Home / World Blog / বাংলা ব্লগ / পশু প্রেমের আড়ালে নাস্তিকদের ভন্ডামী | আরিফ আজাদ
পশুপ্রেম

পশু প্রেমের আড়ালে নাস্তিকদের ভন্ডামী | আরিফ আজাদ

কোরবান আসন্ন হলেই আমাদের ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক এবং কথিত সেক্যুলারদের গাত্রদাহ শুরু হয়ে যায়।
পুরো বছরের 'পশুপ্রেম' তাদের এই একটি বিশেষ দিনেই কেবল উত্থিত হয়ে উপচে পড়ে।
ভাবখানা এমন,- দুনিয়ার আর কোথাও কখনো পশু জবাই হয়না। কেবল কোরবানির দিনেই মাথামোটা (তাদের মতে) মুসলিমরা পৃথিবীতে এই নৃশংস হত্যালীলায় মেতে উঠে।
অথচ, এই ইসলাম বিদ্বেষী মহল যে ভারতকে তাদের 'ক্বিবলা' মনে করে, সেই ভারত হলো গরুর মাংশ রপ্তানীতে পৃথিবীতে শীর্ষস্থানীয় দেশ।
পুরো বছরে ভারতে যে পরিমাণ গরু জবাই হয় তার পরিমাণ এতোই বেশি যে- পুরো পৃথিবীতে মুসলিমরা টানা ১০ বছর ঈদুল আযহা উদযাপন করেও সে পরিমাণ পশু জবাই করে না।
কিন্তু, আমাদের ইসলাম বিদ্বেষী চক্রের বিশেষ ফিল্টারে ভারতের সেই গরু জবাই কোনভাবেই নৃশংসতা নয়। বরং তা আমিষ সরবরাহের উত্তম উপায়।
কিন্তু, যেই না তার সাথে অচ্ছুৎ মুসলমানদের ঈদ উৎসব এবং ধর্মের নাম যোগ হয়, তক্ষুণি সেটা নৃশংস, হত্যাযজ্ঞ, হত্যালীলায় পরিণত হয়।
তখন তারা মুরগির রানে কামড় দিয়ে বলে,- 'আহা! মুসলিমের বাচ্চারা কী খারাপ! এভাবে প্রাণ হত্যা করার নাম ধর্ম হয়?'…..
ইসলাম বিদ্বেষী চক্রের এসব পুরনো কাসুন্দী পাবলিক এখন আর খায় না।
এখন এরা নতুন থিওরি দাঁড় করিয়েছে। নতুন থিওরিটা সুন্দর। আগের মতো এ্যাটাকিং কোন মুড নেই।
তারা আবেগমিশ্রিত গলায় বলতে চাচ্ছে- 'মুসলিমর ভাইয়েরা আমার! আপনারা কোরবানে গরু জবাই করেন, ভালো কথা। সমস্যা নেই।
কিন্তু, একবার বন্যা দূর্গত মানুষদের কথা ভাবুন। দেশের বন্যা কবলিত অঞ্চলের মানুষদের দিকে তাকান। দেখুন তারা কী কষ্টের মধ্যে দিনানিপাত করছে। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, দেশে ২০০ বছরের ইতিহাসের ভয়াবহতম বন্যা সংঘটিত হতে যাচ্ছে।
আপনারা যারা কোরবানির পশু জবাই করে আল্লাহকে খুশি করতে চান, তারা কী সেই টাকাগুলো দিয়ে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন না? পশু জবাই করেন আল্লাহকে খুশি করার জন্য। এসব দুস্থদেরও সাহায্য করলেও নিশ্চই আল্লাহ খুশি হবেন….'
নিঃসন্দেহে চমৎকার থিওরি। সেক্যুলারদের পক্ষ থেকে মুসলিমদের জন্য স্মরণকালের সেরা নরম সুরের নাসীহাহ মনে হয় এটিই।
কিন্তু, কথা হলো গিয়ে, বন্যা তো দেশে এবার নতুন হচ্ছেনা। প্রত্যেক বছরই দেশে বন্যা হয়।
কই, পহেলা বৈশাখ গেলো, পান্তা-ইলিশ উৎসব গেলো, ভুভুজেলা-মুখোশ পরে মঙ্গল শোভাযাত্রা করে বৈশাখকে বরণ করে নেওয়া হলো।
খরচ হলো লক্ষ লক্ষ টাকা…. 
তখন তো বন্যা কবলিতদের নিয়ে ভাবা হয় নাই।
বলা হয় নাই- 'আপনারা দয়া করে পান্তা-ইলিশ খেয়ে, বৈশাখী রঙ-বেরঙের ড্রেস কিনে, রঙ-তুলি মেখে, মুখোশ পরে, মিছিল-শোভাযাত্রা করে লাখ লাখ টাকা খরচ করবেন না। এই টাকাগুলো দিয়ে আপনারা বন্য দূর্গতদের সাহায্য করবেন।'
বলেছিলেন কী?
দেশে লাভ ডে যায়, হাগ ডে, কিস ডে, ফ্রেন্ডশিপ ডে'র মতো এত্তো এত্তো ডে যাওয়া-আসা করে।
কই, আপনেরা কী বলেন যে- 'আপনারা প্রেমিকা নিয়ে ঘুরে, ডেটিং করে যা টাকা খরচ করবেন, তা বন্যা দূর্গতদের জন্য রেখে দেন।'
বলেন কী? বলেন না। 
মুসলমানদের ঈদ নিয়ে আপনারা কিন্তু ঠিকই নতুন ফর্মূলা দাঁড় করে ফেলেছেন।
আপনারা ভেবেছেন- ইসলাম ধর্মের বিধি বিধানগুলো আপনাদের মানবরচিত সংবিধানের নীতিমালার মতো। ৬ জনের মধ্যে ৪ জন মত দিলেই চেইঞ্জ করে ফেলা যায়। যখন ইচ্ছে নিজেদের মতো করে মানিয়ে নেওয়া যায়।
ডিয়ার ইসলাম বিদ্বেষী সেক্যুলার ভাই-সকল,
এটা আপনাদের মানবধর্ম নয় যে নিজের মতো করে ধর্ম বানিয়ে নিবেন।
এটা আল্লাহর দ্বীন। আর আল্লাহর দ্বীন কীভাবে পালন করতে হবে তার জন্য পরিপূর্ণ গাইডলাইন তিনি সাড়ে ১৪০০ বছর আগে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
এখানে 'চুস এন্ড পিক' এর কোন সুযোগ নেই।
দয়া করে নিজেদের ভাঁড়ামিপূর্ণ আইডিয়া দিয়ে আমাদের ধর্ম নিয়ে নাক গলাতে আসবেন না।
নিজেদের ইচ্ছেমতো ধর্ম বানিয়ে নেওয়ার রুলসটা নিজেদের জন্য জারি রাখুন। আমাদের উপর চাপাবেন না দয়া করে।
আর হ্যাঁ, বন্যা দূর্গতদের সাহায্যের কথা বলছেন না?
খোঁজ নিয়ে দেখুন, যারা ত্রাণ-তহবিল নিয়ে যাচ্ছে, তাদের ৮০ ভাগই ধর্মপ্রাণ মুসলিম।
তারা আপনাদের মতো এসির হাওয়ার মধ্যে বসে, মুরগির রান আর গরুর কলিজা চিবাতে চিবাতে মানবতা নিয়ে হাঁ-হুতাশ করেনা।
যারা ২ টা গরু দিয়ে কোরবানি করে, তারা দরকার হলে একটি গরু দিয়ে কোরবানি করে, একটা গরুর টাকা বন্যা দূর্গতদের জন্য পাঠিয়ে দেবে।
যারা একটা গরু দিয়ে কোরবানি করে, তারা দরকার হলে ছাগল দিয়ে কোরবানি করে বাকী টাকা বন্যা কবলিতদের জন্য পাঠিয়ে দেবে।
কিন্তু, আপনাদের পরামর্শে কোরবানি করা ছেড়ে দেবে কোন দুঃখে?

লেখকঃ আরিফ আজাদ।

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

চলন্ত বাসে ধর্ষণ

চলন্ত বাসর (চলন্ত বাসে ধর্ষিত হওয়া থেকে যেভাবে রক্ষা পেলো তরুণী)

রাত ৮:৩০ গলফ ক্লাবের সামনে থেকে মিরপুরের উদ্দেশ্যে বাসে উঠলাম আমরা তিন বন্ধু।আঃ রহমান, সাজিদ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *