Home / বাংলা লাইফ স্টাইল / সকলকে সুখি করার সহজ কৌশল – ডেল কার্নেগী
সুখী দাম্পত্য

সকলকে সুখি করার সহজ কৌশল – ডেল কার্নেগী

‘বেশির ভাগ পুরুষই স্ত্রী সন্ধান করার সময় যা চান তা হলো, তিনি এমন কেউ হবেন যিনি কোন প্রতিষ্ঠানের মালিক হবেন না বরং এমন কেউ হবেন তিনি চাইবেন নিজেকে স্বেচ্ছায় শ্রেষ্ঠত্বের গরবে ভরিয়ে তুলতে চাইবেন। কথাটা বলেছেন পল পোপিনো, লস এঞ্জেলেসের পারিবারিক সম্পর্কের প্রতিষ্ঠানের দাইরেক্টর। এই জন্যই কোন মহিলা অফিস ম্যানেজারকে একবারই মাত্র মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানানো যায়। সে হয়তো তাঁর কলেজ জীবনের স্মৃতিই উজাড় করে দিতে ব্যগ্র হয় তখন । এমনকি নিজের খরচটাও সে হয়তো বা নিজেই মিটিয়ে দিতে চাইবে। এর ফলে কেমন হয় : এরপর থেকে সে একাকী মধ্যহ্নভোজ সারে।

‘এর বদলে যদি কলেজ শিক্ষা পায়নি এমন টাইপিস্টকে মধ্যাহ্নভোজে ডাকলে সে আমন্ত্রণকারীর দিকে উজ্জ্বল চোখে তাকিয়ে আগ্রহ নিয়েই বলতে চায়, ‘আপনার কথা বলুন।’ ফলটা কেমন হয়? ভদ্রলোক তখন অন্যদের কাছে বলেন, মেয়েটা সুন্দরী না হলেও এরকম ভালো শ্রোয়া আর দেখেনি।’

muslim happy copleপুরুষের উচিত, স্ত্রীলোকের পোশাক পরা আর রমনীয়া দেখানোর চেষ্টার তারিফ করা। সব পুরুষরা ভুলে যায়, তাঁদের তাই বোঝা উচিত মেয়েরা পোশাক সম্বন্ধে কতটা আগ্রহী হয়। যেমন ধরুন, কোন পুরুষ আর কোন রমনীর সঙ্গে আচমকা পথে দেখা হয়ে গেলে প্রথম স্ত্রীলোকটি ক্বচিৎ কখনও অন্য পুরুষটির দিকে তাকায়। তাঁর দৃষ্টি স্বভাবই যাচাই করতে চায় অন্য স্ত্রীলোকটি কি রকম পোশাক পরেছেন।

আমার ঠাকুমা ক’বছর আগে আঠানব্বই বছর বয়সে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর কিছু আগে তাঁকে পঁচাত্তর বছর আগের তোলা একটা ফটো দেখাই। ঠাকুমার চোখে দেখার শক্তি ছিল না। তিনি শুধু একটা প্রশ্নই করেনঃ ‘কি পোশাক পরে ছিলাম রে?’ একবার ভাবুন ব্যাপারটা! এক বৃদ্ধা তাঁর জীবনের শেষ লগ্নে এসে, প্রায় শতবর্ষে পৌঁছে, স্মরণশক্তি হারিয়ে জিজ্ঞাসা করছেন পঁচাত্তর বছর আগে কি পোশাক পরেছিলেন এই প্রশ্নটা তিনি যখন করেন আমি তাঁর পাশেই ছিলাম। ব্যাপারটা আমার মনে এমন একটা দাগ রেখে যায়, কোনদিনই যেটা হারাবে না।

যেসব পুরুষ এই বইটা পড়ছেন তাঁরা পাঁচ বছর আগে কোন পোশাক পরেছিলেন মনে করতে পারবেন না। হয়তো মনে রাখার ইচ্ছাও তাঁদের নেই। কিন্তু মেয়েরা একেবারে আলাদা। ফরাসী ছেলেদের শেখানো হয় কোন সন্ধ্যায় মেয়েদের সঙ্গে দেখা হলে বারবার তাঁদের প্রশংসা করা। মনে রাখবেন, পাঁচ কোটি ফরাসী কখনও ভুল করতে পারে না!

একটা মজার গল্প শোনাতে চাই আপনাদের। গল্পটা অবশ্য গল্পই।

এক চাষীর বউ সারাদিনের কাজের পর বাড়ির পুরুষদের সামনে একেবোঝা খড় এনে জমা করে। তাঁরা বিরক্ত হয়ে প্রশ্ন করে যে পাগল হয়ে গেছে কিনা। চাষী বৌ তাঁর উত্তরে বলেঃ ‘তোমরা লক্ষ করবে  ভাবতে পারিনি। গত বিশ বছর ধরে তোমাদের জন্য খড় রান্না করে আসছি অথচ কোনদিনই তোমরা বলোনি খড় খাচ্ছো না কি খাচ্ছো।’

মস্কো আর সেন্ট পিটার্সবার্গের অভিজাতবৃন্দদের মার্জিত ব্যবহার মজ্জাগত ছিল। রাশীয়ার জারেদের আমলে প্রথা ছিল খাদ্য পরিবেশনের সময় অভিজাতরা চাইতেন রাঁধুনী সামনে থাকুক যাতে  তাঁকে অভিনন্দন জানানো যায়।

ঠিক এমনটাই আপনার স্ত্রীকেও জানান না” রান্না খারাপ হলেও তাঁকে প্রশংসা করুণ। আর এরকম করতে গিয়ে তাঁকে জানাতে ভুলবেন না আপনার জীবনে সে কত খানি জুড়ে আছে। ডিসরেলী ছিলেন বিশ্বের একজন বিখ্যাত রাজনীতিক, অথচ তিনি লোকের কাছে বলতে কখনই লজ্জা পেতেন না স্ত্রী তার কাছে কতখানি প্রিয়।

এডি ক্যান্টর বলেছিলেনঃ “জীবনের সব কিছুর জন্যেই আমি আমার স্ত্রীর কাছে স্বামী। সেই আমাকে সোজা রাস্তায় চলতে সাহায্য করেছে। আমাদের পাঁচটি সন্তান আর আমার স্ত্রী আমাদের গৃহ আনন্দে ভরিয়ে রেখেছে। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য।

এরকম ঘটনার উদাহরণ আরও কিছু আছে। হলিউডে, যেখানে বিয়ে ব্যাপারটাই ঝুঁকির কাজ হয়ে উঠেছে সেখানেও এর উদাহরণ পাওয়া যায়। এই হলো ব্যাপার।

অতএব জীবনে সুখী হতে হলে ৪নং নিয়ম হলোঃ

‘আন্তরিক প্রশংসা করুক।’

লেখক ঃ ডেল কার্নেগী

এই আর্টিকেল এ আপনার রেটিং দিন।

0%

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কাছে কেমন লেগেছে তা আমাদেরকে জানাতে একটি রেটিং দিন। আপনার দেওয়া রেটিং আরো ভালো মানের আর্টিকেল রচনায় সাহায্য করবে।

আরো পড়ুন : মেয়েরা যা ভালবাসে
User Rating: 4.8 ( 3 votes)

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

পশু পাখি

পশু-পাখির প্রতিও সদয় হোন!

অমায়িক ব্যবহার কারো অভ্যাসে পরিণত হলে তা সাধারণত দূর হয় না। তা তাঁর প্রকৃতির অংশ …

2 comments

  1. আপনাদের পোস্ট গুলো ভাল লেগেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *