যে কোন যৌন বা স্বাস্থ্য সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডা.মনিরুজ্জামান এম.ডি স্যার। কল করুন- 01707-330660

স্যানেটারী ন্যাপকিনআমাদের দেশের মেয়েরা অনেক ক্ষেত্রে অতি আধুনিক হলেও তাদের নিজেদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে এখনও অনেক উদাসিন। নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতনতার ব্যপারে তথ্য জানলেও, সঠিক পদ্ধতি অনেকেই জানে না। প্রতিমাসে ঋতুস্রাবে সময় আমাদের দেশের মেয়েরা স্যানিটারি ন্যাপকিন অথবা কাপড়ের ন্যাপকিন ব্যবহার করে থাকে।

আগে শুধু কাপড়ের ন্যাপকিন অথবা তুলার প্যাড ব্যবহৃত হত, কিন্তু এখন আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের প্রচারের কল্যাণে শুকনো ন্যাপকিনের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। বিজ্ঞাপনে বলা হয় “এখন আমার কোন দুশ্চিন্তাই নেই, সারাদিন একদম ফ্রি!!” লোভনীয় এসব বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত হয়ে মেয়েরা প্যাড বা ন্যাপকিন ব্যবহার করে এবং সেটা ২৪ ঘণ্টা বা আরও বেশি সময় ধরে পড়ে থাকে। যার ফলে মেয়েরা কয়েক মাস পর অনাকাঙ্খিত মেয়েলি রোগে আক্রান্ত হয়। যার কারন তারা খুঁজে পায়না। এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোন ধারনা না থাকায় নিজের অজান্তেই মেয়েরা নিজের ক্ষতি করে চলে। সেই ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কিছু তথ্য প্রদান করা হল-

প্রথমে স্যানিটারি ন্যাপকিন:

প্রথমত যেকোন ন্যাপকিন বা প্যাড কোন ভাবেই তিন বা চার ঘণ্টার বেশি পরা থাকা উচিৎ নয়। ঋতুস্রাবের শুরুর দুই ও তিন দিন অতিরিক্ত রক্তস্রাব নিঃসরণ হয়। এসময় অনেকেই ছয় বা সাত ঘণ্টা পর পর তা পরিবর্তন করে। কিন্তু চতুর্থ বা পঞ্চম দিন থেকে স্রাব কমে আসায় একই ন্যাপকিন ২৪ ঘণ্টা বা আরও বেশি সময় ধরে অনেকে পরে থাকে। এই কারনে মেয়েদের যে সমস্যা গুলো হতে পারে তা হলঃ যোনিপথে চুলকানি,  প্রদাহ এবং  অ্যালার্জি।

তাই, ঋতুস্রাবের প্রথম তিন দিন দুই ঘন্টা পরপর প্যাড পরীক্ষা করে দেখা উচিৎ।  প্যাড যদি শুকনো না থাকে অর্থাৎ উপরের অংশে রক্ত ভেসে আসতে দেখা যায়, তবে সাথে সাথেই তা পরিবর্তন করা উচিৎ এবং কোন ভাবেই চার ঘণ্টার বেশি এটি  পরা উচিৎ নয়। ঋতুস্রাবের তৃতীয় দিন হতে যেসব ন্যাপকিনে দ্রুত রক্ত টেনে নেয় এবং উপরের অংশ শুকনো রাখে, অর্থাৎ “ড্রাই উইভ” ন্যাপকিন সেগুলো পরা একদম বাদ দিতে হবে।

নারীদের ঋতুস্রাবের শেষের দিকে অল্প রক্তপাত হয় এবং একারনে সেই রক্ত দ্রুত শুকিয়ে সেখানে জীবানুর আক্রমণ হয়। যা যোনিপথের সংস্পর্শে এসে চুলকানি, ফোঁড়া, ইনফেকশন ইত্যাদি সৃষ্টি করে তুলে।

আপনার হয়ত অজানা “ড্রাই উইভ প্যাড বা ন্যাপকিনে প্যাড” শুকনো রাখার জন্য ব্যবহৃত হয় “সেলুলোজ জেল”  নামের একটি উপাদান যা জরায়ু মুখের ক্যান্সারের জন্য দায়ী। এর প্রকোপ গত কয়েক বছরে বিকট আকার ধারন করার পিছনে অন্যতম একটি কারন হচ্ছে স্যানিটারি প্যাডের দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার। আপনি একটি বিষয় খেয়াল করলেই দেখবেন, এটিকে কী উপাদান দ্বারা তৈরী করা হয়েছে তা  এর প্যাকেটের গায়ে কোথাও উল্লেখ করা থাকেনা।

এ সম্পর্কে কোন সঠিক দিক নির্দেশনা বা নীতিমালাও এই উপমহাদেশে নেই। যার কারনে খুব সহজেই নারীরা এদের বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে এবং নিজেই নিজের ক্ষতি করছে। কাজেই নিজ দায়িত্বে আপনি সতর্ক হোন।

দ্বিতীয়ে, কাপড়ের ন্যাপকিন:

অনেক নারীই একই কাপড় বার বার ধুয়ে তা ব্যবহার করে। এক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য হবে। কাপড়ের ন্যাপকিন অবশ্যই একবার ব্যাবহারের পর গরম পানিতে সিদ্ধ করে ধুয়ে সরাসরি সূর্যের আলোতে শুকাতে হবে। সূর্যের আলো আমাদের দেশে বেশ ভাল জীবানু নাশক হিসাবে কাজ করে। ঘরের কোনায় শুকাতে দিয়ে কোন লাভ নেই। আর অবশ্যই নির্দিষ্ট সময় পর পর প্যাড পরিবর্তন করতে হবে। Download PDF

Syed Rubelনারীর স্বাস্থ্য সমস্যাপরামর্শ মূলক নিবন্ধনঋতুস্রাবআমাদের দেশের মেয়েরা অনেক ক্ষেত্রে অতি আধুনিক হলেও তাদের নিজেদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে এখনও অনেক উদাসিন। নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতনতার ব্যপারে তথ্য জানলেও, সঠিক পদ্ধতি অনেকেই জানে না। প্রতিমাসে ঋতুস্রাবে সময় আমাদের দেশের মেয়েরা স্যানিটারি ন্যাপকিন অথবা কাপড়ের ন্যাপকিন ব্যবহার করে থাকে। আগে শুধু কাপড়ের ন্যাপকিন অথবা তুলার প্যাড ব্যবহৃত হত, কিন্তু এখন...Amar Bangla Post