যে কোন যৌন বা স্বাস্থ্য সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডা.মনিরুজ্জামান এম.ডি স্যার। কল করুন- 01707-330660

সাধারণতঃ এটাই হল সমুদয় হারাম বস্তুর মধ্যে অধিকতর হারাম। কারণ, আবু বকর (রা) হাদীসে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেছেন, 

“আমি কি তোমাদেরকে মহা পাপ সম্পর্কে জানিয়ে দেব না? (তিনি এই কথাটির তিনবার পুনারাবৃত্তি করলেন) আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন, তা হল, আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করা”। (বুখারী-মুসলিম)

তাছাড়া অন্যান্য যাবতীয় পাপ, হতে পারে আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু শির্ক এমন পাপ যে, তা হতে বিশেষভাবে তাওবা না করা পর্যন্ত আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। যেমন মহান আল্লাহ বলেন,

“নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাঁকে কক্ষা করবেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করে দেবেন এর নিম্ম পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করবেন”। (সূরা নিসাঃ ৪৮)

শির্ক যদি বড় হয়, তাহলে উহা ইসলাম থেকে বহিষ্কার করে দেবে এবং তাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। বহু মুসলিম দেশে এই (বড়) শির্ক ব্যাপকহারে বিদ্যমান।

কবরের এবাদত

কবরের এবাদত বলতে এই বিশ্বাস নিয়ে মৃত ওলীগণের নিকিট সাহায্য প্রার্থণা করা ও তাদের নিকট ফরিয়াদ করা যে, তারা মানুষের প্রয়োজন পূরণ করতে এবং তাদের বিপদ-আপদ দূর করতে সক্ষম। অথচ মহান আল্লাহ বলেন,

“তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁর ছাড়া অন্য কারও এবাদত কর না।” (সূরা ইসরাঃ ২৩)

অনুরূপ এই মনে করে আম্বীয়া ও পূণ্যবান ব্যক্তিদের নিকট প্রার্থণা করা যে, তারা নাকি এদের জন্য সুপারশ করবেন এবং এদের কষ্ট দূর করবেন।  অথচ আল্লাহ বলেন,

“বল তো, কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন, যখন সে দাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত করেন।  সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? (সূরা নামালঃ ৬২)

আবার কেউ কেউ উঠতে বসতে সর্ব ক্ষেত্রে স্বীয় পীর ও ওলীর নাম জপ করাকে নিজ অভ্যাসে পরিণত করে নেয়। যখনই কোন সংকটে ও মুসীবতে পতিত হয়, তখনই কেউ ডাকে, ‘হে মুহাম্মাদ’ বলে। কেউ ডাকে, ‘হে আলী’ বলে। কেউ ডাকে, ‘হে হুসেন’ বলে। কেউ ডাকে, ‘হে শাযলী’ বলে। কেউ ডাকে, ‘হে রিফায়ী’ বলে। কেউ ডাকে, ‘হে ঈদরুস’ বলে। অথচ আল্লাহ বলেন,  

“আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা সবাই তোমাদের মতই বান্দা।” (আরাফঃ ১৯৪)

আবার অনেক কবরের পূজারী  উহার তাওয়াফও করে। সেখানকার খুঁটি-খাম্বাগুলি (পবিত্র মনে করে) স্পর্শ করে। উহার চৌকাঠে চুমা দেয়।  উহার মাটি মুখমন্ডলে লেপন করে। কবরকে দেখা মাত্রই সেজদায় পড়ে যায় এবং কবরের সামনে অত্যধিক নম্র ও বিনয়ের সাথে দাঁড়িয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজন পেশ করে। যেমন, ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভের, অথবা সন্তানাদির কামনার, কিংবা মুশকিল আসান হওয়া ইত্যাদির আর্জি পেশ করা। কখনো কখনো এই বলে ডাক পাড়ে যে, হে আমার সম্রাট!  তোমার নিকট বহু দূর থেকে এসেছি। অতএব আমাকে নিরাশ কর না। এ দিকে মহান আল্লাহ বলেন,

“যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে এমন কাউকে আহ্বান করে, যে কিয়ামত পর্যন্তও তাঁর দাকে সাড়া দেবে না, তাঁর চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? তারা তো তাদের আহ্বান সম্পর্কেও বেখবর। (সূরা আহক্বাফঃ ৫)

আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

“যে ব্যক্তি এই অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে যে, সে আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যকে আহ্বান করত, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে”। (বুখারী)

আবার অনেকেই কবরে তাদের মাথা নেড়া করে। অনুরূপ অনেকেই মনে করে যে, ওলী-আওলিয়ারা ( মৃত্যুর পরও) সৃষ্টি জগতের কল্যাণ ও অকল্যাণ সাধনের শক্তি-সামর্থ্য রাখেন। অথচ আল্লাহ তা’আলা বলেন,

“আর আল্লাহ যদি তোমার উপর কোন কষ্ট আরোপ করেন, তাহলে তিন্নি ব্যতীত কেউ নেই, তা খণ্ডাবার মত। পক্ষান্তরে যদি তিনি কিছু কল্যাণ দান করেন, তবে তাঁর মেহেরবানীতে রহিত করার মতও কেউ নেই।” (সূরা ইউনুসঃ ১০৭)

গায়রুল্লাহর নামে মানত করাও শির্কের অন্তর্ভুক্ত জিনিস।  যেমন, অনেকেই কবরে বাতি ও চেরাগ দেওয়ার মানত করে।

অনুরূপ গায়রুল্লাহর নামে যবাই করাও বড় শির্কের আওতায় পড়ে। মহান আল্লাহ বলেন,

“আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন”।(সূরা কাউসারঃ ২)

অর্থাৎ, আল্লাহরই জন্য এবং তাঁরই নামে জবাই করুন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেন,

“তাঁর প্রতি আল্লাহর লানত, যে গায়রুল্লাহর নামে যাবাই করে।” (মুসলিম)

কখনো কখনো যবাইকৃত পশুর মধ্যে একই সাথে দুই হারাম একত্রিত হয়ে যায়। যেমন, গায়রুল্লাহর উদ্দেশ্যে যবাই করা এবং আল্লাহর নাম ব্যতীত অন্যের নামে যবাই করা। আর এই উভয় অবস্থায় যবাইকৃত পশুর গোশত খাওয়া খারাম। জাহেলিয়াতের ন্যায় বর্তমানেও জ্বিনের উদ্দেসশ্যে যবাই করার প্রচলন রয়েছে। যেমন, কোন বাড়ি ক্রয় করলে, অথবা নির্মাণ করলে, কিংবা কোন কুয়া খনন করলে সেখানে, বা চৌকাঠে জ্বিনের ভয়ে কোন কিছু যবাই করা।

বড় শির্কের বৃহত্তম উপমা হল, আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত বস্তুকে হালাল মনে করা, অথবা হাল্লাকৃত বস্তুকে হারাম মনে করা, বা মনে করা যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ এই কাজের অধিকার রাখে। আল্লাহ কুরআনে এই বড় কুফরীর কথা উল্লেখ ক’রে বলেন,

“তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের পন্ডিত ও সংসার বিরাগীদের তাদের পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে”। (সূরাঃ তাওবা-৩১)

যখন আদী বিন হাতিম নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামকে এই আয়াত পাঠ করতে শুনেন, তিনি বলেন, আমি বললাম, তারা তো তাদের এবাদত করে না।  তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেন, হ্যাঁ, তারা তাদের এবাদত করে না ঠিকই, কিন্তু তারা আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত জিনিসকে তাদের জন্য হালাল করলে তারাও তা হালাল মনে করে এবং আল্লাহ কর্তৃক হালালকৃত জিনিসকে হারাম করলে তারাও তা হারাম মনে করে। আর এটাই হল তাদের এবাদত করা। (বায়হাক্বী)

অনুরূপ আল্লাহ মুশরেকদেরকে এই বলে আখ্যায়িত করেছেন যে,

“তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করে দিয়েছেন, তা হারাম মনে করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম”। (সূরাঃ তাওবা-২৯)

মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেন,

“হে নবী তাদের বল, তোমরা কি কখনো এ কথাও চিন্তা করে দেখেছ যে, যে রিযক আল্লাহ তোমাদের জন্য নাযিল করেছেন, তা হতে তোমরা নিজেরাই কোনটিকে হারাম আর কোনটিকে হালাল করে নিয়েছ। তাদের জিজ্ঞাসা কর, আল্লাহ কি তোমাদের কে এর অনুমতি দিয়েছেন? না তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা কথা বানিয়ে বলছ? ( সূরাঃ ইউনুস-৫৯)

যাদু, ভবিষ্যদ্বাণী করা ও জ্যোতিষ বিদ্যা

শির্কের প্রকারসমূহের এমন প্রকার যা সর্বত্র ছড়াছড়ি। যাদু  হল কুফরী কাজ এবং সাতটি বিনাশকারী বস্তুস মূহের অন্যতম বস্তু। যাদু দ্বারা অপকার হয়, কিন্তু উপকার হয় না। এই যাদু বিদ্যা শিক্ষা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,

“তারা তাই শিখে, যা তাদের ক্ষতি করে এবং তাদের উপকার করে না”। (সূরাঃ বাক্বারাহ-১০২)

তিনি অন্যত্র বলেন,

“যাদুকর যেখানেই থাকুক, সফল হবে না।” (সূরাঃ ত্বোহা-৬৯)

যাদু বিদ্যা শিক্ষা গ্রহণকারী কাফের বিবেচিত হয়।

যেমন মহান আল্লাহ বলেন,

“সুলায়মান কুফরী করেন নি, শয়তানরাই কুফরী করেছিল। তারা মানুষকে যাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারূত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত।

তারা উভয়েই এ কথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য, কাজেই তুমি কুফরী কর না।” (সূরা বাকারাহঃ ১০২)

যাদুকর সম্পর্কে (শরীয়তী) বিধান হল তাঁকে হত্যা করা। আর এই বিদ্যা দ্বারা উপার্জন হবে নোংরা হারাম উপার্জন। মূর্খ, যালেম ও দুর্বল ঈমানের লোকেরা অন্য মানুষের ক্ষতি করার জন্য, অথবা প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য যাদুকরদের নিকইট গিয়ে এই বিদ্যা শিক্ষ্যা গ্রহণ করে। আবার অনেকেই যাদুর প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তি লাভের জন্য যাদুকরের শরণাপন্ন হয়ে এই হারাম কাজ করে বসে। অথচ উচিত হল আল্লাহর শরণাপন্ন হওয়া এবং তাঁর কালামের দ্বারা আরোগ্য কামনা করা। যেমন, ঝাঁড়-ফুঁক ইত্যাদি।

গণক ও জ্যোতিষীঃ  এরা উভয়েই যদি অদৃশ্য জ্ঞানের দাবী করে, যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না, তবে মহান আল্লাহর প্রতি কুফরীকারী বিবেচিত হবে। এরা সাদা মনের মানুষের উদাসীনতার সুযোগ গ্রহণ করে, তাদের মাল লুটে। আর এ কাজে তারা ধোঁকাজাতীয়  অনেক উপায়-উপকরণও ব্যবহার করে। যেমন, বালুর মধ্যে রেখা টানা, কোড়ি চালা, অথবা হস্ত্রেখা দেখা, পেয়ালা এবং কাঁচের তৈরি বল ও আয়না পডা ইত্যাদি। কোন একবার তাদের কথা সত্য হলেও ৯৯ বার তাদের কথা মিথ্যা হয়। কিন্তু অজ্ঞরা কোন একবার যে এই চরম মিথ্যাবাদীদের কথা সত্য হয়, সেটাকেই স্মরণে রেখে,  ভবিষ্যৎ, বিবাহ ও ব্যবসায় সুফল ও কুফল জানতে এবং হারিয়ে যাওয়া জিনিসের খোঁজ নেওয়ার জন্য, এদের নিকটে যায়।  যে ব্যক্তি এদের নিকট য আয়, তাঁর ব্যাপারে (শরীয়তী) ফায়সালা হল, সে যদি তাদের কথার সত্যায়নকারী হয়, তবে সে কাফের মিল্লাতে ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত গণ্য হবে। যার প্রমাণ নবী করীম সাল্লাল্লানু আলাইহি অসাল্লাম-এর নিম্মের বানী,

“যে ব্যক্তি কোন গণক ও জ্যোতিষীর নিকট এসে তাঁর কথার সত্যায়ন করবে, সে ঐ জিনিসের অস্বীকারকারী বিবেচিত হবে, যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামের উপর অবতীর্ণ হয়েছে।” (ইমাম আহমদ হাদীসটয়ি বর্ণনা করেছেন)

কিন্তু যে ব্যক্তি এদের নিকট গিয়ে এ কথার সত্যায়ন করে না যে তারা গায়েবের জ্ঞান রাখে, বরং তাঁর উদ্দেশ্য হয় পরীক্ষা করা ইত্যাদি, তাহলে সে কাফের বিবেচিত  হবে না, কিন্তু চল্লিশ দিন পর্যন্ত তাঁর নামায গৃহীত হবে না। এর প্রমাণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর এই বাণী,

“যে ব্যক্তি গণকের নিকট এসে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করে, চল্লিশ দিন পর্যন্ত তাঁর নামায গ্রহণ করা হয় না।” (মুসলিম) তাঁর উপর নামায ও তাওবা ওয়াজিব হবে।  

আপনি পড়ছেনঃ কতিপয় হারাম বস্তু, যা অনেকে নগণ্য ভাবে বই থেকে

Syed Rubelশির্ক ও বিদআতসাধারণতঃ এটাই হল সমুদয় হারাম বস্তুর মধ্যে অধিকতর হারাম। কারণ, আবু বকর (রা) হাদীসে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেছেন,  “আমি কি তোমাদেরকে মহা পাপ সম্পর্কে জানিয়ে দেব না? (তিনি এই কথাটির তিনবার পুনারাবৃত্তি করলেন) আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন, তা হল, আল্লাহর সাথে...Amar Bangla Post