Home / ইসলাম / শির্ক ও বিদআত / গায়রুল্লাহর নামে কসম খাওয়া

গায়রুল্লাহর নামে কসম খাওয়া

পূত-পবিত্র মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির যে কোন নামে শপথ গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু সৃষ্টির জন্য আল্লাহ ব্যতীত কোন অন্যের নামে শপথ গ্রহণ করা জায়েয নয়। তবুও বহু মানুষের জবান দ্বারা গায়রুল্লাহর নামে শপথ অহরহ সংঘটিত হতে থাকে। কসম খাওয়া এক প্রকার সম্মান প্রদর্শন। অতএব এই সম্মানের যোগ্য হলেন একমাত্র আল্লাহ। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে মার্ফু সনদে বর্ণিত যে,

অর্থাৎ, “শুনো, আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদাদের নামে কসম খেতে নিষেধ করেছেন। যে একান্তই কসম খেতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামে কসম খায়, অথবা চুপ থাকে।” (বুখারী)

ইবনে উমার (রাঃ) থেকেই বর্ণিত যে,

অর্থাৎ, “যে গায়রুল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করল, সে শির্ক করল।”(আহমদ)

আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেন,

“আমানতের কসম খেল, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।”(আবু দাউদ)

কাজেই কাবা, আমানত, মর্যাদা, অমুকের বরকত, অমুকের জীবন, নবী ও ওলীর সম্ভ্রম এবং পিতা-মাতার দোহাই দিয়ে ও ছেলের মাথায় হাত দিয়ে শপথ গ্রহণ করা বৈধ নয়। বরং এই ধরণের যাবতীয় কসম হারাম। কেউ এই ধরণের কোন কসম খেয়ে ফেললে, তার কাফফারা হবে, “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” পড়ে নেওয়া। যেমন সহী হাদীসে বর্ণিত যে,

“যে ব্যক্তি কসম খেতে গিয়ে বলবে, লাত ও উয্যার শপথ, সে যেন “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” পড়ে নেয়।” (বুখারী)

এই অধ্যায়েরই পর্যায়ভুক্ত আরো অনেক শির্কীয় ও হারাম কথা—বার্তা রয়েছে, যা কোন কোন মুসলমান ব্যবহার করে থাকে। যেমন বলে, আমি আল্লাহ ও তোমার আশ্রয় কামনা করছি। আমি আল্লাহ ও তোমার উপর ভরসা করি। এটা আল্লাহ ও তোমার পক্ষ থেকে। আমার আল্লাহ  ও তুমি ছাড়া আর কেউ নেই। আমার জন্য আকাশে আল্লাহ আর যমীনে তুমি।  আল্লাহ এবং অমুক যদি না হত। আমি ইসলাম মুক্ত। হায় যামানার অসফলতা! (অনুরূপ এমন সব শব্দ যদ্দ্বারা যুগকে গালি দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন বলা, এই যুগটা খুব খারাপ। এটা কুপয়া সময়। যুগ প্রতারক প্রভৃতি। কেননা, যুগকে গালি দিলে সে গালি বর্তায় উহার স্রষ্টার উপর।) প্রকৃতির ইচ্ছা বলা, অনুরূপ এমন সব নাম যার অর্থ দাঁড়ায় গায়রুল্লাহর দাস। যেমন, আব্দুল মাসীহ। (মাসীর দাস) আব্দুন নবী (নবীর দাস) আব্দুর রাসূল (রাসূলের দাস)। আব্দুল হুসায়েন (হুসায়েনের দাস) আর এরই পর্যায়ভুক্ত হল তাওহীদ পরিপন্থী আধুনিক শব্দ ও পরিভাষা। যেমন বলা, ইসলামী সমাজতন্ত্র। ইসলামী গণতন্ত্র। জনসাধারণের ইচ্ছাই হল আল্লাহর ইচ্ছা। দ্বীন আল্লাহর জন্য, আর দেশ সকলের জন্য। আরব জাতীয়তাবাদের নামে। আন্দোলনের নামে।

কাউকে “রাজাধিরাজ”, সমস্ত “বিচারকের বিচারক” আখ্যায় আখ্যায়িত করা, মুনাফেক ও কাফেরকে স্যার, বা মহাশয় বলা, অসন্তুষ্ট হয়ে, আক্ষেপ ও হা-হুতাশ করে “যদি” শব্দ ব্যবহার করা এবং “হে আল্লাহ যদি তোমার ইচ্ছা হয়, তবে আমাকে ক্ষমা করে দাও” বলাও হল হারামের অন্তর্ভুক্ত বিষয়। 

আপনি পড়ছেনঃ কতিপয় হারাম বস্তু, যা অনেকে নগণ্য ভাবে বই থেকে

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: