Home / বাংলা সাহিত্য / হুমায়ুন আহমেদ / বাঘবন্দী মিসির আলি-হুমায়ূন আহমেদ।

বাঘবন্দী মিসির আলি-হুমায়ূন আহমেদ।

বাঘবন্দি মিসির আলিযখন যা প্রয়োজন তা হাতের কাছে পাওয়া গেলে কেমন হত—এ রকম চিন্তা ইদানীং মিসির আলি করা শুরু করেছেন। এবং তিনি খানিকটা দুঃশ্চিন্তায়ও পড়েছেন। মানুষ যখন শারীরিক এবং মানসিক ভাবে দুর্বল হয় তখনি এ ধরনের চিন্তা করে। তখনি  শুধু মনে হয়—সব কেন হাতের কাছে নেই। তিনি মানসিক এই অবস্থার নাম দিয়েছেন—বেহেশত কমপ্লেক্স। এ ধরনের ব্যবস্থা ধর্মগ্রন্থের বেহেশতের বর্ণনায় আছে। যা ইচ্ছা করা হবে তাই হাতের মুঠোয় চলে আসবে।

আঙুর খেতে ইচ্ছা করছে, আঙুরের থোকা ঝুলতে থাকবে নাকের কাছে।

মিসির আলি খাটে শুয়ে আছেন। পায়ের কাছের জানালাটা খোলা। ঠান্ডা বাতাস আসছে। গা শিরশির করছে। এবং তিনি ভাবছেন—কেউ যদি জানালাটা বন্ধ ক্করে দিত। ঘরে কাজের একটা ছেলে আছে ইয়াসিন নাম। তাঁকে ডাকলেই সে এসে জানালা বন্ধ করে দেবে। ডাকতে ইচ্ছা করছে না। তার পায়ের কাছে ভাঁজ করা একটা চাদর আছে। ভেড়ার লোমের পশমিনা চাদর। নেপাল থেকে কে যেন তার জন্যে নিয়ে এসেছিল। ইচ্ছা করলেই তিনি চাদরটা গায়ে দিতে পারেন। সেই ইচ্ছাও করছে না। বরং ভাবছেন চাদরটা যদি আপনা আপনি গাঁয়ের ওপর পড়তো তাহলে মন্দ হত না। নেপাল থেকে চাদরটা কে এনেছিল? নাম বা পরিচয় কিছুই মনে আসছে না। উপহারটা তিনি ব্যবহার করছেন, কিন্তু উপহার দাতার কথা তার মনে নেই। এই ব্যর্থতা মানসিক ব্যর্থতা।

রাত কত হয়েছে মিসির আলি জানেন না। এই  ঘরে কোনো ঘড়ি নেই। বসার ঘরে আছে। সময় জানতে হলে বসার ঘরে যেতে হবে, ঘড়ি দেখতে হবে। ইয়াসিনকে সময় দেখতে বললে লাভ হবে না। সে ঘড়ি দেখতে জানে না। অনেক চেষ্টা করেও এই সামান্য ব্যাপারটা ইয়াসিনকে তিনি শেখাতে পারেননি। কাজেই ধরে নেয়া যেতে পারে শিক্ষক হিসেবে তিনি ব্যর্থ। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে এই ব্যর্থতাটাও তিনি নিতে পারছেন না। এটাও মানসিক দুর্বলতার লক্ষণ। মানসিকভাবে দুর্বল মানুষ ব্যর্থতা নিতে পারে না। মানসিকভাবে সবল মানুষের কাছে ব্যর্থতা কোনো ব্যাপার না। সে জানে সাফল্য এবং ব্যর্থতা দুই সহদোর বোন। এরা যেকোন মানুষের চলার পথে হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে থাকে। সাফল্য নামের বোনটি দেখতে খুবই সুন্দর। তার পটলচেরা চোখ, সেই চোখের আছে জন্ম কাজল। তার মুখে প্রথম প্রভাতের রাঙা আলো ঝলমল করে। আর ব্যর্থতা নামের বোনটি কদাকার, মুখে বসন্তের দাগ, চোখে অল্প বয়সে ছানি পড়েছে। সবাই চায় রূপবতী বোনটির হাত ধরতে। কিন্তু তার হাত ধরার আগে কদাকার বোনটির হাত ধরতে হবে এই সহজ সত্যটা বেশির ভাগ মানুষের মনে থাকে না। মানুষের মন যতই দুর্বল হয় ততই সে ঝুঁকতে থাকে রূপবতী বোনটির দিকে। এটা অতি অবশ্যই মানসিক জড়তার লক্ষণ। -বাকী অংশ পড়তে ডাউনলোড করুণ।

বইয়ের নাম : বাঘবন্দী মিসির

লেখক : হুমায়ূন আহমেদ।

ধরণ : PDF

আকার : 9.2 MB

Download here

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

বৃহন্নলা –হুমায়ূন আহমেদ

অতিপ্রাকৃত গল্পে গল্পের চেয়ে ভূমিকা বড় হয়ে থাকে। গাছ যত-না বড়, তাঁর ডালাপালা তাঁর চেয়েও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *