Home / ইসলাম / মাসআলা মাসায়েল / জানাবাত সম্পর্কে গোপনীয় মাসআলা

জানাবাত সম্পর্কে গোপনীয় মাসআলা

জানাবাত সম্পর্কে গোপনীয় মাসআলা

Muslim wife and hasbend

মাসআলাঃ-১০৩. স্বামী স্ত্রীর সাথে সহবাস করায় গোসল ফরয হয়ে যায় এবং তারা উভয়ের গোসল না করা পর্যন্ত শরীয়ত অনুযায়ী তাদের পবিত্র ধরা হয় না। অনুরূপভাবে স্বপ্নে মনি নির্গত হওয়া অথবা যে কোন উপায়ে উত্তেজনার সাথে মনি নির্গত হলে গোসল ওয়াজিব হয়ে যাবে। এ অবস্থাটিকে জানাবাতের অবস্থা বলে, যার সম্পর্কে বহু হুকুম রয়েছে। এখানে বিশেষ জরুরী কয়েকটি মাসআলা বর্ণনা করা হলোঃ-

মাসআলাঃ-১০৪. জানাবাত অবস্থায় শয়ন করা, পানাহার করা জায়েয আছে তবে উত্তম হলো লজ্জাস্থান ধৌত করে এবং অযু করে নিবে এতে নাপাকি হালকা হবে। তবে জানাবাত অবস্থায় এমন ভাবে (ঘুমে) পড়ে থাকা যে নামাযই কাযা হয়ে যায়, খুবই খারাপ। এমন ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। অনুরূপভাবে একবার সহবাস করার পর দ্বিতীয় সহবাস করার জন্যে সমস্ত লজ্জাস্থান ধুয়ে নেওয়া ও অযু করে নেওয়া উত্তম।

জানাবাত অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াতঃ

মাসআলাঃ-১০৫. জানাবাত অবস্থায় কুরআন শরীফ পাঠ করা, স্পর্শ করা জায়েয নয়, হারাম। হায়েয ও নেফাসের নাপাকিতে কুরআন সম্পর্কে যে আহকাম বর্ণনা করা হয়েছে জানাবাত অবস্থায়ও ঐ একই আহকাম।

জানাবাত অবস্থায় অজিফা ও ধর্মীয় বই-কিতাব পাঠঃ

মাসআলাঃ-১০৬. জানাবাত অবস্থায় ধর্মীয় বই অজিফা পাঠ জায়েয আছে। কিন্তু যেহেতু জানাবাতের অপবিত্রতা থেকে মানুষ যখন খুশি গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করতে পারে এজন্য জানাবাতের মধ্যে অজিফা পাঠ করা আদবের পরিপন্থী এবং ভাল নয়। তাই গোসল করার পর অজিফা পাঠ করবে। আর হায়েয ও নেফাসের নাপাকি যেহেতু কয়েক দিন পর্যন্ত চলতে থাকে এ কারণে এ অবস্থায় অজিফা পাঠ করায় কোন ক্ষতি নেই। অবশ্য যে সমস্ত দো’আ গুলো ঐ সকল সময়েরই। যেমন ঘুমাবার দো’আ—ও ঘুম থেকে জাগার দো’আ এ অবস্থার মধ্যে পাঠ করায় কোন অসুবিধা নেই।

জানাবাত অবস্থায় মসজিদে যাওয়াঃ

মাসআলাঃ-১০৭. জানাবাত অবস্থায় মসজিদে গমন জায়েয নেই এবং হায়েয ও নেফাস অবস্থায় এ সম্পর্কে যে বিধান জানাবাত অবস্থায় ঠিক ঐ একই হুকুম।

মাসআলাঃ-১০৮. শরীয়তের দৃষ্টিতে যা মসজিদরূপে গণ্য তার ছাদ ও তলাগুলোও মসজিদের হুকুম তাই সেখানেও জানাবাত অবস্থায় যাতায়াত করা, অবস্থান করা এবং সহবাস করা জায়েয নেই।

মাসআলাঃ-১০৯. যদি কখনও মসজিদে থাকাকালীন কারো গোসল ফরয হয় তবে তার তায়াম্মুম করে বাইরে চলে আসা জরুরী। এমতাবস্থায় এতেকাফকারীরও মসজিদের ভিতরে পড়ে থাকা উচিৎ নয়।

জানাবাতের গোসলের পদ্ধতিঃ

মাসআলাঃ-১১০. হায়েয ও নেফাস থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসলের যে পদ্ধতি জানাবাতের গোসলেরও ঠিক একই পদ্ধতি। খুব খেয়াল রেখে লজ্জাস্থানের অংশগুলো ভাল করে ধৌত করবে। কারণ মনি শুকিয়ে গেলে খুব জলদি ধৌত করায় তা দূর হয় না। তাই ঐ অংশ নাপাক থেকে যায়। তদ্রূপ লক্ষ্য রাখবে যেন শরীরের কোন অংশ শুকনা না থাকে। তাহলে গোসল হবে না। এজন্যই নাকের নরম অংশ পর্যন্ত ধৌত করা এবং কুলি করাও ফরয।

আপনি পড়ছেনঃ নারীর শ্রেষ্ঠ উপহার বই থেকে।

বিষয়ঃ মেয়েদের অতি গোপনীয় ১১৩ টি মাসআলা

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

প্রশ্নঃ পায়ে মেহেদি দেয়া কি জায়েজ

প্রশ্নঃ পায়ে মেহেদি দেয়া কি জায়েজ কি না এবং পায়ে বা পায়ের নখে মেহেদী ব্যবহার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: