যে কোন যৌন বা স্বাস্থ্য সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডা.মনিরুজ্জামান এম.ডি স্যার। কল করুন- 01707-330660

Sleeping-Soundly1

স্বপ্নদোষ কোন রোগ নয়। মানবদেহে সাধারণতঃ যৌবন আগমনের পর প্রকৃতি থেকেই নিয়মিত ভাবে প্রতি মাসে দু’ একবার শরীরের বীর্য বের হয়। এটি সাধারণতঃ স্বপ্নের মধ্য দিয়ে হয় বলে একে স্বপ্নদোষ বলে।

যৌবন কালে দেহে নিয়মিত শুক্র সৃষ্টি হয়। শুক্রগুলো জমা হয় শুক্রবাহী নালী ও শুক্র থলিতে। একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেটি বের হবার পথ খুঁজে পায় স্বপ্নের মধ্য দিয়ে। স্বাভাবিক ভাবেই তা পূর্ণ হয়ে গেলে বেয়ে পড়বেই অর্থাৎ স্বপ্নদোষ হবেই। এতে ঘাবড়ে যাবার কিছু নেই।   

সাধারণতঃ প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারী তরুণ কোন নারীকে স্বপ্নের মাঝে দেখে যে, তার সাথে সঙ্গম করছে ও তার ফলে তার বীর্যপাত ঘটে। এটি ঘটার ফলে তার দেহে শুক্রের চাপ কমে যায় এবং সে অনেকটা সুস্থবোধ করে। তাই স্বাভাবিকভাবে মাসে দু’একবার স্বপ্নদোষ হলে তা কোন ব্যাধি নুয়। এটা প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু যদি কোন কারোনে তা ঘন ঘন হয়, অর্থাৎ সপ্তাহে দু’-তিন আব্র হতে থাকে তাহলে তার মধ্যে কোন রকম গোলমালের আশংকা করা যায়। নানা কারণে এটি হতে পারে। যেমনঃ হর্মোনগত ব্যাপারে, কামউত্তেজনা বেশি হয় অথবা যাদের অবিরাম যৌন চিন্তা থাকে ও উত্তেজক বই পাঠ, সিনেমা, ব্লু ফিল্ম দেখা প্রভৃতি নানা কারণে তার মধ্যে অবিরাম এ চিন্তা যৌন চিন্তা চলতে থাকে। তাছাড়া মদ্য পান, নেশা, অতিরিক্ত পরিমাণে নানা উত্তেজক খাদ্য গ্রহণ প্রভৃতি। এর ফলে মাথা ঘোরা, হৃদপিণ্ড ধড়পড় করা, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া প্রভৃতি নানা রকম নালিশ শোনা যায়; কিন্তু প্রকৃতিপক্ষে তা স্বপ্নদোষের জন্য নয়। তার প্রকৃত কারণ হল দেহে উপযুক্ত খাদ্যের অভাব অথবা অন্য কোন ধরণের রোগ বিদ্যমান। তা-না হলে এর বিশেষ চিকিৎসা লাগে না। স্বপ্নদোষ হলে যা করণীয়। এসম্পর্কে হাদীস শরীফে বলা হয়েছেঃ

“হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, জনৈক ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে কাপড় ভিজা দেখে কিন্তু তার স্বপ্নদোষ হবার কথা স্মরণ নেই। তখন সে  কি করবে? রাসূল (সাঃ) বললেনঃ তখন সে গোসল করবে।

অন্য ব্যক্তি সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখেছে যে ত্র বীর্যপাপ্ত হয়েছে, কিন্তু ঘুম থেকে উঠে দেখে তার কাপড় ভিজা নেই সে কি করবে?উত্তরে রাসূল (সাঃ) বলেনঃ তার উপর গোসল ফরয নয় অর্থাৎ তাকে গোসল করতে হবে না। মা উম্মে সালমা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! কোন স্ত্রীলোকেরও যদি স্বপ্নদোষ হুয় তাহলে সে কি করবে? তদুত্তরে রাসূল (সাঃ) বলেনঃ তাকেও গোসল করতে হবে।(তিরমিযী)”

যখন পুরুষ তার স্ত্রীর যৌনাঙ্গে লিঙ্গ ঢুকাবে তখন দু’জনার উপরই গোসল ফরয হয়ে যাবে যদিও বীর্যপাত না হয় কিন্তু যখন কেহ ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখেছে যে, সে কোন মহিলার সাথে সহবাস করছে, এমন কি লিঙ্গ উত্তেজিত হয়েছে এবং এ মহিলার যৌন অঙ্গে তার লিঙ্গ ঢুকিয়ে দিয়েছে এবং মিলনের শেষ মুহূর্তেটিতে তার লিঙ্গ থেকে বীর্য টপকে টপকে বের হয়েছে মিলনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে এবং কাপড়ও ভিজে গেছে কিন্তু ঘুম জেগে তার কাপড় বীর্যে ভেজার কোন চিহ্ন দেখল না, এমতাবস্থায় তাকে গোসল করতে হবে না; আর যদি কোন ব্যক্তি ঘুম থেকে জেগে কাপড় ভেজা পেল কিন্তু তার স্বপ্নদোষ হবার কথা স্বরণ নেই, তাহলে সে অবশ্যই ফরয গোসল করবে। এ বিষয়ে তিরমিযী শরীফে প্রমাণিত হয়—

“উম্মে সালমা (রাঃ) হতে বর্ণিত, মালহানের কন্যা উম্মে সুলাইম বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা’আলা হক কথা বলতে লজ্জা করেন না। স্ত্রীলোকের উপর কি গোসল ফরয হয় যখন তার স্বপ্নদোষ হয়? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উত্তরে বলেনঃ হ্যাঁ যখন সে (জাগ্রত হয়ে) বীর্য দেখে। এ কথা শুনে উম্মে সালমা লজ্জায় মুখ ঢেকে ফেলে বলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! স্ত্রীলোকেরও কি স্বপ্নদোষ হয়? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, কি আশ্চর্য! তা না হলে তার সন্তান হয় কেমন করে? এবং মায়ের আকৃতির হয় কেমন করে।” (বুখারী, মুসলিম)

মুসলিম শরীফ থেকে আরও প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একথাও বলেন যে, পুরুষের গাঢ় ও সাদা বীর্য এবং স্ত্রীলোকের বীর্য পাতলা ও হলদে। উভয়ের মধ্যে যেটিই জয়ী হয়ে অথবা গর্ভাশয়ে প্রবেশ করে সন্তান তারই সাদৃশ্য হয়।

এ বিষয়ে বুখারীর আরও একটি হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে,

“উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু তালহার স্ত্রী উম্মে সুলাইম রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ সত্য বলতে লজ্জা পান না। মেয়েদের স্বপ্নদোষ হয়ে বীর্যপাত হলে গোসল করতে হবে কি? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন হ্যাঁ, যদি পানি দেখতে পায়।”(বুখারী)

আমাদের মোবাইল পাতা'তে প্রবেশ করুণ। তাহলে আপনি আমাদের পূর্ণ সাইট ব্যবহার করতে পারবেন।  

Syed Rubelস্বপ্ন দোষগোসলস্বপ্নদোষ কোন রোগ নয়। মানবদেহে সাধারণতঃ যৌবন আগমনের পর প্রকৃতি থেকেই নিয়মিত ভাবে প্রতি মাসে দু’ একবার শরীরের বীর্য বের হয়। এটি সাধারণতঃ স্বপ্নের মধ্য দিয়ে হয় বলে একে স্বপ্নদোষ বলে। যৌবন কালে দেহে নিয়মিত শুক্র সৃষ্টি হয়। শুক্রগুলো জমা হয় শুক্রবাহী নালী ও শুক্র থলিতে। একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর...Amar Bangla Post