Home / বই থেকে / গম্য নারী পুরুষের নির্জনবাস ( আদর্শ বিবাহ )

গম্য নারী পুরুষের নির্জনবাস ( আদর্শ বিবাহ )

বেগানা(*) নারী – পুরুষের কোন নির্জন স্থানে একাকী বাস , কিছু ক্ষণের জন্যও লোক – চক্ষুর অন্তরালে , ঘরের ভিতরে, পর্দার আড়ালে একান্তে অবস্থান শরীয়তে হারাম। যেহেতু তা ব্যভিচার নিকটবর্তী করে, ব্যভিচারের ভূমিকা অবতারণায় সহায়িকা হয়। আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেন, কোন পুরুষ যেন কোন নারীর সহিত একান্তে গোপনে অবস্থান না করে।
কারণঃ শয়তান উভয়ের কুটনী হয়।( তিঃ, মিঃ ৩১১৮ নং)


এ ব্যাপারে সমাজে অধিক শৈথিল্য পরিলক্ষিত হয় দেওর-ভাবী ও শালী-বুনাই –এর ক্ষেত্রে। অথচ এদের মাঝেই বিপর্যয় ঘটে অধিক। কারণ, পর চোরকে পার আছে , ঘর চোরকে পার নাই। তাই তো আল্লাহর নবী (সাঃ) মহিলাদের  পক্ষে তাদের দেওরকে  মৃত্যুর সহিত তুলনা করেছেন। (বুঃ, মুঃ, মিঃ ৩১০২ নং)


অতএব দেওরের সহিত মায়ের বাড়ি, ডাক্তারখানা, অনুরূপ বুনাই-এর সহিত বোনের বাড়ি, ডাক্তারখানা বা কোন বিলাস -বিহারে যাওয়া-আসা এক মারাক্তক বিস্ফোরণ প্রথা বা ফ্যাশন। তদনুরূপ তাদের সহিত কোন রুম বা স্থানে নির্জনতা অবলম্বন, বাড়ির দাসী বা দাসের সহিত গৃহকর্তা বা কর্ত্রী অথবা তাদের ছেলে মেয়ের সহিত নিভৃতবাস , বাগদত্ত বরকনের একান্তে আলাপ বা গমন, বন্ধু- বান্ধবীর একত্রে নির্জনবাস , লিফটে কোন বেগানা যুবক- যুবতির একান্তে উঠা-নামা , ডাক্তার ও নার্সের একান্তে চেম্বারে অবস্থান , টিউটর ও ছাত্রীর একান্তে নির্জনবাস ও পড়াশোনা , স্বামীর অবর্তমানে কোন বেগানা আত্নীয় বা বন্ধুর সহিত  নির্জনবাস, ট্যাক্সিতে ড্রাইভারের সহিত বা রিক্সায় রিক্সাচালকের সহিত নির্জনে গমন, পীর ও মহিলা মুরীদের একান্তে বায়াত  ও তা,লীম প্রভৃতি একত পর্যায়ের; যাদের মাঝে শয়তান কুটনী সেজে অবৈধ বাসনা ও কামনা জাগ্রত করে কোন পাপ সংঘটিত করতে চেষ্টা করে। ( রাখুঃ ৩৫ পৃষ্ঠা, তামুঃ ১৬৭-১৬৮ পৃষ্ঠা)


বারুদের নিকট আগুন রাখা হলে বিস্ফোরণ তো হতেই পারে। যেহেতু মানুষের মন বড় মন্দপ্রবণ এবং দুর্নিবার কামনা ও বাসনা  মানুষকে অন্ধ ও বধির করে তুলে। তা ছাড়া নারীর মাঝে রয়েছে মনোরম কমনীয়তা এবং চপলতা। আর শয়তান তো মানুষকে
অসৎ কাজে ফাঁসিয়ে দিয়ে আনন্দবোধ করে থাকে। 
__________________________________________________
"যাদের সহিত চিরতরের জন্য বিবাহ অবৈধ তাদেরকেই মাহরাম , অগম্য এগানা এবং এছাড়া অন্যান্য সকল কে গায়র মাহরাম , গম্য বা বেগানা বলা হয়।"
___________________________________________________
অনুরূপ কোন বেগানা মহিলার সাথে নির্জনে নামায পড়াও বৈধ নয়। ( আনিঃ ১/৩৬০)
তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর নিকট নিজের সন্তান দেখতে গিয়ে বা কোন কাজে গিয়ে তার সহিত নির্জনতাও অনুরূপ। কারণ, সে আর স্ত্রী নেই। আর এমন মহিলার সহিত বিপদের আশঙ্কা বেশী। শয়তান তাদের কে তাদের পূর্বের সৃতিচারণ করে ফাঁসিয়ে দিতে পারে।  (মবঃ ২৮/২৭০)

বৃদ্ধ-বৃদ্ধার আপোষে বা তাদের সহিত যুবতী-যুবকের নির্জনবাস, কোন হিজরে বা খাসি করা নারি-পুরুষের আপোষে বা  তাদের সহিত একাধিক মহিলার সহিত কোন একটি যুবক অথবা একাধিক পুরুষের সহিত এক মহিলার, কোন সুশ্রী কিশোরের সহিত যুবকের নির্জনবাসও অবৈধ। প্রয়োজন হলে এবং মহিলার মাহরাম না পাওয়া গেলে কোন মহিলার জামাআতে একজন পুরুষ  থেকে সফর আদি করায় অনেকের নিকট অনুমতি রয়েছে। ( মবঃ ২৮/২৪৫-২৭০)
প্রকাশ যে, মহিলার সহিত কোন নাবালক শিশু থাকলে নির্জনতা কাটে না।
ব্যভিচার থেকে সমাজকে দূরে রাখার জন্যই ইসলামে নারী-পুরুষে অবাধ মিলা-মিশা, একই অফিসে , মেসে , ক্লাসরুমে, বিয়ে ও মরা বাড়িতে , হাসপাতালে , বাজারে প্রভৃতি ক্ষেত্রে উভয় জাতির একত্রে জমায়েত অবৈধ। ( রাখূঃ ৪১-৪২ পৃষ্ঠা)


মুসলিম নারীর শিক্ষার অর্থ এই নয় যে, তাকে বড় ডিগ্রী , সুউচ্চ পদ, মোটা টাকার চাকুরী পেতে হবে। তার শিক্ষা  জাতিগঠনের জন্য, সমাজ গড়ার জন্য, মুসলিম দেশ ও পরিবেশ গড়ার জন্য যতটুকু দরকার ততটুকু শিখতে পারলেই যথেষ্ট; আর যদিও তা ঘরে বসেই হয়। তাছাড়া পৃথক গার্লস স্কুল-কলেজ না থাকলে মিশ্র শিক্ষাঙ্গনে মুসলিম নারীর শিক্ষায় ,জল  খেতে গিয়ে ঘটি হারিয়ে যাওয়া,র ঘটনাই অধিক ঘটে থাকে; যে সব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে শিক্ষিত হওয়া যায় ঠিকই,  আদর্শ মুসলিম হওয়া যায় না। নারীর স্বনির্ভরশীলা হয়ে জীবন-যাপন করায় গর্ব আছে ঠিকই, কিন্তু সিখ নেই। প্রকৃতি সাথে  লড়ে আল্লাহর আইনকে অবজ্ঞা করে নানান বিপত্তি ও বাঁধাকে উল্লংঘন করে অর্থ কামিয়ে স্বাধীনতা আনা যায় ঠিকই; কিন্তু শান্তি আনা যায় না। শান্তি আছে স্বামীর সোহাগে,স্বামীর প্রেম, ভালোবাসা ও আনুগত্যে। পরিত্যক্তা বা নিপীড়িতা হলে এবং দেখার কেউ না থাকলে মুসলিম রাষ্ট ও সমাজে তার কালাতিপাত করার যথেষ্ট সহজ উপায় আছে।
যেখানে নেই সেখানকার কথা বিরল। অবশ্য দ্বীন ও দুনিয়ার প্রকৃতি মূল্যায়ন করতে পারলে এ সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে উঠবে। যারা পরকালের চিরসুখে বিশ্বাসী তারা জাগতিক কয়েকদিনের সুখ-বিলাসের জন্য দ্বীন ও ইজ্জত বিলিয়ে দেবে কেন? ( রাকানিঃ ৩১ পৃষ্ঠা, খায়ুঃ১৬ পৃষ্ঠা)


বুভিচারের প্রতি নিকটবর্তী হওয়ার আর এক পদক্ষেপ মহিলাদের একাকিনী কোথাও বাইরে যাওয়া- আসা। তাই সুন্দরী চলেছে  একা পথে, সঙ্গী হলে দোষ কি তাতে ? বলে বহু লম্পট তাদের পাল্লায় পড়ে থাকে, ধর্ষণের হাত হতে অনেকেই রক্ষা পায় না, পারে না নিজেকে রিমার্ক ও টিস এর শিলাবৃষ্টি হতে বাঁচাতে। এর জন্যই তো সমাজ বিজ্ঞানী রসূল (সাঃ) বলেন,  কোন মহিলা যেন এগানা পুরুষ ছাড়া একাকিনী সফর না করে। রমণী গুপ্ত জিনিস ; সুতরাং সে (বাড়ি হতে ) বের হয়, তখন শয়তান তাকে পুরুষের দৃষ্টিতে রমণীয় করে দেখায়। (সঃতিঃ ৯৩৬ নং)


ব্যভিচারের কাছে যাওয়ার আর এক পদক্ষেপ কোন এমন মহিলার নিকট কোন গম্য আত্নীয় বা অন্য পুরুষের গমন যার স্বামী  বর্তমানে বাড়িতে নেই, বিদেশে আছে। কারণ এমন স্ত্রীর মনে সাধারণতঃ যৌনক্ষুধা তুঙ্গে থাকে, তাই বিপদ ঘটাই স্বাভাবিক।
স্ত্রী বা ঐ পুরুষ যতই পরহেযগার হোক, তবুও না। এ বিষয়ে নীতি – বিজ্ঞানী রসূল (সাঃ) বলেন, তোমরা সেই মহিলাদের নিকট গমন করো না যাদের স্বামীরা বিদেশে আছে। কারণ, শয়তান তোমাদের রক্ত শিরায় প্রবাহিত হয়। ( সঃতিঃ ৯৩৫ নং,


সঃ ইমাঃ ১৭৭৯ নং)   সাহাবী (রাঃ) বলেন, আল্লাহর নবী (সাঃ) আমাদেরকে নিষেধ করেছেন যে, আমরা যেন মহিলাদের নিকট তাদের  স্বামীদের বিনা অনুমতিতে গমন না করি।( সঃতিঃ২২৩০ নং)


অনুরূপ কোন প্রকার সেন্ট বা পারফিউমড ক্রিম অথবা পাওডার ব্যবহার করে বাইরে পুরুষদের সম্মুখে ( পর্দার সাথে হলেও)  যাওয়া ব্যভিচারের নিকটবর্তী হওয়ার এক ভূমিকা। যেহেতু যুবকের প্রভৃত্তি এই যে, মহিলার নিকট হতে সুগন্ধ পেলে তার যৌন-
চেতনা উত্তেজনায় পরিণত হয়। যার জন্যই সংস্কারক নবী (সাঃ) বলেন, প্রত্যেক চক্ষুই ব্যভিচারী। আর রমণী যদি সুগন্ধি  ব্যবহার করে কোন ( পুরুষের) মজলিসের পাশ দিয়ে পার হয়ে যায় তাহলে সে এক বেশ্যা। ( সতিঃ ২২৩৭ নং)


এমন কি এই অবস্থায় নামাযের জন্য যেতেও নিষিদ্ধ। ( সজাঃ ২৭০২ নং) প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, যে মহিলা সেন্ট ব্যবহার করে মসজিদে যায়, সেই মহিলার গোসল না করা পর্যন্ত কোন নামায কবুল হবে না। ( সজাঃ ২৭০৩ নং)


কোন গম্য পুরুষের সহিত মহিলার প্রগলভতার সাথে কিংবা মোহনীয় কণ্ঠে সংলাপ ও কথোপকথন করাও ব্যভিচারের নিকটবর্তীকারী পথসমূহের অন্যতম  ছিদ্রপথ। এ বিপদজ্জনক বিষয়ে সাবধান করে আল্লাহ তা,আলা মহিলাদের উদ্দেশ্য বলেন, যদি তোমরা
আল্লাহকে ভয় কর তবে পরপুরুষদের সাথে কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে ব্যাধিগ্রস্ত অন্তরের মানুষ প্রলুব্ধ হয়।( কুঃ ৩৩/৩২)      
এই জন্যই ইমাম ভুল করলে পুরুষ মুক্তাদীরা তসবীহ বলে স্মরণ করাবে, আর মহিলারা হাততালির শব্দে, তসবীহ বলেও নয়!  যাতে নারীর কণ্ঠস্বরে কতক পুরুষের মনে যৌনানুভূতি জাগ্রত না হয়ে উঠে। সুতরাং নারী – কণ্ঠের গান তথা অশ্লীল গান যে কি, তা রুচিশীল মানুষদের নিকট সহজে অনুমেয়।  এমন বহু হতভাগী মহিলা আছে যারা স্বামীর সহিত কর্কশস্বরে কথা বলে কিন্তু কোন উপহাসের পাত্রের (?) সহিত মোহন – সূরে সংলাপ ও উপহাস করে। এরা নিশ্চয়ই পরকালেও হতভাগী। তদনুরূপ বেগানা নারীর সহিত মুসাফাহা বৈধ নয়। হাতে মোজা, দস্তানা বা কাপড়ের কভার রেখেও নয়। কাম মনে হলে তা হাতের ব্যভিচার। (সজাঃ ৪১২৬ নং)


করতল চেপে ধরা এবং সুরসুরি দেওয়াও হল তার ইঙ্গিত! কোন গম্য নারীর দেহ স্পর্শ , বাসে -ট্রেনে, হাটে – বাজারে, স্কুলে -কলেজে প্রভৃতি ক্ষেত্রে গায়ে গা লাগিয়ে চলা বা বসা , নারী- পুরুষের ম্যাচ খেলা ও দেখা প্রভৃতি ইসলামের হারাম। কারণ, এ সব গুলিও অবৈধ যৌনাচারের সহায়ক। সমাজ সংস্কারক নবী (সাঃ) বলেন, কোন ব্যক্তির মাথায় লৌহ সুচ দ্বারা খোঁচা  যাওয়া ভালো, তবুও যে নারী তার জন্য অবৈধ, তাকে স্পর্শ করা ভালো নয়। ( সিসঃ ২২৬ নং)  


বাইরে বের হয়ে রমণীর রমণীর, মোহনীয় ও সৌন্দর্য – গর্বজনক চপল মধুর চলনও ব্যভিচার ও যৌন উত্তেজনার সহায়ক কর্ম। এরা সেই নারী যাদের প্রসঙ্গে নবী (সাঃ)  বলেছেন, তারা পুরুষকে আকৃষ্ট করে এবং নিজেরাও আকৃষ্ট হয়; তারা জাহান্নামী।
( মুঃ, মিঃ ৩৫২৪ নং, ফামুঃ ১৯-২০ পৃষ্ঠা)
অনুরুপ খটখট শব্দবিশিষ্ট জুতো নিয়ে চটপটে চলন, দেহের অলঙ্কার যেমন চুড়ি, খুটকাটি, নুপুর , তোরা প্রভৃতির বাজনা বাজিয়ে লাস্যময় চলনও যুবকের মনে যৌন- আন্দোলন আনে। সুতরাং এ কর্ম যে হারাম তা বলাই বাহুল্য। আল্লাহ তা,আলা  বলেন, তারা সেন তাদের গোপন আভরণ প্রকাশের সজোরে পদক্ষেপ না করে—-। (কুঃ ২৪/৩১)
যেমন পথে চলার সময় পথের মাঝে নারীর জন্য বৈধ নয়। ( সিসঃ ৮৫৬ নং)
মহিলাদের জন্য স্বগৃহে গোসলখানা ( বাথরুম) করা ওয়াজেব ( সিমেন্টের হওয়া জরুরী নয়) এবং ফাঁকা পুকুরে, নদীতে, ঝর্ণায়, সমুদ্রতীরে বা সাধারণ গোসলখানায় গোসল করা তাদের জন্য হারাম। যেহেতু সমাজ-বিজ্ঞানী নবী (সাঃ) বলেছেন, যে নারী স্বগৃহ, স্বামীগৃহ বা মায়ের বাড়ি ছাড়া অন্য স্থানে নিজের পর্দা রাখে (কাপড় খোলে) আলালহ তার পর্দা ও লজ্জাশীলতাকে বিদীর্ণ করে দেন। (অথবা সে নিজে করে দেয়।) (সজাঃ ২৭০৮ নং,আযিঃ ১৩৯পৃষ্ঠা) 

যে ব্যক্তি আল্লাহতে ও পরকালে বিশ্বাস রাখে সে যেন তার স্ত্রীকে সাধারণ গোসলখানায় যেতে না দেয়।( হাঃ, আঃ, তিঃ আযিঃ ১৩৯ পৃষ্ঠা)


স্বগৃহ ছেড়ে পরকীয় গৃহে বাস, বান্ধবীর স্বামীর বাড়িতে রাত্রিবাস ইত্যাদিও বিপদজ্জনক ব্যভিচারের ছিদ্রপথ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম  বলেছেন,যে মহিলা নিজের স্বামী গৃহ ছাড়া অন্য গৃহে নিজের কাপড় খোলে সে আল্লাহ আযযা অজাল্লা ও তার নিজের মাঝে পর্দা বিদীর্ণ করে ফেলে। ( সজাঃ ২৭১০ নং)


একই কারনে অপরের লজ্জাস্থান ( নাভি হতে হাটু পর্যন্ত স্থানে) দেখা এবং একই কাপড়ে পুরুষে- পুরুষে বা মহিলায় – মহিলায়  শয়ন করাও নিষিদ্ধ। ( সঃতিঃ ২২৪৩ নং)
পর পুরুষের দৃষ্টিতে মহিলার সর্বশরীর লজ্জাস্থান। বিশেষ করে চক্ষু এমন এক অঙ্গ যার দ্বারা বিপত্তির সূচনা হয়। চোখাচোখি থেকে শুরু হয়, কিন্তু শেষ হয় গলাগলিতে। এই ছোট্র অঙ্গার টুকরা থেকেই সূত্রপাত হয় সর্বাগ্রাসী বড় অগ্নিকান্ডের। দৃষ্টি কথাই কবি বলেন,
                        আখি ও তো আঁখি নহে, বাকা ছুরি গো
                        কে জানে সে কার মন করে চুরি গো!
প্রেম জগতে চক্ষু কথা বলে এমন বিষয় বুঝিয়ে থাকে যা জিহ্বা প্রকাশ করতে অক্ষম। চোখের কোণেই আছে যাদুর রেখা।
নয়না এখানে যাদু জানে সখা এক আঁখি ইশারায়
লক্ষ যুগের মহা-তপস্যা কোথায় উবিয়া যায়!
নজরবান, মেরে অনেকে অনেককে ঘায়েল করে থাকে। চোরা চাহনিতে অনেকেই বুঝিয়ে থাকে গোপন প্রণয়ের সূক্ষন ইঙ্গিত।   
গোপন প্রিয়ার চকিত চাহনি; ছল করে দেখা অনুখন,
চপল মেয়ের ভালোবাসা তার কাকন চুড়ির কনকন।
সুতরাং এ দৃষ্টি বড় সাংঘাতিক বিপত্তি। যার জন্যই আল্লাহপাক বলেন, মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে  সংযত রাখে ( নজর ঝুকিয়ে চলে) এবং তাদের  যৌনাঙ্গকে সাবধানে সংযত রাখ; এটিই তাদের জন্য উত্তম। ওরা যা করে , আল্লাহ সে বিষয়ে অভিত। আর মুমিন নারীদেরকে বল, তারাও যেন নিজেদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও লজ্জাস্থান সংরক্ষা করে।  (কুঃ ২৪/৩০-৩১)
প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, ( কোন রমণীর উপর তোমার দৃষ্টি পড়লে তার প্রতি) বারবার দৃষ্টিপাত করো না।  বরং নজর সত্বর ফিরিয়ে নিও। ( সঃতিঃ ২২২৮,২২২৯ নং)
যেহেতু চক্ষুও ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার হল (কাম) দৃষ্টি। ( বুঃ, মুঃ, মিঃ ৮৬ নং)
সুতরাং এ দৃষ্টিকে ছবি থেকেও সংযত করতে হবে এবং পরপুরুষ থেকে আড়ালে রাখতে হবে। যাতে একহাতে তালি নিশ্চয়ই বাজবে না।   আর এই বড় বিপদ সৃষ্টিকারী অঙ্গ চোখটি থাকে চেহারায়। চোখাচোখি যাতে যাতে না হয় তাই তো নারীর জন্য জরুরী তার চেহারাকেও গোপন করা।  অত্যন্ত সখীত্বর খাতিরে হলেও বিনা পর্দায় সখীতে – সখীতে -সখীতে দৃঢ় আলিঙ্গন ও একে অপরকে নিজ নিজ সৌন্দর্য  প্রদর্শন করা বৈধ নয়। কারণ এতে সাধারণত প্রত্যেক সখী তার সখীর দেহ – সৌষ্ঠব নিজের স্বামীর নিকট বর্ণনা করলে স্বামী  মনের পর্দায় তার স্ত্রীর ঐ সখীর বিলক্ষন রূপ দৃশ্য নিয়ে মনোতৃপ্তি লাভ করে থাকে। ( সঃতিঃ ২২৪৩ নং)

 হয়তো বা মনের অলক্ষ্যেই এই পুরুষ তার হৃদয়ের কোন কোণে ঐ মহিলার জন্য আসন পেতে দেয়। আর পরবর্তীতে তাকে  দেখার ও কাছে পাওয়ার মত বাসনা ও জাগ্রত করে তুলে।  নোংরা পত্র-পত্রিকা পাঠ, অশ্লীল ফ্লিম ও থিয়েটার -যাত্রা দর্শনও একই পর্যায়ের ; যাতে ধংশ হয় তরুন – তরুনীর চরিত্র, নোংরা হয়ে উঠে পরিবেশ।  স্বামীর স্ত্রীর মিলন রহস্য প্রভৃতি জানার জন্য সঠিক সময় হল কামশাস্ত্র পাঠ করে বিবাহে দেরী হলে মিলনতৃষ্ণা যে পর্যায়ে  পোঁছায় তাতে বিপত্তি যে কোন সময়ে ঘটতে পারে।
কারো রূপ , দ্বীনদারী প্রভৃতির প্রশংসা শুনে তাকে মনে মনে ভালোবেসে ফেলা দূষণীয় নয়। তাকে পেতে বৈধ উপায়  প্রয়োগ করা এবং বিবাহ – বন্ধনে আবদ্ধ করে করে সুখের সংসার গরা উত্তম। কিন্তু অবৈধ অবৈধভাবে তাকে দেখা, পাওয়া, তার কথা শোনা ও তার সান্নিধ্যলাভের চেষ্টা করা অবশ্যই সীমা লঙ্ঘন অবৈধ বন্ধুত্ব ও প্রণয়ে পড়ে টেলিফোনে সংলাপ ও সাক্ষাৎ প্রভৃতি ইসলামের হারাম।  
যুবক – যুবতীর ঐ গুপ্ত ভালোবাসা তো কেবল কিছু দৈহিক সুখ লুটার জন্য। যার শুরুতেও চক্ষে অশ্রু ঝরে এবং শেষেও।  তবে শুরুতে ঝরে আনন্দাশ্রু, আর শেষে উপেক্ষা ও লাঞ্ছনার । কপট প্রেম লুকোচুরি , মুখে মধু, হৃদে ছুরিই অধিকাংশ হয়। এতে তরুণী বুঝতে পারে না যে, প্রমিক তার নিকট থেকে যৌন তৃপ্তি লাভ করে তাকে বিনষ্ট করে চুইংগামের মত মিষ্টতা চুষে  নিয়ে শেষে আঠাল পদার্থটিকে ছুড়ে ফেলে দেবে।
বন্ধু গো যেও ভুলে- প্রভাতে যে হবে বাসি, সন্ধ্যায় রেখো না সে ফুল তুলে।
উপবনে তব ফোটে যে গোলাপ প্রভাতেই তুমি জাগি, জানি, তার কাছে যাও শুধু তার গন্ধ – সুষমা লাগি।  সুতরাং এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত মুসলিম তরুণীকে এবং তার অভিভাবককেও।  কারণ বালির , শঠের প্রীতি, এ দুয়ের একই রীতি। আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

[প্রথম পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহর পরিচয়

শরী‘য়াহর শাব্দিক অর্থ: ‘শরী‘য়াহ্’ একটি আরবী শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ দ্বীন, জীবন-পদ্ধতি, ধর্ম, জীবন আচার, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *