Home / ইসলাম / ইসলাম ও সমাজ / অবিবাহিত ও অসুস্থ ব্যভিচারির শাস্তি

অবিবাহিত ও অসুস্থ ব্যভিচারির শাস্তি

পাথর নিক্ষেপ করে শাস্তিআজকালকার নারীদের মধ্যে দেখা যায় যে তাঁরা স্বামীর গোপনে পরপুরুষের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। এই আলোচনায় তখনকার এক নারীর ব্যভিচারের শাস্তির ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

মুয়াত্তায় বর্ণিত হয়েছে—একবার দু’ব্যক্তি রাসূল (সাঃ) এর দরবারে মামলা দায়ের করলো, তাদের একজন বললো, “ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী আমাদের মধ্যে ফায়সালা করে দিন।’ দ্বিতীয়জন বললো, হ্যাঁ আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করে দিন। তবে তাঁর আগে আমাকে কয়েকটি কথা বলার অনুমতি করে দিন। নবী করীম (সাঃ) বললেন, ঠিক আছে, বলো। সে বলতে লাগলো, আমার ছেলে তাঁর নিকট চাকুরী করতো। সে তাঁর স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করেছে। লোকজন আমাকে বলেছে, আমার ছেলে হত্যাযোগ্য অপরাধ করেছে। এ জন্য আমি তাঁকে (অর্থাৎ ঐ মহিলার স্বামীকে) একশ’ ছাগল ও একটি দাসী ক্ষতিপূরণ দিয়েছি। এরপর আমি বিজ্ঞ লোকদের সাথে ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করেছি, তাঁরা বলেছে—তোমার ছেলেকে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বৎসরের নির্বাসন দেয়া হবে এবং ঐ মহিলাকে রজম করা হবে। রাসূল (সাঃ) বললেন, ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করবো। তোমার ছাগল ও দাসী তোমাকে ফেরত দেয়া হবে। তিনি তাঁর ছেলেকে একশ’ বেত্রাঘাত করে এক বৎসরের নির্বাসন দিলেন এবং নির্দেশ দিলেন, তাঁর স্ত্রীর নিকট গিয়ে স্বীকারোক্তি নাও। যদি সে স্বীকারোক্তি করে তবে তাঁকে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদন্ড দাও। তখন তাঁর নিকট গিয়ে স্বীকারোক্তি চাওয়া হলো। সে স্বীকৃতি দিলো, অতঃপর তাঁকে রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) করা হলো।

ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন—উক্ত হাদীসে আসীফ (আরবী)  শব্দ রয়েছে যার অর্থ ভৃত্য। কতিপয় ওলামা বলেন—নবী করীম (সাঃ) এর কথা, ‘আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করবো’ এরর অর্থ হচ্ছে আমি ওহীর ভিত্তিতে ফায়সালা করবো   যদিও তা কুরআনে নেই। তাঁর প্রমাণ আল্লাহ তা’আলার বাণী ‘তাঁর কাছে কি গায়েবের ইলম আছে যে, তিনি নির্দেশ দেন।’

এ হাদীস থেকে কয়েকটি ফিকহী মাসয়ালা জানা যায়—

মাসয়ালা-১ যিনা করার পর কোনরূপ সন্ধি করে নেওয়া অবৈধ।

মাসয়ালা-২ হদ প্রয়োগের ব্যাপারে প্রতিনিধি নিয়োগ বৈধ নয় বিশেষ করে সাক্ষ্য গ্রহনের ব্যাপারে।

মাসয়ালা-৩ ব্যভিচারীর একবার স্বীকারোক্তি প্রদান করাই যথেষ্ট।

মাসয়ালা-৪ যার উপর রজম অপরিহার্য তাঁকে বেত্রাঘাত করা যাবে না।

মাসয়ালা- ৫ মাসয়ালার ব্যাপারে বিজ্ঞ আলিমের কাছে জিজ্ঞেস করা।

মাসয়ালা-৬ কোনো মহিলার ওপর যিনার অপবাদ আরোপ করলে এবং তা প্রমাণ করতে না পারলে অপবাদ আরোপকারীকে শাস্তি প্রদান বাধ্যতামূলক।

মাসয়ালা- ৭ বিধিবিধানের ব্যাপারে খবরে ওয়াহিদ গ্রহণযোগ্য।

মাসয়ালা- ৮ যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় আত্মপক্ষ সমর্থন করার অধিকার তাঁর আছে।

মাসয়ালা- ৯ অবিবাহিত ব্যাভিচারীকে নির্বাসন দেয়া য আবে।

মাসয়ালা- ১০ মহিলা এবং ক্রীতদাসকে নির্বাসন দেয়া যাবে না। কারণ, মহিলাদের গোপনে থাকার কর্তব্য এবং ক্রীতদাস সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। ইমাম বুখারী নির্বাসনের ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে তাঁকে এলাকা থেকে বহিস্কার করে দিতে হবে। তিনি বুখারী শরীফের একটি শিরোনাম নির্বাচন করেছেন এ প্রসঙ্গে- “অবিবাহিত পুরুষ মহিলা যিনা করলে তাদেরকে বেত্রাঘাত করে নির্বাসনে পাঠানো।’ গ্রন্থকার বলেন, নির্বাসন বলতে এতোটুকু দূরে তাঁকে যেতে বাধ্য করা যতোটুকু দূরে গেলে নামায কসর করা হয়।

মুয়াত্তায় ইমাম মালিক যায়িদ ইবনু আসলাম (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী করিম (সাঃ) এর জামানায় এক ব্যক্তি যিনা করে এবং তা স্বীকার করে। তখন নবী করিম (সাঃ) একটি চাবুক চাইলেন। তাঁকে একটি পুরনো চাবুক দেয়া হলে তিনি বললেন, এর চেয়ে ভালো চাবুক দাও। আবার যখন তাঁকে নতুন চাবুক এনে দেয়া হলো, তিনি বললেন, এর চেয়ে একটু নরম চাবুক আনো। এরপর এমন একটি চাবুক এনে দেয়া হলো, যা বেশী পুরনো নয় আবার একেবারে নতুনও নয়। তখন হুজুরে পাক (সাঃ) এর নির্দেশে কোড়া মারা হলো।

উপস্থিত লোকদের সম্বোধন করে বললেন, হে মানব মন্ডলী! তোমরা আল্লাহর নির্দিষ্ট সীমা থেকে বেঁচে থাকো। যে ব্যক্তি এ ধরণের অপবিত্র কাজ করে ফেলে তাঁর উচিত গোপনে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। আর যদি কেউ নিজেকে আমাদের সামনে প্রকাশ করে ফেলে, তবে তাঁর ওপর আমরা আল্লাহর নির্দিষ্ট শাস্তি অবশ্যই প্রয়োগ করবো।

আবু উবাইদের কিতাবের আছে হযরত সা’দ ইবনু উবাইদাহ রাসূলে করীম (সাঃ) এর কাছে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে উপস্থিত হলেন, যে অত্যন্ত দূর্বল ও অসুস্থ ছিলো। তাঁকে তাঁর (অর্থাৎ সা’দের) দাসীদের মধ্যে এক দাসীর উপর অপকর্মে লিপ্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিলো। তখন রাসূলে করীম (সাঃ) বললেন, একশ’ শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট একটি ডালা নাও এবং তা দিয়ে তাঁকে একবার আঘাত করো। ইবনে কুতায়বার শরহে হাদীসে বলা হয়েছে তাঁকে কোড়া মারো। একথা শুনে লোকজন আরজ করলো, আমাদের ভয় হয় যে, সে মরে যাবে। বলা হলো, তাঁকে আসকাল দিয়ে মারো। আসকাল হচ্ছে খেজুরের (শুকনো)  বাধা। মদিনাবাসী এটিকে গরক বলে।

সূত্রঃ রাসূল (সাঃ) এর বিচারালয় বই থেকে।

লিখেছেনঃ ইমাম আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ আল কুরতুবী (রহঃ)

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

আসুন গান-বাজনা থেকে তাওবা করি

বর্ণনা ইসলামে গান-বাজনা হারাম হলেও এ ব্যাপারে কিছু বিজ্ঞজনের ভিন্ন মত অনেককেই বিভ্রান্ত করে। আজকাল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *