যে কোন যৌন বা স্বাস্থ্য সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডা.মনিরুজ্জামান এম.ডি স্যার। কল করুন- 01707-330660

নারীর ছবি

১। যদি কোন মহিলার সন্তান সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে বের করে আর জরায়ু থেকে কোন রক্ত বের না হয় তাহলে এ মহিলার উপর নিফাসের কোন বিধান প্রযোজ্য হবে না। তবে তাঁর গোসল করতে হবে। অপর এক বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে, কোন মেয়েলোকের সন্তান প্রসবের পর যদি একেবারেই স্রাব না হয়, তখন তাঁর প্রতি নিফাসের হুকুম হবে এবং তাঁর প্রতি গোসল করা ফরয হবে।

২। যদি কোন মহিলার সন্তান প্রসব হওয়ার মধ্যে নামাযের ওয়াক্ত চলে যাবার উপক্রম হয়, আর সন্তানের শরীর মাতৃগর্ভ হতে অর্ধেক কিংবা তাঁর চেয়ে বেশী বের হয়, তবে প্রসূতির প্রতি নিফাসের হুকুম হবে এবং এ ওয়াক্তের নামায মাফ করে হবে। আর যদি সন্তান অর্ধেকের কম বের হয়, তখন তাঁর প্রতি নিফাসের হুকুম হবে না। এমনতাবস্থায় এ ওয়াক্তের নামায পড়া ফরয। তখন সন্তানকে নিরাপদে রেখে নামায পড়া ফরয। একান্ত ইশরায় নামায পড়তে অক্ষম হলে পরে কাযা করতে হবে।

৩। নিফাসের পর হায়েয শুরু হওয়ার শর্ত হল মধ্যেবর্তী পাক থাকার সময়-কাল কমপক্ষে পনের দিন। পনের দিনের পূর্বে রক্ত দেখা দিলে মনে করতে হবে তখনও হায়েয আসেনি। এ রক্ত ইস্তেহাযা বা রোগজনিত।

৪। কোন মহিলার যদি গর্ভপাত হয় আর তাতে যদি সন্তানের অঙ্গ গঠন হয়ে মানবাকৃতি দেখা যায়, এ গর্ভপাতের পরে বের হয়ে আসা রক্তকে নিফাসের রক্ত বলে গণ্য করা হবে।

৫। গর্ভপাত হওয়ার পরে এ বেরিয়ে আসা জিনিসটি মানবাকৃতি না হয়ে শুধু রক্তপিণ্ড অথবা মাংস হয় তাহলে এ গর্ভপাতের পরে বের হয়ে আসা রক্তকে নিফাস বলা যাবে না।

৬। গর্ভপাত যদি নিয়মিত হায়েযের নির্দিষ্ট সময় হয়ে থাকে যে গর্ভপাত রক্ত বা মাংসের পিণ্ড বের হয়েছে। তখন তাকে হায়েযের রক্ত হিসেবে ধরে নিবে। এ গর্ভপাত যদি হায়েযের নির্দিষ্টি দিনগুলোতে না হয় তবে তাকে রোগজনিত বা ইস্তেহাযা মনে করতে হবে।

৭। কোন মহিলার প্রথম বারে সন্তান হওয়ার পর যদি চল্লিশ দিন রক্ত প্রবাহিত হয়, তবে এ চল্লিশ দিনকেই নিফাস ধরে নিতে হবে। চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেই শরীয়তের সকল বিধান পালন করতে হবে।

৮। কোন মহিলার যদি তৃতীয় বাচ্চা প্রসব করে আর পূর্বের নিফাসের নির্দিষ্ট  দিন জানা থাকে তাহলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোন প্রয়োজন নেই। যেমন প্রথম ও দ্বিতীয় বাচ্চার সময় তাঁর পঁচিশ দিন নিফাসের রক্ত প্রবাহিত হত। তৃতীয় বাচ্চার সময়ও যদি পঁচিশ দিনে রক্ত আসা বন্ধ হয় তাহলে চল্লিশ দিন অপেক্ষা করতে হবে না। বরং রক্ত আসা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে গোসল করে  নামায রোযা সব কিছুই করতে পারবে।

৯। কোন মেয়েলোকের পঁচিশ দিন পর্যন্ত নিফাস আসার অভ্যাস ছিল, কোন একবার দেখা গেল বাচ্চা প্রসবের পঁচিশ দিন পরে রক্তস্রাব বন্ধ হচ্ছে না, তখন তাকে চল্লিশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

যদি চল্লিশ দিন অথবা তাঁর পূর্বে যে কোন দিন বন্ধ হয়ে যায় তাহলে যে তারিখে বন্ধ হল সে তারিখ পর্যন্ত নিফাস ধরতে হবে এবং মনে করতে হবে পূর্বের অভ্যাসের পরিবর্তন হয়েছে।

১০। কোন মহিলাদের পঁচিশ দিন নিফাস আসার অভ্যাস, কোন এক সন্তান প্রসবের পর যদি চল্লিশ দিনের পরেও কিছু সময়ের জন্য অথবা দুই একদিনের বেশী সময় রক্ত প্রবাহিত হয় তাহলে তাকে পূর্বের অভ্যাসের পঁচিশ দিনকে নিফাস ধরে বাকী দিনগুলোকে ইস্তেহাযা মনে করতে হবে। পঁচিশ দিনের পর যে কয়দিন নামায বাদ পড়েছে সে কয় দিনের নামায ক্বাযা করতে হবে।

১১। যদি কোন মহিলাদের পূর্বের নিয়ম পরিবর্তন হয়, তাঁর পূর্বে বা পরে ৪০ দিনের মধ্যে পাক হয় তাহলে, স্রাব বন্ধ হওয়া মাত্র পবিত্র হয়েছে বলে  ধরে নিতে হবে। যেমন কোন মহিলাদের পঁচিশ দিন নিফাস প্রবাহিত হওয়া অভ্যাস। কোন এক মাসে তাঁর ২০ দিনে স্রাব বন্ধ হল, তখন তাকে ২০ দিনই নিফাস ধরতে হবে। কারণ উভয় অবস্থায় মনে করতে হবে তাঁর অভ্যাস পরিবর্তন হয়েছে।

১২। কোন মহিলার জময সন্তান প্রসব হলে প্রথম সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর নিফাস শুরু হবে। প্রথম ও পরবর্তী সন্তান প্রসবের মধ্যখানে যদি কিছু সময় পার্থক্য থাকে তবে প্রথম সন্তান প্রসবের পর থেকেই নিফাসের সময়সীমা গণনা করতে হবে। প্রথম সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরই নিফাস ধরার কারণ হল তখন জরায়ুর মুখ খুলে যায় এবং নিফাসের রক্ত বের হওয়া শুরু করে।

১৩। এক সন্তান হওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান হলে, তা একগর্ভ ধরা হবে। ছয় মাসের বেশী সময় হলে একগর্ভ ধরা যাবে না।

১৪। নিফাসের বিরতিকাল-নিফাস চলাকালীন সময় দুই একদিন রক্ত দেখার পর যদি মধ্যখানে কিছু সময় রক্ত আসা বন্ধ হয়ে আবার রক্ত আসা শুরু করে তখন মধ্যখানের রক্ত না আসার সময়কেও নিফাসের মধ্যে গণ্য করতে হবে।  সূত্রঃ স্বামীর স্ত্রীর মধুর মিলন

আরো পড়ূনঃ

০১ মহিলাদের স্রাব ও প্রসূতি অবস্থার বিধিবিধান সংক্রান্ত ৬০টি প্রশ্ন

০২ নারীর জান্নাত যে পথে

০৩ মুসলিম বোনদের জানার মত কিছু কথা

০৪ ইসলামে নারীর অধিকার

০৫ সাদা স্রাবের জন্য কি ওজু করে কোরআন পড়তে হবে?

Syed Rubelমেয়েদের জীবনধারাইসলাম,নিফাস কি?১। যদি কোন মহিলার সন্তান সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে বের করে আর জরায়ু থেকে কোন রক্ত বের না হয় তাহলে এ মহিলার উপর নিফাসের কোন বিধান প্রযোজ্য হবে না। তবে তাঁর গোসল করতে হবে। অপর এক বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে, কোন মেয়েলোকের সন্তান প্রসবের পর যদি একেবারেই স্রাব না হয়, তখন...Amar Bangla Post