Home / ইসলাম / শিক্ষামূলক গল্প / আল্লাহর মহব্বত পরিশেষে সামলে নেয়।

আল্লাহর মহব্বত পরিশেষে সামলে নেয়।

namaz-নামায পড়ার দৃশ্যআমেরিকার ঘটনা। সেখানে এক লোক ছিল মুসলমান। এক অফিসে চাকুরি করত। সেই অফিসে চাকুরি করত এক আমেরিকান মেয়ে। ঘটনাক্রমে ঐ মেয়েটির সঙ্গে লোকটির সম্পর্ক হয়ে যায়। ক্রমে ভালবাসা এর গভীর হয় যে, লোকটি অনুভব করল, সে ঐ মেয়েকে ছাড়া বাঁচবে না। একথা ভেবে লোকটি মেয়েটির পিতা-মাতার কাছে তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিল। তারা ছেলেটিকে জানাল, আমরা হলাম ঈসায়ী ধর্মের লোক। আমাদের মেয়েকে বিবাহ করতে হলে তোমাকে স্বীয় ধর্ম ত্যাগ করেও খৃষ্টান হতে হবে। তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে সম্পর্ক চ্ছিন্ন করতে হবে। তুমি বিবাহের পরে নিজ দেশে আর ফিরে যেতে পারবে না। যে পরিবেশ ও সমাজে তুমি অবস্থান কর, তা পরিত্যাগ করতে হবে। তুমি যদি এসব শর্ত মানতে পার, তবেই আমাদের মেয়েকে তোমার সঙ্গে বিবাহ দেব; নতুবা নয়।

লোকটি ছিল মেয়েটির ভালবাসায় দেওয়ানা। আর এমন অবস্থায় মাথা ঠিক থাকে না, বিবেক-বুদ্ধি স্বাভাবিক থাকে না। তাই সে মেয়েটিকে পেতে তার পিতামাতার সকল শর্ত অবলীলায় মেনে নিল। ছেলেটি তার পিতা-মাতার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল। আত্মীয়-স্বজনদেরও ত্যাগ করল। মাতৃভূমির মায়া বিসর্জন দিল। যে সমাজ ও পরিবেশে সে অবস্থান করত, তাকেও বিদায় জানাল। এমনকি সে স্বীয় ধর্ম ইসলাম ত্যাগ করে খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করে রীতিমত খৃস্টান সমাজে বসবাস করতে শুরু করল। এক সময় ছেলেটি ঐ মেয়েকে বিবাহ করল। মুসলমানরা লোকটির এহেন ধর্মত্যাগ ও পরিবর্তনের উদ্বিগ্ন হলো। তারা মাঝে-মধ্যে তাকে খোঁজত এবং তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করত। কিন্তু লোকটি মুসলমানদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হলে ঘাবড়ে যেত যে, না জানি, এটা কেউ দেখে ফেলে কিনা, তখন সেটা তার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

মুসলমানরা লোকটির নাগাল পেতে বহু চেষ্টা করে ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে পড়ল। কেউ নিরাশ হয়ে বলল, তার অন্তরে মোহর পড়ে গেছে। কেউ বলল, সে মুরতাদ হয়ে গেছে। কেউ বলল, সে জাহান্নাম ক্রয় করে নিয়েছে। কেউ মনব্য করল, লোকটি বড় চড়া মূল্যে সওদা করেছে। মোটকথা, একেকজন একেক মনব্য করল।

তিন-চারটা বছর এভাবেই অতিবাহিত হলো। ইতিমধ্যে সকল বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের নাম-পরিচিত তার স্মৃতি হতে মুছে গেল। সব কিছু তার অতীত ও ইতিহাস হয়ে গেল। একদিন ইমাম সাহেব ফজরের নামাযের জন্য মসজিদের দরজা খুললে দেখলেন, ঐ যুবক আস্তে-আস্তে মসজিদের দিকে এল এবং অযু করে মসজিদে গিয়ে নামাযের কাতারে বসে পড়ল।

ইমাম সাহেব তাকে দেখে যত-না বিস্মিত হলেন, তার থেকে অধিক বিস্ময় হলেন তাকে নামাযের কাতারে বসতে দেখে। তিনি একরাশ বিস্ময় নিয়ে নামায পড়ালেন। নামাযের পরে তিনি যুবকের কাছ এগিয়ে গেলেন এবং তাকে সালাম দিয়ে হাত ধরে নিজের কামরায় নিয়ে গেলেন। মহব্বতের সঙ্গে তাকে বললেন, অনেকদিন পরে আপনাকে দেখার সৌভাগ্য হলো। আপনার ঘটনা খুলে বলুন। লোকটি ইমাম সাহেবের অনুরোধ এড়াতে পারল না। কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে নিজের ঘটনার বর্ণনা দিতে শুরু করল—

মেয়েটির ভালবাসায় আমি আমার সবকিছু বিসর্জন দিই। ইসলামের সবকিছু বিনষ্ট করে ফেলি। কিন্তু যে ঘরে আমি থাকতাম, সেখানে অতি মহব্বত করে একটি কুরআন শরীফ রেখে দিয়েছিলাম। আমার আসা-যাওয়ার সময় যখন কুরআন শরীফের প্রতি নজর পড়ত, তখন মনে মনে বলতাম, এটা আমার মাওলার কালাম। এটা আমার আল্লাহর কুরআন। এরপর নিজের ধর্মের পরিবর্তনে নিজেকে খুব তিরস্কার করতাম।

আমার আমল যদিও খারাপ ছিল, কিন্তু আমার অন্তর আমাকে বলত, ধর্ম ছাড়লেও যে খোদার কালেমা আমি পড়েছি, তাকে অবশ্যই আমি ভালবাসি। আর তাঁকে ভালবাসি বলেই তার কালাম ঘরে সযত্নে রেখে দিয়েছি। এভাবেই কয়েক বছর কেটে গেল।

একদিনের ঘটনা। একদিন ঘর হতে বের হওয়ার সময় প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী ঐ স্থানে দৃষ্টিপাত করি, যেখানে কুরআন শরীফ রাখা ছিল। কিন্তু সেদিন সেখানে কুরআন শরীফটি ছিল না। আমি থমকে গিয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করি, এখানে একটি কিতাব থাকত, সেটি কোথায়? স্ত্রী জবাবে বলল, আমি ঘর পরিস্কার করেছি। এ সময় ঘরে থাকা অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে দিয়েছি। আমি জিজ্ঞেসা করি, ঐ কিতাবটিও ফেলে দিয়েছ? স্ত্রী বলে,  হ্যাঁ!

আমি দ্রুত ময়লা ফেলার স্থানে চলে গেলাম এবং আবর্জনার মধ্য হতে কুরআন শরীফটি বের করে আনলাম। স্ত্রী যখন দেখল, আমি কিতাবটিকে খুব গুরুত্ব দিয়েছি, তখন সে এর কারণ খুঁজতে তৎপর হলো। আমি বললাম, দেখো; আমি ঘরে এই কিতাবটি রাখতে চাই। স্ত্রী যখন দেখল, কিতাবটি আরবী ভাষায় লিখিত, তখন সে ভাবল, নিশ্চয় এখনও এর সম্পর্ক ইসলামের সঙ্গে রয়ে গেছে। তখন স্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিল, দেখো, এই ঘরে হয় কিতাব থাকবে অথবা আমি থাকব। তোমাকে এই দুইয়ের মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে।

যুবম জানাল, স্ত্রী এ কথা বললে, আমি একে সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে লুফে নিলাম। আমি মনকে ধিকার দিয়ে বলি, তুমি এই স্ত্রীর জন্য এমনসব কুকর্ম করেছ, যা তোমার আদৌ করা ঠিক হয়নি। এখন তোমাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তুমি কি আল্লাহকে চাও, নাকি এই মহিলাকে চাও। যেকোন একটিকে তোমার চিরতরে বর্জন করতে হবে। যখন আমি অন্তরে এ বিষয়ে গভীরভাবে ভাবলাম, তখন আমার অন্তর এই আওয়াজ দিল যে, তুমি সব কিছু ছাড়তে পার, কিন্তু আল্লাহকে ভুলতে আপ্র না। তার মহব্বত ছাড়তে পার না। ফলে আমি আল্লাহকে গ্রহণ করে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিলাম। তারপর আবার কালেমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেলাম। এখন থেকে আমি চিরদিনের জন্য মুসলমান হয়ে গেছি।

চিন্তার বিষয় হলো, এমন গাফেল মুসলমানের অন্তরেও আল্লাহ তা’আলার মহব্বতের বীজ বিদ্যমান ছিল। ফলে তা এক সময় তাকে সত্যের পথে আবার ফিরিয়ে আনে। (তামান্নায়ে দেল ৬৫)

“দুনিয়ার আসর দেখে দেখে খোদা হয়েছি বিষণ্ন,

মনে খুশি আসবে কোথা হতে দিল যখন অবসন্ন”।

আপনি পড়ছেনঃ আল্লাহর মহব্বত ! আল্লাহ ওয়ালাদের হৃদয় ছোঁয়া ঘটনাবলী-১

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

আল্লাহর ভয়

আল্লাহর ভয় ও মহব্বতের ক্রন্দন

আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহঃ) একজন বিখ্যাত শাসক। দ্বিতীয় উমর নামে খ্যাত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: