Home / যৌন জীবন / যৌন বিষয়ক নিবন্ধন / আযল ছেড়ে দেওয়া উত্তম

আযল ছেড়ে দেওয়া উত্তম

মুসলিম মেয়েদের কার্টুন ছবিমাসআলা ১৯. আযল ছেড়ে দেওয়া উত্তম

কিন্তু অনেক  কারণে আযল ছেড়ে দেওয়া উত্তম।

১মঃ মহিলার আনন্দ ছুটে যাওয়ার কারণে, তাঁর থেকে মহিলাকে কষ্ট দেয়া হয়। আর সে যদি তাঁর উপর মতপোষণ করে তাহলে সে ক্ষেত্রে সামনে যা আসছে তা হবে। আর তা হলো,

২য়ঃ নিশ্চয় আযল বিবাহ এর কতিপয় উদ্দেশ্য ছুটে যায়। আর তা হলো আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মাতের বংশধর বৃদ্ধি করণ। এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীঃ

আরবী…….

“তোমরা স্নেহপরায়ণা ও অধিক সন্তান দানকারিণী মহিলাকে বিবাহ করো।[1]কেননা আমি তোমাদের দ্বারা পূর্ববতীদের সাথে সংখ্যাগরিষ্ঠতা গর্ববোধক করবো।[2]

এজন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে গোপন হত্যার সাথে গুণ বর্ণনা করেছেন, যখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আযল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। অতঃপর তিনি বললেন, “এটা হলো গোপন জীব হত্যা”[3]

আর এজন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবূ সাঈদ খুদুরী (রাঃ)-এর হাদীসে ইঙ্গিত করেছেন যে তাকে ছেড়ে দেয়া উত্তম।

“আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আযলের আলোচনা করা হল। তিনি বলেন, কেন তা তোমাদের কেউ করে? আর তিনি এ কথা বলেননি তোমাদের কেউ যেন তা না করে। কেননা আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টি করেন না এ রকম কোন সৃষ্টি আত্মা নাই”।

(অন্য বর্ণনায় আছে) অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা কি অবশ্যই তা করো, তোমরা কি অবশ্যই তা করো, তোমরা কি অবশ্যই তা করো কিয়ামত পর্যন্ত যে সৃষ্টি অস্তিত্ব লাভ করার আছে অবশ্যই তা অস্তিত্ব লাভ করবে। [4]

আপনি পড়ছেনঃ বাসর রাতের আদর্শ বই থেকে


[1]  আমি তোমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দ্বারা পূর্ববর্তী উম্মাতদের উপর বিজয় লাভ করব। আর এয়াট স্নেহপরায়ণা ও অধিক সন্তান দানকারিণীকে বিবাহ করার নির্দেশের কারণ। আর দু’টি শর্ত শুধুমাত্র এনেছেন। কেননা স্নেহপরায়ণ যদি অধিক সন্তান দানকারী না হয় তাহলে পুরুষ তাঁর প্রতি উৎসাহিত হবে না। আর অধিক সন্তান দানকারী স্নেহপরায়ণ না হয় তাহলে উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না। এরূপই ফায়যুল কাদীরে রয়েছে।

[2]  হাদীস সহীহ। আবূ দাউদ (১/৩২০) পৃষ্ঠা নাসাঈ (২/৭১) পৃষ্ঠা মুহামেলী আল-আমালী এর ২১ নম্বরে মা’কাল বিন ইয়াসের এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন। আর হাকিম (২/১৬২) পৃষ্ঠা সহীহ বলেছেন। আর যাহাবী ঐকমত্য হয়েছেন, আহমাদ (৩/১৫৮) পৃষ্ঠা, সাঈদ বিন মানসুর, ত্ববরানী আওসাত যেমন যাওয়ায়েদাহ এর ৯১৬২/১) পৃষ্ঠা, বাইহাকী (৭/৮১) পৃষ্ঠা আনাসের হাদীস থেকে, ইবনু হিব্বান সহীহ বলছেন (১২২৮), হায়সামী (৪/২৫৮), তাঁর সানাদ হাসান। কিন্তু তাঁর মধ্যে ক্রুটি রয়েছে যেমন আমি তাকে ইরওয়াউল গালীল এর (১৮১১) নম্বরে বর্ণনা করেছি। আর তাঁর শব্দ বিন্যাস (১৬) পৃষ্ঠা চলে গেছে। আর আবূ মুহাম্মদ বিন মারুফ এর (১৩১/২) পৃষ্ঠা এবং খাতীব তারীখ এর (১২/৩৭৭) পৃষ্ঠা ইবনে উমারের হাদীস থেকে তাকে বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর সানাদ উত্তম যেমন সুয়ূতী জামিউল কাবীর এর (৩/১৫১) পৃষ্ঠায় বলেছেন এবং আহমাদের (৬৫৯৮) নম্বরে ইবনু উমারের হাদীস থেকে অনুরূপ আছে। আর তাঁর সানাদ সমর্থক হাদীস থাকায় হাসান।

[3]  মুসলিম (৪/১৬১) পৃষ্ঠা এবং ত্বহাবী মুশকিলুল আসার এর (২/৩৭০-৩৭১) পৃষ্ঠা, আহমাদ (৬/৩৬১ ও ৪৩৪) পৃষ্ঠা, বাইহাকী (৭/২৩১) পৃষ্ঠা সাঈদ বিন আবূ আইউব থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাকে আবূল আসওয়াদ উরআহ থেকে তিনি আয়েশাহ থেকে এবং তিনি খুযামাহ বিনতে ওয়াহাব থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

জেনে রাখুন! ইমাম শাওকানী (৬/১৬৯) পৃষ্ঠা কথা নিশ্চয় এই হাদীসটি বর্ণনা করতে সাঈদ বিন আবূ আইউব একক হয়ে গেছে তা বাতিল ধারণা। কেননা হাইওয়াহ বিন শুরাইহ এবং ইয়াহইয়া বিন আইউব তার অনুসরণ করেছেন, ইমাম ত্বহাবীর নিকট এবং ইবনু লাহিয়াহ তার অনুসরণ করেছেন। এজন্য হাফিয ইবনু হাজার ফাতহুল বারীতে (৯/২৫৪) পৃষ্ঠা বলেছেন (হাদীসটি সহীহ তাতে কোন সন্দেহ নেই)

আর কতিপয় আলেম ধারণা করেছেন যে, এই হাদীসটি (৫৬) পৃষ্ঠা আবূ সাঈদের উল্লেখিত হাদীসের বিরোধমুখী যা এই শব্দ দ্বারা এসেছে, আরবী…..

“নিশ্চয় ইয়াহুদীরা ধারণা করে যে, আযল হল ছোট জীবন্ত হত্যা। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ইয়াহুদীরা মিথ্যা বলেছে, যদি আল্লাহ কোন কিছু সৃষ্টি করতে চান তাহলে তুমি তাকে বাধা দিতে পার না।”)

আর উক্ত হাদীসের মধ্যে কোন বিরোধ নেই, যেমন মুহাক্কিক উলামাগণ তা বর্ণনা করেছেন। আর উভয় হাদীসের সমঝোতা ক্ষেত্রে উত্তম কথা হল ইবনে হাজার (৯/২৫৪) পৃষ্ঠা এর কথা,

(ওলামাগণ ইয়াহুদীদের মিথ্যা কথার জীবন্ত ছোট হত্যার মাঝে ও জাযামার হাদীসের মধ্যে গোপন হত্যার সাব্যস্তর মাঝে একত্রিত করেছে যে, তা প্রকাশ্য হত্যা। কিন্তু তাকে জীবন্ত প্রসাব করার পর নবজাতকে দাফন করার দিক দিয়ে তা ছোট। সুতরাং তা আযল গোপন হত্যার বিপরীত নয়। তাতে বুঝা যায় যে, সেটা মূলত প্রকাশ্য হুকুমের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং তার উপর হুকুম সাব্যস্ত হবে না। কেবলমাত্র তাকে উভয়ের সন্তান কর্তনের মধ্যে অংশগ্রহণের দিক দিয়ে জীবন্ত জীবন্ত হত্যার মধ্যে করেছে। কেউ বলেছে যে, গোপন হত্যা, বাক্যটি তুলনা দেয়ার ভিত্তিতে এসেছে। কেননা তা গর্ভে আসার পূর্বে জন্মের পদ্ধতিকে কর্তন করা হয়। সুতরাং গর্ভে সন্তান আসার পর হত্যা করার সাথে রাকে তুলনা করা হয়েছে।)

এবং ইবনুল কাইউম তাহযীর (৩/৮৫) পৃষ্ঠা বলেছেন যেও, )ইয়াহুদীরা ধারণা করেছে যে, সৃষ্টির কারণে যা সংগঠিত হয়েছে তা দূরীভূত করার দিক দিয়ে আযল জীবন্ত হত্যার স্থলাভিষিক, সুতরাং এক্ষেত্রে নবী (সাঃ) তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন এবং তিনি আরও সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ যদি সৃষ্টি করতে চান তাহলে কেউ তাকে বাধা দিতে পারে না। আর তাকে গোপন হত্যার সাথে নামকরণের কারণ, পুরুষ সন্তান থেকে পলায়ন করার ভিত্তিতে অর্থাৎ সন্তান নিবে না এজন্য স্ত্রী থেকে বীর্য দূরে ফেলে এবং সন্তান যেন না হয় এর প্রতি প্রত্যাশা করে। সুতরাং তার ইচ্ছা,  নিয়ত ও তার প্রতি প্রত্যাশা সন্তান জীবন্ত দাফন করে মেরে ফেলার স্থলাভিষিক্ত চলমান। কিন্তু এটা কর্ম ও ইচ্ছার ভিত্তিতে বান্দার স্পষ্ট জীবন্ত হত্যা। আর এটা তার পক্ষ হতে ছোট হত্যা। শুধুমাত্র সে তাকে ইচ্ছা করেছে এবং দৃঢ়ভাবে তার কামনা করেছে তাই তা গোপন হত্যা।

সুতরাং হাদীসের উল্লেখিত তুলনা আযল মাকরুহ হওয়ার তথ্য প্রদান করে। আর তার দ্বারা হারাম হওয়ার উপর দলীল গ্রহণ করা যেমন ইবনে হাযম করেছেন, অবশ্য তারপরে ওলামাগণ বলেছেন যে, তা নিষেধের ব্যাপারে স্পষ্ট নয়। তাই উপমার ভিত্তিতে গোপন হত্যার সাথে নামকরণ অপরিহার্য করে না যে, তা হারাম। যেমন ফাতহুল বারীতেও রয়েছে। আর ইমাম ইবনু খুযাইমাহ আলী বিন হুজরের হাদীস এর (৩/৩৩) আলা হতে তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, (আমি ইবনে আব্বাসকে আযল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি সে ব্যাপারে কোন ক্রুটি বা পাপ দেখেন না। সানাদ সহীহ।

[4] মুসলিম (৪/১৫৮ ও ১৫৯) পৃঃ দু’ বর্ণনাসহ, নাসাঈ ইশরাতুন নিসা (৮২/১) পৃঃ, ইবনু মানদাহ আত-তাওহীদ (৬০/২) পৃঃ প্রথম বর্ণনাটি দ্বারা এবং বুখারী (৯/২৫১/২৫২) পৃঃ দ্বিতীয় বর্ণনাটির সহিত বর্ণনা করেছেন।

হাফিয ইবনু হাজার প্রথম বর্ণনায় ব্যাখ্যায় বলেছেন (তিনি এক্ষেত্রে নিষেধকে তাদের জন্য অস্পষ্ট করার মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন। বরং তিনি ইশারা করেছেন যে, উত্তম হল তাকে পরিত্যাগ করা। কেননা আযল করা হয় সন্তানাদি উপস্থিতির ভয়ে। তাই তার মধ্যে কোন উপকার নেই। কেননা আল্লাহ তাআলা যদি সন্তান সৃষ্টির ভাগ্যে লিখে রাখেন তাহলে আযল তাকে বাধা দিতে পারবে না। কখন বীর্য আগে প্রবেশ করে ফেলে অথচ আযলকারী জানে না। সুতরাং রক্তপিণ্ড অর্জিত হয় এবং তার সাথে সন্তান মিলিত হয়। আর আল্লাহ যা সৃষ্টি করেন তাকে কেউ বাধা দিতে পারে না।

আমি বলবো, এই ইশারা কেবলমাত্র সেই যুগের পরিচিত আযলের ক্ষেত্রে। কিন্তু আজকের দিনে, অবশ্য এমন কিছু মাধ্যম পাওয়া গেছে যার সাহায্যে স্বামী, স্ত্রী থেকে নিশ্চিন্ত বীর্য বিরত রাখে, যেমন এই যুগে (আরবী) বাধা এবং কনডম নামে নাম রাখা হয়েছে যা সহবাসের সময় লিঙ্গের উপর রাখা হয় এবং অন্যান্য পদ্ধতি। সুতরাং তার উপর ও তার হুবহুর উপর এই হাদিস পরে না। বরং পূর্বের দু’ বিষয়ে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে পতিত হয়। বিশেষ করে তার মধ্যে থেকে দ্বিতীয়টি সুতরাং আপনি চিন্তা করুন।

মোট কথা তা আমার নিকট ঐ সময় মাকরূহ যখন উক্ত দু’ বিষয়ের বা একটির সাথে কাফেরদের আযল করার উদ্দেশ্যের কোন বিষয় মিলিত হবে না। যেমন বেশি সন্তানের কারণে দরিদ্রতার ভয়, তাদের লালন-পালনের কষ্টের ভয়। সুতরাং এই অবস্থায় মাকরুহ হারামেরস্থানে উঠে যাবে। আযলকারীর নিয়তের দিক দিয়ে ঐ সমস্ত কাফিদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার কারণে যারা তাদের সন্তানদের অভাব-অনটনে ভয়ে হত্যা করত, যেমন তা পরিচিত। কিন্তু এর বিপরীত যদি মহিলা ‘অসুস্থ হয়, চিকিৎসক ভয় করছে যে, তার রোগ গর্ভ ধারণের কারণে বেশি হয়ে যাবে। সে সময় তার জন্য অস্থায়ীভাবে প্রতিরোধক গ্রহণ করা বৈধ। আর যদি তার রোগ এমন মারাত্মক হয় যে, তার কারণে মৃতের  ভয় হয় তাহলে এ সময় কেবলমাত্র বোইধ। বরং তার জীবন রক্ষার জন্য (আরবী) বাধা ওয়াজিব হয়ে যাবে। আল্লাহই বেশি জানেন।

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

সহবাসের সময় যে পাঁচটি কাজ করা উচিত নয়!

সহবাস একটি পরম সুখের বিষয় যা স্বামী স্ত্রীর মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। এটা এমন একটি গোপন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *