যে কোন যৌন বা স্বাস্থ্য সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডা.মনিরুজ্জামান এম.ডি স্যার। কল করুন- 01707-330660

হিরার আংটিখবরের কাগজ “The Times” এর ব্যাক্তিগত কলামে রোজই একটা বিঞ্জাপন ছাপা হয় । সেটা এরকমঃ “আপনি কি সুখী ? যদি না হন , দেখা করুন মি. পারকার পাইনের সাথে । ১৭ রিচমন্ড পার্ক ।”

ব্যাতিক্রমী বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই সামান্য অবাক হয় , তবে অই পর্যন্তই ।সত্যি সত্যি দেখা করতে আসে খুবই অল্প কিছু লোক । আজ তেমনি একটা দিন ।

মি. পার্কার এর ডেস্ক এর বারজারটা বেজে উঠল হটাৎ । বোতাম টিপে তিনি বললেন , বলুন ।

“একটা মেয়ে আপনার সাথে দেখা করতে এসেছেন , স্যার ”

“আপনি তাকে পাঠিয়ে দিতে পারেন মিস লেমন !”

অনুমতি দিলেন তিনি ।

কয়েক মূহুর্ত পর নবাগতা ঢুকল ।

“গুড মর্নিং , প্লিজ বসুন” বলল পারকার ।

বসল মেয়েটা । তীক্ষণ ভাবে তাকে পর্যবেক্ষন করলেন মি. পাইন ।ষ্পট বুঝা যাচ্ছে মেয়েটা খুবই নার্ভাস।

“আপনি কি মি. পার্কার ?”

“হ্যা”

“যিনি…যিনি পত্রিকায় বিঞ্জাপন দেন !”

“হ্যা ঠিকই ধরেছেন”

“আপনি বলেন কেউ অসুখি হলে আপনার সাথে দেখা করতে…”

“হ্যা বলি”

মেয়েটা একটু দম নিল । তারপর বলল, “আমি এ মূহুর্তে ভয়ানক অসুখী । কি করব ভেব পাচ্ছিলাম না , তাই বিঞ্জাপনটা দেখে ভাবলাম আপনার সাথে দেখা করি”

জবাব নাডিয়ে অপেক্ষা করলেন মি. পাইন মেয়েটার কথা এখনও শেষ হয়নি । খানিকটা দম নিয়ে মেয়েটা আবার বলতে শুরু করল, “আ…আমি একটা মারাত্বক বিপদে পড়েছি” হাত দুটো কচলাচ্ছে সে । যেন কি বলবে কিছু বুঝে উঠতে পারছেনা ।

“হু !” বললেন মি. পাইন । “সমস্ত ব্যাপারটা আমার কাছে খুলে বলুন”

মেয়েটা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলতে লাগল , “আসলে ব্যাপারটা খুবই সিরিয়াস ”

“আর …”

“আর গোপনীয় বটে”

“আপনি নিশ্চিন্তে বলতে পারেন”

মেয়েটি বড় একটা দম নিয়ে সব বলে গেল ।

পার্কার চিন্তিত ভঙ্গিতে মাথা নারলেন ।

মেয়েটার নাম ড্যাফনে ।স্বভাবে একটু উড়নচন্ডি টাইপের । প্রচুর টাকা উড়ায় সে , যদিও তাঁর সামর্থ্য নেই ।তাই দেনা করে টাকা উড়ায় ।এবং দেখতে দেখতে বিরাট অঙ্কের একটা ঋনের মধ্যে পরে যায় সে ।অবশ্য এ ব্যাপারে তাঁর স্বামী কিছুই জানেনা ।

কাঁদো কাঁদো হয়ে গেল মেয়েটি ।

“সমস্যা এতটুকু হলে ভাল হত ! কিন্তু সমস্যা আরও বড়…”

“আরেকটু খুলে বলবেন কি?” বললেন পারকার ।

ড্যাফনে নিচু হয়ে তার ব্যাগ থেকে কি যেন একট বের করল ।

জিনিসটা আকারে ছোট ।কিন্তু উজ্জলআর ঝকঝকে ।

“এটাই সমস্ত নষ্টের গোরা” ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল মেয়েটি ।

আলোয় নিয়ে দেখলেন পারকার । জিনিসটা একটা প্লাটিনামের আংটি । উপরে একটা বড়সড় হিরা বসানো ।

“একদম খাঁটি একটা হিরা ।কম পক্ষে দুই হাজার পাউন্ড দাম !”

“ঠিক ! তবে ওটা চোরাই , আমার এক ক্লাসমেটের বাড়িতে গিয়ে চুরি করেছি আমি এটা ।”

“তাই নাকি !” নরে চরে বসলেন পারকার ।

মেয়েটা একটু ধাতস্ত হয়ে বলতে শুরু করল , “আমার অবস্থা তখন খুবই শোচনীয় ।এসময় আমরা কয়েকদিনের জন্য নওমি মানে আমার ক্লাসমেটের বাড়িতে বেড়াতে যাই ..”

“ওর স্বামীর অঢেল টাকা , যা হোক সেসব । যেদিন চলে আসব সেদিন নওমি আমাকে আংটি দিয়ে এটাকে জুয়েলারী দোকানে সারানোর জন্য দিয়ে বলে”

“হুম” চিন্তিত ভঙ্গিতে মাথা ঝাকালেন পারকার ।

“আংটিটা হাতে নিয়েই আমার মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি চাপে । আমি দোকানে গিয়ে ওটার একটা নকল পাথরের ক্লোন আংটি তৈরী করি”

“তারপর নকলটা আপনার ফ্রেন্ডের কাছে পাঠিয়ে আসলটা আপনি নিয়ে আসেন এইতো ??”

মাথা ঝাকাল মেয়েটি ।

“কিন্তু এরপরই অপ্রত্যাশিত ভাবে আমি আমার এক আত্বীয়ের কাছ থেকে কিছু টাকা পেয়ে যাই……যা আমার ঋন দানের জন্য যথেষ্ট ছিল ”

“ফলে আংটি টা আর আপনার কাজে লাগেনা এবং আপনি এখন টা তাকে ফেরত দিতে চান তাইতো ?” পারকারের কথায় মাথা ঝাকল মেয়েটি ।

“হ্যা তবে তা অত্যন্ত গোপনীয়ভাবেএবং খুব শীঘ্রই কারন নওমী খুব শীঘ্রই ওর আংটি টাকে জুয়েলারি দোকানে পাঠাবে আর তাহলে আমি ধরা পরে যাব”

“আচ্ছা” মাথা নারলেন পারকার ।

“‘আজকে রাতে নওমীর জন্মদিনের পার্টি ..আপনারা সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেন”

“গুড পয়েন্ট !” ঝিকিয়ে উঠল পারকারের চোখ ।

পরদিন সকাল ।পারকারের অফিস ।

“ভেতরে আসুন” ডোরবেল বাজতেই বললেন পার্কার ।

“বদলাতে”পেরেছেন তো!” চেম্বারে ঢুকেই প্রশ্ন ছুড়ল ড্যাফনে ।

“ভয়”নেই মেয়ে , আপনার কাজ হয়ে গেছে।”

“বাচালেন !” উজ্জল হয়ে উঠল মেয়েটার মুখ ।

“নওমি কোন সন্দেহ করেনি তো !”

“না ।ব্যাপারটা ডান্সের সময় আমারএজেন্ট করেছে ।সন্দেহের প্রশ্নই উঠেনা”

মুখে বিজয়ীর হাসি ফুটিয়ে পকেট থেকে আংটিটা বের করে দিলেন পারকার !

“এটা নকলা তো ?”

“অবশ্যই ।গতকাল যেটা দেখিয়েছিলেন সেটা এখন আপনার ফ্রেন্ডের আঙুলে শোভা পা্চছে”

হাসি মুখে বললেন পারকার ।

“তাছারা এটা জুয়েলারী দোকান পরিক্ষা ও করেছি ।”

“কি বলেছে ওরা ” অবাক বিস্ময়ে চোখদুটো বেরিয়ে পড়ছে যেন ড্যাফনের ।

“কি আর বলবে নকল হিরা ছারা”

“নকল?”

“কেন আপনি আসল আশা করছিলেন নাকি?”

“না … মানে ঠিক তা….” আমতা আমতা করতে লাগলেন ড্যাফন ।

“আপনি ধরা পড়ে গিয়েছেন ম্যাডাম”

“মানে?”

“মানে”চুরিটা আপনি করেন নি চুরিটা আসলে আমাকে দিয় করাতে চেয়েছিলেন”

“কি বলছেন আমি …..’

“থাক” হাতটা উপরে তুলে ধরলেন পারকার ।

“আপনার নাম ড্যাফনে নয়…অ্যারস্টিন আপনার নাম…আর নওমির বন্ধুও নন আপনি….সেক্রিটারি”

“কি….বল” আরেক বার মিথ্যাকে ঢাকা র চেষ্টা করল মেয়েটি ।

“নওমীর আংটিটা ঢিলে হয়ে যাওয়ায় শহরে এলেন …..নকল তৈরী করলেন তারপর আসলেন আমার কাছে ….আসলটা দেখিয়ে আমাকে বিশ্বাস করালেন তারপর যথারীতি আসলটা নওমীর কাছে পৌছে দিলেন ।পার্টিতে যাবার সময় তারা হুরা করে নকলটা তুলে দিলেন আমার লোকের কাছে…”

চুপ করে রইলেন ড্যাফেন

“ভালই ফাঁদ পেতেছিলেন ।কিন্তু ধরা পরে গেলেন ।আমার আগেই আপনার উপর সন্দেহ হয়েছিল তাই ট্রেনে আবার আংটি টা পরিক্ষা করালাম…নিশ্চয় বুঝতে পারছেন…তখুনি .. ”

“আমি দুঃখিত আপনাকে সুখী….”কথাটা শেষ করতে পারলেন না মি.পারকার

“থাক আর জ্ঞান দিতে হবেনা…বুড়ো শকুন..” রাগে গজগজ করতে বেড়িয়ে গেলেন ড্যাফেন ।

মুচকি হাসলেন মি. পারকার পাইন।তারপর তিনি তার সেক্রিটারিকে ডেকে বললেন,”মিস.লেমন আমি একটু বিশ্রামনেব ।কেউ আসলে ডেকে দিবেন”।

চেয়ারে এলিয়ে পরে চোখ বুঝলেন তিনি।

লেখকঃ আগাথা ক্রিস্টি

Syed Rubelকিছু গল্পbangla golpo,golpo,বাংলা গল্পখবরের কাগজ “The Times” এর ব্যাক্তিগত কলামে রোজই একটা বিঞ্জাপন ছাপা হয় । সেটা এরকমঃ 'আপনি কি সুখী ? যদি না হন , দেখা করুন মি. পারকার পাইনের সাথে । ১৭ রিচমন্ড পার্ক ।' ব্যাতিক্রমী বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই সামান্য অবাক হয় , তবে অই পর্যন্তই ।সত্যি সত্যি দেখা করতে আসে...Amar Bangla Post