকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখে। অতএব, খাদ্যের অভাব দেখা দিবে সেই ভয়ে সন্তান না নেয়া এটিক অপ্রয়োজনীয়, অবাস্তব, অসার ও বিকৃত চিন্তা ছাড়া আর কিছুই নয়।
এখন বাকি রইল আপনার আরেকটি দুঃশ্চিন্তা যে, “বাংলাদেশের আয়াতনের তুলনায় জনসংখ্যা বেশি হয়ে যাচ্ছে এতে করে ভূমি সংকট দেখা দিবে।” এ ব্যাপারটিও কোনো বাস্তববাদীকে দুঃশ্চিন্তায় ফেলতে পারে না। এক্ষেত্রেও মহানবী হযরত মুহাম্মাদ স. একটি হাদীস রয়েছে যেখানে তিঁনি বলেছেন, “কিয়ামাতের পূর্বে মানুষ উচ্চু উচ্চু দালান নির্মাণের প্রতিযোগীতায় নামবে” অর্থাৎ বহুতল ভবন নির্মাণ হবে। এভাবে পূর্বে ৫কাঠা জায়গায় যদি ১০টা পরিবার বসবাস করতো এখন সেই ৫কাঠা জায়গায় ৫তলা বিল্ডিং হওয়ার কারণে ৫০টি পরিবার বসবাস করতে পারে। ঠিক একইভাবে আপনি চিন্তা করেন যদি বাংলাদেশের উপর ২তলা বিল্ডিং করেন তবে ২টি বাংলাদেশ, ৫টি করলে ৫টি এবং ১০টি করলে ১০টি বাংলাদেশ। এভাবে যত পারেন….। এজন্যই আমরা এ বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তিত নই বরং আমরা জনসংখ্যাকে জনশক্তি মনে করি। আপনি জেনে থাকবেন যে, একটি রাষ্ট্রের সবচাইতে বড় সম্পদ ও শক্তিই হচ্ছে জনগণ। কাজেই শক্তি ও সম্পদ হ্রাস করার চিন্তা কেন???
মূলতঃ যারা মানবসম্পদকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের এই ব্যর্থতাকে গুচাতে আমাদের মন-মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দিচ্ছে যে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া হচ্ছে ‘অভিশাপ’। কাজেই আমাদের সার্বিক আলোচনায় আপনি স্পষ্ট হয়েছেন যে, এই বিষয়গুলো নিয়ে যা প্রচার করা হচ্ছে, যাকিছু আমাদের মন-মস্তিষ্কে ঢুকানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণই অবাস্তব, অবৈজ্ঞানিক এবং মানব সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে (বিশেষ করে অনাগতদের বিরুদ্ধে) একটি গভীর চক্রান্ত।
অতপর লোকটি আনন্দচিত্তে কুশল বিনিময় করে বিদায় নিল। আলহামদু লিল্লাহ! লোকটির মনে কোনো সংশয় অবশিষ্ট ছিল বলে আমার মনে হয়নি বরং যাওয়ার আগে “ইসলামের পাচঁটি স্তম্ভ- সার্বজনীন ভ্রাতৃত্ব শিক্ষা দেয় কিভাবে?” এবিষয়ে আরেক দিন আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে সে বিষয়ে দ্বিতীয় সাক্ষাতে আলোচনাটি হয়েছিল।
আশা করি উপরোক্ত ঘটনাটি থেকে আমাদের আলোচ্য প্রশ্নটির উত্তর পেয়েছেন।

প্রশ্নের জবাব দিয়েছেনঃ আবূ শারিহাহ

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

প্রশ্ন: নাক থেকে রক্ত বের হলে কি সাওম নষ্ট হবে?

প্রশ্ন: (৪২৮) নাক থেকে রক্ত বের হলে কি সাওম নষ্ট হবে? উত্তর: নাক থেকে রক্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: