Home / ইসলাম / স্বামী স্ত্রী দাম্পত্য ও অধিকার / এক সঙ্গে স্বামী স্ত্রীর গোসল করা

এক সঙ্গে স্বামী স্ত্রীর গোসল করা

মাসআলাঃ৯-এক সঙ্গে স্বামী স্ত্রীর গোসল

Muslim Nice copule

স্বামী-স্ত্রীর জন্য এক স্থানে একত্র গোসল করা বৈধ। যদিও একে অপরকে দেখে নেয়। আর এ ব্যাপারে অনেক হাদীস রয়েছে,

প্রথম হাদীসঃ আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উভয়েই একই পাত্র থেকে গোসল করতে ছিলাম। আমাদের উভয়ের হাত তাঁর মধ্যে টক্কর খেত। তিনি আমার পূর্বে দ্রুত করতেন, এমনকি আমি বলতাম আমার জন্য রাখেন, আমার জন্য রাখেন। আয়েশা বলেন, উভয় অপবিত্র অবস্থায় ছিলেন।[1]

দ্বিতীয় হাদীসঃ “মুয়াবিয়াহ বিন হাইদাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কোন লজ্জাস্থান আবৃত করব এবং কোন গুলো খুলব?

তিনি বললেন, তুমি তোমার লজ্জাস্থানকে তোমার স্ত্রী ও দাসী ব্যতীত হিফাযত কর।[2] সে বলল, আমি বললাম, হে রাসূল! যদি কতিপয় কতিপয়ের মাঝে থাকে তাহলে কিরূপ করবে? তিনি বললেন, যদি কেউ সক্ষম হয় যে, সে লজ্জাস্থানকে দেখবে না তাহলে যেম কেউ না দেখে) সে বলল আমি বললামঃ হে আলাহর রাসূল! আমাদের কেউ যদি অনাবৃত থাকে? তিনি বললেন, লজ্জাবোধ করার ব্যাপারে আল্লাহই মানুষদের চেয়ে বেশি হকদার।[3]  সূত্রঃ বাসর রাতের আদর্শ বই থেকে।


[1] ইমাম বুখারী ও ,উসলিম ও আবূ আওয়ানাহ তাদের সহীহতে বর্ণনা করেছেন। আর বর্ণনা প্রসঙ্গ মুসলিম এবং অতিরিক্ত মুসলিমের ও অন্য বর্ণনায় বুখারী তাঁর তরজমা করেছে এরূপ (আরবী) (অনুচ্ছেদঃ পুরুষ তাঁর স্ত্রীর সাথে গোসল) হাফিয (আরবী) এর (১/২৯০ পৃষ্ঠা) পৃষ্ঠায় বলেছেনঃ ইমাম দারওয়ারদী তাঁর দ্বারা দলীল পেশ করেছেন, স্বামী স্ত্রীর উভয় একে অপরের লজ্জাস্থান দেখতে পারে, তাদের জন্য এটা বৈধ। আর এটাকে মজবুত করে যা ইবনে হিব্বান সুলাইমান বিন মুসা থেকে বর্ণনা করেছেন, তাকে এক ব্যক্তি সম্পরকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, তারা স্ত্রীর লজ্জাস্থানে দৃষ্টিপাত করে। তিনি প্রতিত্তুরে বললেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছি এবং তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছি তিনি হুবহু এই হাদীসটি উল্লেখ করলেন আর এটা মাসআলা দলীল সাব্যস্থ হছে।

আমি বলবঃ এটা বাতিল হওয়ার প্রমাণ করে যা আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি বলেন, আরবী…. অর্থাৎ (আমি কখনো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লজ্জাস্থান দেখিনি) ত্ববরানী সগীর (২৭) পৃষ্ঠা, আবূ নাঈম (৮/২৪৭) পৃষ্ঠা, খাতীব (১/২২৫) পৃষ্ঠা। আর তাঁর সানাদে বারাকাতুনে মুহাম্মাদ হুলাবী একজন রাবী আছে। তাঁর মধ্যে কোন বারাকাত নেই। কেননা সে অধিক মিথ্যাবাদী ও হাদীস রচনাকারী। হাফিয ইবনু হাজার লিসান গ্রন্থে তাঁর এই হাদীসটি বাতিলের মধ্যে উল্লেখ করেছেন।

ইবনে মাজাহ (১/২২৬ ও ৫৯৩) পৃষ্ঠা, ইবনে সা’দের (৮/১৩৬) পৃষ্ঠা তাঁর একটি সূত্র রয়েছে। আর তাঁর মধ্যে আয়েশা এক দাসী আছে সে মাজহুলাহ। এজন্য বুসীরী (আরবী) গ্রন্থে তাঁর সানাদকে যঈফ বলেছেন। আর তাঁর তৃতীয় আরেকটি সূত্র আবূ শাইব এর নিকট (আরবী) এর (২৫১) পৃষ্ঠা রয়েছে। তাঁর মধ্যে আবি সালিহ আছে, সে ক্রটিযুক্ত, যঈফ। আর মোহাম্মাদ বিন কাসেম আসাদী সে মিথ্যাবাদী। তাঁর অনুরূপ হাদীসঃ আরবী……. “যে ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর সাথে সহবাস করবে সে যেন পর্দা করে এবং বন্য গাধার ন্যায় যেন উম্মুক্ত না হয়।

ইবনু মাজাহ উতবাহ বিন আবদিস সুলামী থেকে (১/৫৯২) পৃষ্ঠা বর্ণনা করেছে। আর তাঁর সানাদে আহওয়াস বিন হাকীম আছে, সে যঈফ রাবী। আর বুসীরী তাকে দোষারোপ করেছেন। তাঁর মধ্যে আরেকটি দোষ রয়েছে তা হলো, তাঁর থেকে ওয়ালীদ বিন কাসিম হামদানীর রাবীর দুর্বলতা। তাকে ইবনু মাঈন ও অন্যরা যঈফ বলেছেন। আর ইবনে হিব্বান বলেন, মজবুত রাবীদের হাদীসের সাথে সাদৃশ্য না রাখার কারণে তাদের থেকে একক হয়ে গেছে। সুতরাং তা দলীল গ্রহণ করার সীয়া থেকে বের হয়ে গেছে।

এজন্য ইরাকী (আরবী…) এর (২/৪৬) পৃষ্ঠা তাঁর সানাদ দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় স্বীকৃত দিয়েছেন। আর ইমাম নাসাঈ তাকে ইশরাতুন নিসা এর (১/৭৯/১) পৃষ্ঠা এবং মুখলিস (আরবী) এর (১০/১৩/১) পৃষ্ঠা এবং ইবনু আদী (১৪৯/২ ও ২০১) পৃষ্ঠা আবদুল্লাহ বিন সারজাস থেকে বর্ণনা করেছেন। আর নাসাঈ বলেছেন, মুনকার হাদীস সাদাকাহ বিন আবদুল্লাহ যঈফ ও দুর্বল।

[2]  ইবনুল উরওয়াহ হাম্বালী (আরবী) এর (৫৭৫/২৯/১) পৃষ্ঠা বলেছে। (স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেকের জন্য বৈধ যে, একে অপরের সমস্ত শরীরের দিকে দৃষ্টিপাত এবং স্পর্শ করা এমনকি লজ্জাস্থানকে এই হাদীসের প্রেক্ষিতে দেখতে পারে। আর যেহেতু লজ্জাস্থান দ্বারা তাঁর উপভোগ করা হালাল, সুতরাং সমস্ত শরীরের দিকে দৃষ্টিপাত করা ও তাকে স্পর্শ করা বৈধ। আর এটা ইমাম মালেক ও অন্যান্যদের মাযহাব।

আরবী……

ইবনে সা’দ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি ওয়াকেদী হতে, তিনি বলেন, আমি ইমাম মালেক বিন আনাস ও ইবনু আবী যিব-কে লক্ষ্য করেছি যে, স্বামী স্ত্রীর দিকে দেখবে এবং স্ত্রী স্বামীর দিকে দেখবে তাতে তারা কোন দোষ মনে করতেন না। অতঃপর ইবনে উরওয়াহ বলেন, লজ্জাস্থানের দিকে দেখা মাকরূহ। কেননা আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, আমি আল্লাহর রাসূলের লজ্জাস্থানকে কখন দেখিনি।

আমি বলব উক্ত হাদীসের সানাদের দুর্বলতা গোপন রয়ে গেছে যার বর্ণনা পূর্বে হয়েছে।

[3]  আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ ইশরাতুন নিসা (৭৬/১) পৃষ্ঠা, মুসনাদে রুয়ানী (২৭/১৬৯/১-২) পৃষ্ঠা, আহমাদ (৫/৩-৪)পৃষ্ঠা, বাইহাকী (১/১৯৯) পৃষ্ঠা। আর শব্দ বিন্যাস আবূ দাউদের (২/১৭১) এবং তাঁর সানাদ হাসান, ইমাম হাকিম তাকে সহীহ বলেছেন ও ইমাম যাহাবী তাঁর সাথে একমত প্রকাশ করেছেন। আর ইবনুল দাকীক ঈদ তাকে (আরবী)এর (১২৬/২) পৃষ্ঠা মজবুত করেছেন।

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

আদর্শ স্ত্রীর গুণাবলী

আদর্শ স্ত্রী’র গুণাবলী এই পোস্ট এ হাদীসের আলোকে একজন আদর্শ স্ত্রী’র গুণাবলী তুলে ধরা হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: