যে কোন যৌন বা স্বাস্থ্য সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডা.মনিরুজ্জামান এম.ডি স্যার। কল করুন- 01707-330660

Muslim Boy for salatপ্রশ্নঃ (১৯১) জনৈক ব্যক্তি পরিবারের লোকদের নামাযের আদেশ করছেন। কিন্তু কেউ তাঁর কথা শুনে না। এ অবস্থায় তিনি কি করবেন? তিনি কি তাদের সাথে মিলেমিশে বসবাস করবেন, নাকি বাড়ি থেকে বের হয়ে যাবেন?

উত্তরঃ পরিবারের লোকেরা যদি একেবারেই নামায আদায় না করে, তবে তারা কাফের, ইসলামে থেকে বের হয়ে মুরতাদে পরিণত হবে। তাদের সাথে মিলেমিশে বসবাস করা জায়েয নয়। কিন্তু তাঁর উপর আবশ্যক হচ্ছে তাদেরকে দা’ওয়াত দেওয়া। বারবার অনুরোধ করবেন। হতে পারে আল্লাহ তাদেরকে হেদায়াত করবেন। কেননা নামায পরিত্যাগকারী কাফের—নাঊযুবিল্লাহ। কুরআন, সুন্নাহ, সাহাবায়ে কেরামের উক্তি ও বিশুদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি এর দলীল।

যারা বেনামাযীকে কাফের বলার পক্ষপাতী নয়, তাদের দলীল গুলো চারটি অবস্থার বাইরে নয়। যথাঃ

ক) মূলতঃ উক্ত দলীল সমূহে তাদের মতের পক্ষে দলীল নেই।

খ) সেগুলো এমন গুণ সম্পন্ন যে তা বিদ্যমান থাকাবস্থায়, নামায পরিত্যাগের বিষয়টি তাঁর অন্তর্ভূক্ত করা সম্ভব নয়।

গ) অথবা এমন কিছু ওযর ও অবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে, যে কারণে নামায পরিত্যাগ করা মার্জনীয়।

ঘ) অথবা উক্ত দলীল সমূহ আম বা ব্যাপক। নামায পরিত্যাগকারী কাফের হওয়ার হাদীস গুলো দ্বারা তা খাছ বা বিশিষ্ট করা হয়েছে।

বেনামাযী মু’মিন বা সে জান্নাতে প্রবেশ করবে বা সে জাহান্নাম থেকে নাজাত পাবে কুরআন—সুন্নাহর উক্তি সমূহে এ রকম কথা উল্লেখ নেই। সুতরাং ‘নামায পরিত্যাগ করা কুফরী’ এ ব্যাপারে যে দলীল সমূহ উপস্থাপিত হয়েছে, তা নেয়া’মতের কুফরী বা ছোট কুফরী এ রকম ব্যাখ্যা করার কোন অবকাশ নেই।

যখন সুস্পষ্ট হলো, নামায পরিত্যাগকারী কাফের মুররাদ, তখন তাঁর ব্যাপারে নিম্ন লিখিত বিধান সমূহ প্রযোজ্য হবেঃ

প্রথমতঃ মুসলিম নারীর সাথে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করা বৈধ হবে না। বিবাহের চুক্তি হয়ে গেলেও তা বাতিল বলে গণয় হবে এবং তাঁর জন্য উক্ত স্ত্রী হালাল হবে না। কেননা আল্লাহ মুহাজির নারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেনঃ

“যদি তোমরা জান যে, তারা ঈমানদার, তবে আর তাদেরকে কাফেরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। এরা কাফেরদের জন্য হালাল নয় এবং কাফেররা এদের জন্য হালাল নয়”। (সূরা মুমতাহিনাঃ ১০)

দ্বিতীয়তঃ বিবাহের বন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর যদি সালাত পরিত্যাগ শুরু করে তবে উক্ত বন্ধন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে-স্ত্রী ব্যবহার তাঁর জন্য হালাল হবে না। পূর্বোল্লিখিত আয়াত এর দলীল।

তৃতীয়তঃ বেনামাযী যবেহ করা প্রাণীর গোস্ত খাওয়া জায়েয হবে না। কেননা এটা হারাম। ইহুদী বা খৃষ্টানের যবেহ করা প্রাণীর গোস্ত খাওয়া আমাদের জন্য বৈধ। কেননা আল্লাহ তা আমাদের জন্য হালাল করেছেন। (দেখুন সূরা মায়েদা-৫ নং আয়াত) অতএব বেনামাযীর যবেহ করা গোস্ত ইহুদী খৃষ্টানের চাইতে অধিক নিকৃষ্ট।

চতুর্থতঃ বেনামাযীর জন্য বৈধ নয় মক্কা বা তাঁর হারাম সীমানায় প্রবেশ করা। কেননা আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,

“হে ঈমানদারগণ! মুশরিকগণ তো নাপাক। সুতরাং তারা যেন এই বছরের পর আর মসজিদে হারামে প্রবেশ না করে।” (সূরা তওবাঃ ২৮)

পঞ্চমতঃ বেনামাযীর কোন নিকটাত্মীয় মারা গেলে সে তাদের মীরাছ লাভ করবে না। যেমন কোন নামাযী ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করল, রেখে গেল একজন ছেলে এবং এক চাচাতো ভাই, মীরাছ পাবে ছেলে পাবে না। কেননা উসামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী (সাঃ) বলেনঃ

“কোন মুসলিম কাফেরের মীরাছ লাভ করতে পারবে না। কোন কাফেরও কোন মুসলিমের মীরাছ লাভ করতে পারবে না।”(বুখারী ও মুসলিম)

তিনি আরো বলেনঃ “ফারায়েয তথা মীরাছ সমূহ তাঁর অধিকারীদের মাঝে বন্টন করে দাও। কিছু অবশিষ্ট থাকলে মৃত ব্যক্তির নিকটতম পুরুষের জন্য নির্ধারিত হবে।”(বুখারী ও মুসলিম) এই উদাহরণ প্রযোজ্য হবে সমস্ত ওয়ারীসদের ক্ষেত্রে।

ষষ্ঠতঃ বেনামাযী মৃত্যু বরণ করলে—তাকে গোসল দেয়া যাবে না, কাফন পরানো যাবে  না, জানাযা নামায পড়া যাবেনা, মুসলমানদের গোরস্থানে তাকে দাফন করা যাবে না। তাকে কি করতে হবে? মাঠে-ময়দানে গর্ত খনন করে পরিহিত কাপড়েই পুঁতে ফেলতে হবে। কেননা তাঁর কোনই মর্যাদা নেই। এভিত্তিতে কোন লোক যদি মৃত্যু বরণ করে, আর তাঁর সম্পর্কে জানা যায় যে সে বেনামাযী, তবে জানাযা পড়ার জন্য লাশকে মুসলমানদের সামনে উপস্থিত করা বৈধ হবে না।

সপ্তমতঃ ক্বিয়ামত দিবুসে বেনামাযীর হাশর-নশর হবে ফেরাউন, হামান, ক্বারূন ও উবাই বিন খালাফের সাথে। এরা হচ্ছে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কাফের। তারা কখনই জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তাই বেনামাযীর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য রহমত ও মাগফিরাতের দু’আ করাও জায়েয নয়। কেননা কাফের কোন দু’আ পাওয়ার উপযুক্ত নয়। আল্লাহ বলেন,

“নবী ও ঈমানদারদের জন্য সমিচীন নয় যে তারা কোন মুশরিকের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। যদিও তারা তাদের নিকটাত্মীয় হয় না কেন। যখন প্রমাণিত এইচপি; যে, তারা জাহান্নামের অধিবাসী।”(সূরা তওবাঃ ১১৩)

সুতরাং বিষয়টি অত্যন্ত ভয়ানক। কিন্তু আফসোস! মানুষ বর্তমানে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। নিজেদের গৃহে এমন লোকদের স্থান দিচ্ছে, যারা ছালাত আদায় করে না। অথচ এটা মোটেও ঠিক নয়। (আল্লাহই অধিক জ্ঞাম রাখেন)

Syed Rubelনামাযফতোয়াপ্রশ্নঃ (১৯১) জনৈক ব্যক্তি পরিবারের লোকদের নামাযের আদেশ করছেন। কিন্তু কেউ তাঁর কথা শুনে না। এ অবস্থায় তিনি কি করবেন? তিনি কি তাদের সাথে মিলেমিশে বসবাস করবেন, নাকি বাড়ি থেকে বের হয়ে যাবেন? উত্তরঃ পরিবারের লোকেরা যদি একেবারেই নামায আদায় না করে, তবে তারা কাফের, ইসলামে থেকে বের হয়ে মুরতাদে...Amar Bangla Post