মায়ের খাবার

 

 গর্ভবর্তী মায়ের খাবারএ সময় মা ও গর্ভের শিশু দু’জনের সুস্থতার জন্য একটু বেশি পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু বেড়ে উঠার জন্য আমিষ জাতীয় খাবার যেমন-মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, দুধ বেশি করে খেতে হবে। এছাড়া সবুজ শাক-সবজী ও ফল ছাড়াও যেসব খাবারে আয়রণ বেশি আছে। যেমন-কাঁচাকলা, পালংকশাক, কচুশাক, কলিজা ইত্যাদি বেশি খেতে হবে। আর বেশি পরিমাণে পানি (দিনে ৮/১০ গ্লাস) খেতে হবে ও রান্নায় আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করতে হবে।

অনেকেরই ধারণা মা বেশি খেলে পেটের বাচ্চা বড় হয়ে যাবে এবং স্বাভাবিক প্রসব হবে না।  অনেক এলাকায় বিশেষ কিছু খাবার খাওয়া নিষেধ। যেমন-দুধ, মাংস, কিছু কিছু মাছ ইত্যাদি। এগুলো খাওয়া তো নিষেধ নয়ই, বরং মা বেশি খেলে মায়ের ও বাচ্চার স্বাস্থ্য ভাল থাকবে, মা প্রসবের ধকল সহ্য করার মত শক্তি পাবেন এবং মায়ের বুকে বেশি দুধ তৈরী হবে।

বিশ্রামঃ গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। গর্ভবতী মায়েরা কমপক্ষে দুপুরে খাবারের পর ১-২ ঘন্টা বিশ্রাম নিবেন এবং রাতে ৮ ঘন্টা ঘুমাবেন।

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতাঃ এ সময় প্রতিদিন গোসল করা, দাঁত মাজা, চুল আঁচড়ান, পরিস্কার কাপড় পরা উচিৎ, এতে শরীর ও মন ভাল থাকে। গোসলের সময় স্তনের বোঁটা পরিস্কার করা হলে পরে বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে সুবিধা হয়।

ভারি কাজঃ এ সময় স্বাভাবিক কাজকর্ম করা শরীরের জন্য ভাল।। কিন্তু কিছু কিছু কাজ যেমন-ভারি কাপড় ধোয়া, পানি ভর্তি কলস কাঁখে নেয়া, ভারি বালতি বা হাড়ি তোলা উচিৎ নয়। গর্ভবতী মায়েরা যেন এ ধরনের কাজ না করতে হয় সেদিকে পরিবারের সবার খেয়াল রাখা উচিৎ। এ ধরনের কাজে তাকে সাহায্য করতে হবে।

কিছু ভুল ধারণাঃ

(১) বেশি খেলে পেতের বাচ্চা বড় হয়, ফলে প্রসবে অসুবিধা হয়।

(২) বেশি কাজ ও ভারি কাজ করলে সহজে প্রসব হয়।

(৩) বিশ্রাম নিলে বা বেশি শুয়ে থাকলে সহজে প্রসব হয় না।

[sc name=”ri3″ ]

প্রশ্ন উত্তর পর্ব…..

প্রশ্নঃ বাচ্চা পেটে থাকতে যখন ডাক্তার দেখিয়েছি তখন ভয় লাগত যদি ঔষুধ খেলে বাচ্চা নষ্ট  হয়ে যায়?

উত্তরঃ বাচ্চা পেটে থাকা অবস্থায় নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিৎ এবং ডাক্তারের নির্দেশ মত ওষুধ খাওয়া উচিৎ। ডাক্তারের পরামর্শ মত ওষুধ খেলে বাচ্চা নষ্ট হবার ভয় থাকে না।

প্রশ্নঃ যদি বাচ্চা হতে গিয়ে আমি মারা যাই?

উত্তরঃ বাচ্চা পেটে আসা ও বাচ্চা একটি মেয়ের জীবনে স্বাভাবিক ঘটনা। বাচ্চা পেটে আসার পর যদি অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়, চিকিৎসকের পরামর্শ মত চলা যায় এবং অভিজ্ঞ সেবাদানকারী দ্বারা ডেলিভারি করানো হয় তাহলে মায়ের সাধারণত কোন ভয় থাকে না।

প্রশ্নঃ সন্তান প্রসবের জন্য কোন স্থানটি নিরাপদ? নিজের বাড়ি না স্বাস্থ্যকেন্দ্র? 

উত্তরঃ সন্তান প্রসবের সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়াই নিরাপদ। সন্তান জন্মদান একজন মায়ের জীবনে খুবই গুরুত্বপুর্ণ মুহুর্ত। এ সময় রকম সমস্যা হতে পারে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার, নার্স, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও যন্ত্রপাতি সব পাওয়া যায়। তাই প্রয়োজনে যে-কোন জরুরী অবস্থা সামলানো যায়। কিন্তু বাসায় এসব ব্যবস্থা থাকে না।

যদি একান্তই বাসায় ডেলিভারি করাতে হয়, তবে অবশ্যই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ধাত্রীর ধারা ডেলিভারি করানো উচিৎ এবং সব ধরনের জটিলতা মোকাবিলা করার জন্য যথাযথ বন্দোবস্থা রাখা উচিৎ।

প্রশ্নঃ শুনেছি পেটের ভিতরে একটা ফুল আছে সেটা যদি না বেরোয়?

উত্তরঃ সন্তান ডেলিভারির কিছুক্ষণ পরেই আপনা আপনি ফুল পড়ে যায়। আর যদি না পড়ে তবে সাথে সাথে কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে।

প্রশ্নঃ গর্ভের, প্রসবের পর জটিল অবস্থা?

উত্তরঃ বাচ্চা পেটে আসার পর থেকে বাচ্চা জন্ম নেয়ার ৪২ দিন পর্যন্ত মেয়েদের কিছু জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সমস্যাগুলো খুবই বিপদজনক, তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা না নিলে মা ও শিশু দু’জনের জীবনই বিপন্ন হতে পারে।-স্বামী স্ত্রীর মধুর মিলন বই থেকে।

বিভাগঃ নারীর জগত

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

নারীদের ১০ টি বদ অভ্যাস যা পুরুষদের নিকট অপছন্দ ও বিরক্তির কারন!

নারী পুরুষ উভয়ের কিছু বদ গুন আছে যা উভয়ের বিরক্তির কারন।নারীদের ভিতরে এমন কিছু বদ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *