Home / ইসলাম / ইসলাম ও সমাজ / বিবাহের অনুষ্ঠানে মেয়েদের গীত

বিবাহের অনুষ্ঠানে মেয়েদের গীত

FMS3-1427792548হাদীস-২১: রুবাঈ বিনতে মুআওয়েয ইবনে আরফা নামক এক মহিলা সাহাবী নিজের বিবাহের কাহিনী বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন—বিবাহের পর আমি যখন স্বামীর বাড়ি চলে যায় তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এসে আমার বিছানায়  উপবেশন করেন। ইত্যবসরে সেখানে উপস্থিত কিশোরী মেয়েরা দফ বাজাতে ও গান গাইতে শুরু করে। হঠাৎ করে একটি মেয়ে বলে ফেলে যে, আমাদের মাঝে এমন একজন নবী আছেন যিনি ভবিষ্যতে কি ঘটবে তা জানেন। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ এ কথাটি বলো না প্রথমে যা বলছিলে তাই বলো।(বায়হাকী)

নিষেধ করার কারণ এই যে, গায়েবের ইলম আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নেই। তবে যতটুকু ইচ্ছা আল্লাহ তাআলা রাসূলদেরকে জানিয়ে দেন।

আলোচ্য হাদীস দ্বারা দুটি জিনিস বুঝা গেল।

(১) যেসব কবিতায় কোন মিথ্যা কথা না থাকে তা পাঠ করা জায়েজ।

(২) বিবাহের অনুষ্ঠানে ছোট মেয়েরা যদি দফ বাজায় তাও জায়েজ আছে। আল্লামা আকমালুদ্দীন (রহঃ) লিখেছেন যে, বিবাহের সময় এবং দুলার ঘরে দফ বাজানো জায়েজ আছে।

হাদীস-২২: হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, এক আনসার পুরুষের সাথে এক মহিলার বিবাহ হয়। বিবাহটি ছিল খুবই সরল-সহজ। তাই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, তোমাদের কাছে কি কোন বিনোদন সামগ্রী নেই? আনসারগণ তো এ ধরণের অনুষ্ঠানে বিনোদন পছন্দ করে থাকে। (বায়হাকী)

এই হলো ইসলামী বিবাহের নমুনা। কিন্তু আমরা বিবাহের ন্যায় একটি পবিত্র অনুষ্ঠানে ইসলামী আদর্শের পরিবর্তে এমন কুসংস্কার আবিস্কার করে নিয়েছি; শরীয়তের যার কোন ভিত্তি নেই। যেমন হযরত আদম বিন্নুরী (রহঃ) ইলমুল হুদা নামক গ্রন্থে লিখেছেন, আমাদের সমাজে বিবাহ শাদীতে এমন এমন কুসংস্কার ঢুকে পড়েছে যা পালন করা হয়তো কুফরী কিংবা বেদআত। সুতরাং যে বিবাহ-শাদীতে এ ধরণের নিয়ম-নীতি পালন করা হয়; তা ইসলামী বিবাহ নয়। এই বিবাহ দ্বারা যে সন্তান জম্ম নিবে তা বৈধ বলে স্বীকৃত হবে না।

বিবাহ-শাদীতে যেসব কুসংস্কার পালন করা হয় তাঁর কয়েকটি নমুনা নিম্মে উল্লেখ করা হলো।

(১)সামান্য কিছু সরিষা, কালজিরা, হলুদ, ধান, ঘাস এবং লোহার আংটি একটুকরা কাপড়ে বেঁধে দেয়া হয় হিন্দুরা এটাকে কাঙনা বলে। এ কাজ যারা করে এবং যা এর প্রতি সম্মত হয় তারা সবাই শক্ত গোনাহগার হবে।

(২) ঘটির উপর ফুল বেঁধে তাঁর উপর চন্দন কাঠ পিষে লাগান এ প্রথা অগ্নিপূজকদের।

(৩) বরযাত্রী ও কনে উভয় পক্ষ একে অপরকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি দেয়া এটাও গোনাহের কাজ।

(৪) বরের মাথায় মা বা বোনের উড়না অথবা শাড়ীর আঁচল দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় আর কনের মাথায় পাগড়ী পরানো হয়, একাজ যারা করে তারা উভয়েই অভিশপ্ত। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ঐ পুরুষের উপর আল্লাহর লানত যে মহিলার বেশ অবলম্বন করে অনুরূপ ঐ মহিলার উপর আল্লাহর লানত যে পুরুষের বেশ অবলম্বন করে ।

(৫) বালেগ মেয়রা নাচ গান করে। তাদের আওয়াজ পুরুষদের কানে যায় এটাও নাজায়েজ।

(৬) কাগজের ফুল তৈরী করে ঘর সাজানো হয়। এটা অপচয়ের মধ্যে গণ্য যা নিষিদ্ধ।

(৭) বরকে ঘোড়ায় চড়িয়ে  বাজারে এবং অলিতে গলিতে ঘুরান।

(৮) গান-বাদ্যের সাথে বরযাত্রীদের আগমন হয়।

(৯) আতশবাজি করা হয়।

(১০) রূপার বা সোনার পাত্রে বর-কনেক্কে শরবত অথবা দুধপাত করান ।

(১১) বরকে সোনার আংটি পরান।

বিঃদ্রঃ কিতাবের মূল লেখক হযরত মাওলানা আনছারী সাহেব এখানে আরো কতিপয় রসুম রেওয়াজের কথা উল্লেখ্য করেছেন। কিন্তু আমাদের দেশে এসব রসুম রেওয়াজের প্রচলন না থাকায় অনুবাদের ক্ষেত্রে সেগুলো উল্লেখ করা হয়নি।–সম্পাদক।

এই বইয়ের বাকী অংশ পড়ুন/ আপনি পড়ছেন/ মুসলমান স্বামী স্ত্রী

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

আসুন গান-বাজনা থেকে তাওবা করি

বর্ণনা ইসলামে গান-বাজনা হারাম হলেও এ ব্যাপারে কিছু বিজ্ঞজনের ভিন্ন মত অনেককেই বিভ্রান্ত করে। আজকাল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *