Home / ইসলাম / স্বামী স্ত্রী দাম্পত্য ও অধিকার / রাসূল (সাঃ)-এর দাম্পত্য জীবন

রাসূল (সাঃ)-এর দাম্পত্য জীবন

দাম্পত্য জীবনআমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দাম্পত্য জীবনে কেমন ছিলেন তাঁর বর্ণনা পাওয়া যায় নীচের হাদীস গুলো থেকে। রাসূল (সাঃ) এর দাম্পত্য জীবনের কিছু কথা তুলে ধরা হলো। লিখেছেনঃ হাসিবুর রহমান হাসিব।

হাদিসে পাকে এসেছে, নবীজি (সা.) রোজা থাকাবস্থায় চুমু দিয়ে ভালোবাসার জানান দিতেন। (মুসলিম)।
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা আছে, আমি পান করে পাত্রটা নবীজির দিকে বাড়িয়ে দিতাম। তিনি আমার এঁটো করা স্থানেই মুখ লাগিয়ে পান করতেন। দাঁত দিয়ে গোশত ছিঁড়ে খাওয়ার পর আমার লালা লেগে থাকা স্থানেই তিনি মুখ লাগিয়ে খেতেন। (মুসলিম)।
এক হাদিসে নবীজি (সা.) আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমা তুলে দেবে, সেটার বিনিময়ও আল্লাহ তোমাকে সওয়াব দান করবেন। (বোখারি)।
নাসাঈ শরিফে বর্ণিত আরেক হাদিসে এসেছে, সাফিয়া (রা.) এক সফরে নবীজির সফরসঙ্গী হলেন। সাফিয়া কিছুটা ধীরে পথ চলছিলেন। পিছিয়ে পড়ছিলেন বারবার। নবীজি তার দিকে এগিয়ে গেলেন। গিয়ে দেখলেন, সাফিয়া কাঁদছেন আর বলছেন, আপনি আমাকে একটি ধীরগামী গাধায় সওয়ার করিয়েছেন। নবীজি স্নেহভরে সাফিয়ার চোখের অশ্রু মুছে দিলেন। কাঁদতে বারণ করলেন।
সুবহানাল্লাহ!
আয়েশা (রা.) বলেন, আমি বান্ধবীদের সঙ্গে পুতুল খেলতাম। তিনি ঘরে এলে বান্ধবীরা ভয় পেয়ে যেত। তারা লুকিয়ে পড়ত। কিন্তু নবীজি নিজেই সরে গিয়ে তাদের খেলার সুযোগ করে দিতেন। নিষেধ করতেন না। (আদাবুল মুফরাদ)।
নবীজি (সা.) তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে খেলাধুলা করতেন! কী আশ্চর্য? খেলাধুলা করতেন! পৃথিবীর আর কোনো ধর্মে এমন দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে? হ্যাঁ, এটা শুধু ইসলাম ধর্মেই পাওয়া যাবে। স্ত্রীর সঙ্গে কখন কোথায় কীভাবে আচরণ করতে হবে, কখন শাসন আর আদর করতে হবে তা নবীজির জীবনীতেই পাওয়া সম্ভব।
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা আছে, একবার নবী (সা.) আমাকে বললেন, চলো দৌড় প্রতিযোগিতা করি। আমরা দৌড়ালাম। আমি তার চেয়ে এগিয়ে থেকে দৌড় শেষ করলাম। কিছুদিন পর আমার স্বাস্থ্য একটু ভালো হলে, তিনি আবার প্রতিযোগিতা দিতে বললেন। এবার তিনি জয়ী হলেন। মুচকি হেসে বললেন, এটা সেটার বদলা। শোধবোধ! (আবু দাউদ)।
স্ত্রীকে আদর করে অন্য নামেও সম্বোধন করা সুন্নত। নবীজি তার বিবিদের আদর করে অন্য নামে সম্বোধন করতেন। অবশ্য তা স্ত্রীর ভালো লাগতে হবে। অন্যথায় তা জায়েজ হবে না। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি নবী (সা.) কে বললাম, আমি ছাড়া আপনার আর সব স্ত্রীদের একটি করে কুনিয়াত (উপনাম) আছে। তখন নবীজি আমার কুনিয়াত দিলেন, উম্মে আবদুল্লাহ। (আহমাদ)।

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

আদর্শ স্ত্রীর গুণাবলী

আদর্শ স্ত্রী’র গুণাবলী এই পোস্ট এ হাদীসের আলোকে একজন আদর্শ স্ত্রী’র গুণাবলী তুলে ধরা হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: