Home / নারী / নারীর স্বাস্থ্য সমস্যা / গর্ভাবস্থায় আলট্রাসাউন্ড। যেসব কারণে আলট্রাসাউন্ড করতে হয়
আলট্রাসাউন্ড

গর্ভাবস্থায় আলট্রাসাউন্ড। যেসব কারণে আলট্রাসাউন্ড করতে হয়

চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থেকে দৈনন্দিন রোগীদের যে যে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়, তার একটি হল গর্ভাবস্থায় আলট্রাসাউন্ড করলে ভ্রূণের কোনো ক্ষতি হয় কি না। উত্তর হল—না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং দিকটি নিয়ে উন্নত বিশ্বের বহু দেশে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা হয়েছে, কিন্তু এখনও কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি যে, আলট্রাসাউন্ড করালে মাতৃজঠরে শিশুর কোনো রকম ক্ষতি  হয়। সুতরাং গর্ভাবস্থায় আলট্রাসাউন্ড সম্পূর্ণ নিরাপদ। সোনার (Sonar) কথাটার মানে হল Sound Navigation and ranging’।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে রোগ নির্ণয়ে অপরিহার্য এই যন্ত্রটি ডাঃ আয়ান ডোনাল্ট  গ্লাসগোতে ১৯৫০ সালে প্রয়োগ করেন।

বর্তমানে গর্ভাবস্থায় ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রে আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা হয় উত্তর আমেরিকা, গ্রেট ব্রিটেন এবং ইউরোপে।

বিগত ৫০ বছরে দশ কোটিরও বেশি নারীর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করে এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন রকম বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা করে শিশুর ওপর এর কোনো ক্ষতিকারক প্রভাব এখনও পাওয়া যায়নি।

গর্ভাবস্থায় নিয়মমাফিক আলট্রাসাউন্ড করা ব্রিটেন ও ইউরোপে ভালোভাবে স্বীকৃত এবং আমাদের দেশেও কোনো কোনো চিকিৎসাকেন্দ্রে এটা নিয়মমাফিক করা হয়।

বরং দু’বার আলট্রাসাউন্ড করা ভালো। সর্বাপেক্ষা ভালো সময় হল ১৮ থেকে ২০ সপ্তাহ ও ৩৩ সপ্তাহ। প্রথমোক্ত ক্ষেত্রে ভ্রূণের সঠিক বয়স নির্ণয় এবং জন্মগত কোনো ক্রটি আছে কি না তা জানার জন্য এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে শিশুর ভালো মন্দ অবস্থার পুর্ণমূল্যায়ন ও জন্মগত কোনো ক্রুটি আছে কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানা।

গর্ভাবস্থায় আলট্রাসাউন্ডের ব্যবহার

গর্ভাবস্থার প্রথমদিকে আলট্রাসাউন্ড করলে যা যা বোঝা যায়, তা হল—

  • গর্ভাবস্থার বয়স অর্থাৎ ভ্রূণের সঠিক বয়স নির্ণয় করা যায়, যাতে পরবর্তী ক্ষেত্রে প্রসবের সল্টহিক তারিখ বা IUGR হয়েছে কি না তা নির্ণয় করা যায়। এর জন্য নয়-দশ সপ্তাহে আলট্রাসাউন্ড করে Crown-rump length পরিমাপ করে ভ্রূণের বয়স সর্বাপেক্ষা সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়। বহু রোগী শেষ মাসিকের প্রথম দিন ঠিকভাবে বলতে বা মনে রাখতে পারেন না। তাঁদের ক্ষেত্রে এটা করা অপরিহার্য প্রসবের সম্ভাব্য দিন নির্ণয়ের জন্য।
  • অস্বাভাবিক ও ক্রটিপূর্ণ ভ্রূণের গঠনের উপস্থিতি নির্ণয় এবং প্রয়োজনে  তা দ্রুত গর্ভপাত করা।
  • যজম গর্ভের উপস্থিতি অতিশীঘ্র নির্ণয় এবং সেই অনুযায়ী গর্ভাবস্থায় পরিচর্যা করা যাতে মা ও দুটি শিশু সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকে।
  • গর্ভের ফুল নীচের দিকে থাকলে (প্ল্যাসেন্টা প্রিভিয়া) মায়ের গর্ভের বিপদ অনেক গুণ বেড়ে যায় (High risk pregnancy) । আলট্রাসাউন্ড করে সেটা নির্ণয় করলে রোগীর গর্ভাবস্থায় সঠিক পরিচর্যা এবং চিকিৎসা করা সম্ভব।

আলট্রাসাউন্ডের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল

  • পাঁচ সপ্তাহে Gestational ring বোঝা যায়।
  • ছয় সপ্তাহে Foetal pole এবং Yolk Sac বোঝা যায়।
  • সাত সপ্তাহে Cardiac pulsation বোঝা যায়।
  • আট সপ্তাহে ভ্রূণের চলাফেরা বোঝা যায়।

প্রায় ২ শতাংশ ক্ষেত্রে জন্মগত ক্রটি নিয়ে শিশুর জন্ম হতে দেখা যায়। প্রতি ৫০০ ভূমিষ্ঠ শিশুর মধ্যে একটির ক্ষেত্রে বড় ধরনের জন্মগত ক্রটি দেখা যায়। এই বিকলাঙ্গ অবস্থার জন্যই বহু শিশু মৃত অবস্থায় জন্মায়। জন্মগত ক্রটি নিয়ে শিশু জন্মানোর জন্য মুখ্যত জেনেটিক বা ক্রোমোজোমের ক্রটি দায়ী (৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে)। বাকি ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, ভেষজ পদার্থের প্রভাব, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ, মদ্যপান, ধূমপান, অক্সিজেনের অভাব ইত্যাদি দায়ী। বেশি বয়সে সন্তানধারণ অথবা কম বয়সে সন্তানধাতণ হলে শিশুর জন্মগত ক্রটি নিয়ে জন্মানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই গর্ভাবস্থার ১৮ থেকে ২০ সপ্তাহে আলট্রাসাউন্ড করা বরং বেশি দরকার যাতে গর্ভস্থ শিশুর কোনো বড় ধরণের ক্রটি ধরা পড়লে সহজেই গর্ভপাত করা সম্ভব।

লেখকঃ ডাঃ অবিনাশ চন্দ্র রায়

লেখকের গর্ভবতী মা ও সন্তান বই থেকে নেওয়া।

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

beautiful pregnant women in nature

গর্ভবতী নারীর ৯ মাসের শারীরিক পরিবর্তনের ইতিকথা

যখন একজন #নারী গর্ভবতী হন বা সন্তান নারীর গর্ভে আসে তখন একজন নারীর দেহে নানান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *