Home / বই থেকে / খিযির আলাইহিস সালাম সম্পর্কে চূড়ান্ত কথা

খিযির আলাইহিস সালাম সম্পর্কে চূড়ান্ত কথা

[খিযির আলাইহিস সালাম সম্পর্কে চূড়ান্ত কথা]

সত্যনিষ্ঠ আলেমদের নিকট সঠিক বক্তব্য হলো খিদির আলাইহিস সালাম মৃত। তিনি ইসলাম পান নি। যদি তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে অবশিষ্ট থাকতেন তাহলে অবশ্যই তার জন্য ওয়াজিব হতো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামেরওপর ঈমান আনা এবং তার সাথে জিহাদ করা। যেমনিভাবে আল্লাহ তা‘আলা তার ওপর ও অন্যান্যদের ওপর এটা ওয়াজিব করেছেন। আর তিনি অবশ্যই মক্কা-মদীনায় অবস্থান করতেন। কাফির সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত থেকে তাদের জাহাজমেরামত করার চেয়ে সাহাবীগণের সাথে উপস্থিত থেকে সংগ্রাম করা এবং দীনের সাহায্য সহযোগিতা করা তার জন্য উত্তম হতো। তিনি এমন মানুষদের থেকে দূরে অবস্থান করতেন না যাদেরকে উত্তম জাতি হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। আর তাদের থেকে গোপনও থাকতেন না।

তাছাড়ামুসলিমদের জন্য তাদের দীন ও দুনিয়ার কোনো বিষয়ে খিদির ও তার মতো কোনো অনুরূপ কোনোলোকের প্রয়োজনও নেই। কেননা মুসলিমগণ তোতাদের দীনসরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে গ্রহণ করেছেন। যিনি তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দিয়েছেন। আর তাদেরকে তাদের নবী বলেছেন:

«لو كان موسى حيا بين أظهركم ما حل له إلا أن يتبعنى»

“যদি মূসা জীবিত থাকতো অতঃপর তোমরা তাকে অনুসরণ করতে আর আমাকে ছেড়ে দিতে তাহলে অবশ্যই তোমরা পথভ্রষ্ট হতে।”[1]

আর ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম আকাশ থেকে যখন অবতীর্ণ হবেন তখন তিনি একমাত্র আল্লাহর কিতাব ও নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত দ্বারা বিচার-ফয়সালা করবেন। তাহলে খিদির ও অন্যন্যদের কী প্রয়োজন থাকতে পারে? আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশ থেকে ঈসা আলাইহিস সালাম এর প্রত্যাগমণ সম্পর্কে ও মুসলিমদের সাথে তার উপস্থিতির বিষয়টিতাদেরকে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন,

«كيف تهلك أمة أنا أولها وعيسى ابن مريم آخرها؟»

“কীভাবে ধ্বংস হবে একটি উম্মত, যার শুরুতে আমি রয়েছি আর তার শেষে রয়েছে ঈসা ইবন মারইয়াম।”[2]

তাহলে যখন উপরোক্ত দু’জন নবী, (মুহাম্মাদ ও ঈসা) যারা মূসা, ইবরাহীম ও নূহসহ সর্বোত্তম রাসূল হিসেবে বিবেচিত আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইইহ ওয়াসাল্লাম আদম সন্তানদের নেতা, এরা কেউই এ উম্মত থেকে গোপনে অবস্থান করেন নি, সাধারণ ও বিশেষ কারও থেকেই নয়, তাহলে এমন কেউ কীভাবে এ উম্মত থেকে গোপনে অবস্থান করতে পারেন যিনি তাদের মত নন? (অর্থাৎ খিদির, কারণ তিনি তাদের মতো নন)। আর যদি খিদির সর্বদা জীবিতইছিলেন তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তার নাম উচ্চারণ কেন করেননি, তার সর্ম্পকে তার উম্মাতকে কেন কোনো সংবাদ দেননি এবং তার সঠিক পথপ্রাপ্ত খলিফাগণও কেন কিছু বলেন নি?

আর কোনো বক্তার বক্তব্য: ‘নিশ্চয় খিদির ওলীগণের নকীব’ তার জবাবে বলা হবে, কে তাকে নকীব (দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা) নিযুক্ত করেছেন?অথচ সর্বোত্তম ওলীগণ হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথীগণ। তাদের মধ্যে তো খিদির নেই। (তাহলে তাকে কে এ কাজে নিয়োগ দিল?) সাধারণত এ অধ্যায়ে যেসব ঘটনা বর্ণিত হয়েছে তার কিছু অংশ মিথ্যা।কিছু কোনো ব্যক্তির ধারণার ওপর নির্ভরশীল, যে কিনা কোনো ব্যক্তিকে দেখে ধারণা করলো যে নিশ্চয় সে খিদির। আর বলে বসল, নিশ্চয় সে খিদির।

যেমনিভাবে রাফেযীরা কোনো লোককে দেখে ধারণা করে বলে, নিশ্চয় সে অপেক্ষমাননিষ্পাপ ইমাম অথবা সে লোকটিই তা দাবী করে। ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল থেকে বর্ণিত,তার কাছে খিদির সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনিবলেন, যে লোক তোমাকেঅনুপস্থিত কারও দিকে ন্যস্ত করে সে তোমার সাথে ন্যায্য কাজটি করে নি,আর শয়তানব্যতীত কেউ মানুষের মুখে এটা ছড়ায় নি।অন্য জায়গায় আমরাএ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আরো পড়ুন

আপনি পড়ছেন ইসলামী বাংলা বইঃ কবর যিয়ারত ও কবরবাসীর কাছে সাহায্যের আবেদন


[1]হাদীসটি সনদের দিক থেকে হাসান। মুসনাদে আহমাদ(৩/৩৮৭); সুনান দারেমী (১/১১৫)।

[2]মুসান্নাফে ইবন আবি শাইবাহ (৫/২৯৯)।

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

মালের প্রতি মোহিত

মালের প্রতি সম্মোহিত হওয়া থেকে সতর্কীকরণ

63- عَنْأَنَسِبْنِمَالِكٍرَضِيَاللهُعَنْهُ،قَالَ: قَالَرَسُوْلُاللهِصَلَّىاللَّهُعَلَيْهِوَسَلَّمَ: “يَكْبُرُابْنُآدَمَ،وَيَكْبُرُمَعَهُاثْنَتَانِ: حُبُّالْمَالِ،وَطُوْلُالْعُمْرِ”. (صحيحالبخاري،رقمالحديث 6421،واللفظله،وصحيحمسلم،رقمالحديث 115 – (1047)،). 63  –  অর্থ: আনাস বিন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *