যে কোন যৌন বা স্বাস্থ্য সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডা.মনিরুজ্জামান এম.ডি স্যার। কল করুন- 01707-330660

মেয়েদের মাসিকের সময় সহবাসমাসআলাঃ ১৪. ঋতুবর্তীর সাথে সহবাস করা হারাম

স্ত্রীর ঋতু অবস্থায় তার সঙ্গে সহবাস করা স্বামীর উপর হারাম।[1] আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলার বাণীর প্রেক্ষিতেঃ—

আরবী……

আর তারা তোমার কাছে’ হায়েয ঋতু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও এটা অশুচি বা কষ্ট।[2] কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাকো। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়।[3] যখন তারা উত্তমরূপে পবিত্র হয়ে যাবে, তখন তাদের কাছে গমন করো যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকে তাদেরকে ভালবাসেন। (সূরা আল-বাকারাহ ২২২)

আর এ  সম্পর্কে বহু হাদীস রয়েছে,

প্রথম হাদীস : নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ

আরবী……….

যদি কোণ ব্যক্তি ঋতুবর্তী মহিলার সাথে বা তার নিতম্বে সহবাস করে অথবা জ্যোতষীর নিকট আগমন করে ও সে যা বলে তাকে সত্য প্রতিপন্ন করে, তাহলে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তার প্রতি সে কুফরী করল।[4]

দ্বিতীয় হাদীস :

আরবী…..

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় ইয়াহুদীদের কোন মহিলা যখন ঋতুবর্তী হয় তারা তাকে বাড়ী থেকে বের করে দিতো এবং তার সাথে খেতো না পানও করতো না এবং বাড়ীতে তার সাথে মিলামিশা করতো না। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঐ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হল। তারপর আল্লাহ তা’আলা (আরবী) আয়াতটি অবতীর্ণ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা তাদের সাথে বাড়ীতে উঠাবসা করো এবং সহবাস ব্যতীত সব কিছু করো। ইয়াহুদীরা বললো, এই ব্যক্তি আমাদের প্রতিটি কাজে কেবল বিরোধিতা করে, অতঃপর উসাইদ বিন হুযাইর ও আব্বাদ বিন বিশর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম—এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইয়াহুদীরা এরূপ কথা বলছে, আমরা কি ঋতুবস্থায় তাদের সাথে সহবাস করবো না? অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চেহারার রঙ পরিবর্তন হয়ে গেল এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি তাদের উপর রাগান্বিত হয়েছেন। অতঃপর তারা বের হয়ে গেলো। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যে দুধ উপহার দেয়া হয়েছিল তা তাদের সামনে পেশ করেছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের পদচিহ্নে প্রেরণ করলেন ও তাদেরকে দুধ পান করালেন। অতঃপর আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি তাদের উপর রাগ করেননি।[5]

আপনি পড়ছেনঃ বাসর রাতের আদর্শ বই থেকে


[1]  ইমাম শাওকানী ফাতহুল কাদীরে (১/২০০) পৃষ্ঠা বলেছেন ঋতুবর্তী মহিলার সঙ্গে সহবাস করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে ওলামাদের মধ্যে কোন মতানৈক্য নাই। আর এটা দীনের জরুরী বিষয়রূপে পরিচিত।

[2]  অর্থাৎ তা এমন কিছু যা দ্বারা মহিলা কষ্ট পায়। আর কুরতুবী (৩/৮৫) ও অন্যরা তাকে ঋতুর রক্তের গন্ধ দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। জনাব রাশীদ রেজা (রঃ) (২/৩৬২) পৃষ্ঠা বলেছেনঃ

আরবী…..

তাকে তার প্রকাশ্যের উপর গ্রহণ করা চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্বীকৃত। সুতরাং তাকে পরিত্যাগ করার কোন প্রয়োজন নাই। আর তার দ্বারা শারীরিক কষ্ট উদ্দেশ্য। তিনি বলেছেনঃ কেননা তাদের সাথে সহবাস করা হল ব্যথা ও কষ্টের কারণ, এই কষ্ট থেকে যদিও পুরুষ নিরাপদ থাকে, কিন্তু মহিলা তা থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না। কেননা সহবাস করা তার মধ্যে রেহেমের অঙ্গ প্রতঙ্গের কষ্ট দেয় যার জন্য সে প্রস্তুত ছিল না এবং অপর প্রাকৃতিক কর্তব্য ব্যস্ততার কারণে তার জন্য সে ক্ষমতাশালী ছিল না। আর তা পরিচিত রক্তকে পৃথক করণ।

[3]  তা হায়েযের রক্ত বিচ্ছিন্ন বা বন্ধ হওয়া। আর এটা মহিলাদের কর্মে সংগঠিত হয় না। কিন্তু আল্লাহর বাণী (আরবী) এ এই পবিত্রতার বিপরীত। কেননা এটা তাদের কর্মে সংগঠিত হয়। আর তা হলো পানি ব্যবহার করা। আর অচিরেই (১৭) নম্বর মাসআলায় তার উদ্দেশ্যের আলোচনা আসছে।

[4]  হাদীস সহীহ। আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন, যেমন (৬) নম্বর মাসআলায়  চলে গেছে।

[5]  সহীহ মুসলিম, সহীহ আবূ আওয়ানাহ, সহীহ আবূ দাউদ হাদীস নং ২৫০।

Syed Rubelযৌন বিষয়ক নিবন্ধনসঙ্গম বা সহবাসমাসআলাঃ ১৪. ঋতুবর্তীর সাথে সহবাস করা হারাম স্ত্রীর ঋতু অবস্থায় তার সঙ্গে সহবাস করা স্বামীর উপর হারাম। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলার বাণীর প্রেক্ষিতেঃ— আরবী...... আর তারা তোমার কাছে’ হায়েয ঋতু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও এটা অশুচি বা কষ্ট। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাকো। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে...Amar Bangla Post