Home / World Blog / বাংলা ব্লগ / মাজারে কোরআন দিয়ে ব্যবসা! কোরআন জমা দেওয়া হয় কোথায় আর যায় কোথায়?
লেংটা মাজারের ছবি

মাজারে কোরআন দিয়ে ব্যবসা! কোরআন জমা দেওয়া হয় কোথায় আর যায় কোথায়?

বাংলাদেশের একশ্রেণির জনগণ আছেন  যারা মাজারের ভক্ত। তারা মাজার জিয়ারত করতে যান এবং তারই সাথে মাজারের নামে মানত করেন এবং সেই মানত পূরণ করে থাকেন। সেই মানতের মধ্যে  টাকা-পয়সা থেকে শুরু করে গরু ছাগল সহ আরো অন্যান্য সামগ্রীও থাকে। এদের মধ্যে অনেকেই মাজারে কোরআন শরীফ হাদীয়া দেন যাতে মাজারের ভক্তবৃদ্ধরা এসে পড়তে পারে আর সেই নেক কাজের ভাগীদার হতে তারা মাজারে কোরআ শরীফ দান করে থাকেন। কিন্তু তাদের এই পরকালের সৎ ভাবনা কতটুকু পূরণ হচ্ছে? মাজারে হাদীয়া দেওয়া কোরআন শরীফ গুলো কি ভক্তদের হাতে পৌঁছাচ্ছে। তারা কি আদৌ এই কোরআন শরীফ গুলো পড়ছে? সোজা কথায় বলে দেয়, একদমই না। মাজারের পাশে থাকা ইবাদত খানার সেলফে যেসব কোরআন শরীফ রাখা আছে সেসব কোরআন শরীফ অনেক পুরোনো এবং ময়লা পরে কালো হয়ে রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন শত শত কোরআন শরীফ মাজারের ইবাদত খানায় জমা হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে ভক্তের জমা দেওয়া এতো বিপুল কোরআন  শরীফ যাচ্ছে কোথায়? উত্তর হচ্ছে, মাজারে দায়িত্বে থাকা কর্তা ব্যক্তিদের পেটে। অনুসন্ধানে জানা যায় সারাদিনে যেসব কোরআন শরীফ মাজারে জমা হয়, আবার দিনশেষে সেসব কোরআন শরীফ মাজারের ইবাদত খানা থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। মাজারের কর্তা ব্যক্তিদের মাজারের পাশে দোকানপাট থাকে এবং সেসব দোকানপাট খাদেম বা খাদিম দোকান নামেই পরিচিত থাকে।  ভক্তদের জমা দেওয়া কোরআন শরীফ গুলো নিজেদের দোকানে পুনরায় সাজিয়ে রাখা হয় এবং উচ্চ মূল্যে তা আবারো ভক্তদের কাছে বিক্রয় করা হয়। এমনকি অবশিষ্ট কোরআন সমূহ আশে-পাশের দোকানে সেল করে দেওয়া হয়। আর এভাবেই একই কোরআন শরীফ বহুবারে বহুজনের নিকট বিক্রয় হচ্ছে কিন্তু প্রকৃত পক্ষে মাজারে আগত লোকদের পড়া হচ্ছে না। এখানে আরেকটি বিষয় হচ্ছে, মাজারে আগত লোকদের মধ্যে অধিকাংশ লোকই স্বইচ্ছায় কোরআন শরীফ কিনে মাজারে দান করছে না বরং তাদেরকে কোরআন শরীফ কিনে মাজারে হাদীয়া বা দান করার জন্য প্রলোভন দেওয়া হয়। আর একাজে ব্যবহার করা হয় একশ্রেণি দালাল সিএনজি/রিক্সাচালক ড্রাইভারদেরকে। এই ড্রাইভারেরা মাজারে আগত অতিথিদের মাঝ পথ থেকেই মাজার সম্পর্কে নানান বিষয়াদি বলে থাকে। তাদেরকে মাঝ পথেই পরামর্শ দেয় মাজারে টাকা-পয়সা না দিয়ে যেন কোরআন শরীফ দেয়। এতে নাকী তারও সওয়াব হবে! এর বিনিময়ে তারা চা-পান খাওয়ার টাকা দোকানদারদের কাছ থেকে পেয়ে থাকেন। ড্রাইভারদের পাশা-পাশি তারা মাঠের চতুরে কিংবা অযুখানার আশে-পাশে নিজেদের বেতন ভুক্ত লোকদের হাতে বাত্তি-গোলাপ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য কাস্টমার ধরার। এই সক্রিয় চক্রটিও ভক্তেরদেরকে কলা-কৌশলে বুঝিয়ে মাজারে জমা দেওয়ার জন্য কোরআন শরীফ কিনতে উৎসাহ দেয়। এই লভাংশের অংশীদার তারাও হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এরকমটি কেনো করা হয়? সহজ উত্তর হচ্ছে, মাজারে আগতদের মধ্যে অনেকেরই কোন মানত থাকে না কিংবা শুধু মাত্র ওলির মাজার হিসেবে জিয়ারত করতে আসে। তারা মাজারে তেমন কোন টাকা পয়সা দান করে না আর করলেও পরিমাণে অল্প। সেটা শতেক টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। যাদের টাকা বেশি তারা হাজারের উপরেও দেয়। এমন লোকের সংখ্যায় খুবই কম। টাকা কম দেওয়ার সংখ্যাটাই বেশি। তাই কোরআন শরীফের মাধ্যমে অধিক টাকা আদায় করার লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যে তাদের থাকে। আবার অনেক টাকা পয়সা ও কোরআন শরীফ দুইটাই দেয়। চলবে……..

যেভাবে চলছে মাজার ব্যবসা। পর্ব ১। 

লিখেছেনঃ সৈয়দ রুবেল। (সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ আমার বাংলা পোস্ট.কম)

এই মতামতকে আপনি একটি রেটিং দিন

0%

প্রিয় পাঠক-পাঠিকা, এই ব্লগ পোস্ট টি পড়ে আপনার কাছে কেমন লেগেছে তা আমাদেরকে জানাতে আপনি একটি রেটিং দিন। আপনার দেওয়া রেটিং সাইটের উন্নতি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

বাংলা ব্লগ থেকে আরো পড়ুন
User Rating: 4.82 ( 5 votes)

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

বদলে যাও, বদলে যাও। প্রথম আলো

বদলে দেয়ার স্লোগানের অন্তরালে। প্রথম আলো’র মুখোশ উন্মোচন

বেশ কয়েক বছর ধরে দেশে সুশীল সমাজ নামের একটি বিশেষ গোষ্ঠীর অস্তিত্ব আনাগোনা লক্ষ্য করা …

One comment

  1. ছিঃ কোরআন দিয়ে এরকম জঘণ্য ব্যবসা? এতো দেখছি তারা ইহুদী নাস্তিকদের চাইতেও খারাপ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *