Home / ইসলাম / প্রবন্ধ / আপনার নবীকে চিনুন

আপনার নবীকে চিনুন

mohammod মুহাম্মদ সাঃকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষকে (বিদ্যা) শিখিয়েছেন কলম দ্বারা। শিক্ষা দিয়েছেন এমন বিষয় যা সে জানত না। সকল স্তুতি তাঁর-ই জন্য, যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কথা বলতে শিখিয়েছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক ওই সত্তার প্রতি, যিনি মনগড়া কিছু বলেন না; যা বলেন আল্লাহর অহী প্রাপ্তির আলোকেই বলেন।

পরকথা, প্রতিটি মানুষের কর্তব্য তার নবীর পরিচয় জানা। কেননা আমাদের যে কেউ মারা গেলে তাকে কবরে শোয়ানোর পর তার দেহে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। অতঃপর দু’জন ফিরিশতা আসবেন। তারা তাকে বসিয়ে তার নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন। যেমন, বারা ইবন আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিন বান্দাকে কবরে রাখার পরের অবস্থা বর্ণনা করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,

«فَتُعَادُ رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ، فَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ، فَيُجْلِسَانِهِ، فَيَقُولَانِ لَهُ: مَنْ رَبُّكَ؟ فَيَقُولُ: رَبِّيَ اللَّهُ، فَيَقُولَانِ لَهُ: مَا دِينُكَ؟ فَيَقُولُ: دِينِيَ الْإِسْلَامُ، فَيَقُولَانِ لَهُ: مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ؟ فَيَقُولُ: هُوَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَيَقُولَانِ لَهُ: وَمَا عِلْمُكَ؟ فَيَقُولُ: قَرَأْتُ كِتَابَ اللَّهِ، فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُ، فَيُنَادِي مُنَادٍ فِي السَّمَاءِ: أَنْ صَدَقَ عَبْدِي».

“তার দেহে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তখন তার কাছে দু‘জন ফিরিশতা আসবেন। তাকে বসিয়ে তারাজিজ্ঞেস করবেন, তোমার রব কে? সে বলবে, আমার রব আল্লাহ। তারা জিজ্ঞেস করবেন, তোমার দীন কী? সে বলবে, আমার দীন ইসলাম। তারা তাকে বলবেন, তোমাদের মাঝে প্রেরিত এ ব্যক্তি কে ছিলেন? সে বলবে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তারা বলবেন, তুমি তা জানলে কী করে? সে বলবে, আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি। অতঃপর তাতে ঈমান এনেছি এবং তা সত্যে পরিণত করেছি। তখন আসমান থেকে এক ঘোষক ঘোষণা দেবেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে।”[1]

অতএব, আমরা জানলাম, যে কেউ পবিত্র কুরআন পড়বে সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিচয় জানতে পারবে। সে আল-কুরআন থেকে জানতে পারবে:

প্রথম: মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ হলেন আল্লাহর রাসূল

আল-কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿مُّحَمَّدٞرَّسُولُٱللَّهِۚ﴾ [الفتح: ٢٩]

“মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল”। [সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ২৯]

দ্বিতীয়: আল্লাহর রাসূলের প্রতি ঈমান অপরিহার্য

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَاٱلَّذِينَءَامَنُوٓاْءَامِنُواْبِٱللَّهِوَرَسُولِهِ﴾ [النساء: ١٣٦]

“হে মুমিনগণ, তোমরা ঈমান আন আল্লাহর প্রতি এবংতাঁর রাসূলের প্রতি”।[সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৩৬]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿فَ‍َٔامِنُواْبِٱللَّهِوَرَسُولِهِٱلنَّبِيِّٱلۡأُمِّيِّٱلَّذِييُؤۡمِنُبِٱللَّهِوَكَلِمَٰتِهِۦوَٱتَّبِعُوهُلَعَلَّكُمۡتَهۡتَدُونَ١٥٨﴾ [الاعراف: ١٥٨]

“সুতরাং তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো ও তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর প্রতি, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণী সমূহের প্রতি ঈমান রাখেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ কর, আশা করা যায় তোমরা হিদায়াত লাভ করবে”।[সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৫৮]

তৃতীয়: তাঁর রিসালতের প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمَامُحَمَّدٌإِلَّارَسُولٞقَدۡخَلَتۡمِنقَبۡلِهِٱلرُّسُلُۚ﴾ [العمران: ١٤٤]

“আর মুহাম্মাদকে বল একজন রাসূল। তাঁর পূর্বে নিশ্চয় অনেক রাসূল  বিগত হয়েছেন”।[সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৪৪]

চতুর্থ: তিনি সর্বশেষ নবী

যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব পড়বে, সে জানতে পারবে তাঁর রিসালত পূর্বতন সব আসমানী রিসালতের পরিসমাপ্তিকারী। তাঁর পরে কোনো নবী বা রাসূল নেই। যে কেউ এমন দাবী উত্থাপন করবে সে মিথ্যাবাদী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿مَّاكَانَمُحَمَّدٌأَبَآأَحَدٖمِّنرِّجَالِكُمۡوَلَٰكِنرَّسُولَٱللَّهِوَخَاتَمَٱلنَّبِيِّ‍ۧنَۗ﴾ [الاحزاب: ٤٠]

“মুহাম্মাদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নয়,তবে আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী”।[সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪০]

পঞ্চম: তাঁর রিসালত পূর্ববর্তী সব ধর্মকে রহিত করে দিয়েছে

যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব পড়বে, সে জানতে পারবে যে তাঁর রিসালত সব আসমানী রিসালতকে রহিত করে দিয়েছে। সেহেতু তাঁর নবুওয়তের পরে এসব অনুসরণ করে আমল চলবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَأَنزَلۡنَآإِلَيۡكَٱلۡكِتَٰبَبِٱلۡحَقِّمُصَدِّقٗالِّمَابَيۡنَيَدَيۡهِمِنَٱلۡكِتَٰبِوَمُهَيۡمِنًاعَلَيۡهِۖفَٱحۡكُمبَيۡنَهُمبِمَآأَنزَلَٱللَّهُۖوَلَاتَتَّبِعۡأَهۡوَآءَهُمۡعَمَّاجَآءَكَمِنَٱلۡحَقِّۚلِكُلّٖجَعَلۡنَامِنكُمۡشِرۡعَةٗوَمِنۡهَاجٗاۚ﴾ [المائ‍دة: ٤٨]

“আর আমরা তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যথাযথভাবে, এর পূর্বের কিতাবের সত্যায়নকারী ও এর উপর তদারককারীরূপে। সুতরাং আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তুমি তার মাধ্যমে ফয়সালা কর এবং তোমার নিকট যে সত্য এসেছে, তা ত্যাগ করে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমরা নির্ধারণ করেছি শরী‘আত ও স্পষ্ট পন্থা”।[সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৪৮]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿وَلَنتَرۡضَىٰعَنكَٱلۡيَهُودُوَلَاٱلنَّصَٰرَىٰحَتَّىٰتَتَّبِعَمِلَّتَهُمۡۗقُلۡإِنَّهُدَىٱللَّهِهُوَٱلۡهُدَىٰۗوَلَئِنِٱتَّبَعۡتَأَهۡوَآءَهُمبَعۡدَٱلَّذِيجَآءَكَمِنَٱلۡعِلۡمِمَالَكَمِنَٱللَّهِمِنوَلِيّٖوَلَانَصِيرٍ١٢٠﴾ [البقرة: ١٢٠]

“আর ইয়াহূদী ও নাসারারা কখনো তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হবেনা, যতক্ষণ না তুমি তাদের মিল্লাতের অনুসরণ কর। বল, ‘নিশ্চয় আল্লাহর হিদায়াত-ই হিদায়াত, আর যদি তুমি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ কর তোমার কাছে যে জ্ঞান এসেছে তারপর, তাহলে আল্লাহর বিপরীতে তোমার কোনো অভিভাবক ও সাহায্য কারী থাকবেনা”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১২০]

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَا يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ يَهُودِيٌّ، وَلَا نَصْرَانِيٌّ، ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ، إِلَّا كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ»

“সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, এ উম্মত (উম্মাতুদ দাওয়ার) যেকোনো ইয়াহূদী কিংবা খ্রিস্টান আমার নাম শুনবে আর আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তাতে ঈমান না এনে মারা যাবে, সে জাহান্নামের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে”।[2]

আবদুল্লাহ ইবন ছাবিত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَوْ أَصْبَحَ فِيكُمْ مُوسَى ثُمَّ اتَّبَعْتُمُوهُ، وَتَرَكْتُمُونِي لَضَلَلْتُمْ، إِنَّكُمْ حَظِّي مِنَ الْأُمَمِ، وَأَنَا حَظُّكُمْ مِنَ النَّبِيِّينَ»

“সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, যদি তোমাদের মাঝে মূসা ‘আলাইহিস সালাম থাকতেন আর তোমরা আমাকে ছেড়ে তার অনুসরণ করতে, তবে অবশ্যই তোমরা পথভ্রষ্ট হতে। তোমরা উম্মতগুলোর মধ্যে আমার অংশ। আর আমি নবীদের মধ্যে তোমাদের অংশ”।[3]

জাবের ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

« وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ مُوسَى كَانَ حَيًّا، مَا وَسِعَهُ إِلَّا أَنْ يَتَّبِعَنِي»

“সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, যদি মূসা ‘আলাইহিস সালাম জীবিত থাকতেন আমার আনুগত্য ব্যতিরেকে তারও কোনো উপায় থাকত না”। [মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১৫১৫৬হাসানলিগাইরিহীসনদেবর্ণিত]

ষষ্ঠ: তাঁর প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা

যে কেউ কুরআন পড়বে সে জানতে পারবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রাণাধিক ভালোবাসা অপরিহার্য। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿قُلۡإِنكَانَءَابَآؤُكُمۡوَأَبۡنَآؤُكُمۡوَإِخۡوَٰنُكُمۡوَأَزۡوَٰجُكُمۡوَعَشِيرَتُكُمۡوَأَمۡوَٰلٌٱقۡتَرَفۡتُمُوهَاوَتِجَٰرَةٞتَخۡشَوۡنَكَسَادَهَاوَمَسَٰكِنُتَرۡضَوۡنَهَآأَحَبَّإِلَيۡكُممِّنَٱللَّهِوَرَسُولِهِۦوَجِهَادٖفِيسَبِيلِهِۦفَتَرَبَّصُواْحَتَّىٰيَأۡتِيَٱللَّهُبِأَمۡرِهِۦۗوَٱللَّهُلَايَهۡدِيٱلۡقَوۡمَٱلۡفَٰسِقِينَ٢٤﴾ [التوبة: ٢٤]

“বল, ‘তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের সে সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ, আর সে ব্যবসা যার মন্দা হওয়ার আশঙ্কা তোমরা করছ এবং সে বাস স্থান, যা তোমরা পছন্দ করছ, যদি তোমাদের কাছে অধিক প্রিয় হয় আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে, তবে তোমরা অপেক্ষা কর আল্লাহ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসা পর্যন্ত’।আর আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ২৪]

এ আয়াতের দাবী অনুযায়ী আল্লাহর রাসূলকে ভালোবাসা আল্লাহর প্রতি ঈমান সঠিক হওয়ার অপরিহার্য শর্ত। আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ، حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ»

“তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হবে না, যতক্ষণনা আমি তার প্রিয়তম হই তার পিতা, সন্তান এবং সব মানুষের চেয়ে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫; সহীহ মুসলিমহাদীস নং ৪৪]

সে ব্যক্তি তো ঈমানের স্বাদই পায় না যে আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসে না। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ بِهِنَّ حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ: مَنْ كَانَ اللهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا، وَأَنْ يُحِبَّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ، وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ بَعْدَ أَنْ أَنْقَذَهُ اللهُ مِنْهُ، كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ»

“তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে পাওয়া যাবে সে তা দ্বারা ঈমানের স্বাদ পাবে: যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল প্রিয়তম হবে তাদের ছাড়া আর সবার চেয়ে, যে মানুষকে কেবল একমাত্র আল্লাহর জন্যই ভালোবাসবে এবং যে আল্লাহ তাকে কুফুরী থেকে মুক্তি দেওয়ার পর পুনরায় তাতে ফিরে যাওয়া তেমনি অপ্রিয় জ্ঞান করবে, যেমন অপছন্দ করে আগুন নিক্ষেপিত হওয়াকে”।[4]

সপ্তম: তাঁর আনুগত্য অপরিহার্য

যে কেউ কুরআন পড়বে সে জানতে পারবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য ও অনুকরণ তার জন্য ওয়াজিব। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَاٱلَّذِينَءَامَنُوٓاْأَطِيعُواْٱللَّهَوَرَسُولَهُۥوَلَاتَوَلَّوۡاْعَنۡهُوَأَنتُمۡتَسۡمَعُونَ٢٠وَلَاتَكُونُواْكَٱلَّذِينَقَالُواْسَمِعۡنَاوَهُمۡلَايَسۡمَعُونَ٢١﴾ [الانفال: ٢٠،٢١]

‘হেমুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর এবং তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না, অথচ তোমরা শুনছ। আর তোমরা তাদের মতো হয়োনা, যারা বলে আমরা শুনেছি অথচ তারা শুনেনা”। [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ২০-২১]

সুতরাং যে রিসালতে বিশ্বাস স্থাপন করবে তার জন্য আনুগত্যও ওয়াজিব। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمَآأَرۡسَلۡنَامِنرَّسُولٍإِلَّالِيُطَاعَبِإِذۡنِٱللَّهِۚ﴾ [النساء: ٦٤]

“আর আমরা যে কোনো রাসূল প্রেরণ করেছি তাকে বল এ জন্য, যেন আল্লাহর অনুমতি ক্রমে তাদের আনুগত্য করা হয়”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৪]

﴿مَّنيُطِعِٱلرَّسُولَفَقَدۡأَطَاعَٱللَّهَۖ﴾ [النساء: ٨٠]

“যে রাসূলের আনুগত্য করে সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করে”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮০]

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ عَصَى اللهَ، وَمَنْ أَطَاعَ أَمِيرِي فَقَدْ أَطَاعَنِي، وَمَنْ عَصَى أَمِيرِي فَقَدْ عَصَانِي»

“যে আমার আনুগত্য করে সে আল্লাহরই আনুগত্য করে, আর যে আমার অবাধ্যতা দেখায় সে আল্লাহরই আবাধ্য হয়। তেমনি যে আমার নির্বাচিত নেতার আনুগত্য করে সেও আমার আনুগত্য করে, আর যে আমার নেতার অবাধ্যতা দেখায় সে আমারই আবাধ্য হয়”।[5]

যে নবীর আনুগত্য করে সে সুপথ প্রাপ্ত হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَإِنتُطِيعُوهُتَهۡتَدُواْۚ﴾ [النور: ٥٤]

‘আর যদি তোমরা তাঁর (রাসূলের) আনুগত্য কর, তবে হিদায়াত পাবে”। [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৫৪]

﴿يَوۡمَتُقَلَّبُوُجُوهُهُمۡفِيٱلنَّارِيَقُولُونَيَٰلَيۡتَنَآأَطَعۡنَاٱللَّهَوَأَطَعۡنَاٱلرَّسُولَا۠٦٦﴾ [الاحزاب: ٦٦]

“যেদিন তাদের চেহারা গুলো আগুনে উপুড় করে দেওয়া হবে, তারা বলবে, ‘হায়, আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রাসূলের আনুগত্য করতাম”! [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৬৬]

অষ্টম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, কাজ ও তাঁর সমর্থিত বিষয়ের আনুগত্য ওয়াজিব

যে কেউ কুরআন পড়বে সে জানতে পারবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের যত কথা, কাজ ও তাঁর সমর্থন করা বিষয় আছে সেসবের আনুগত্য ও অনুকরণ তার জন্য ওয়াজিব। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَٱتَّبِعُوهُلَعَلَّكُمۡتَهۡتَدُونَ١٥٨﴾ [الاعراف: ١٥٨]

‘আর তোমরা তার অনুসর ণকর, যাতে তোমরা হিদায়াত লাভ কর”। [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৫৮]

সেহেতু যে কেউ আল্লাহকে ভালোবাসে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করবেই।আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿قُلۡإِنكُنتُمۡتُحِبُّونَٱللَّهَفَٱتَّبِعُونِييُحۡبِبۡكُمُٱللَّهُوَيَغۡفِرۡلَكُمۡذُنُوبَكُمۡۚوَٱللَّهُغَفُورٞرَّحِيمٞ٣١﴾ [العمران: ٣١]

“বল, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা করে দেবেন।আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমা শীল, পরমদয়ালু”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১]

নবম: তাঁর আদেশ-নিষেধ শিরোধার্য

যে কেউ কুরআন পড়বে সে জানতে পারবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করা এবং তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمَآءَاتَىٰكُمُٱلرَّسُولُفَخُذُوهُوَمَانَهَىٰكُمۡعَنۡهُفَٱنتَهُواْۚوَٱتَّقُواْٱللَّهَۖإِنَّٱللَّهَشَدِيدُٱلۡعِقَابِ٧﴾ [الحشر: ٧]

“রাসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে তা থেকে বিরত হও এবং আল্লাহকেই ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর”। [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৭]

দশম: তাঁর বিপরীত অবস্থান হারাম

যে কেউ কুরআন পড়বে সে জানতে পারবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের বিপরীত অবস্থান গ্রহণ হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿فَلۡيَحۡذَرِٱلَّذِينَيُخَالِفُونَعَنۡأَمۡرِهِۦٓأَنتُصِيبَهُمۡفِتۡنَةٌأَوۡيُصِيبَهُمۡعَذَابٌأَلِيمٌ٦٣﴾ [النور: ٦٣]

“অতএব,যারাতাঁরনির্দেশেরবিরুদ্ধাচরণকরেতারাযেনতাদেরওপরবিপর্যয়নেমেআসাঅথবাযন্ত্রণাদায়কআযাবপৌঁছারভয়করে”। [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬৩]

একাদশ: তাঁর বিরুদ্ধাচরণ হারাম

যে কেউ কুরআন পড়বে সে জানতে পারবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ কিংবা তাঁর কথায় বা কাজের অন্যথা তার জন্য হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمَنيُشَاقِقِٱلرَّسُولَمِنۢبَعۡدِمَاتَبَيَّنَلَهُٱلۡهُدَىٰوَيَتَّبِعۡغَيۡرَسَبِيلِٱلۡمُؤۡمِنِينَنُوَلِّهِۦمَاتَوَلَّىٰوَنُصۡلِهِۦجَهَنَّمَۖوَسَآءَتۡمَصِيرًا١١٥﴾ [النساء: ١١٥]

‘আরযেরাসূলেরবিরুদ্ধাচরণকরেতারজন্যহিদায়াতপ্রকাশপাওয়ারপরএবংমুমিনদেরপথেরবিপরীতপথঅনুসরণকরে, আমিতাকেফেরাবযেদিকেসেফিরেএবংতাকেপ্রবেশকরাবজাহান্নামে।আরআবাসহিসেবেতাখুবইমন্দ”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১৫]

দ্বাদশ: তাঁকে কষ্ট দেওয়া হারাম

যে কেউ কুরআন পড়বে সে জানতে পারবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর আনীত দীন, তাঁর ব্যক্তিত্ব, পরিবার, আত্মীয়বর্গ, সাহাবী ও অনুসারীদের কষ্ট দেওয়া হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿إِنَّٱلَّذِينَيُؤۡذُونَٱللَّهَوَرَسُولَهُۥلَعَنَهُمُٱللَّهُفِيٱلدُّنۡيَاوَٱلۡأٓخِرَةِوَأَعَدَّلَهُمۡعَذَابٗامُّهِينٗا٥٧﴾ [الاحزاب: ٥٧]

‘নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে লানত করেন এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অপমান জনক আযাব।’ {সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৭}

আল্লাহ আরও বলেন,

﴿وَٱلَّذِينَيُؤۡذُونَرَسُولَٱللَّهِلَهُمۡعَذَابٌأَلِيمٞ٦١﴾ [التوبة: ٦١]

“এবং যারা আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য রয়েছে বেদনা দায়ক আযাব”।[সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৬১]

আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন,

﴿قُلۡأَبِٱللَّهِوَءَايَٰتِهِۦوَرَسُولِهِۦكُنتُمۡتَسۡتَهۡزِءُونَ٦٥لَاتَعۡتَذِرُواْقَدۡكَفَرۡتُمبَعۡدَإِيمَٰنِكُمۡۚإِننَّعۡفُعَنطَآئِفَةٖمِّنكُمۡنُعَذِّبۡطَآئِفَةَۢبِأَنَّهُمۡكَانُواْمُجۡرِمِينَ٦٦﴾ [التوبة: ٦٥،٦٦]

“বল, ‘আল্লাহ, তাঁরআয়াতসমূহওতাঁররাসূলেরসাথেতোমরাবিদ্রূপকরছিলে’? তোমরাওযরপেশকরোনা।তোমরাতোমাদেরঈমানেরপরঅবশ্যইকুফরীকরেছ”। [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৬৫-৬৬]

ত্রয়োদশ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিষ্পাপ জানা

যে কেউ কুরআন পড়বে সে জানতে পারবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর কথা, কাজ ও সমর্থন দেওয়া কাজে নিষ্পাপ ও নির্ভুল বলে বিশ্বাস করা জরুরি

আল্লাহ তাঁকে বচনে-বলনে মুক্ত করেছেন সব ধরনের ভুল-ভ্রান্তি ও বিচ্যুতি থেকে। পক্ষান্তরে পৃথিবীর কোনো আলেম-বিজ্ঞানী ভুলের ঊর্ধ্বে নন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمَايَنطِقُعَنِٱلۡهَوَىٰٓ٣إِنۡهُوَإِلَّاوَحۡيٞيُوحَىٰ٤﴾ [النجم: ٣،٤]

“আরতিনিমনগড়াকথাবলেননা।তাতোকেবলওহী, যাতারপ্রতিওহীরূপেপ্রেরণকরাহয়”। [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩-৪]

﴿وَلَوۡتَقَوَّلَعَلَيۡنَابَعۡضَٱلۡأَقَاوِيلِ٤٤لَأَخَذۡنَامِنۡهُبِٱلۡيَمِينِ٤٥ثُمَّلَقَطَعۡنَامِنۡهُٱلۡوَتِينَ٤٦فَمَامِنكُممِّنۡأَحَدٍعَنۡهُحَٰجِزِينَ٤٧﴾ [الحاقة: ٤٤،٤٧]

“যদি তিনি  আমার নামে কোনো মিথ্যা রচনা করত, তবে আমরা তার ডান হাত পাকড়াও করতাম। তারপর অবশ্যই আমরা তার হৃদপিণ্ডের শিরা কেটে ফেলতাম।অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ-ই তাকে রক্ষা করার থাকত না”। [সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত: ৪৪-৪৭]

আল্লাহ তাঁকে কাজে-কর্মেও মুক্ত করেছেন সব ধরনের ভুল-ভ্রান্তি ও বিচ্যুতি থেকে। পক্ষান্তরে পৃথিবীর কোনো আলেম-বিজ্ঞানীই ত্রুটিমুক্ত নন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَٱتَّبِعُوهُلَعَلَّكُمۡتَهۡتَدُونَ١٥٨﴾ [الاعراف: ١٥٨]

“আর তোমরা তাঁর আনুগত্য করো, যাতে তোমরা হিদায়াত পাবে।’ [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৫৮]

আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন,

﴿قُلۡإِنكُنتُمۡتُحِبُّونَٱللَّهَفَٱتَّبِعُونِييُحۡبِبۡكُمُٱللَّهُوَيَغۡفِرۡلَكُمۡذُنُوبَكُمۡۚوَٱللَّهُغَفُورٞرَّحِيمٞ٣١﴾ [العمران: ٣١]

“বল, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা করে দেবেন।আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু”।[সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১]

মালেক ইবন হুয়াইরীছ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي»

‘তোমরা সালাত আদায় কর যেভাবে আমাকে তোমরা সালাত আদায় করতে দেখ”।[6]

জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«لِتَأْخُذُوا مَنَاسِكَكُمْ، فَإِنِّي لَا أَدْرِي لَعَلِّي لَا أَحُجُّ بَعْدَ حَجَّتِي هَذِهِ»

“তোমরাতোমাদেরহজেরবিধানজেনেনাও।কারণ,আমিজানিনা, সম্ভবতআমারএহজেরপরআমিআরহজকরতেপারবনা”।[7]

আল্লাহ তাঁকে তাঁর সমর্থনের ব্যাপারেও নিষ্পাপ বানিয়েছেন। ফলে তিনি কখনো মিথ্যাকে সমর্থন করেন নি কিংবা অবৈধ কিছু দেখে নীরব থাকেন নি। পক্ষান্তরে অন্য সব মনীষীই কখনো কখনো সিদ্ধান্তে ভুল করেন।

﴿يَٰٓأَيُّهَاٱلرَّسُولُبَلِّغۡمَآأُنزِلَإِلَيۡكَمِنرَّبِّكَۖوَإِنلَّمۡتَفۡعَلۡفَمَابَلَّغۡتَرِسَالَتَهُۥۚوَٱللَّهُيَعۡصِمُكَمِنَٱلنَّاسِۗإِنَّٱللَّهَلَايَهۡدِيٱلۡقَوۡمَٱلۡكَٰفِرِينَ٦٧﴾ [المائ‍دة: ٦٧]

“হে রাসূল, তোমার কাছে যা নাযিল করা হয়েছে তা প্রচার করো, যদি তা না কর তবে তো তুমি তাঁর রিসালাত প্রচার করলে না, আরআল্লাহ মানুষদের থেকে তোমাকে রক্ষা করবেন, নিশ্চয় আল্লাহ কাফের কাওমকে হিদায়াত করেন না।”। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৬৭]

যে ব্যক্তি কুরআন পড়বে, জানতে পারবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মান ও ভক্তি করা অপরিহার্য আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿لِّتُؤۡمِنُواْبِٱللَّهِوَرَسُولِهِۦوَتُعَزِّرُوهُوَتُوَقِّرُوهُۚ﴾ [الفتح: ٩]

“যাতেতোমরাআল্লাহওতাঁররাসূলেরওপরঈমানআন, তাকেসাহায্যওসম্মানকরএবংসকাল-সন্ধ্যায়আল্লাহরতাসবীহপাঠকর”।’ [সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ৯]

যে কেউ কুরআন পড়বে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মানের আলামত সম্পর্কে জানতে পারবে। তাঁর সম্মানের বিষয়টিও আল্লাহ-রাসূল কর্তৃক নির্ধারিত। এটাকে আল্লাহ মানুষের রুচি বা ইচ্ছের ওপর ছেড়ে দেননি।

প্রথম আলামত:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা ও কাজকে সম্মান করা। সেহেতু তাঁর কথার ওপর কারও কথা কিংবা তাঁর কাজের ওপর অন্য কারও কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া যাবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَاٱلَّذِينَءَامَنُواْلَاتُقَدِّمُواْبَيۡنَيَدَيِٱللَّهِوَرَسُولِهِۦۖوَٱتَّقُواْٱللَّهَۚإِنَّٱللَّهَسَمِيعٌعَلِيمٞ١﴾ [الحجرات: ١]

“হেঈমানদারগণ, তোমরাআল্লাহওতাঁররাসূলেরসামনেঅগ্রবর্তীহয়োনাএবংতোমরাআল্লাহরতাকওয়াঅবলম্বনকর, নিশ্চয়আল্লাহসর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ”। [সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১}

দ্বিতীয় আলামত:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা ও কাজের অনুকরণ করা। সেহেতু তাঁর কথার বিপরীতে অন্য কারও কথা কিংবা তাঁর কর্মপন্থার বিপরীতে অন্য কারও কর্মপদ্ধতি গ্রহণ না করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمَاكَانَلِمُؤۡمِنٖوَلَامُؤۡمِنَةٍإِذَاقَضَىٱللَّهُوَرَسُولُهُۥٓأَمۡرًاأَنيَكُونَلَهُمُٱلۡخِيَرَةُمِنۡأَمۡرِهِمۡۗوَمَنيَعۡصِٱللَّهَوَرَسُولَهُۥفَقَدۡضَلَّضَلَٰلٗامُّبِينٗا٣٦﴾ [الاحزاب: ٣٦]

‘আরআল্লাহওতাঁররাসূলকোনোনির্দেশদিলেকোনোমুমিনপুরুষওনারীরজন্যনিজদেরব্যাপারেঅন্যকিছুএখতিয়ারকরারঅধিকারথাকেনা,আরযেআল্লাহওতাঁররাসূলকেঅমান্যকরলসেস্পষ্টইপথভ্রষ্টহবে”। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৬}

তৃতীয় আলামত:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ সর্বাংশেসম্মান করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿فَلۡيَحۡذَرِٱلَّذِينَيُخَالِفُونَعَنۡأَمۡرِهِۦٓأَنتُصِيبَهُمۡفِتۡنَةٌأَوۡيُصِيبَهُمۡعَذَابٌأَلِيمٌ٦٣﴾ [النور: ٦٣]

“অতএব,যারাতাঁরনির্দেশেরবিরুদ্ধাচরণকরেতারাযেনতাদেরওপরবিপর্যয়নেমেআসাঅথবাযন্ত্রণাদায়কআযাবপৌঁছারভয়করে”।[সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬৩]

চতুর্থ আলামত:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষেধ সর্বাংশেসম্মান করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَوۡمَئِذٖيَوَدُّٱلَّذِينَكَفَرُواْوَعَصَوُاْٱلرَّسُولَلَوۡتُسَوَّىٰبِهِمُٱلۡأَرۡضُوَلَايَكۡتُمُونَٱللَّهَحَدِيثٗا٤٢﴾ [النساء: ٤٢]

“সেদিন আশা করবে যারা কুফরী করেছিল এবং রাসূলের অবাধ্য হয়েছিল, যদি যমীন তাদের নিয়ে সমান হয়ে যেতো, আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো কথাই লুকাবে না”। [সূরা আন-নিসা: ৪২]

আরও বলেন,

﴿وَيَوۡمَيَعَضُّٱلظَّالِمُعَلَىٰيَدَيۡهِيَقُولُيَٰلَيۡتَنِيٱتَّخَذۡتُمَعَٱلرَّسُولِسَبِيلٗا٢٧﴾ [الفرقان: ٢٦]

“সেদিন যালেম ব্যক্তি তার হাত কামড়াতে কামড়াতে বলতে থাকবে, হায় যদি রাসূলের সাথে কোনো পন্থা অবলম্বন করতাম!” [সূরা আল-ফুরকান: ২৭]

আরও বলেন,

﴿وَمَانَهَىٰكُمۡعَنۡهُفَٱنتَهُواْۚ﴾ [الحشر: ٧]

‘আর যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত হও।” [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৭]

পঞ্চম আলামত:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বা বাক্যোচ্চারণকে সম্মান করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَاٱلَّذِينَءَامَنُواْلَاتَرۡفَعُوٓاْأَصۡوَٰتَكُمۡفَوۡقَصَوۡتِٱلنَّبِيِّ﴾ [الحجرات: ٢]

“হে ঈমানদার গণ, তোমরা নবীর আওয়াজের ওপর তোমাদের আওয়াজ উঁচু করো না”। [সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ২]

ষষ্ঠ আলামত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতকে সম্মান করা এবং দৃঢ়ভাবে তা আঁকড়ে ধরা। ‘ইরবাদ ইবন সারিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ يَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا، وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّهَا ضَلَالَةٌ فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَعَلَيْهِ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ المَهْدِيِّينَ، عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ»

“(আমার পরে) তোমাদের যে কেউ বেঁচে থাকবে, সে অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। তোমরা নবআবিষ্কৃত ধর্মীয় বিষয় থেকে সাবধান। কারণ, তা পথভ্রষ্টতা। তোমাদের যে কেউ এ যুগ পাবে, তার কর্তব্য হবে আমার এবং হেদায়াত ও সুপথপ্রাপ্ত খলীফাদের আদর্শ অবলম্বন করবে এবং তা দাঁত দিয়ে আঁকড়ে ধরবে”।[8]

সপ্তম আলামত:যখনই তাঁর নাম নিজে উচ্চারণ করা হবে বা অন্য কাউকে উচ্চারণ করতে শোনা যাবে, তাঁর  ওপর দুরূদ পড়া। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿إِنَّٱللَّهَوَمَلَٰٓئِكَتَهُۥيُصَلُّونَعَلَىٱلنَّبِيِّۚيَٰٓأَيُّهَاٱلَّذِينَءَامَنُواْصَلُّواْعَلَيۡهِوَسَلِّمُواْتَسۡلِيمًا٥٦﴾ [الاحزاب: ٥٦]

“নিশ্চয় আল্লাহ (ঊর্ধ্ব জগতে ফিরিতাদের মধ্যে) নবীর প্রশংসা করেন এবং তাঁর ফিরিশতাগণ নবীর জন্য দো‘আ করে। হে মুমিন গণ, তোমরাও নবীর ওপর দুরূদ পাঠ কর এবং তাকে যথাযথ ভাবে সালাম জানাও”।[সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৬]

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ »

“ঐ ব্যক্তির নাক ধূলি ধূসরিত হোক যার সামনে আমার নাম উচ্চারিত হয় আর তখন সে আমার ওপর সালাত পাঠ করে না”।[9]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত কীভাবে পাঠ করতে হবে তা অহীর মাধ্যমেই শেখানো হয়েছে। একে মানুষের মর্জি বা রুচির ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় নি। আবু মাসঊদ আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,

«أَتَانَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ فِي مَجْلِسِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، فَقَالَ لَهُ بَشِيرُ بْنُ سَعْدٍ: أَمَرَنَا اللهُ تَعَالَى أَنْ نُصَلِّيَ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ، فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ؟ قَالَ: فَسَكَتَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حَتَّى تَمَنَّيْنَا أَنَّهُ لَمْ يَسْأَلْهُ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:«قُولُوا اللهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وَالسَّلَامُ كَمَا قَدْ عَلِمْتُمْ»

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদের সম্মুখে আগমন করলেন যখন আমরা সা‘দ ইবন উবাদার মজলিসে বসা ছিলাম। তখন তাঁর উদ্দেশে বাশীর ইবন সা‘দ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তা‘আলা তো আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আপনার ওপর দরূদ পড়তে; আপনারওপর আমরা কীভাবে দরূদ পড়ব?’ তিনি বললেন, বলো: (উচ্চারণ) ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলামুহাম্মাদিঁওওয়া‘আলা আ-লি মুহাম্মাদ কামা সাল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া‘আলাআ-লি ইবরাহীম ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ; আল্লাহুম্মা বা-রিক ‘আলা মুহাম্মাদিঁওওয়া ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদ কামা বা-রাকতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আ-লি ইবরাহীমইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।’

অর্থাৎ হে আল্লাহ, তুমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁরবংশধরদের ওপর এইরূপ রহমত নাযিল করো, যেমনটি করেছিলে ইবরাহীম ও তাঁরবংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়। হে আল্লাহ, তুমিমুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করো, যেমন বরকত নাযিলকরেছিলে ইবরাহীম ও তাঁর বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়”।[10]

 

যে কেউ কুরআন পড়বে সে জানতে পারবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই নিজের কোনো ভালো বা মন্দ করতে সক্ষম নন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿قُللَّآأَمۡلِكُلِنَفۡسِينَفۡعٗاوَلَاضَرًّاإِلَّامَاشَآءَٱللَّهُۚ﴾ [الاعراف: ١٨٨]

“বল, ‘আমি আমার নিজের কোনো উপকার ও ক্ষতির ক্ষমতা রাখিনা, তবে আল্লাহ যা চান”। [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৮৮]

যে কেউ কুরআন পড়বে সে জানতে পারবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যের কোনো ভালো বা মন্দ করতে সক্ষম নন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿قُلۡإِنِّيلَآأَمۡلِكُلَكُمۡضَرّٗاوَلَارَشَدٗا٢١﴾ [الجن: ٢١]

“বল, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য না কোনো অকল্যাণ করার ক্ষমতা রাখি এবং না কোনো কল্যাণ করার”। {সূরা আল-জিন্ন, আয়াত: ২১]

যে কেউ কুরআন পড়বে সে জানতে পারবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ থেকে ‘গায়ব’ সম্পর্কে জানতেন না।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿تِلۡكَمِنۡأَنۢبَآءِٱلۡغَيۡبِنُوحِيهَآإِلَيۡكَۖمَاكُنتَتَعۡلَمُهَآأَنتَوَلَاقَوۡمُكَمِنقَبۡلِهَٰذَاۖفَٱصۡبِرۡۖإِنَّٱلۡعَٰقِبَةَلِلۡمُتَّقِينَ٤٩﴾ [هود: ٤٩]

“এ গুলো গায়েবের সংবাদ, আমি তোমাকে অহীর মাধ্যমে তা জানাচ্ছি।ইতো পূর্বে তা না তুমি জানতে এবং না তোমার কওম। সুতরাংতুমি সবর কর।নিশ্চয় শুভপরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্য”। [সূরা হূদ, আয়াত: ৪৯]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿قُللَّآأَمۡلِكُلِنَفۡسِينَفۡعٗاوَلَاضَرًّاإِلَّامَاشَآءَٱللَّهُۚوَلَوۡكُنتُأَعۡلَمُٱلۡغَيۡبَلَٱسۡتَكۡثَرۡتُمِنَٱلۡخَيۡرِوَمَامَسَّنِيَٱلسُّوٓءُۚإِنۡأَنَا۠إِلَّانَذِيرٞوَبَشِيرٞلِّقَوۡمٖيُؤۡمِنُونَ١٨٨﴾ [الاعراف: ١٨٨]

“বল, ‘আমি আমার নিজের কোনো উপকার ও ক্ষতির ক্ষমতা রাখিনা, তবে আল্লাহ যা চান।আর আমি যদি গায়েব জানতাম তাহলে অধিক কল্যাণ লাভ করতাম এবং আমাকে কোন ক্ষতি স্পর্শ করত না।আমিতো একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদ দাতা এমন কওমের জন্য, যারা বিশ্বাস করে”। [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৮৮]

যে কেউ কুরআন পড়বে সে জানতে পারবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘গায়ব’ সম্পর্কে যা জানতেন তা নবুওয়াত ও রিসালতের সুবাদে, বিলায়াত বা ওলি হবার কারণে নয়, যেমন ধারণা করে কোনো কোনো সূফী ও তাসাওউফপন্থী।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿قُللَّآأَقُولُلَكُمۡعِندِيخَزَآئِنُٱللَّهِوَلَآأَعۡلَمُٱلۡغَيۡبَوَلَآأَقُولُلَكُمۡإِنِّيمَلَكٌۖإِنۡأَتَّبِعُإِلَّامَايُوحَىٰٓإِلَيَّۚقُلۡهَلۡيَسۡتَوِيٱلۡأَعۡمَىٰوَٱلۡبَصِيرُۚأَفَلَاتَتَفَكَّرُونَ٥٠﴾ [الانعام: ٥٠]

“বল, ‘তোমাদেরকে আমি বলিনা, আমার কাছে আল্লাহর ভাণ্ডার সমূহ রয়েছে এবং আমি গায়েব জানিনা এবং তোমাদেরকে বলিনা, নিশ্চয় আমি ফিরিশতা।আমি কেবল তাই অনুসরণ করি যা আমার কাছে অহী প্রেরণ করা হয়’। বল, ‘অন্ধ আর চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? অতএব তোমরা কি চিন্তা করবে না?” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ৫০]

কিছু কিছু সূফী বলে থাকেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়ত নয়, বিলায়াতের মাধ্যমে ‘গায়ব’ সম্পর্কে জানতেন, যাতে এ দাবীও করা যায় যে সূফী-ওলিরাও গায়েব সম্পর্কে অবগত হতে পারেন বিলায়াতের মাধ্যমে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের এমন দাবীর নাকচ করতে গিয়ে বলেন,

﴿مَّاكَانَٱللَّهُلِيَذَرَٱلۡمُؤۡمِنِينَعَلَىٰمَآأَنتُمۡعَلَيۡهِحَتَّىٰيَمِيزَٱلۡخَبِيثَمِنَٱلطَّيِّبِۗوَمَاكَانَٱللَّهُلِيُطۡلِعَكُمۡعَلَىٱلۡغَيۡبِوَلَٰكِنَّٱللَّهَيَجۡتَبِيمِنرُّسُلِهِۦمَنيَشَآءُۖفَ‍َٔامِنُواْبِٱللَّهِوَرُسُلِهِۦۚوَإِنتُؤۡمِنُواْوَتَتَّقُواْفَلَكُمۡأَجۡرٌعَظِيمٞ١٧٩﴾ [العمران: ١٧٩]

“আল্লাহ এমন নন যে, তিনি মুমিনদেরকে (এমনঅবস্থায়) ছেড়ে দেবেন যার ওপর তোমরা আছ। যতক্ষণ না তিনি পৃথক করবেন অপবিত্রকে পবিত্র থেকে।আর আল্লাহ এমন নন যে, তিনি তোমাদেরকে গায়েব সম্পর্কে জানাবেন।তবে আল্লাহ তাঁর রাসূলদের মধ্যে যাকে চান বেছে নেন।সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন।আর যদি তোমরা ঈমান আন এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে তোমাদের জন্য রয়েছে মহা প্রতিদান”।[সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৭৯]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿عَٰلِمُٱلۡغَيۡبِفَلَايُظۡهِرُعَلَىٰغَيۡبِهِۦٓأَحَدًا٢٦إِلَّامَنِٱرۡتَضَىٰمِنرَّسُولٖفَإِنَّهُۥيَسۡلُكُمِنۢبَيۡنِيَدَيۡهِوَمِنۡخَلۡفِهِۦرَصَدٗا٢٧﴾ [الجن: ٢٦،٢٧]

“তিনি অদৃশ্যের জ্ঞানী, আর তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না।তবে তাঁর মনোনীত রাসূল ছাড়া।আর তিনি তখন তার সামনে ও তার পেছনে প্রহরী নিযুক্ত করবেন”।[সূরা আল-জিন্ন, আয়াত: ২৬-২৭]

যে কেউ কুরআন পড়বে সে জানতে পারবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরাসরি শরী‘আত প্রবর্তক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আল্লাহর প্রবর্তিত শরী‘আত অনুসরণকারী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ثُمَّجَعَلۡنَٰكَعَلَىٰشَرِيعَةٖمِّنَٱلۡأَمۡرِفَٱتَّبِعۡهَاوَلَاتَتَّبِعۡأَهۡوَآءَٱلَّذِينَلَايَعۡلَمُونَ١٨﴾ [الجاثية: ١٨]

“তারপর আমরা তোমাকে দীনের এক বিশেষ বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছি।সুতরাং তুমি তার অনুসরণ কর এবংযারা জানেনা তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করোনা”। [সূরা আল-জাছিয়া, আয়াত: ১৮]

﴿وَإِذَاتُتۡلَىٰعَلَيۡهِمۡءَايَاتُنَابَيِّنَٰتٖقَالَٱلَّذِينَلَايَرۡجُونَلِقَآءَنَاٱئۡتِبِقُرۡءَانٍغَيۡرِهَٰذَآأَوۡبَدِّلۡهُۚقُلۡمَايَكُونُلِيٓأَنۡأُبَدِّلَهُۥمِنتِلۡقَآيِٕنَفۡسِيٓۖإِنۡأَتَّبِعُإِلَّامَايُوحَىٰٓإِلَيَّۖإِنِّيٓأَخَافُإِنۡعَصَيۡتُرَبِّيعَذَابَيَوۡمٍعَظِيمٖ١٥قُللَّوۡشَآءَٱللَّهُمَاتَلَوۡتُهُۥعَلَيۡكُمۡوَلَآأَدۡرَىٰكُمبِهِۦۖفَقَدۡلَبِثۡتُفِيكُمۡعُمُرٗامِّنقَبۡلِهِۦٓۚأَفَلَاتَعۡقِلُونَ١٦﴾ [يونس: ١٥،١٦]

‘আর যখন তাদের সামনে আমার আয়াত সমূহ সুস্পষ্ট রূপে পাঠ করা হয়, তখন, যারা আমার সাক্ষাতের আশা রাখেনা, তারা বলে, ‘এটি ছাড়া অন্য কুরআন নিয়ে এসো।অথবা একে বদলাও’। বল, ‘আমার নিজের পক্ষ থেকে এতে কোন পরিবর্তনের অধিকার নেই। আমিতো শুধু আমার প্রতি অবতীর্ণ ওহীর অনুসরণ করি।নিশ্চয় আমি যদি রবের অবাধ্য হই তবে ভয় করি কঠিন দিনের আযাবের’। বল, ‘যদি আল্লাহ চাইতেন, আমি তোমাদের উপর তা পাঠ করতাম না।আর তিনি তোমাদেরকে এসম্পর্কে অবহিত করতেন না।কেননা ইত পূর্বে আমি তোমাদের মধ্যে দীর্ঘ জীবন অতিবাহিত করেছি। তবে কি তোমরা বুঝনা?” [সূরা ইঊনুস, আয়াত: ১৫-১৬]

যে কেউ কুরআন পড়বে সে জানতে পারবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরাসরি শরী‘আত প্রবর্তক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আল্লাহর অহী বা প্রত্যাদেশের প্রচারক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَاٱلرَّسُولُبَلِّغۡمَآأُنزِلَإِلَيۡكَمِنرَّبِّكَۖوَإِنلَّمۡتَفۡعَلۡفَمَابَلَّغۡتَرِسَالَتَهُۥۚوَٱللَّهُيَعۡصِمُكَمِنَٱلنَّاسِۗإِنَّٱللَّهَلَايَهۡدِيٱلۡقَوۡمَٱلۡكَٰفِرِينَ٦٧﴾ [المائ‍دة: ٦٧]

‘হে রাসূল, তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার নিকট যা নাযিল করা হয়েছে, তা পৌঁছে দাও আর যদি তুমি না কর তবে তুমি তাঁর রিসালাত পৌঁছালে না।আর আল্লাহ তোমাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন।নিশ্চয় আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না”। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৬৭]

যে কেউ কুরআন পড়বে সে জানতে পারবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরাসরি শরী‘আত প্রবর্তক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আল্লাহর ওহি বা প্রত্যাদেশের ভাষ্যকার। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَأَنزَلۡنَآإِلَيۡكَٱلذِّكۡرَلِتُبَيِّنَلِلنَّاسِمَانُزِّلَإِلَيۡهِمۡوَلَعَلَّهُمۡيَتَفَكَّرُونَ٤٤﴾ [النحل: ٤٤]

“তোমার প্রতি নাযিল করেছি কুরআন, যাতে তুমি মানুষের জন্য স্পষ্ট করে দিতে পার, যা তাদের প্রতি নাযিল হয়েছে। আর যাতে তারা চিন্তা করে”।[সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ৪৪]

যে কেউ কুরআন পড়বে সে জানতে পারবে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করে তাদের ‘আকীদা ও আমল এবং বিশ্বাস ও কর্ম শুদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَٱتَّبِعُوهُلَعَلَّكُمۡتَهۡتَدُونَ١٥٨﴾ [الاعراف: ١٥٨]

“আর তোমরা তার অনুসরণ কর, আশা করা যায়, তোমরা হিদায়াত লাভ করবে”। [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৫৮] আরও বলেন,

﴿قُلۡإِنكُنتُمۡتُحِبُّونَٱللَّهَفَٱتَّبِعُونِييُحۡبِبۡكُمُٱللَّهُوَيَغۡفِرۡلَكُمۡذُنُوبَكُمۡۚوَٱللَّهُغَفُورٞرَّحِيمٞ٣١﴾ [العمران: ٣١]

“বল, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা করে দেবেন।আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমা শীল, পরম দয়ালু”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১]

আরও বলেন,

﴿لَّقَدۡكَانَلَكُمۡفِيرَسُولِٱللَّهِأُسۡوَةٌحَسَنَةٞلِّمَنكَانَيَرۡجُواْٱللَّهَوَٱلۡيَوۡمَٱلۡأٓخِرَوَذَكَرَٱللَّهَكَثِيرٗا٢١﴾ [الاحزاب: ٢١]

“অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে”। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১]

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের যথাযথ অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

সমাপ্ত

লেখক :  মুহাম্মাদ ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মাদ আল-আম্মারী

অনুবাদক: আলী হাসান তৈয়ব

সম্পাদক:ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া


 

[1]মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১৮৫৩৪ হাসান লিগাইরিহী

[2]সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫৩

[3]মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১৫৮৬৪ হাসান লিগাইরিহী সনদে বর্ণিত

[4]সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৪৩; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৬

[5]সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭১৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৩৫

[6]সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০০৮

[7]সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১২৯৭

[8]তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৭৬

[9]তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৪৫

[10]সহীহমুসলিম, হাদীসনং ৪০৫

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

বাংলাদেশে ধর্মান্তরের অপতৎপরতা : ওলামায়ে কেরাম ও সুধীজনদের করণীয়

বর্ণনাঃ প্রবন্ধটিতে লেখক বাংলাদেশে সম্প্রতি খ্রিষ্টধর্ম প্রচারক ও মিশনারিদের উল্লেখযোগ্যভাবে লক্ষণীয় অপতৎপরতা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। অতঃপর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *