Home / সংবাদ সারাদিন / মতামত / ফেসবুকে এখন যৌন কর্মীদের হাট ও নারীর অধিকারের বাস্তব রূপ

ফেসবুকে এখন যৌন কর্মীদের হাট ও নারীর অধিকারের বাস্তব রূপ

দেহ ব্যবসাআগে দেহ ব্যবসায়ীরা খদ্দর ধরার জন্য রাস্তার ওঁত পেতে থাকতো অথবা দালাল ধরতো কাস্টমার পাওয়ার জন্য। কিন্তু বর্তমানে তারা রাস্তায় অথবা দালালদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তারা এখন ছড়িয়ে পড়ছে ইন্টারনেটের আনাচে-কানাচে। নিজের দেহ ব্যবসাকে চাঙ্গা করতে মুক্ত মাধ্যম হিসাবে বেছে নিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ফেসবুক’কে। ফেসবুকে নিজেদের নামে পেইজ খুলে সেখানে নিজেদের অর্ধনগ্ন ছবি আপলোড করে কাস্টমার আকৃষ্ট করার চেষ্টায় রত আছে। কিভাবে যোগাযোগ করা হবে তাঁর প্রক্রিয়াও দেওয়া হচ্ছে। দেওয়া বাড়ির ঠিকানা আর বলা হচ্ছে নিজের সুবিধা মতো জায়গায় নিয়ে কাজ করার কথা।  তাঁর সাথে কাস্টমারদের কাছ থেকে চাওয়া হচ্ছে অগ্রিম টাকা। টাকা হাতের পাওয়ার মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তাদের বিকাশ একাউন্ট। আবার তাঁর সাথে আহ্বান করা হচ্ছে ফোন/ ইমো সেক্স করার জন্য। এসবের আছে আবার নির্দৃষ্ট রেট। এদের মধ্যে আবার অনেকে টার্গেট করে প্রবাসীদের। যারা কাজের তাগিদে দেশে স্ত্রী রেখে বিদেশে অবস্থান করেছেন তাদেরকে আকৃষ্ট করতে দেওয়া হয় বিভিন্ন প্রলোভন। এদের প্রলোভনের ফাঁদে যারা পা দিয়েছেন তারা হয়তো অনেকে প্রতারিত হচ্ছেন। এমনটাই আভাস পাওয়া যায় তাদের কথা থেকে। এমনতেই তাদের সাথে কথা বলতে হলে খদ্দরকে অগ্রীম টাকা বিকাশ করা হতে হচ্ছে। আর এরা যে সংঘবদ্ধ চক্র এমনটাই মনে হয়। এরা বিকাশের সুবিধা নিয়ে প্রতারণা ফাঁদ পেতেছে। বিকাশের মাধ্যমে লোকজনের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার যে পদ্ধতি গুলো আছে, হতে পারে এটিও তাদের সেই মাধ্যমের একটি হাতিয়ার।  কিন্তু এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে প্রশাসন বিহীন একটি দেশ। এমন একটি দেশ, যেখানে দেহ ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়া হয় আর টাকা খাওয়ার জন্য লোক দেখানোর অভিযান। আমার কথার বলার মূল প্রসঙ্গ এটা নয় বরং আমার মূল প্রসঙ্গ হচ্ছে, নারী অধিকারের দেশে একজন নারীকে কেনো দেহ বিক্রয় করে তাঁর জীবিকা নির্বাহ করতে হবে? নারীর ক্ষমতায়নের দেশে যদি একজন নারীকে দেহ বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় তাহলে একজন নারীর জন্য এর চেয়ে দুঃখ জনক বিষয় আর হতে পারে না। আজ বাংলাদেশে কোথায় নেই নারী? সাধারণ মেম্বার পদ থেকে শুরু করে সংসদের উপনেতা পর্যন্ত এমন কি বাংলাদেশের সরকার প্রধান পর্যন্ত একজন নারী। বাংলাদেশে একের এক ক্ষমতার পালাবদল হচ্ছেও নারীর হাতে। এই নারী গুলো এত বছর ক্ষমতায় থেকে সুস্থ সমাজ বঞ্চিত নারীদের জন্য কি করেছেন? আজ পর্যন্ত এমন একটি নিউস আমি পেলাম না যেখানে বলা হয়েছে বাংলাদেশের এত সংখ্যাক সুবিধা বঞ্চিত নারীকে সুস্থ সমাজে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন একটি নিউস পেলমা না, যেখানে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের অমুক জায়গায় যৌতুক বিহীন নারীর বিয়ে হচ্ছে। এমন একটি নিউস পেলাম না, আজ বাংলাদেশে একটি নারীও ধর্ষণের শিকার হয়নি। এমন একটি নিউস পেলাম না যেখানে বলা হচ্ছে, আজ বাংলাদেশে একটিও নির্যাতনের শিকার হয়নি।  তা হলে আমাদের দেশের নারীবাদীরা  এতো দিন কিসের নারী অধিকার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে? সমান অধিকারের কথা বলে নারীকে পুরুষের যৌন উপভোগের বস্তু ব্যতীত আর কিছু করতে পারেনি তারা।  আগে কয়টি মেয়ে ধর্ষিত হয় আর এখন কয়টি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে তা পরিসংখ্যায় মিলিয়ে নিন। বর্তমানের সমাজের অবস্থা দেখে এটাই বলা যায় যে, বিনামূল্যে নারীর দেহ উপভোগ করতে চায়? তাহলে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে লিটনের ফ্ল্যাটে যাও আর নিশ্চিন্তে খাট কাপাও। চিন্তার কোনো কারণ নেই, তোমাদের জন্য এখন “নো রিস্ক”  আছে। এখন সুযোগটি দারুণ ভাবে কাজে লাগাচ্ছে একদল গ্রেড ১ লুচ্ছা মার্কা বস ও শিক্ষকরা। তারাও এখন নারীকে ডাল ভাতের মতো ব্যবহার করতেছে। ছাত্রীকে হুমকি দেওয়া হয়, পরীক্ষা পাস করতে চাও তাহলে আমার সাথে খাট কাপাও নয়তো পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেব। চাকুরীজীবী নারীকে বলা হয়, যদি প্রমোশন পেতে চাও তাহলে আমার সাথে ফুর্তি কর নয়তো চাকুরী শেষ। যেসব মেয়ের কাছে তাঁর ইজ্জত মুখ্য বিষয় নয় সে তাদের কথা মত সাঁয় দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করছে। এটাই হচ্ছে বর্তমানের বাংলাদেশে নারীর অধিকারের বাস্তব রূপ।  বাংলাদেশের নারীবাদীরা ও নারী দরদীরা তারা নারীর অধিকারের কথা বলে নারীকে শুধু পুরুষের যৌন উপভোগের বস্তু বানিয়েছে এমনটি নয়, বরং সমান অধিকারের কথা বলে পুরুষের অর্পিত দায়িত্বের বোঝা নারীর উপর চাপিয়ে দিয়েছে কিন্তু নারীর অর্পিত দায়িত্ব পুরুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। মুখে শুধু নারীর অধিকারের কথা বলা হলেও তারা কেউ দাবী করেনি যারা সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত তাদেরকে পূর্ণ বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। বরং যৌন পল্লী কেনো উচ্ছেদ হলো সেটা নিয়ে তাদের প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে। কিন্তু নারী কেন দেহ বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করবে সেটা নিয়ে উচ্চ বাক্যে কথা বলেনি। অথচ বিষয়টি একজন নারীর জন্য চরম অবমাননাকর। তারা নগ্নতার মাঝে নারীর সম্মান খুঁজে পায়। যে নারীর তাঁর যৌনাঙ্গ যত বেশি প্রদর্শন করতে পারবে তাদের কাছে তাঁর সম্মান ততই বেশি। প্রতিযোগিতায় যদি বক্ষদেশ ও পশ্চাদেশে কাপড় নাও থাকে তাতে তাদের সম্মানে বাটা পড়ে না। ইজ্জত চলে যাই যখন একটি নারী পর্দা করে। কেননা, ভঁনমাছি মার্কা একদল পুলাপাইন আছে না?  তাদের চুক্ষু  দর্শনের চাহিদা তো পূরণ করতে হবে? কি বলেন?

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

শিশু ধর্ষণ

শিশুদের ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচানোর সাতটি উপায়

বাংলাদেশে যৌন নির্যাতনের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেই। নারী, কিশোরী, তরুণী ও শিশুদের যৌন নির্যাতনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: