Breaking News

হযরত মারয়াম (আঃ)

আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

فَاتَّخَذَتْ مِن دُونِهِمْ حِجَابًا فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا ১৬

 

فَاتَّخَذَتْ مِن دُونِهِمْ حِجَابًا فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا ১৭

قَالَتْ إِنِّي أَعُوذُ بِالرَّحْمَن مِنكَ إِن كُنتَ تَقِيًّا ১৮

قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلَامًا زَكِيًّا ১৯

قَالَتْ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا ২০

قَالَ كَذَلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَلِنَجْعَلَهُ آيَةً لِلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِّنَّا وَكَانَ أَمْرًا مَّقْضِيًّا ২১

فَحَمَلَتْهُ فَانتَبَذَتْ بِهِ مَكَانًا قَصِيًّا ২২

فَأَجَاءهَا الْمَخَاضُ إِلَى جِذْعِ النَّخْلَةِ قَالَتْ يَا لَيْتَنِي مِتُّ قَبْلَ هَذَا وَكُنتُ نَسْيًا مَّنسِيًّا ২৩

فَنَادَاهَا مِن تَحْتِهَا أَلَّا تَحْزَنِي قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّا ২৪

وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا ২৫

فَكُلِي وَاشْرَبِي وَقَرِّي عَيْنًا فَإِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ الْبَشَرِ أَحَدًا فَقُولِي إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ صَوْمًا فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنسِيًّا ২৬

(হে মুহাম্মদ) এই কিতাবে মারইয়ামের কথা বর্ণনা করুন, যখন তিনি স্বীয় পরিবারের লোকজন থেকে পৃথক হয়ে পূর্বদিকে এক স্থানে (গোসলের জন্য) গেলেন।

অতঃপর তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্যে সে পর্দা করলো। অতঃপর আমি তার কাছে আমার ফেরেস্তা জিবরীলকে প্রেরণ করলাম, সে তার নিকট পুর্ণ মানবাকৃতিতে আত্ম প্রকাশ করল।

মারইয়াম বললঃ আমি তোমার থেকে দয়াময়ের আশ্রয় প্রার্থনা করি যদি তুমি আল্লাহভীরু হও।

সে বললঃ আমি তো শুধু তোমার পালনকর্তা প্রেরিত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করে যাব।

মরিইয়াম বললঃ কিরূপে আমার পুত্র হবে, যখন কোন মানব আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও কখনও ছিলাম না ?

সে বললঃ এমনিতেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলেছেন, এটা আমার জন্যে সহজ সাধ্য এবং আমি তাকে মানুষের জন্যে একটি নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ করতে চাই। এটা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার।

অতঃপর তিনি গর্ভে সন্তান ধারণ করলেন এবং তৎসহ এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেলেন।

প্রসব বেদনা তাঁকে এক খেজুর বৃক্ষ-মূলে আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। তিনি বললেনঃ হায়, আমি যদি কোনরূপে এর পূর্বে মরে যেতাম এবং মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে, যেতাম!

অতঃপর ফেরেশতা তাকে নিম্নদিক থেকে আওয়ায দিলেন যে, তুমি দুঃখ করো না। তোমার পালনকর্তা তোমার পায়ের তলায় একটি নহর জারি করেছেন।

আর তুমি নিজের দিকে খেজুর গাছের কান্ডে নাড়া দাও, তা থেকে তোমার উপর সুপক্ক খেজুর পতিত হবে।

যখন আহার কর, পান কর এবং চক্ষু শীতল কর। যদি মানুষের মধ্যে কাউকে তুমি দেখ, তবে বলে দিওঃ আমি আল্লাহর উদ্দেশে রোযা মানত করছি। সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সাথে কথা বলব না।–সুরা ১৯ মারইয়াম, আয়াত:১৬-২৬।

 

মারিয়াম (আঃ) ছিলেন স্বীয় মাতা হিন্না ফাকূযের দীর্ঘ প্রত্যাশার ফসল। জম্মের পূর্বেই তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসের কেদমতের জন্য প্রতিশ্রুত ছিলেন। শৈশব-কৈশোরের সিঁড়ি পেরিয়ে পরিণত বয়সে পৌঁছলে তিনি মহিমান্বিত এক পয়গাম্বরের জননী হন। তিনিও ছিলেন বিস্ময়কর অলৌকিকতার বহিঃপ্রকাশ । তাঁর পুরো জীবনটিই ছিল অলৌকিকতায় ভরপুর। তাঁর বিরুদ্ধবাদীরা যদিও তাঁকে নিহত করেছে বলে ধারণা করে থাকে, কিন্তু ঐশী সত্য হল, মৃত্যুর হিমশীতল ছোঁয়া এখনও তাঁর গায়ে লাগেনি। ইহকাল-পরকাল সবখানেই তিনি অনন্য মর্যাদায় অভিষিক্ত।

এসব আলোচনার জন্য দীর্ঘ অবকাশের প্রয়োজন। তাঁর চেয়ে বরং আমরা মহিয়সী নারী মাতয়ামের জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনা করি। আর এ সুযোগে তাঁর স্নেহময়ী জননী হিন্না বিনতে ফাকূযকেও আমরা একটু ভাল করে চিনে নেই।

হিন্না ছিলেন নিঃসন্তান । কতশত বার যে তিনি একটি সন্তানের প্রত্যাশায় ব্যাকুল হয়েছেন কে তাঁর খবর রাখে। শুধু একটি সন্তান। যাকে একবার দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে। তৃপ্তিতে ভরে উঠবে হৃদয়—মন। হিন্না যখন দেখতেন একটি পাখি তাঁর ছানাকে মাতৃস্নেহে জড়িয়ে রেখেছে, তখন তিনি আনমনা হয়ে যেতেন। নিজের সঞ্চিত ভালবাসায় সিক্ত করতে চাইতেন সে পক্ষীশাবককে। কোন বাচ্ছা কোলে নিয়ে তাঁর সামনে এলে তাঁর ব্যাকুলতা আরো বেড়ে যেত। তিনি ভাবতেন তাঁরও যদি এমন একটি সন্তান থাকত। তিনি যদি সন্তানের মা হতেন, স্নেহ—মমতায় ভরিয়ে রাখতেন তাঁকে।

ধীরে ধীরে হিন্নার বয়স বেড়ে চলল। তাঁর স্বামী ইমরান বিন মাছান ছিলেন বনী ইসরাইলের একজন প্রসিদ্ধ পণ্ডিত। তাদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন কেটে গেল কিন্তু একটি সন্তান তবুও তাদের ভাগ্যে জুটল না। তাই বলে তারা আল্লাহর রহমত থেকে সামান্যতম নিরাশ নন। অজ্ঞ আর অকৃতজ্ঞরাই কেবল খোদার রহমত থেকে নিরাশ হতে পারে। জীবন সায়াহ্নে এসেও একবার হিন্না আস্মান-জমিনের বর পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর কাছে একটি সন্তান চাইলেন। চূড়ায় বিনয় বিগলিত হয়ে তিনি প্রার্থনা করলেন, তিনি অঙ্গীকার করলেন, যদি তাঁর আশা পূরণ হয় এবং একটি পুত্রসন্তান জম্ম নেয় তাহলে বায়তুল মুকাদ্দাসের খেদমতের জন্য তিনি তাঁকে উৎসর্গ করবেন। তিনি মনে মনে আরো সিদ্ধান্ত নিলেন, ঐ সন্তানকে দিয়ে বায়তুল মুকাদ্দাসের খেদমত ছাড়া আর কোন কাজই তিনি করাবেন না। নিরন্তর সে ঐ ঘরের সেবায় নিয়োজিত থাকবে একনিষ্ঠভাবে। একটি সন্তানের ব্যাকুল প্রত্যাশা তাঁর অন্তর্জগতে তোলপাড় শুরু করে দিল। যে সন্তান দেখে তাঁর মন জুড়িয়ে যাবে। জীবনের বাগিচা রঙ্গিন হয়ে উঠবে বাহারী ফুলে। পার্থিব জীবনের বোঝা বহনে তাঁর সহায়ুক হবে এজন্য সন্তানের প্রত্যাশী ছিলেন না তিনি।

এই প্রার্থনার পর খুব বেশি দিন অতিবাহিত হয়নি। তাঁর মনে হল, আলাহ যে২ন তাঁর ডাকে এবার সাড়া দিয়েছেন। তাঁর প্রত্যাশা যেন পূরণ হতে যাচ্ছে। আনন্দে উদ্বেলিত হয়ী উঠলেন তিনি। খুশির ঝিলিক ফুটে উঠল তাঁর চেহারায়। লাজুক ভঙ্গিতে স্বামীকে জানালেন তাঁর হৃদয়ে লালিত স্বপ্ন আর বর্তমান অবস্থার কোথা। উভয়ের আনন্দ যোগ হয়ে এক দ্যুতিময় পরিবেশ সৃষ্টি হল সেখানে। বেশ আনন্দপ্রবাহে কেটে যাচ্ছিল মুহুর্তগুলো। প্রতিটি প্রভাতই ইমরানের ঘরে আনন্দের আলো ছড়িয়ে দিত।

আর তাঁর স্ত্রী অনাগত সন্তানের সুর্যমুখ কল্পনা করতে করতে গর্ভকালীন বিভিন্ন কষ্ট হাসিমুখে বরণ করে নিতেন। কিন্তু চলমান দুনিয়ার দিঙ্গুলো সব সময় একরকম থাকে না। দুঃখ যাতনা যেমন স্থায়ী হয় না আনন্দ ও উল্লাসও চিরকাল রয় না। পরম আরাধ্য নয়ণের মণি সন্তানকে দেখার আগেই ইমরান পরলোকে পাড়ি জমালেন।

হিন্নার সুখের দিঙ্গুলো বদলে গিয়ে দুঃখের রূপ নিল। তাঁর কান্তিময় চেহারায় বেদনার চিহ্নগুলো সুপ্রকট হয়ে প্রকাশ পেতে লাগল। কষ্টের কালিমায় ছেয়ে গেল তাঁর গোটা জীবন। খুশিগুলো কোন অজানা আধাঁরে যে হারিয়ে গেল! তিনি কেমন যেন নির্বিকার ও স্থবির হয়ে পড়লেন। স্বামী শোকে কাঁদতে কাঁদতেই তাঁর দিন কাটে। কিন্তু করারও তো কিছু নেই। আল্লাহ পাকের সিদ্ধান্ত স্থিরিকৃত। তাঁর সিদ্ধান্তের কোন ব্যত্যয় নেই। তিনিই সকল কিছুর মালিক। রাজাধিরাজ।

হিন্নার সদোদরা বোন ঈশা। স্বামীহারা বোনের শোকসন্তপ্ত মনে কিছুটা সান্ত্বনা দেয়ার জন্য বোনের বাড়িতে এলেন তিনি। তিনি আবার যাকারিয়া (আঃ) এর স্ত্রীও। আর যাই হোক ভালবাসার প্রাচুর্যে যাকারিয়া (আঃ) ভরিয়ে রেখেছিলেন ঈশার মনোজগত। নবীর পবিত্র পরশে তাঁর প্রজ্ঞাও বেড়ে যাচ্ছিল দিন দিন। আসলে এসবই আল্লাহর ফয়সালা। এখানে অনধিকার চর্চার সুযোগ নেই কারো। যাই হোক আপনজনকে কাছে পেয়ে আফসোস করে হিন্না বলতে লাগলেন, আমার বড় আশা ছিল তিনি আরো দীর্ঘায়ু হবেন। নিজের ছেলেটাকে অন্তত দেখে যাবেন। ঈশা বললো, বুবু, তুমি কি করে জানলে যে তোমার ছেলে হবে না মেয়ে হবে? তাঁর সমর্থনে যাকারিয়া (আঃ) ও বললেন, আসলে তুমি ঠিকই বলেছ গর্ভে ছেলে না মেয়ে আছে তা আল্লাহই ভালো জানেন।

হিন্না আর কোন কোথা বললেন না। কিছু সময় পর যাকারিয়া (আঃ) স্বস্ত্রীক বাড়ীর পথে রওয়ানা হলেন। মনে তাদের একটিই আশা। হিন্নার একটি সন্তান হবে। সব দুঃখ ঘুচে গিয়ে আবার রাজ্যের সুখ এসে বাসা বাঁধবে তাঁর নিঃসঙ্গ কুটিরে। প্রসবের দিন ধীরে ধীরে ঘনয়ে এল। হিন্নার সৌভাগ্যের সিতারা দেখা দিল অবশেষে। তাঁর ঘরে একটি সন্তান জম্ম নিল। তবে সে ছেলে নয়। একটি ফুটফুটে মেয়ে। সন্তানকে এক নজর দেখেই তিনি প্রভুর শরণাপন্ন হলেন। স্বপ্রণোদিত হয়ে বললেন,

فَلَمَّا وَضَعَتْهَا قَالَتْ رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُهَا أُنثَى وَاللّهُ أَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالأُنثَى وَإِنِّي سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وِإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

‘পরওয়াদেগার! আমি তো কন্যা সন্তান প্রসব করলাম। প্তহচ আল্লাহ পাক সমধিত জানেন যে, তিনি কী প্রসব করেছেন। আর (কাঙ্ক্ষিত) সে ছেলে এই মেয়ের সমকক্ষ নয়। আর আমি এর নাম রাখলাম মারয়াম, তাঁকে ও তাঁর সন্তানদেরকে আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে সমর্পণ করছি।’—সুরা আলে ইমরান, আয়াত ৩৬।

হিন্নার স্বরণে এল তিনি একটি পুত্র সন্তানের আশা করেছিলেন। নিয়ত ছিল তাঁকে বায়তুল মুকাদ্দাসের সেবায় উৎসর্গ করবেন, আর এভাবেই আল্লাহ পাকের নেয়ামতের একটি মানবীয় কৃতজ্ঞতা আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু এতো একটি মেয়ে সন্তান। গভীর চিন্তায় রেখা ফুটে উঠল তাঁর কপালে। যাই হোক তিনি মেয়েটির নাম রাখলেন মারয়াম। প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন, তুমি তাঁকে নিজ হেফাজতে, সহি সালামতে রেখ। দান, করুণা আর অজস্র রহমতে ভরপুর বানিয়ে দিও। তাঁর নাম শুনেই যেন মানুষের মাঝে ঐশী প্রেরণা জাগ্রত হয়। তিনি আরো বললেন, ‘হে আল্লাহ! তাঁকে ও তাঁর সন্তানদেরকে তুমি বিতাড়িত শয়তান থেকে নিরাপদ রেখ।’

তাঁর ব্যথাভরা কান্নায় প্রভুর রহম আর বাঁধ মানল না। তিন তাঁর দুআ কবুল করে নিএলন। চিন্তা আর বিষণ্নতার ছায়া দূর করে দিলেন। হিন্না তাঁর মেয়েকেই বায়তুল মুকাদ্দাসের সেবায় উৎসর্গ করার পাকাপোক্ত সিদ্ধান্ত নিলেন। এ নাযরানাও আল্লাহপাক দাসরে বরণ করে নিলেন। হিন্নাকে তিনি জানিয়ে দিলেন, আমার রহম আর দয়ার রাজ্যে মারয়ামের কোন অভাব হবে না। মারয়ামকে আমি আমার নেয়ামতের ফুলবাগিচায় ভ্রমর বানিয়ে দিব। হিন্না মারয়ামকে এক সফেদ কাপড়ে পেঁচিয়ে বায়তুল মুকাদ্দাসে নিয়ে গেলেন। সেখানকার খাদেম ও উলামাদের হাতে সোপর্দ করলেন প্রিয়তমা কন্যাকে। তাঁর মান্নত পুরা হয়ে গেল। আল্লাহ পাকের নিরাপদ তত্ত্বাবধানে ভেকমতের পরিণতি শুভই হবে এ অবিচল আস্থা আছে তাঁর মনে।

বায়তুল মুকাদ্দাসে সর্বসাকুল্যে ত্রিশজন লোক ছিলেন। তারা সকলেই মারয়ামকে নিজের তত্ত্বাবধানে প্রতিপালনের জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করে দিলেন। সকলেই কোলে তুলে নিচ্ছিলেন মারয়ামকে। মারয়াম তো যেনতেন মেয়ে নয়। সর্বজনশ্রদ্ধেয় ইমরান বিন মাছানের মেয়ে সে। তিনি ছিলেন বায়তুল মুকাদ্দাসের প্রথম সারির মান্যবর সেবক। যাকারিয়া (আঃ) সকলের আগ্রহের উপর আপত্তি তুলে বললেন, মার‍্য়াম আমার নিকটাত্মীয়। আমার স্ত্রী ঈশা তাঁর আপন খালা। কাজেই তাঁকে লালন পালনের আমিই বেশি হকদার।

কিন্তু কেউই আপত্তি আমলে নিলে না। সবাই বলল, মারয়ামকে লালন পালনের অধিকার আমাদের সকলেরই সমান। এ সৌভাগ্য তুমি একাই লাভ করবে আর আমরা বঞ্চিত হব, এটা কী করে হয়। যাকারিয়া (আঃ) বললেন, তোমরা বুঝতে চেষ্টা করো, মারয়াম আমার একান্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। আমার স্ত্রী হচ্ছে তাঁর আপন খালা। আমার হাতেই তোমরা তাঁকে তুলে দাও। ধীরে ধীরে বিষয়টি খুবই জটিলাকার ধারণ করল। তাদের বাকবিতণ্ডা ব্বেড়েই চলল। প্রত্যেকেই নিজেকে অধিক হকদার সাব্যস্ত করতে নানা প্রমানাদি তুলে ধরতে লাগল। এই মেয়েটির মাধ্যমে খোদার নৈকট্য অর্জনে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া যাবে এমন একটি বিশ্বাস তাদের অন্তরে প্রোথিত হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে সকলেই এ সমস্যা নিস্পত্তিতে লটারী করতে বাধ্য হল। যাকারিয়া (আঃ)ও মেনে নিলে এ সিদ্ধান্ত।

কাছেই এক নদী ছিল। যাকারিয়া (আঃ) সবাইকে নিয়ে নদীর পাড়ে গেলেন। সকলেই নিজ নিজ কলম ছুঁড়ে মারলেন নদীতে। অবাক কান্ড! সবার কলমই ডুবে গেল শুধু যাকারিয়া (আঃ) এর কলমটি নদীতে ভেসে ভেসে মাছের মত সাঁতার কাটতে লাগল। লটারীতে যাকারিয়া (আঃ) জিতে গেলেন, অন্যরাও নির্বাক্যে এ ফলাফল মেনে নিয়ে মারয়ামের লালন—পালনের দায়িত্বভার তাঁর হাতে তুলে দিলেন। যাকারিয়া (আঃ)ব এ সম্পদ নিয়ে চলে গেলেন স্ত্রী ঈশার কাছে। অনেক ভেবেচিন্তে তিনি বিশাল ইবাদতগৃহের এককোণে মারয়ামকে ছোট্ট একটি কামরা বানিয়ে দিলেন। সর্বসাধারণের সংশ্রব বিযুক্ত হয়ে, নির্জনে, নিবিষ্ট মনে আল্লাহর ইবাদত করার একদম উপযোগী করে।

যাকারিয়া (আঃ) এর তত্ত্বাবধানে বেড়ে উঠতে লাগলেন মারয়াম। যাকারিয়া (আঃ) ছাড়া অন্য কেউ মারয়ামের নিজনপুরীতে যেত না। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে মারয়ামের খোঁজখবর নিতেন। অসামান্য তৃপ্তিতে ভরে থাকত তাঁর বুক। দেখতে দেখতে কয়েকটি বছর কেটে গেল। আল্লাহর ইবাদত বন্দেগীতে মারয়াম সদা মশগুল। দিন কাটে রোজা রেখে আর রাত পার হয় দীর্ঘ নামায আর বিনয়ভরা আরাধনায়। বিনিদ্র রজনী যাপন আর একাধারে রোজা পালন তাঁর স্বভাবে পরিণতি হয়ে গিয়েছিল। এভাবেই কেটে যাচ্ছিল দিন। কোন কিছুই তাঁর একাগ্রতা ও অধ্যবসায়ে সামান্য বিঘ্ন ঘটাত। একদিন যাকারিয়া (আঃ) তাঁর কাছে গিয়ে একটি ব্যাপার দেখে বিস্মিত হয়ে গেলেন। তিনি বিষয়টির কোন কিনারা করতে পারলেন না। যাকারিয়া (আঃ) মারয়ামের থাকার ও ইবাদতের জন্য বায়তুল মুকাদ্দাসের উপরিভাগে একটি কামরা বানিয়ে দিয়েছিলেন। সিঁড়ি ছাড়া সেখানে আসা যাওয়া করা যেত না। যাকারিয়া জানতেন তিনি ছাড়া কেউ সেখানে যায়ুও না। অথচ তিনি দেখলেন মারয়ামের কামরায় বাহারী ফলের সমাহার। আশ্চর্য হয় তিনি মারয়ামকী জিজ্ঞেস করলেন্ন, তোমার কাছে এই যে এত ফলফলাদি দেখতে পাচ্ছি শীতকালের ফল, গরমকালের ফল, এগুলো তুমি কোথায় পেলে বেটি? মারয়াম নির্মোহ ভঙ্গিতে উত্তর দিলেন, এসবই আমার আল্লাহর কাছ থেকে আসে। তিনি তো যাকে ইচ্ছা বেশুমার রিযিক দান করেন। আর বলতে হল না, এতটুকুতেই যাকারিয়া (আঃ) বুঝতে পারলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক মারয়ামকে অনন্য এক মর্যাদায় অভিষিক্ত করবেন। সহজ সাধনায় যা কারো ভাগ্যে জোটে না।

যাকারিয়া (আঃ) ফিরে এলেন। মারয়ামের নির্জন কুটিরে কুদরতের কারিশমা দেখে তাঁর নির্বাপিতপ্রায় আশার আলোতে হঠাৎ ঝলক দেখা দিল। একটি সন্তানের বাসনা তাঁর হৃদয়ে আবার জাগ্রত হয়ে উঠল। তিনি অশিতিপর বৃদ্ধ। তাঁর স্ত্রীকে বার্ধক্য পেয়ে বসেছে, তদুপরি সে বন্ধ্যা। তাতে কী? মারয়ামের নির্জন কুটিরে যিনি সব মৌসুমের ফলফলাদির সমাহার ঘটাতে পারেন, সব কিছুর উপর যার একচ্ছত্র আধিপত্য, তিনি চাইলেই তো আমাকে একটি সন্তান দিতে পারেন। তাঁর দয়া তো অবারিত। তাঁর রহমত তো অনিরুদ্ধ। এসব ভাবতে ভাবতে অবচেতনেই যাকারিয়া (আঃ) এর হাত আসমানের দিকে উঠে গেল। এক বুক বিশ্বাস নিয়ে মহামহিম মাওলার কাছে তিনি কাময়নোবাক্যে নিজের আরজি প্রশ করতে লাগলেন। একটি সন্তানের প্রত্যাশায় তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা শুরু করলেন,

قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُن بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا

সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা আমার অস্থি বয়স-ভারাবনত হয়েছে; বার্ধক্যে মস্তক সুশুভ্র হয়েছে; হে আমার পালনকর্তা! আপনাকে ডেকে আমি কখনও বিফলমনোরথ হইনি।–সুরা মারয়াম, আয়াত ৪।

তাঁর এ প্রত্যাশা নিরেট পার্থিব ছিল না। এর অন্যতম একটি কারণ ছিল, নিজের স্বজনবর্গের ব্যাপারে তিনি ভীষণ আশঙ্কাবোধ করতেন। নিজের মুখেই এ আশঙ্কা ফুটিয়ে তুলে তিনি বললেন,

وَإِنِّي خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِن وَرَائِي وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا فَهَبْ لِي مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا

আমি ভয় করি আমার পর আমার স্বগোত্রকে এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; কাজেই আপনি নিজের পক্ষ থেকে আমাকে এক জন কর্তব্য পালনকারী দান করুন।–সুরা মারয়াম, আয়াত:৫।

যাকারিয়া (আঃ) এর চাচাত ভাই ছিল বনী ইসরাঈলের এক কুখ্যাত অমানুষ। এজন্য তিনি চরম আশঙ্কাবোধ করতেন, হয়তো তাঁর অবর্তমানে এ লোকতি ধর্মের ব্যাপারে অসততার আশ্রয় নিবে। অনন্তর তাঁর একজন উত্তরাধিকারও থাকবে না। এজন্য যাকারিয়া (আঃ) আল্লাহর কাছে একটি নেক পুত্র সন্তানের আবেদন করলেন। সে তাঁর উত্তরাধিকারীও হবে আবার মানুষের মাঝে বরণীয় ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বও হবে।

আল্লাহর সমীপে হাজির হয়ে তিনি দুআ করলেন,

وَإِنِّي خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِن وَرَائِي وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا فَهَبْ لِي مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا

يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنْ آلِ يَعْقُوبَ وَاجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّا

আমি ভয় করি আমার পর আমার স্বগোত্রকে এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; কাজেই আপনি নিজের পক্ষ থেকে আমাকে এক জন কর্তব্য পালনকারী দান করুন।

সে আমার স্থলাভিষিক্ত হবে ইয়াকুব বংশের এবং হে আমার পালনকর্তা, তাকে করুন সন্তোষজনক।–সুরা মারয়াম, আয়াত:৫-৬।

যাকারিয়া (আঃ) এর ভক্তিভরা প্রার্থনা কবুল হতে বিলম্ব হল না। তাঁকে সম্বোধন করে আল্লাহ পাক বললেন,

يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ اسْمُهُ يَحْيَى لَمْ نَجْعَل لَّهُ مِن قَبْلُ سَمِيًّا

হে যাকারিয়া, আমি তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম হবে ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে এই নামে আমি কারও নাম করণ করিনি।–সুরা মারয়াম, আয়াত ৭।

আল্লাহ পাকের দয়া ও বদান্যতা একটি আলকিত চাঁদের রূপ ধরে যাকারিয়া (আঃ) এর ঘরে এল। মারয়ামের নিভৃত কামরায় বাহারী ফলের সমাহার দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে প্রভুর কাছে যে প্রত্যাশা তিনি করেছিলেন, তাঁর সে প্রত্যাশা, সে স্বপ্ন আজ শতদল হয়ে পাপড়ি ছড়িয়ে দিল। তাঁর ঘরে অত্যন্ত খুবসুরত ফুটফুটে একটি পুত্র সন্তান জম্ম নিল। নাম তাঁর ইয়াহইয়া।

মারয়াম পরিণত বয়সে উপনীত হলেন। খোদার ভালবাসায় তাঁর অন্তর্জগত থাকত ভরপুর। তাকওয়া ও সততা ভেসে ভেড়াত তাঁর অবয়বে। সব কিছু পেছনে ফেলে শুধু নামাজ রোজাতেই তিনি নিমগ্ন হয়ে থাকতেন। এভাবেই পলে পলে সময় বয়ে যেতে লাগল । এক সময় মানুষের মাঝে খুব দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। অবস্থাদৃষ্টে যাকারিয়া (আঃ) লোকদের সমবেত করে বললেন, ‘লোক সকল! আমি বার্ধক্যের চরমে পৌঁছে গেছি। আমার শক্তি—সামর্থ্যও ফুরিয়ে গেছে। আমি আর মারয়ামের দায়িত্বভার বহন করতে পারছি না। আমাকে আজ বল, আমার অবর্তমানে কে তাঁর দেখভাল করবে? তাঁর যাবতীয় খরচাদি কে বহন করবে? তাঁর মা হিন্নার কৃত মানত যেন পুরা হয়। সেও যেন নিবিষ্টচিত্তে খোদার ইবাদতে নিয়োজিত থাকতে পারে। এই দায়িত্বটুকু স্বতঃস্ফূর্তভাবে কে পালন করতে রাজি আছ আমাকে বল। সবাই মনযোগ দিয়ে কথাগুলো শুনল। তাদের মাঝে মারয়ামের এক নিকটাত্মীয়ও ছিলেন। তাঁর নাম ইউসুফ নাজ্জার। তিনি সামনে এগিয়ে এসে বললেন, ‘আমি মারয়ামের যাবতীয় দায়—দায়িত্ব বহনের ভার নিচ্ছি।

যাকারিয়া (আঃ) নির্ভার হলেন। তাঁর সযত্ন আমানত তুলে দিলেন ইউসুফ নাজ্জারের হাতে। মারয়ামের কল্যাণে ইউসুফের ঘরে দুর্ভিক্ষের মাঝেও নেয়ামত ও বরকতের ফল্লুধারা বইতে শুরু করল। পানাহারের সামগ্রী নিয়ে যখনই তিনি মারয়ামের কাছে আসতেন, দেখতেন বাহারী ফল আর খাদ্যদ্রব্য মারয়ামের কামরা আকীর্ণ হয়ে আছে। ইউসুফ আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করতেন, মারয়াম! এগুলো তোমার কাছে কোত্থেকে আসল? মারয়ামের সেই আগের উত্তর,

‘এগুলো সবই আল্লাহর দান। নিশ্চয়ই তিনি যাকে ইচ্ছা বেশুমার রিযিক দান করেন।’

মারয়াম কিন্তু বুঝতে পারতেন না যে, তাঁর সাথে অলৌকিক সব কর্মকান্ড ঘটে চলেছে। তাঁর দুনিয়াই তো এই কামরা, বহির্জগতের কার্যাবলী ছিল তাঁর কাছে অজ্ঞাত। নিজের কোন বিষয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্তের সুযোগ তাঁর ছিল না। তাঁর কাছে হরের রকমের ফলফলাদির সমাহার ঘটা, প্রভুর বন্দেগীতে তনুমনে তাঁর নিমগ্ন থাকা সবই তো খোদায়ী কুদরতের কারিশমা। একদিনের ঘটনা। নিরালা কামরায় বসে মারয়াম প্রভুর নাম জপছিলেন। ডুবে ছিলেন তাঁরই ধ্যানে। হঠাৎ তিনি কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়লেন। ঘরের নির্জনতা ছেড়ে একাকীই বাইরে বেরিয়ে এলেন তিনি। তাঁর কামরার সন্নিকটেই একটি পানির ভান্ডার ছিল। একটি মশকে করে পানি আনতে সেখানে গেলেন তিনি। সেখানে পৌঁছতেই হতভম্ব হয়ে গেলেন। জিবরীল ফেরেস্তা মানবরূ ধরে সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন।

তাঁকে দেখে ভয়ে কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে মারয়াম বললেন,

قَالَتْ إِنِّي أَعُوذُ بِالرَّحْمَن مِنكَ إِن كُنتَ تَقِيًّا

আমি তোমার থেকে দয়াময়ের আশ্রয় প্রার্থনা করি যদি তুমি আল্লাহভীরু হও।–সুরা মারয়াম-আয়াতঃ১৮।

আগন্তক তাঁকে বললেন,

আমি তো শুধু তোমার পালনকর্তা প্রেরিত ফেরেশতা, তোমাকে এক পবিত্র পুত্র প্রদানের জন্যই আমি এসেছি।’—সুরা মারয়াম-আয়াত ১৯।

মারয়াম অস্থির হয়ে ভাবতে লাগলেন আমি তো অন্তঃপুরবাসিনী সতীসাধ্বী নারী। লোকটা তো আবার আমাকে প্রতারিত করতে চাইছে না! আমার সাথে সে কেমন খোলামেলা কথাবার্তা বলছে। আমি তো লজ্জায় মরে যাচ্ছি। কতটা অসবগকোচে সে বলছে ‘তোমাকে একটি পবিত্র সন্তান দেয়ার জন্যই আমি এসেছি।’ অথচ আমরা ছাড়া তৃতীয় কেউ এখানে নেই। এমন নির্জন পরিবেশে কোন মানুষ কি একটি যুবতী মেয়েকে এ কোথা বলতে পারে? এতে তো মানুষের মনে সন্দেহের কালো মেঘ জমে যাবে। এ অস্বস্তিকর অবস্থায় পুর্ণ আত্মসংবরণ করে নিজের ইজ্জত—আব্রুকে নিঙ্কলুষ প্রমাণের প্রত্যয়ে তিনি বললেন,

 

قَالَتْ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا

কিরূপে আমার পুত্র হবে, যখন কোন মানব আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও কখনও ছিলাম না ?—সুরা মারয়াম, আয়াত ২০।

মারয়াম একাকী হলেও স্পষ্টভাষায়, ঝাঁঝালো স্বরে, অত্যন্ত আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে লোকটিকে কথাগুলো বললেন। জিব্রাঈল বুঝতে পেরে তাঁর আপাত আতঙ্ক দূর করার জন্য বললেন,

قَالَ كَذَلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَلِنَجْعَلَهُ آيَةً لِلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِّنَّا وَكَانَ أَمْرًا مَّقْضِيًّا

এমনিতেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলেছেন, এটা আমার জন্যে সহজ সাধ্য এবং আমি তাকে মানুষের জন্যে একটি নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ করতে চাই। এটা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার।–সুরা মারয়াম, আয়াত ২১।

আল্লাহ পাক যখন কোন বিষয়ের আগ্রহবোধ করেন, তখন একটি ‘কুন’ শব্দের উচ্চারণেই তাঁর অস্তিত্ব বিকশিত হয়ে যায়। জিব্রাইল তাঁর পয়গাম পৌঁছে দিয়ে চলে গেলেন। এদিকে মারয়াম সীমাহীন উৎকণ্ঠা আর দুর্ভাবনায় মলিন হয়ে পরলেন। আগন্তকের কথাগুলো তাঁর কানের তারে বাজতে লাগল। লকে শুনলে কী বলবে? একটি কুমারী মেয়ে গর্ভবর্তী হল কী করে? স্বামী নেই, তাহলে সন্তান আসল কী করে? দুশ্চিন্তায় তার দেহমন ছেয়ে গেল। চতুর্দিকে হাতড়ে তিনি কোন কূল—কিনারা পেলেন না। তিনি আরো বেশি নির্জনতামুখী হলেন। প্রচন্ড মানসিক যাতনার শিকার হলেন তিনি। নিরস জীবন। কোথাও যেন কেউ নেই। খাবার—দাবারের সেই স্বাদ কোথায় যেন উবে গেছে। তিনি নিজেই কাছেই কেমন অপরিচিত হয়ে উঠলেন। কারো কথাই তাঁর কানে বাজে না। ইবাদত বন্দেগী ছাড়া আর কোন কাজই তাঁর রইল না। মারয়াম লোকচক্ষুর আড়ালে, এমনকি তাঁর নিকটাত্মীয়দের থেকেও দূরে নাসেরা নগরীতে গিয়ে বসবাস শুরু করলেন। বায়তুল মুকাদ্দাসের অনতিদূরে এই নগরীতেই তিনি জম্মেছিলেন । তিনি চাচ্ছিলেন কেউ যেন তাঁর এ দুর্গতির কথা জানতে না পারে। তিনি যেন লোক সমাজে লাঞ্ছিত না হন। মারয়াম অত্যন্ত রোনাজারী করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন, তিনি যেন এ গভীর সঙ্কট থেকে উত্তরণের একতি পথ তাঁর সামনে খুলে দেন। এই দুর্দিনে তাঁর প্রতি একটু রহম করেন। তাঁর তো নিশ্চত বিশ্বাস ছিল, কোন গর্হিত কাজ তিনি করেননি বা কোন গোনাহের পথে পা—ও বাড়াননি। অথচ মানুষ তাকে অপবাদ দিতে থাকবে।

মারয়াম বুঝতে পারছিলেন না কী অলৌকিক কাণ্ড তাঁর সাথে ঘটতে যাচ্ছে। সকলেই তাঁর সতীত্ব স্বীকার করে নিবে। আরেকটি অলৌকিকতার বহিঃপ্রকাশ তাদেরকে এ কাজে বাধ্য করে ছাড়বে। অশ্রুভেজা আখিঁ নিয়ে আসমানের দিকে মাথা তুলে তিনি বলতে লাগলেন, ‘পরওয়াদেগার! আমি সত্যই তোমার সন্তুষ্টি চাই। তোমার দয়া ও ক্ষমার ভিখারী আমি। আমার মনে কী আছে, সবই তুমি জান। কিন্তু তোমার ইচ্ছা বা অভিলাষ কী আমি তাঁর কিছুই জানি না। মারয়াম সর্বান্তকরণে নিজেকে খোদার হাতে সপে দেয়াই নিরাপদ ভাবছিলেন। আল্লাহর ফয়সালাতেই কল্যাণ নিহিত আছে এ বিশ্বাস তাঁর পূর্ণমাত্রায় ছিল।

 

মারয়াম ইবাদতের প্রতি মনোনিবেশ আরো বাড়িয়ে দিলেন। রাতের নামায আর দিনের রোযা লাগাতার হতে লাগল। এদিকে তাঁর প্রসবের সময়ও ঘনিয়ে আসছে। একসময় তিনি অস্বাভাবিক একটি ব্যথা অনুভব করলেন। নগরী থেকে বেরিয়ে বায়তুল লাহমের দিকে এগিয়ে গেলেন তিনি। সেখানে গিয়ে একটি শুঙ্ক খেজুর বৃক্ষের কান্ডমুলে বসলেন। সবুজ ও সজীবতার কোন চিহ্নই সেখানে ছিল না। প্রত্যাশার দৃষ্টি মেলে ধরলেন চতুর্দিকে। না সাহায্য করার মত কেউ নেই আশেপাশে। অসম্ভব যাতনার এই সঙ্গীন মুহূর্তে একজন ধাত্রীর বড় প্রয়োজন ছিল। স্নেহময়ী মা জননী পাশে থাকলেও কিছুটা উপকার হত। কিন্তু কেউই নেই। শূন্য চারপাশ। একমাত্র আল্লাহই তাঁর ভরসা। তিনিই একমাত্র সহায়। অপর দিকে মানুষের অপবাদ ও অভিযোগের ক্রমাগত আশঙ্কা তাঁকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। তারা বলবে এমন বিস্ময়কর কথা তো আমরা জীবনে শুনেনি। তাদের কাছে এর একটিই মাত্র সমাধান। সতীনারী মারয়ামকে অপবাদের সূঁচালো কাঁটায় ক্ষত—বিক্ষত করে তোলা। পরিস্থিতির ঘূর্ণাবর্তে পড়ে মারয়াম তাৎক্ষণিক একটি সাহায্যের প্রত্যাশী হয়ে উঠলেন। তাঁর যদি একজন স্বামী থাকত, কী সীমাহীন খুশিই না আজ সে হত। ব্যথা প্রচন্ড আকার ধারণ করল এবং কোলজুড়ে নেমে এল একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তান। যুগপৎ আবেগ আর হতাশায় তিনি বলে উঠলেন,

فَأَجَاءهَا الْمَخَاضُ إِلَى جِذْعِ النَّخْلَةِ قَالَتْ يَا لَيْتَنِي مِتُّ قَبْلَ هَذَا وَكُنتُ نَسْيًا مَّنسِيًّا

হায়, আমি যদি কোনরূপে এর পূর্বে মরে যেতাম এবং মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে, যেতাম!—সুরা মারয়াম, আয়াত ২৩

অবস্থার অভিঘাতে মারয়াম বিপর্যস্ত। দিশ্চিন্তায় অনেকটা বিমূঢ় তিনি। কিন্তু আল্লাহ পাক তো আর তাঁর ব্যাপারে উদাসীন ছিলেন না। মারয়ামের জীবন ছেয়ে নামা দুর্যোগ আর উৎকণ্ঠাকে বিদূরিত করে আপন অনুগ্রহবারিতে তাঁকে সিক্ত করতে কুদরতের কারিশমা দেখালেন তিনি। অচিরেই মারয়াম সমাজের মানুষের সামনে লাঞ্ছিত ও মানসিক যাতনায় পিষ্ট হওয়ার তুমুল আশঙ্কা করছিলেন। একটু পরেই তিনি হাজারো প্রশ্নবানের মুখোমুখী হবেন। কষ্টের আঁধারে ছেয়ে যাবে তাঁর জীবন—জগত। অসামান্য অস্থিরতায় তাঁর ভেতরটা ছটফট করছিল। এহেন অস্বস্তিকর মুহুর্তে অলৌকিকতায় তাঁর অপরূপ খেলা দেখালেন তিনি।

মুহুর্তটি ছিল বড়ই বিস্ময়ের। ভাবাবেগে ভরপুর। সদ্যজাত শিশুটির মুখফুটে কোথা বেরোল। মায়ের সব পেরেশানী নিমেষেই দূর করে দিল সে। এর চেয়ে বড় বিস্ময় আর কী হতে পারে? আল্লাহর অনুগ্রহ শত পাখা মেলে উড়ে এল। অবাক নয়নে পুত্রের চাঁদমুখ দেখে দেখে বিস্মিত হচ্ছিলেন মারয়াম। অদৃশ্যের অন্তরাল থেকে কে যেন ডেকে বলল,

فَنَادَاهَا مِن تَحْتِهَا أَلَّا تَحْزَنِي قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّا

তুমি দুঃখ করো না। তোমার পালনকর্তা তোমার পায়ের তলায় একটি নহর জারি করেছেন।–সুরা মারয়াম-আয়াত, ২৪।

নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলেন এই বিশুঙ্ক প্রান্তরেও কলকল করে পানির ধারা বইছে। আর ঐ যে যে শুঙ্ক খেজুর বীথিকা, দেখ তা কেমন ফলবান হয়ে গেছে। তাঁর ছড়াগুলোতে শোভা পাচ্ছে তরতাজা আর সুস্বাদু খেজুর। ঐ খেজুর ডালটি ধরে ঝাকুনি দাও। তরতাজা খেজুর খাও। সুমিষ্ট পানি পান করো। মনমরা হয়ো না। পূর্ণ নিশ্চিন্ত থাক তুমি। মনে মনে আনন্দের পায়রা উড়াও। আল্লাহ পাক কখনোই তোমাকে লোকসমাজে লাঞ্ছিত করবেন না।

পুত্র ঈসার চাঁদমুখ থেকে মারয়য়াম চোখ ফেরাতে পারছিলেন না। নিমেষেই তাঁর সব কষ্ট যাতনা দূর হয়ে গেল। পেরেশানী বিদায় নিল মুহুর্তেই। দুশ্চিন্তার কালো মেঘ কেটে গিয়ে খুশির আলোকরশ্মিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল তাঁর অনিন্দ্য সুন্দর চেহারা। মারয়াম ঐ খেজুর ডাল থেকে তরতাজা খেজুর পেড়ে খেতে লাগলেন। নহর থেকে পানি নিয়ে গা—গতর সাফ করলেন। তৃপ্ত হলেন তা পান করে। সর্বোপরি এতকিছু পেয়ে আল্লাহর শুকরিয়া কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়ায় বিভোর হয়ে পড়লেন তিনি। ইত্যবসরে তাঁর চাচাত ভাই ও দায়িত্বভারগ্রহণকারী ইউসুফ নাজ্জার সেখানে এসে হাজির হলেন। তিনি বুঝতে পারলেন মারয়ামের কী হয়েছে। শিশু ঈসাকেও তিনি দেখতে পেলেন মারয়ামের কোলে।

এদিকে মারয়ামের কাছে ঐশী আদেশ পৌঁছল। যারা তাঁর পুত্র ঈসা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে তাদের সাথে কথা বলতে মানা। আল্লাহ পাক বলেন,

فَكُلِي وَاشْرَبِي وَقَرِّي عَيْنًا فَإِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ الْبَشَرِ أَحَدًا فَقُولِي إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ صَوْمًا فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنسِيًّا

যদি মানুষের মধ্যে কাউকে তুমি দেখ, তবে বলে দিওঃ আমি আল্লাহর উদ্দেশে রোযা মানত করছি। সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সাথে কথা বলব না।

আর ঐ সময়ের লোকদের যেহেতু রীতিই ছিল, রোযাদার ব্যক্তি কারো সাথে কথা বলত না। কাজেই আদেশটি ছিল একদম সময়োপযোগী।

মারয়াম লোকচক্ষুর অন্তরালে দূরবর্তী এক পাহাড়ী গুহায় শিশুপুত্র ঈসাকে ইয়ে নেফাসের দিনগুলো কাটিয়ে দিলেন। ইউসুফ নাজ্জার নিয়মিত তাঁর দেখভাল করতেন। নির্ধারিত সময়সীমা পার হলে মারয়াম নিজ ঘরে ফিরে আসেন। বিদ্যুতের মত ঘটনা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। লোকেরা তাঁর সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে ভর্তসনা করতে লাগল। প্রত্যেকেই তাঁর মায়ের উপমা টেনে এবং তাঁর পিতার অত্যুচ্চ মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিরস্কারের সুরে তাঁকে বলতে লাগল, তোমার মায়ের মাঝে তো এমন দুশ্চরিত্রতা ছিল না। তোমার বাবা তো খুবই শরীফ ও সম্ভ্রান্ত মানুষ ছিলেন। তাদের সন্তান হয়ে এ কী অঘটন তুমি ঘটালে। এতটা শালীন ও অভিজাত পরিবারের মেয়ে হয়ে এমন বিচ্ছিরি কাণ্ড তুমি করতে পারলে? তারা বলতে লাগল,

فَأَتَتْ بِهِ قَوْمَهَا تَحْمِلُهُ قَالُوا يَا مَرْيَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَيْئًا فَرِيًّا

يَا أُخْتَ هَارُونَ مَا كَانَ أَبُوكِ امْرَأَ سَوْءٍ وَمَا كَانَتْ أُمُّكِ بَغِيًّا

হে মারইয়াম, তুমি একটি অঘটন ঘটিয়ে বসেছ।

হে হারূণ-ভাগিনী, তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিনী।–সুরা-মারয়াম, আয়াত-২৭-২৮।

আল্লাহ পাক আছেন মারয়ামের সঙ্গে। তাঁর পুত্র ঈসার জন্য যেমন মুজিজা ছিল, ঠিক তেমনি তাঁর জম্মের উপর আরোপিত সংশয় ও অভিযোগেরও নিস্পত্তি হবে আরেকটি মুজিজার মাধ্যমে। মারয়াম্ম কারো কোন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন না। ইশারায় পুত্রকে দেখিয়ে দিচ্ছিলেন। কাণ্ড—কারখানা দেখে লোকেরা অবাক বনে গেল। বিস্মিত হয়ে তারা বলতে লাগল,

فَأَشَارَتْ إِلَيْهِ قَالُوا كَيْفَ نُكَلِّمُ مَن كَانَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا

‘এ কোলের শিশু তার সাথে আমরা কেমন করে কথা বলব?-সুরা—মারয়াম, আয়াত ২৯।

শিশু ঈসা কোন জবাবের সুযোগ না দিয়েই বলা শুরু করলেন,

قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا

وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا

وَبَرًّا بِوَالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا

وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدتُّ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا

আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব (ইঞ্জিল) দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন।

আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন নামায ও যাকাত আদায় করতে।

এবং জননীর অনুগত থাকতে এবং আমাকে তিনি উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি।

আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব।–সুরা মারয়াম, আয়াতঃ ৩০-৩৩।

 

এই নবজাতকটি মাতৃকোলে থেকেই এমন অমোঘ এক প্রমাণ তুলে ধরলেন, পুণ্যবতী মারয়ামে২র সতীত্ব ও নিঙ্কলুষ চরিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য এর চেয়ে বড় এর চেয়ে অব্যর্থ কোন প্রমাণ আর হতে পারে না। আসলে মারয়ামের নিষ্পাপ চরিত্র সকলের কাছে আরো বেশি বরণীয় করে তোলার জন্য এটি ছিল মুজিজা। আল্লাহর কাছে তো অসাধ্য বলতে কিছু নেই। কোলের শিশুর মুখেই তিনি কথার খৈ ফুটিয়ে দিলেন। শিশুটি পূর্ণ আস্থার সাথে, পিতার মাধ্যম ছাড়াই সে জম্মেছে। শিশুটির বাকচাতুর্যই মূলত অনাগত ফেতনার আগুনকে জ্বলে উঠার আগেই নির্বাপিত করে দিল নিমিষেই। মারয়ামের ঘরে ঈসার অলৌকিক প্রচার হয়ে গেল। প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি আড্ডায় আলোচিত হতে লাগল এ কথা। সন্দেহ সংশয়ের কালো মেঘ কেটে গিয়ে এ নবজাতকটি সকলের কাছে একটি নির্মল আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠল।

অন্যান্য শিশুদের মত ঈসাও তাঁর মায়ের কোলে স্নেহের ছায়ায় বড় হতে লাগলেন। সে যামানায় ঐ অঞ্চলের বাদশাহ্র উপাধি ছিল কায়সার। কায়সার হারদাউস ছিলেন তৎকালীন বাদশাহ। ঈসার জম্মের সময় জনৈক ব্যক্তি তাঁর কাছে গিয়ে বলল, এ সময় পৃথিবীতে একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হবে। ভবিষ্যতে তাঁর সুনাম—সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বময়। অঙ্করেই তাঁকে হত্যা করে ফেলা প্রয়োজন। নয়তো আগামীতে সে অসামান্য ব্যক্তিত্বের প্রভাবে সকল মানুষের নিঃশর্ত শ্রদ্ধায় অভিষিক্ত হয়ে সমাজের নেতৃত্বের আসন দখল করে নিবে। বাতাসে ভেসে ভেসে মারয়াম ও ইউসুফের কানেও এ কথা পৌঁছল। সময়ের নির্মমতা বিবেচনা করে ইউসুফ মারয়াম এ তাঁর ছেলেকে একটি বাহনে করে মিসর অভিমুখে পাঠিয়ে দিলেন। সে সময় মিসরের পরিবেশ ছিল অনেক নিরাপদ, শান্তিময়। মিসরের দক্ষিণ সীমান্তের এক নিরিবিলি অঞ্চলে মারয়াম আবাস গড়লেন।

পুত্র ঈসাকে নিয়ে মারয়ামের দিনগুলো নির্বিঘ্নেই কেটে যাচ্ছিল। ছেলেকে মার্জিত ও শালীন করে গড়ে তুলতে যত্নআত্তির সামান্য কমতি করতেন না তিনি। ঈসাও অনায়াসে আয়ত্ব করে নিচ্ছিলেন মায়ের সব শিক্ষা। বাল্যকালেই তাঁর মাঝে অনন্যসব মুজিজা ও নবুয়তের নিদর্শন প্রকাশ পাচ্ছিল। সমবয়সী সঙ্গীদের তিনি অবলীলায় বলে দিতেন আজ তারা ঘরে কি আহার করেছে। লোকেরা তাদের বাড়ীতে কোন জিনিস সঞ্চয় করে রাখত তাও নির্ভুল বলে দিতেন তিনি। অসাধারণ প্রতিভা ও মহত্ত্ব খেলা করত তাঁর চোখে মুখে। যে কোন অভিজ্ঞ মানুষই তাঁর ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হত। সামান্য থেকে কথাও তাঁর স্মৃতিপট থেকে মুছে যেত না। এভাবেই মিসরে কেটে গেল দীর্ঘ এক যুগ।

এদিকে কায়সার হারদাউসের রাজত্বেরও অবসান ঘটেছে। মারয়াম তাই স্বপুত্রক ফিলিস্তিনে ফিরে এলেন। নাসেরা নগরের পিতৃভিটায় মা—ছেলে সুখে স্বাচ্ছন্দে বসবাস করতে লাগলেন। ঈসা (আঃ) এর বয়স ত্রিশে উপনীত হলে জিব্রাইল ফেরেশতা সর্বপ্রথম তাঁর কাছে ঐশী পয়গাম নিয়ে আসলেন। তাঁকে আসমানীগ্রন্থ প্রদান করা হল। পূর্ববর্তী তাওরাতকে এ কিতাব পূর্ণ সত্যায়ন ও সমর্থন দিয়েছিল। সত্যের দাওয়াত নিয়ে ঈসা (আঃ) বেরিয়ে পড়লেন। তিনি লোকদেরকে সৌহার্দ্য—সম্প্রীতি ও শান্তির পথে আহ্বান করতে লাগলেন। তাঁকে অনুসরণের জন্য লোকদেরকে উদ্ধুদ্ধ করলেন। যে সকল উহুদি সত্যের পথ থেকে ছিটকে পড়েছে তাদের সংশোধন করা তিনি নিজেই দায়িত্ব মনে করলেন। সেকালে তাদের ধর্মীয় উবস্থা বড়ই করুণ হয়ে পড়েছিল। মুসা (আঃ) এর আদর্শ ও শিক্ষাকে তারা জগাখিচুড়ি মানিয়ে ফেলেছিল। সম্পদ ও সম্মান কামানোই ছিল তাদের জীবনের অভীষ্ট লক্ষ্য। মানুষের সম্পদ আত্মসাতের জন্য কতিপয় লোক ইবাদতগৃহের অবৈধ ব্যবহার করত। মানুষের সামর্থ থাকুক আর না থাকুক, তারা ধনী হোক কিংবা নির্ধন, সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে নিজেদের ভাঁড়ার পূর্ণ করাই ছিল তাদের কাজ। মানুষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে স্বার্থহাসিলে তারা ছিল সিদ্ধহস্ত। কতক লোক তো ধর্মকে অস্বীকারই করে বসেছল। কিয়ামত, পরকাল, বিচারের কাঠগড়াকে তারা মনে করত স্বকল্পিত । আর কতক লোক পার্থিব আয়েশে বিভোর হয়ে পড়েছিল। অন্যদেরকেও তারা সম্ভোগ আর প্রবৃত্তিপূজার আহ্বান জানাত। তাদেরকে প্রতারিত করে তাদের সম্পদ হাতিয়ে নিত অনায়াসে। ভোগসর্বস্বতা ছেয়ে গিয়েছিল সমাজ জুড়ে।

শহর—নগর আর নিভৃত পল্লীতে ঘুরে ঘুরে ঈসা (আঃ) মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দিতে লাগলেন। ধীরে ধীরে মানুষের মাঝে তাঁর একটি অবস্থান তৈরি হয়ে গেল। নিজের অনন্য সাধারণ প্রতিভা ও প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার বদৌলতে তিনি মানুষের হৃদয় রাজ্যের কর্তা হয়ে ওঠেন। এর পাশাপাশি খোদার মুজিজা তো ছিলই। অসুস্থ ব্যক্তিদের তিনি আল্লাহর ফযলে সহজেই সুস্থ করে তুলতেন। আল্লাহর হুকুমে তিনি একটি মৃত্তিকাখন্ডে ফুঁৎকার দিলেই পাখি হয়ে তা আসমানে উড়ে যেত। অল্প সময়েই অনেক লোক তাঁর ডাকে অভাবিত সাড়া দিল।

ঈসা (আ) গণকশ্রেণীর কাছে গিয়েও দাওয়াত দিলেন। সাধারণ লোকদের জন্য তিনি একটি বার নির্দিষ্ট করলেন। যেদিন পার্শ্ববর্তী পল্লী ও জনবসতি থেকে লোকজন বায়তুল মুকাদ্দাসে সমবেত হত। তিনি তাদের সামনে অমায়িক ভঙ্গিতে দ্বীনের দাওয়াত তুলে ধরতেন। এর ফলে অনেক লোক ঈমানী ধন্য হল। সর্বান্তকরণে তাঁর আদর্শকে তারা স্বাগত জানাল। দিনে দিনে তাঁর সমর্থন ও সহযোগীদের পাল্লা ভারি হতে লাগল। এতে যেন গণক আর জ্যোতিষীদের বাড়া ভাতে ছাই পড়ল। তাদের অন্তরে দুষ্টবুদ্ধির চারা গজিয়ে উঠল। ঈসা (আঃ) এর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও দূরভিসন্ধি আঁটতে লাগল তারা। কিন্তু আল্লাহ পাক সব সময়ই তাঁর পয়গাম্বরদের নষ্ট লোকদের নষ্টামী থেকে হেফাজত করে থাকেন। শত্রু যতই প্রতারণা, কূটকৌশল আর চালবাজির আশ্রয় নিক, আল্লাহ তাঁর পয়গম্বরদের ঠিকই সাহায্য করে থাকেন।

وَمَكَرُواْ وَمَكَرَ اللّهُ وَاللّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ

কাফেরেরা চক্রান্ত করেছে আর আল্লাহও কৌশল অবলম্বন করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ হচ্ছেন সর্বোত্তম কুশলী।–সুরা আল ইমরান-আয়াত ৫৪।

 

নবীজননী মারয়ামও তাঁর নবীপুত্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলতে লাগলেন। ঈসা (আঃ) কে মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার কাজে তিনি উৎসাহ ও প্রেরণা যোগাতেন। সমাজের ইতর ও নষ্ট লোকেরা ঈসা (আঃ) এর বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হলে, একজন বিশ্বস্ত বন্ধুর ন্যায় তিনি পাশে দাড়াঁতেন। সহমর্মিতা আর ভালোবাসা দিয়ে বলিষ্ঠ করে রাখতেন তাঁকে। মারয়াম তো সেই মহীয়সী জননী, যার মায়ের প্রতিশ্রুতি ছিল বায়তুল মুকাদ্দাসের জন্য তাঁকে তিনি উৎসর্গ করবেন, যার অবস্থানের স্থানটুকু আল্লাহ পাক যাবতীয় বরকতে ভরে রেখেছিলেন।

আদর্শের কাছে পরাজিত গণক ও জ্যোতিষীরা রোম সম্রাটকে কানপড়া দিয়ে বলতে লাগল ঈসা আপনার সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা এর একটি চরম প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু সম্রাট বললেন, আমার তো তাঁর দাওয়াতে বাহ্যত অপরাধমলক কিছু চোখে পড়ছে না। তারা বলল, যদি তাঁর দাওয়াতের কার্যক্রম আপনার এখানে পৌঁছে যায় তাহলে তা আপনার রাজত্ব ও সাম্রাজ্যের জন্য খুবই খতরনাক হবে। মানুষের অকুণ্ঠ শ্রদ্ধার পাত্র কায়সার হবে অপসারিত। বিষয়টি নিয়ে গভীর পর্যালোচনার জন্য লোকজন বায়তুল মুকাদ্দাসে সমবেত হল। তাদের স্বকল্পিত ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজতে লাগল তারা। পরিশেষে সিদ্ধান্ত হল ঈসাকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করা হবে। এদিকে ঈসা (আঃ) এর কাছেও তাদের ষড়যন্ত্র গোপন রইল না। কাজেই কদাচিৎ তিনি বাইরে এলেও প্রায় সময়ই আত্মগোপন করে থাকতেন। জননী মারয়ামও পুত্রের অশুভ পরিণতির আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠায় ভোগছিলেন। কিন্তু তাঁর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস ছিল আল্লাহ চাহে তো ঈসাই শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয়ী হবে। বায়তুল মুকাদ্দাসের অনতিদূরে এক গহীন বাগানে গিয়ে ঈসা (আঃ) সহচর সমেত আশ্রয় নিলেন। তাঁর একান্ত ভক্ত ও ছাত্ররাও সেখানে ছিল। তারা মনে করছিলেন হয়তো শত্রুর থাবা থেকে তারা এখানে নিরাপদ। কিন্তু রোম সম্রাট ও তাঁর গুপ্তচররা ঈসা (আঃ) ও তাঁর সহচরদের অবস্থানের খোঁজ পেয়ে যায়। ঈসা (আঃ) এর সহচররা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আচঁ করতে পেরে তাঁকে একা রেখে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পালিয়ে যায়। ঈসা (আঃ) অনেকটা নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। কিন্তু সর্বশক্তিমান আল্লাহ তো তাঁর পয়গাম্বরকে শত্রুর লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ফেলে রাখতে পারেন না। ঈসা (আঃ) তখনও একাকী ছিলেন না। তাঁর সাথে আল্লাহর অঙ্গীকার ছিল। শত্রুর যাবতীয় ষড়যন্ত্র ও দূরভিসন্ধি থেকে তিনি তাঁকে রক্ষা করবেন। এই ভয়ানক ও শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তে চক্রান্তকারীদের হিংস্র থাবা থেকে তাঁকে নিরাপদ রাখার ফায়সালা হয়ে গেল। আল্লাহর সাহায্য ছায়া নেমে এল। তাঁকে তিনি অচিন্তনীয়ভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে নিয়ে গেলেন। আর তাদেরই একজনকে ঈসা ঈয়াঃ) এর হুবহু আকৃতি দিয়ে দিলেন। ঈসা (আঃ) মনে করে লোকেরা তাঁর উপর অতর্কিতভাবে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ল। বিস্ময়ে কিংকতর্ব্যবিমূঢ় লোকটা হতভম্ব হয়ে গেল। আতঙ্ক আর ক্রাসে তাঁর মুখে কোন কথাই ফুটল না। সে আত্মপক্ষ সমর্থনে কোন সুযোগই পেল না। না চাইলেও নিজেকে তাদের হাতে তুলে তাঁর দুর্বল আওয়াজ চাপা পরে গেল। এ লোকটি ছিল ঈসা (আঃ) এর বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীদের মাঝে একধাপ এগিয়ে। পরের জন্য কুয়া খুঁড়ে নিজেই সেখানে ধরাশায়ী হল। আর ঈসা (আঃ) সম্পর্কে আল্লাহ পাক চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়ে দিলেন,

وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَـكِن شُبِّهَ لَهُمْ

‘তারা তাঁকে হত্যাও করেনি, শূলেও চড়ায়নি বরং তারা চরম বিভ্রান্তির শিকার হয়েছিল।’—সুরা নিসা, আয়াত ১৫৭।

ঈসা (আঃ) কে সুউচ্চ আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়। আর নকল ঈসাকে শূলে চড়ানো হয়। ঠিক এ সময় মারয়াম ঘটনাস্তলে উপস্থিত হন। প্রবল হতাশা নেমে আসে তাঁর চোখে—মুখে, বেদনার প্রচন্ড আঘাতে তাঁর হৃদয়টা খণ্ড—বিখণ্ড হয়ে যায়। পাশের এক মহিলা তাঁকে সান্ত্বনা দিতে চেষ্টা করেন। এক সময় মহিলাটি কঠিন রোগে আক্রান্ত ছিল। ঈসা (আঃ) এর দুআর বরকতেই আল্লাহ পাক তাঁকে আরোগ্য দান করেন। গভীর হতাশা আর সীমাহীন বেদনায় দগ্ধ হচ্ছিলেন মারয়াম। ইত্যবসরে ঈসা (আঃ) এর একান্ত দুই ভক্ত শামউন ও ইয়াহইয়া এসে মারয়ামকে বললেন, ঈসা (আঃ) উর্ধবারোহনের পূর্বে আমাদেরকে আপনার খেদমত আদেশ করে গেছেন। তিনি আরো বলেছেন, আমরা যেন তাঁর দাওয়াতী মিশন সচল রাখি। উৎফুল্লচিত্তে মারয়াম বললেন, শান্তি ও সম্প্রীতির পথে আল্লাহ পাক তোমাদের যাবতীয় সাধনা সফল করুন।

এরপর থেকে মারয়াম নিঃস্ব ও অসহায়দের আশ্রয়ে পরিণত হলেন। নিজের ভেতর তিনি উৎসাহ ও প্রেরণা সৃষ্টি করলেন। হিম্মতের আলো বিচ্ছুরিত হতে লাগল তাঁর থেকে । শামউন ও ইয়াহিয়ার সহযোগে ঈসায়ী দাওয়াতকে সকলের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর হলেন তিনি। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর দাওয়াতের বদৌলতে অনেক লোক সৎপথে ফিরে এল। ঈসায়ী আদর্শ ও শিক্ষার ঝাণ্ডাবাহী হলেন তারা । আর কত লোক নিজেদের গোমরাহী আর ভ্রষ্টতায় গোঁ ধরে রইল। সময়ের স্রোতে বয়ে চলল আপন গতিতে। নিজের নামায রোযায় নিমগ্ন থাকতেন মারয়াম। আল্লাহর পাক ঈসা (আঃ) এর ঊর্ধ্বারোহনের ছয় বছর পর নিজের পবিত্র আমনত ফিরিয়ে নিওতে মনস্থ করলেন। ফেরেশতাদের এক আযীমুশশান কাফেলার সাথে মারয়াম এ পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে চলে গেলেন। কিন্তু আল্লাহ পাক তাঁর নাম অবিস্বরণীয় করে রেখে দিলেন। স্বয়ং আল কোরআনে তাঁর নিষ্ঠা ও শুচিতার ঘোষণা করলেন। ইবাদতপ্রেমী মারয়ামের নাম চির জাগরুক হয়ে থাকবে কালের পাতায়। সততা ও সংযম, ন্যায় ও কল্যাণের অস্লান প্রতীক হয়ে থাকবেন তিনি সত্যের দিশারী মানুষের মাঝে। তাঁর সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেন,

وَمَرْيَمَ ابْنَتَ عِمْرَانَ الَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيهِ مِن رُّوحِنَا وَصَدَّقَتْ بِكَلِمَاتِ رَبِّهَا وَكُتُبِهِ وَكَانَتْ مِنَ الْقَانِتِينَ

আর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন এমরান-তনয়া মরিয়মের, যে তার সতীত্ব বজায় রেখেছিল। অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার পক্ষ থেকে জীবন ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং সে তার পালনকর্তার বানী ও কিতাবকে সত্যে পরিণত করেছিল। সে ছিল বিনয় প্রকাশকারীনীদের একজন।–সুরা তাহরীম, আয়াত ১২

শত সালাম কল্যাণময় ও নিষ্ঠাবতী মারয়ামকে। হাজার সালাম তাঁর শুচিতা ও শারাফতকে। কোটি সালাম মারয়ামের নির্মল আদর্শ হৃদয়ে লালনকারী জগতজোড়া নারীদের। অজস্র শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর পুত্র ঈসা (আঃ) এর উপর যেদিন তিনি জম্মেছেন, যেদিন তিনি মৃত্যু বরণ করবেন এবং যেদিন তিনি পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হবেন।

সমাপ্ত!

লিখেছেনঃ শাইখ আব্দুল মুনঈম হাশেমী

অনুবাদঃ মাওলানা হাসান শরীফ

আল কুরআনে নারীর কাহিনী বই থেকে সংগ্রহ করা।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

[প্রথম পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহর পরিচয়

শরী‘য়াহর শাব্দিক অর্থ: ‘শরী‘য়াহ্’ একটি আরবী শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ দ্বীন, জীবন-পদ্ধতি, ধর্ম, জীবন আচার, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *