Breaking News
Home / বই থেকে / ৪২ স্বামী বিদেশে থাকলে

৪২ স্বামী বিদেশে থাকলে

স্বামী বিদেশেস্বামী বিদেশে থাকলে তার দ্বীন ও দুনিয়া বিষয়ক সকল কিছুর দায়িত্বশীলা হয় স্ত্রী।

স্বামী ঘরে থাকতে যে দায়িত্ব সে পালন করে, সে ঘরে না থাকলেও অনুরূপ দায়িত্ব পালনে তৎপর থাকে।

আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই দ্বায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব-বিষয়ে (মিয়ামতে) কৈফিয়ত করা হবে। ইমাম (রাষ্ট্রনায়ক তার রাষ্ট্রের) একজন দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব-সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারে দায়িত্বশীল, সে সে তার দায়িত্ব- বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। মহিলা তার স্বামী-গৃহের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব- বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। চাকর তার মুনিবের অর্থের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব- বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।

তোমাদের প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব- বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।”(বুখারী ৮৯৩, ৫১৮৮ প্রভৃতি, মুসলিম ১৮২৯)

দায়িত্বশীলা আদর্শ স্ত্রীর দুই চেহারা হতে পারে না। তার মধ্যে মুনাফিকী, কপটতা ও প্রবঞ্চনা থাকতে পারে না। সামনে এক, পিছনে অন্য      এক হাত হতে পারে না।

অদৃশ্যভাবে ঈমান বড় ঈমান। অদৃশ্যভাবে ভয় আসল ভয়। পিছনে শ্রদ্ধা প্রকৃত শ্রদ্ধা। পিছনের প্রশংসাই প্রকৃত প্রশংসা। স্বামী দূরে থাকলেও তাকে যে মেনে চলে, সেই হল খাটি স্ত্রী। মহান আল্লাহ এমন প্রশংসা করে বলেন,

الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاء بِمَا فَضَّلَ اللّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُواْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللّهُ وَاللاَّتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلاَ تَبْغُواْ عَلَيْهِنَّ سَبِيلاً إِنَّ اللّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا

পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ।(সূরা-নিসা-আয়াত ৩৪)

 

মহানবী (সাঃ) বলেন, “সৌভাগ্যের স্ত্রী সেই; যাকে দেখে স্বামী মুগ্ধ হয়। সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকে। আর দুর্ভাগার স্ত্রী হল সেই; যাকে দেখে স্বামীর মন তিক্ত হয়, যে স্বামীর উপর জিভ লম্বা করে (লানতান করে) এবং সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে ঐ স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে সে নিশ্চিন্ত হতে পারে না।”(হাকেম, সিলসিলাহ সহীহাহ ১০৪৭ নং)

তিনি আরো বলেন, “তিন ব্যক্তির ব্যাপারে জিজ্ঞাসাই করো না (তারা ধ্বংসগ্রস্ত); এমন ব্যক্তি, যে ঐক্যবদ্ধ জামাআত ত্যাগ করে এবং রাষ্ট্রনেতার অবাধ্য হয়ে মারা যায়। এমন ক্রীতদাস বা দাসী, যে নিজের প্রভু থেকে পালিয়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে।

এবং এমন স্ত্রী, যার স্বামী বিদেশে থাকে, সে তার সাংসারিক যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করে গিয়ে থাকে, অথচ সে তার পশ্চাতে বেপর্দা হয়। এদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাই করো না।”( আদাবুল মুফরাদ বুখারী, ইবনে হিব্বান, হাকেম প্রমুখ)

যে মানুষ লোকালয়ে আল্লাহকে ভয় করে, সে নির্জনেও তাকে ভয় করবে। যে স্ত্রী স্বামীর উপস্থিতিতে আল্লাহকে ভয় করে, সে তার অনুপস্থিতিতেও ভয় করবে। সে এমন হতে পারে না যে, ‘বামুন নাই ঘরে, বামনী তুলে লাঙ্গন ধরে।’ সে ‘দিনের বেলায় মোল্লাগিরি, রাতের বেলায় কলাই চুরি’ করতেই পারে না। লোকালয়ে শয়তানের শ্ত্রু এবং নির্জনে তার বন্ধু হতে পারে না। কারণ সে জানে যে, আল্লাহ তার সাথী।

সাথে আছে ‘কিরামান কা-তিবীন’ ফিরিশ্তা। তার স্বামী বা আর কেউ তার পাপ না দেখলেও সর্বদ্রষ্টা মহান আল্লাহ তার সব কিছু দেখছেন এবং রেকর্ড করে রাখছেন।

একদা খলীফা উমার অথবা  ইবনে উমার (রাঃ) মক্কার পথে ছিলেন।

এক জায়জায় রাত কাটাতে নামলে এক রাখাল তার কাছে আসে। তিনি তার কাছে একটি ছাগল কিনতে ছাগল কিনতে ছান। রাখালটি বলে, ;এ ছাগল তো আমার নয়। মালিকের

অনুমতি ছাড়া কেমন করে বেচি?’ (তাকে পরীক্ষার জন্য) তিনি বললেন, ‘তুমি তোমার মালিককে বলো, নেকড়েতে খেয়ে ফেলেছে।’

রাখালটি বলল, ‘আর আল্লাহ কোথায়?’

উইমার(রাঃ) রাখালের কথা শুনে কেদে ফেললেন এবং বললেন, ‘(তা বটে।) আল্লাহ কোথায়?’ অতঃপর তার আমানতদারী দেখে তিনি তাকে ক্রয় করে স্বাধীন করে দিলেন।(সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’ ৩/২১৬)

একদা উমার (রাঃ) রাত্রিবেলায় ছদ্মবেশে শহরে ঘুরছিলেন। এক ঘর থেকে মা-বেটির আওয়াজ তার কানে এল; মা মেয়েকে বলছে, ‘দুধে পানি দিয়ে দে, বেশী হবে।’

মেয়ে মিশানো যাবে না।’ মা বলছে, ;এখানে না তোকে উমার দেখতে পাবেম আর না তার ঘোষুক।’ মেয়ে বলছে, ‘না মা! লোকালয়ে যার বাধ্য, নির্জনে তার অবাধ্যতা করতে পারি না! তারা দেখেননি, তাদের রব তো দেখছেন!’

এ কথোপকথন শুনে খলীফা উমার (রাঃ) ঐ মেয়েকে নিজের পুত্রবধু করে নিলেন।

আর সেই মহিলার বংশসূত্রে জম্ম নিয়েছিলেন পঞ্চম খলীফা উমার বিন আব্দুল আযীয। (আফিয়াতুল আ’য়ান ৬/৩০২, স্বিফাতুস স্বাফওয়াহ ২/৩৭)

অনুরূপ তিনি টহল দিচ্ছিলেন। গভীর রাত্রে পার্শ্ববর্তী বাড়ি থেকে এক মহিলার কন্ঠ থেকে গুনগুন শব্দে এই গান ভেসে এল,এ রাত লম্বা হয়ে যায় এবং তার সবটাই কালো অন্ধকার! আর আমার এমন দুরবস্থা যে, আমার শ্যন-সাথী নেই, যার সাথে আমি খেলা করব।আল্লাহর কসম! অন্য কিছু নয়, যদি আল্লাহ (ভীতি) না থাকত, তাহলে এই পালঙ্কের চারিদিক আন্দোলিত হত।

কিন্তু আমি ভয় করি সেই পর্যবেক্ষক (ফিরিশ্তাকে যিনি আমাদের কর্মাকর্ম লিপিবদ্ধ করার জন্য) ভারপ্রাপ্ত এবং যে লেখক আদৌ আলস্য শৈথিল্য ও ক্লান্তিবোধ করেন না।

আমার প্রতিপালকের ভয়, লজ্জাশীলতা ও আমার স্বামীর মর্যাদা আমাকের বাধা দিচ্ছে, যাতে তার সওয়ারী (স্ত্রী) অন্য কেউ ব্যবহার না করে।

উমার (রাঃ০ খবর নিয়ে জানলেন, তার স্বামী আছে জিগাদে। তার আল্লাহ-ভীতির কথা শুনে তিনি তার স্বামীকে কাছে পাওয়ার ব্যবস্থা করলেন।

কাছে কেউ না থাকুক, উপরে আল্লাহ আছেন। কেউ না দেখুক, আল্লাহ দেখছেন।

তিনি সদা-সর্বদা জাগ্রত। তিনি চিরঞ্জীব, তাকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। তার দৃষ্টি থেকে এড়িয়ে যেতে পারে কে? কালো অন্ধকার রাতে কালো পাথরের ভিতরে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কালো পিঁপড়েও তার দৃষ্টি এড়াতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেন,

وَمَا تَكُونُ فِي شَأْنٍ وَمَا تَتْلُو مِنْهُ مِن قُرْآنٍ وَلاَ تَعْمَلُونَ مِنْ عَمَلٍ إِلاَّ كُنَّا عَلَيْكُمْ شُهُودًا إِذْ تُفِيضُونَ فِيهِ وَمَا يَعْزُبُ عَن رَّبِّكَ مِن مِّثْقَالِ ذَرَّةٍ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاء وَلاَ أَصْغَرَ مِن ذَلِكَ وَلا أَكْبَرَ إِلاَّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ

অর্থাৎ, যে কোন অবস্থাতেই তুমি থাক এবং কোরআনের যে কোন অংশ থেকেই পাঠ করা কিংবা যে কোন কাজই তোমরা কর অথচ আমি তোমাদের নিকটে উপস্থিত থাকি যখন তোমরা তাতে আত্ননিয়োগ কর। আর তোমার পরওয়ারদেগার থেকে গোপন থাকে না একটি কনাও, না যমীনের এবং না আসমানের। না এর চেয়ে ক্ষুদ্র কোন কিছু আছে, না বড় যা এই প্রকৃষ্ট কিতাবে নেই।(সূরা-ইউনূস-আয়াত ৬১)

আরবি কবি বলেছেন,

যদি কন সময় তুমি একাকিত্ব অবলম্বন কর, তাহলে বলো না যে, আমি নির্জনে একা আছি। বরং বল, ‘আমার উপর পর্যবেক্ষক আছেন।’ তুমি এ ধারণা করো না যে, যা ঘটে গেছে সে সম্বন্ধে আল্লাহ বেখবর আছেন। আর এও ধারণা করো না যে, গোপন জিনিস তার অগোচর থাকে।

মহান আল্লাহ এক শ্রেণীর খিয়ানতকারী সম্পর্কে বলেন,

وَلاَ تُجَادِلْ عَنِ الَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنفُسَهُمْ إِنَّ اللّهَ لاَ يُحِبُّ مَن كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا

 

يَسْتَخْفُونَ مِنَ النَّاسِ وَلاَ يَسْتَخْفُونَ مِنَ اللّهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لاَ يَرْضَى مِنَ الْقَوْلِ وَكَانَ اللّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطًا

অর্থাৎ, যারা মনে বিশ্বাস ঘাতকতা পোষণ করে তাদের পক্ষ থেকে বিতর্ক করবেন না। আল্লাহ পছন্দ করেন না তাকে, যে বিশ্বাস ঘাতক পাপী হয়।

তারা মানুষের কাছে লজ্জিত হয় এবং আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয় না। তিনি তাদের সাথে রয়েছেন, যখন তারা রাত্রে এমন বিষয়ে পরামর্শ করে, যাতে আল্লাহ সম্মত নন। তারা যাকিছু করে, সবই আল্লাহর আয়ত্তাধীণ।(সূরা-নিসা-আয়াত ১০৭-১০৮)

 ফাঁকিবাজ বোনটি আমার! জেনে রেখো তোমার আশেপাশে কেউ না থাকলেও তোমার মাথার উপরে গুপ্ত ক্যামেরা লাগানো আছে। আর সেই ক্যামেরাতে রেকর্ড হচ্ছে তোমার প্রত্যিকটি কর্ম-অপকর্ম।

স্বামীর উপস্থিতিতে কত ভাল পর্দাবিব তুমি! স্বামী তোমাকে কত ভাল জানে! তার সামনে তুমি পর-পুরুষের মুখ দেখ না, বাইরে যাও না, কিন্তু সে বাড়ি-ছাড়া হলে কন বিয়ে-বারি বাদ যায় না তোমার! কত পর-পুরুষের সাথে সখ্য গড়ে ওঠে তোমার! কত বেগানা পুরুষের মুখে প্রশংসা তোমার!

স্বামী তোমার নামে একাউন্ট খুলে গেছে। বিদেশ থেকে টাকা পাঠায় তোমার চাহিদা মত। আর তুমি তার টাকা নিয়ে প্রেমে অন্যকে শরীক কর! যে স্বামী তোমার জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত, যাকে তুমিও হৃদয় নিংড়ানো প্রেমের অভিনয় প্রদর্শন কর, তাকে ধোকা দিয়ে বোকা বানাতে পার,  এ কোন নারী তুমি?

‘—আজ আমি মরণের বুক থেকে কাদি-

 অকরুণা! প্রাণ নিয়ে একি মিথ্যা অকরুণ খেলা!

 এত ভালবেসে শেষে এত অবহেলা

কেমনে হানিতে পার নারী!

এ আঘাত্র পুরুষের,

হানিতে এ নির্মম আঘাত, জানিতাম, মোরা শুধু পুরুষেরা পারি’।

‘এ তুমি আজ সে—তুমি তো নহ; আজ হেরি তুমিও ছলনাময়ী,

তুমিও হইতে চাও মিথ্যা দিয়া জয়ী?

কিছু মোরে দিতে চাও, অন্য তর্বে রাখ কিছু বাকী,

দুর্ভাগিনী! দেখে হেসে মরি! কারে তুমি দিতে চাও ফাঁকি?

—প্রাণ নিয়ে এ কি নিদারুণ খেলা খেলে এরা হায়,

রক্ত-ঝরা বুক দলে অলক্তক পরে এরা পায়!

এরা দেবী, এরা লোভী, এরা চাহে সর্বজন প্রীতি!

ইহাদের তরে নহে প্রেমিকের পূর্ণ পূজা, পূজারীর পূর্ণ সমর্থন,

পূজা হেরী’ ইহাদের ভীরু-বুকে তাই জাগে এত সত্য-ভীতি!

        নারী নাহি হতে চায় শুধু একা কারো,

এরা দেবী, এরা লোভী, যত পূজা পায় এরা চায় তত আরো।

                   ইহাদের অতি লোভী মন,

একজনে তৃপ্ত নয়, এক পেয়ে সুখী নয়, যাচে বহু জন!’

স্বামী-পাগলিনী আদর্শ বোনটি আমার! তুমি বল, ‘আমি সেই নারী নই।’ আমি বলি,

‘আল্লাহ তোমাকে সেই দ্বিচারিণী না করুণ’।

বিরহিণী বোনটি আমার! স্বামী ঘরে নেই, তোমার খারাপ থাকা এবং বিশেষ সয়মে যৌন-পীড়িতা হয়ে মন চঞ্চল থাকা স্বাভাবিক। সুতরাং এই সময়ে আমার কয়েকটি নসীহত পালন করঃ-

১। বড় সন্তান না থাকলে একাকিনী ঘরে থেকো না। আত্মীয় কোন মহিলাকে নিয়ে থাক।

২। বাড়িতে বেগানা কেউ থাকলে সাজসজ্জা করবে না। তাতে তার দৃষ্টি আকর্ষণ হতে পারে। আর জেনে রেখো যে, সাজসজ্জা ও সুগন্ধি কেবল তোমার স্বামীর জন্য।

৩। কোন বেগানার প্রপ্তি কামদৃষ্টিতে তাকাবে না। কারণ,

           ‘আঁখি ওতো আঁখি নহে যেন বাঁকা ছুরি গো,

            কে জানে কখন কার মন করে চুরি গো!’

 

৪। গান শুনে বা টিভি দেখে মন ফ্রি করার চেষ্টা করো না। কারণ, তাতে মন আরো জ্যাম লেগে যাবে। আরবীতে বলে, ‘আল-গিনা রুক্বয়্যাতুয যিনা।’

অর্থাৎ, গান হল ব্যভিচারের মন্ত্র।

 

৫। কোন বেগানা পুরুষের সাথে ফোনে কথা বলে মন খোলাসা করার চেষ্টা করো না।

কারন, তাতে ব্রণ গালতে গিয়ে ফোঁড়া হয়ে যেতে পারে। এ সময় কোনই বেগানা পুরুষ

–এমন কি তোমার স্বামীর ভাই অথবা বোনের স্বামী বুনাই অথবা নন্দাইকে প্রশ্রয় দিও না। দিও যদি নিত্যি, ঘটবে একটা কিত্তি।

প্রয়োজনে যে লোকদের সাথে তোমাকে কথা বলতেই হবে, তাদের সাথে কথা বল; কিন্তু সে ব্যাপারে তোমার সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর এই নির্দেশ মাথায় রেখো,

 يَا نِسَاء النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاء إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا

অর্থাৎ, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল কন্ঠে এমন ভাবে কথা বলো না, যাতে অন্তরে যার ব্যাধি আছে সে প্রলুদ্ধ হয়। আর তোমরা সদালাপ কর।(স্বাভাবিক স্বর ও ভঙ্গিমায় কথা বল।) (সূরা-আহযাব-আয়াত ৩২) 

আর প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা বলো না, প্রয়োজনের অতিরিক্ত কারো সাথে সৌজন্য ব্যবহার প্রদর্শন করো না। নচেৎ জানই তো বোনটি, অতির কিছু ভালো নয়।

প্রয়োজন অনুপাতে আগুন, পানি, বাতাস, লবণ, চিনি ইত্যাদি সবই দরকার। কিন্তু বেশী হলেই সর্বনাশ যে অবশ্যম্ভাবী, তা নিশ্চিয়ই তোমাকে ভেঙ্গে বলতে হবে না।

কারো সঙ্গে কিছু দেওয়া-নেওয়া করতেই হলে তোমার প্রতিপালক মহান  আল্লাহর এই নির্দেশ পালন করো, তোমরা তার পত্মীদের নিকট হতে কিছু চাইলে পর্দার অন্তরাল হতে চাও।এ বিধান তোমাদের এবং তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্র।(ঐ আয়াত-৫৩)

 

৬। এমন বই পড়বে না, এমন ছবি দেখবে না এবং এম্ন কল্পনা করবে না, যাতে যৌনকামনা উত্তেজিত হয়। স্বাভাবিক উত্তেজনা প্রশমনের জন্য রোযা রাখতে পার।

৭। মন বেশী খারাপ হলে কুরআন পড়, কুরআনের ক্যাসেট শোন, ইসলামী বক্তৃতা শোন।

মন খোলাসা হবে। মহান আল্লাহ বলেন,

الَّذِينَ آمَنُواْ وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللّهِ أَلاَ بِذِكْرِ اللّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

অর্থাৎ, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।

৮। একাকিনী থাকলে কোন বেগানাকে বাড়ি প্রবেশের অনুমতি দিও না। রাঁড়ের ঘরে ষাঁড়ের বাসা’ করো না। আত্মীয় ছারাছাড়ি হয়ে যাবে? তাতে তোমার কি করার আছে? যদি কেউ অবুঝ হয়, তাহলে অবুঝ আত্মীয় না থাকাই ভাল।

আল্লাহ্র রসূল (সাঃ) বলেন, “তোমরা মহিলাদের নিকট প্রবেশ করা হতে সাবধান থেকো।”

এ কথা শুনে আনসার গোত্রের এক ব্যক্তি বলল, ‘কিন্তু স্বামীর ভাই সম্বন্ধে আপনার অভিমত কি?’ তিনি বললেন, “স্বামীর ভাই তো মৃত্যুস্বরূপ।”(বুখারী ৫২৩২, মুসলিম ২১৭২, তিরমিযী ১১৭১ নং)

নবী (সাঃ) বলেন, “তোমরা এমন মহিলাদের নিকট গমন করো না, যাদের স্বামী বর্তমানে উপস্থিত নেই। কারণ, শয়তান তোমাদের প্রত্যেকের রক্ত-শিরায় প্রবাহিত হয়।”(তিরমিযী, ইবনী মাজাহ ১৭৭৯, সহীহ তিরমিযী ৯৩৫ নং)

তিনি আরো বলেন, “যখনই কোন পুরুষ কোন মহিলার সাথে নির্জনতা অবলম্বন করে, তখনই শয়তান তাদের তৃতীয় সাথী (কোটনা) হয়।” (তিরমিযী, সহীহ তিরমিযী ৯৩৪ নং)

 

দ্বীনদার বোনটি আমার! আলেম ভালবাস, খুব ভাল কথা। কিন্তু সেই ভালবাসার দাবী এই নয় যে, তাকে ঘরে দেকে এনে বেপর্দা হয়ে তার খাতির করবে। স্বামীর সাথে তার খাতির থাকলেও তোমার সাথে সেই খাতির সত্যই ‘খাত্বীর’ বা ‘খতরনাক’।

প্রাইভেট মাষ্টার তোমার ছেলেকে ভালবাসে? কেন? ছেলে ভাল বলে? নাকি তুমি ভাল বলে? ছেলে মাষ্টারের হাজার প্রশংসা করলেওসেই প্রশংসা ও ভালবাসার সাথে তোমার কোন সম্পর্ক নেই। সখী বেড়াতে এসেছে, তার স্বামীও সাথে এসেছে। সখীর স্বামী কিন্তু তোমার সখা নয়, সে কথা ব্রেনে রেখো।যাকে যেমন পজিশন দেওয়া দরকার, যাকে যেখানে রাখা দরকার, তাকে সেখানে রেখো। চোখের কাজলকে গালে রেখো না। সেটা কালি হয়ে যাবে এবং চেহারাটাও পেতনীর মত লাগবে। আর হাতের কালিকেও চোখে রেখো না, তাতে চোখ খারাপ হতে পারে।

অধিক শ্রদ্ধা বা সম্প্রীতি প্রকাশ করতে গিয়ে পর-পুরুষকে তোমার বেডরুমে বসাবে, তা তো সমীচীন নয় বোনটি! তোমার স্বামী যদি এ কথা শোনে, তাহলে সে কি এতে রাজি হবে? না শুনলেও,এটা কি তোমার আমানতে খিয়ানত নয় বোনটি? শুনে কিছু না বললেও এতা কি মহানবী (সাঃ) এর বিরুদ্ধাচরণ নয় বলছ? তিনি বলেন, “তোমাদের স্ত্রীদের উপর তোমাদের অধিকার এই যে, তোমরা যাদেরকে অপছন্দ করে, তাদেরকে যেন তোমাদের বিছানায় পা দিতে না দেয় এবং যাদেরকে অপছন্দ কর, তাদেরকে যেন তোমাদের গৃহ-প্রবেশে অনুমতি না দেয়।” (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)

যদি বল, ‘আমার স্বামী অমুক অমুককে পছন্দ করে, তাদেরকে বসালে ক্ষতি কি?’

আমি বলি, তোমার অদূরদর্শী আত্মভোলা ভালা স্বামী যদি তলার খবর জানতে পারে, তাহলে অবশ্যই পছন্দ করবে না। সুতরাং তুমি তোমার স্বামীর ঔদাস্যের সুযোগকে নিজের স্বার্থে ও পাপে ব্যবহার করো না। নচেৎ জেনে রেখো যে, পাপ আর কাপ বেশী দিন গযোপন থাকে না।

          ‘পায়ের তল্র মাটির ধূলা, সেও যদি পদাঘাত করে,

           নিমেষে তাহার প্রতিশোধ লয় চড়িয়া তাহার মাথার’ পরে’।

স্বামীকে মাটির মানুষ মনে করে তার অপমান করো না। নচেৎ,

                     মেরার ডললে কান    সেও কএও অভিমান,

                  সেও আসে মারে ঢুস নাহি করে ভয়।’

হতভাগিনী বোনটি আমার! হতভাগা তোমার স্বামী। ‘নারী ছাড়ি ধন আশে, যেই থাকে পরবাসে, তারে বড় কেবা আছে দুঃখী?’ প্রত্যেক মানুষ ‘স্বদেশে ঠাকুর, বিদেশে কুকুর।’

কেউ কি চায় প্রিয়জন ছেরে দূরে থাকতে?  

 

       ‘এই সংকট্ময় কর্মজীবন মনে হয় মরু-সাহারা,

         দূরে মায়াময় পুরে দিতেছে দৈত্য পাহারা।

            তবে ফিরে যাওয়া ভালো তাহাদের পাশে,

               পথ চেয়ে আছে যাহারা।।’

কিন্তু না থাকলে উপায়ও তো নেই। জান তো, দরজা দিয়ে অভাব ঢুকলে জানালা দিয়ে ভালবাসা পালিয়ে যায়। আজ তুমি লিখছ, ‘দেশে ফিরে এসো। নুন ছিটিয়ে ভাত খেয়ে গাছ তলায় পড়ে থাকব। এক সাথে থাকব, সুখে থাকব”। কিন্তু কাল সখন তোমার স্বামী বাড়ি ফিরে আসবে এবং ‘লিপস্টিক’ না পাবে, তখন তাকে কত কথা বলে লজ্জা দেবে, কত পা ঠুকবে, নাকে কাঁদবে!

আবার আজ যখন তোমারই বিলাস-সুখের জন্য বিদেশে আসে, তখন তুমি তার খিয়ানত কর, তার প্রেমে অপরকে শরীক কর। তাহলে বল, ‘হাসবুনাল্লাহু অনি’মাল অকীল’

বলা ছাড়া তার আর কি উপায় আছে?

সরলা বোনটি আমার! স্বামী বিদেশে থাকলে, সে তোমার প্রতি বেশী আশঙ্কা, বেশী সন্দেহ করবে, এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং সে যেখানে যেভাবে থাকতে বলে, তার সন্দেহ দূর করার জন্য সেই ভাবে থাকো। আর মিথ্যা বলে ধোঁকা দিয়ো না। কারণ, তোমার মিথ্যাবাদিতা একবার প্রমাণিত হলে, প্রেমের শিশমহল ভেঙ্গে যেতে পারে।

বিরহ-বিধুর বোনটি আমার! আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বল, ‘আমি আদর্শ স্ত্রী। আমি লোকালয়ে ও নির্জনে আল্লাহকে ভয় করি। আমি আমার স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার আমানতে খিয়ানত করি না।’

তোমার স্বামী তোমার জন্য, তোমাদের ছেলে-মেয়ের জন্য, তার মা-বাপের জন্য রুযী-রুটির সন্ধানে বিদেশে গেছে। তার এ কাজ জিহাদের সমতুল্য। সুতরাং তুমি যদি ঠিকভাবে থাক এবং সংসারের যথাযথ দায়িত্ব পালন কর, তাহলে তুমিও বিরাট সওয়াবের মালিক হবে। আরো পড়ুন

আপনি পড়ছেনঃ আদর্শ নারী বই থেকে।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

[প্রথম পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহর পরিচয়

শরী‘য়াহর শাব্দিক অর্থ: ‘শরী‘য়াহ্’ একটি আরবী শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ দ্বীন, জীবন-পদ্ধতি, ধর্ম, জীবন আচার, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *