যে কোন যৌন বা স্বাস্থ্য সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডা.মনিরুজ্জামান এম.ডি স্যার। কল করুন- 01707-330660

মাসআলাঃ ৩. বাসর রাতে  স্বামী-স্ত্রী উভয় এক সঙ্গে নামায পড়া।

বাসর রাতের নামায

আর মুসতাহাব হলো যে, তারা উভয়ে এক সঙ্গে ২ রাক’আত নামায পড়বে। কেননা এটা সালাফ থেকে বর্ণিত আছে। আর এ ব্যাপারে দু’টি হাদীস রয়েছে।

প্রথম হাদীসঃ আবূ উসাইদের মাওলা আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমি দাস অবস্থায় বিবাহ করলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীদের (রাঃ) একটি ছোট দলকে দাওয়াত দিলাম। তাদের মধ্য ইবনু মাসউদ, আবূ যার এবং হুযাইফা (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, সলাতের ইক্বামাত দেয়া হল। তিনি বলেন, অতঃপর আবূ য আর সামনে যেতে শুরু করলেন, অতঃপর তারা বললেন, সাবধান! যাবেন না। তিনি বললেন, অনুরূপ কি? তারা বললেন, হ্যাঁ।[1] তিনি বলেন, আমি তাদের সামনে গেলাম। অথচ আমি একজন দাস। অতঃপর তারা আমাকে শিক্ষা দিয়ে বললেন, (যখন তোমার স্ত্রী তোমার কাছে আসবে তখন দু রাক’আত সলাত পড়বে। তারপর তোমার কাছে যে প্রবেশ করেছে আল্লাহর আকছে তাঁর মঙ্গল প্রার্থনা করবে এবং তাঁর খারাপী থেকে আশ্রয় চাবে। তারপর তোমার ও তোমার স্ত্রীর ব্যাপার। [2]

দ্বিতীয় হাদীসঃ শাকীক হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ জৈনিক ব্যক্তি আগমন করল, তাকে আবূ হারীয বলে ডাকা হত। তারপর তিনি বলেন, নিশ্চয় আমি একজন যুবতী কুমারী মহিলাকে বিবাহ করেছি। আর আমি ভয় করছি যে, সে আমাকে অসন্তুষ্টি করবে। তারপর আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে মাসউদ বললেন, নিশ্চয় বন্ধুত্ব ভালবাসা আল্লাহর পক্ষ থেকে আর রাগ অসন্তুষ্টি শয়তানের পক্ষে থেকে। শয়তান ইচ্ছা করছে যে, আল্লাহ তোমাদের জন্য যা বৈধ করেছেন তা সে তোমাদের নিকট ঘৃণা সৃষ্টি করবে। সুতরাং সে যখন তোমার কাছে আসবে তখন তাকে জামা’আত সহকারে তোমার পিছনে দু’ রাক’আত সলাত পড়তে নির্দেশ দিবে। ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর অন্য বর্ণনায় বৃদ্ধি আছে, তিনি বলেছেনঃ তুমি বলঃ “হে আল্লাহ! আপনি যা ভাল একত্রিত করেছেন তা আমদের মাঝে একত্রিত করুণ। আর যখন কল্যাণের দিকে বিচ্ছেদ করবেন তখন আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ করুণ।[3]

[1]  আমি বলবঃ এটা দ্বারা তারা এদিকে ইঙ্গিত করছে যে, সফরকারী সফর কৃতের ইমামতি করবে না কিন্তু যদি তাকে ইমামতি দেয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীঃ আর সফরকৃত ব্যক্তির বাড়ীতে ও তাঁর রাজত্বে ইমামতি করা যাবে না। মুসলিম ও আবূ আওয়ানাহ তাদের সহীদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন। আর তা সহীহ সূত্রে আভূ দাউদের ৫৯৪ নং আছে।

[2]  মুসান্নাফ আবী শাইবাহ, মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, সিকাতে ইবনু হিব্বান, আবু সাঈদ পর্যন্ত তাঁর সানাদ সহীহ। হাফিয ইবনু হাজার ‘আল-ইসাবা’তে মাওলা আবু উসাইদ মালেক বিন রবিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন।

[3]  মুসান্নাফে আবূ বাকার বিন আবি শাইবাহ, মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (৬/১৯১/১০৪৪৬১) তাঁর সানাদ সহীহ। তাবারানী ৩/২১/২ সহীহ সনদদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন।

আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নিশ্চয় নবী সাল্লাল্লাগু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যখন মহিলা তাঁর স্বামীর কাছে আসবে, তখন স্বামী দাঁড়াবে এবং তাঁর পিছনে তাঁর স্ত্রীও দাঁড়াবে এবং উভয়ে দু’রাক’আত সলাত পড়বে এবং বলবে, হে আল্লাহ! আমার পরিবারে আমার স্বার্থে বরকত দিন এবং আমার মাঝে পরিবারের স্বার্থে বরকত দিন। হে আল্লাহ! তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে রিযিক দান করুণ এবং আমাকে তাদের পক্ষ থেকে রিযির দান করুণ। হে আল্লাহ! যে কল্যাণ আপনি জমা করেছেন তা আপনি আমাদের মাঝে জমা করুণ। আর যদি আপনি কল্যাণকে পৃথক করেন তাহলে আমাদের মাঝে পৃথক করুণ। (তাবারানী আওসাত ও তাবারানী সগীর ২/১৬৬)

ইবনু আদ ৭১/২ আবূ নুআইম আখবারু আসবাহান ১/৫৬ এবং মুসনাদে বায্‌যার দুর্বল সনদে।

ইবনে জুরাইয হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে যে, নিশ্চয় সালমান ফারেসী জনৈক মহিলাকে বিবাহ করলেন। অতঃপর যখন তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন, তখন তাঁর দরজার সামনে দাঁড়ালেন। আচানক সে বাড়ীতে আবৃত দেখলেন। তিনি বললেন, তোমাদের বাড়ী কি উত্তপ্ত, না কাবা গৃহ কিনদার দিকে ফিরে গেছে? আল্লাহর কসম, আমি বাড়ীতে প্রবেশ করব না যতক্ষণ না তাঁর পর্দাকে নষ্ট করা হবে!

অতঃপর তারা যখন পর্দাকে নষ্ট করে ফেলেন, তখন তিনি প্রবেশ করলেন, অতঃপর তাঁর স্ত্রীর কাছে গেলেন, তাঁর হাত তাঁর মাথার উপর রাখলেন। তারপর বললেন, তুমি কি অনুসরণকারিণী, আল্লাহ তোমাকে রহম করুণ? সে প্রতি উত্তরে নলল, যার অনুসরণ করা হবে তাঁর স্থানে আপনি বসেছেন। সালমান ফারেসী (রাঃ) বললেন, নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেন, যে দিন তুমি বিবাহ করবে সর্বপ্রথম তোমরা উভয় আল্লাহর অনুসরণের সহিত সাক্ষাৎ করবে। সুতরাং তুমি দাঁড়াও, আমরা দু’রাক’আত সলাত পড়বো। যখন আমাকে দু’আ করতে শুনবে তখন আমীন বলবে। অতঃপর তারা দু’ রাক’আত সলাত পড়লো এবং সে আমীন বললো। আর তিনি তাঁর নিকট রাত্রী কাটালেন। তারপর যখন সকাল করলেন তাঁর নিকট তাঁর বন্ধুগণ আসলো। তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি তাঁর উপর ঝুঁকে পড়লো। অতঃপর বলল, আপনার স্ত্রীকে কেমন পেলেন? এ কথা বলাতে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এরূপ দ্বিতীয়জন এবং তৃতীয়জন থেকে। যখন তিনি এরূপ অবস্থা দেখলেন ঐ দলের দিকে ফিরলেন এবং বললেন, আল্লাহ তোমাদের উপর অনুগ্রহ করুণ। দেয়াল, হিজাব ও পর্দাসমূহ যা গোপন করেছে, সে ব্যাপারে কি জিজ্ঞেস করা হচ্ছে? কোন ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট যে, সে প্রকাশ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে যদিও সংবাদ দেয়া হোক বা না হোক। (ইবনু আসাকির এ/২০৯/১-২, মুসান্নাফে আবদুর রায্‌যাক ৬/১৯২)

সূত্রঃ বাসর রাতের আদর্শ বই থেকে।

Syed Rubelস্বামী স্ত্রী দাম্পত্য ও অধিকারবাসর রাতমাসআলাঃ ৩. বাসর রাতে  স্বামী-স্ত্রী উভয় এক সঙ্গে নামায পড়া। আর মুসতাহাব হলো যে, তারা উভয়ে এক সঙ্গে ২ রাক’আত নামায পড়বে। কেননা এটা সালাফ থেকে বর্ণিত আছে। আর এ ব্যাপারে দু’টি হাদীস রয়েছে। প্রথম হাদীসঃ আবূ উসাইদের মাওলা আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমি দাস অবস্থায় বিবাহ করলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু...Amar Bangla Post