Breaking News

সঙ্গম

মনের সূক্ষ্মবৃত্তি মানুষকে সকল জন্তুদের থেকে অনেকখানি উন্নত করেছে। প্রেম হলো মানুষের সেই মানসিক বৃত্তির পরাকাষ্ঠা। সঙ্গম হলো সেই প্রেমের মূল্যদান। প্রেমে অভিষিক্ত হয়ে নর-নারী স্বেচ্ছায় সেই মূল্যের আদান-প্রদান করে। এমন সঙ্গম ক্রিয়ার মধ্যে কোনো লজ্জা বা ভয়ের অবকাশ থাকবে না। সঙ্গম সম্বন্ধে আলোচনা এই মনোভাব নিয়েই করতে হবে। নির্বিকার শিক্ষার্থীর মতো মন নিয়ে পাঠক-পাঠিকাকে এই অধ্যায়টি পড়তে হবে। এর মধ্যে এমন কিছু কথা জানবার থাকতে পারে যা আমাদের দেশের অধিকাংশ মেয়েরা এবং অধিকাংশ পুরুষেরাও জানে না। এই সঙ্গম ক্রিয়ার সম্বন্ধে সব কথাই সকলের পক্ষে সুস্পষ্টভাবে জেনে রাখা দরকার। তাতে প্রত্যেক স্বামী ও স্ত্রী সহজেই পরস্পরকে সুখী করতে পারবে। জীবনে তাদের অশান্তি দেখা দেবে না। আজকাল জানা যাচ্ছে যে বিবাহিত জীবনের যত কিছু অশান্তির মূল এরই মধ্যে লুকিয়ে আছে। উপযুক্ত জ্ঞানলাভ এবং তাঁর প্রয়োগের দ্বারাই সে অশান্তি নিবারিত হতে পারে।

সঙ্গমের নির্দিষ্ট ক্রিয়াটি যে কেমন ভাবে করতে হয় এ কথা জগতের কোন প্রাণী না জানে? এ বিদ্যা কাউকে শিখিয়ে দিতে হয় না, সকলেই নিজের সহজাত প্রবৃত্তির দ্বারা আপনা থেকেই শিখে নেয়। নিত্যই দেখা যায় যে সঙ্গমে নিযুক্ত হওয়া মাত্র প্রত্যেক প্রানী আগে কিছুই না শিখে ঠিক নির্ভুল ভাবে এই ক্রিয়া করে যেতে থাকে।

কিন্তু এ বিষয়ে যে কথাটি মানুষের পক্ষে সব চেয়ে বিশেষ করে জানা দরকার সেটি এই যে, মানুষের সঙ্গম উভয় পক্ষের তৃপ্তির সঙ্গম। এতে নর এবং নারী, দুজনেরই সমান তৃপ্তি পাওয়া চাই। একজনই কেবল তৃপ্তি ভোগ করবে, একজন তাঁর নিমিত্তমাত্র হবে, মনুষ্য সঙ্গমের এ উদ্দেশ্য কখনই নয়। স্বামী এবং স্ত্রীতে যেখানে যৌন মিলন ঘটলো সেখানে শেষ পর্যন্ত দুজনেরই যৌন ত্রিপ্তি সম্পূর্ণ না হলে সেই  মিলন সার্থক হলো না। সন্তান সৃষ্টির দিক দিয়ে এ কথা নয়, কারণ তৃপ্তি নারীর পক্ষে হোক  বা নাই হোক, পুরুষের শুক্র কোনোক্রমে নারীর যোনিতে গিয়ে পড়লেই তাঁর থেকে সন্তানের উৎপত্তি হয়ে থাকে। এমন কি কোনো পুরুষের সদ্যনির্গত শুক্র যদি ডাক্তারি পিচকারীতে ভরে কোনো নারীর যোনির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া যায় তবে তাঁর থেকেও সন্তানের উৎপত্তি হতে পারে।

প্রাশ্চাত্যের কথা বাদই দিলাম। ভারতে তথা আমাদের কলকাতাতেও নল জাতকের সংখ্যা নেহাত এখন কম নয়। মানুষের সঙ্গমের মুখ্য উদ্দেশ্য কেবলই সন্তান উৎপাদন নয়, তাঁর চেয়ে আরো একটা বড় উদ্দেশ্য হলো তাঁর আনন্দ । সেই আনন্দকে লক্ষ্য করেই মানুষের এত রকমের বিশিষষ্টতা। সব কিছু প্রচেষ্টার মধ্যে তাঁর আনন্দই হলো প্রধান কাম্য। সৃষ্টিরক্ষার জন্য প্রকৃতিও তাঁর এই আনন্দের চাহিদার সঙ্গে শুক্রপাতকে যোগ করে দিয়েছে। কিন্তু এটা কেবল পুরুষের বেলা, তাই শুক্রপাত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর নিবৃত্তি হবে না। নারীর  বেলা সঙ্গমের সময় সৃষ্টিরক্ষার দিক দিয়ে কনো কিছুই হবার নেই, তাই গর্ভাধানের সঙ্গে আনন্দকে যোগ করে দেবার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বৃহত্তর উদ্দেশ্যের দিক দিয়ে সঙ্গমে আনন্দ পাবার সুযোগ তাকেও দেওয়া হয়েছে, যদি সেটুকু তাঁর পক্ষে অধিকন্ত পাওনার মতো। সুযোগ হলে সেই আনন্দটুকু সে পেয়ে যাবে, না হলেও সৃষ্টিরক্ষার তাতে কোন ব্যাঘাত নেই। কিন্তু প্রকৃতির প্রয়োজনের অতিরিক্ত সেই আনন্দের পাওনাটুকু তাঁর পাওয়া খুব দরকার, নইলে মনুষ্য জীবনের একটা প্রধান অধিকার থেকে সে বাদ পড়ে যায়। সেই মনুষ্য অধিকারের দিক দিয়ে নারীকেও সঙ্গমে শেষ পর্যন্ত তৃপ্ত করতে হবে। সঙ্গমসুখ নর-নারীর মধ্যে সমানভাবে বন্টিত হওয়া দরকার। এই কথাটি সর্বাগ্রে আমাদের প্রত্যেককে ভালো করে বুঝতে হবে ও পরস্পকে বোঝাতে হবে।

নারীর দিক দিয়ে এই যৌন তৃপ্তির কথা আজকাল নতুন করে বলা হচ্ছে তা নয়। বহু পুরাকাল থেকেই এ কথা বলা হয়ে গেছে। বাৎস্যায়নের কামসূত্রে ও অনঙ্গরঙ্গ প্রভৃতি অন্যান্য গ্রন্থে সঙ্গমের বহু প্রকার ও প্রকরণের বর্ণনা করে অতি নিখুঁত ভাবে পুনঃ পুনঃ নির্দেশ দেওয়া আছে যে, কোন কোন উপায়ের দ্বারা বিভিন্নরূপ নারীকে যৌন তৃপ্তি দিতে হবে, এবং তা দিতে না পারলেই পুরুষের সঙ্গম প্রচেষ্টার অঙ্গহানি হবে(কামসূত্র যৌন বিজ্ঞানের মহাকাব্য নিবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা পূর্বেই করা হয়েছে)।সম্ভবত তখনকার দিনে সেই সকল নির্দেশই যথাযথভাবে পালন করাও হতো। কিন্তু তারপর থেকে পুরুষের প্রাধান্য প্রবল হয়ে উঠলো, নারী হলো তাঁর একান্ত ভোগের বস্তু। এখন পুরুষ কেবল নিজের তৃপ্তিটাই দেখে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীর তৃপ্তির চাহিদার কথা মোটে জানেই না, তাঁর সে চাহিদা মেটাবার বিষয়ে কোন খেয়ালও করে না। নারীজাতি এতকাল পুরুষের এই আত্মপরায়ণতা সহ্য করে এসেছে। স্পষ্ট করে কিছু দাবি করেনি এবং মুখ ফুটে কিছু ব্যক্তও করেনি। কিন্তু ভিতরে যে ব্যর্থতার গ্লানি জমে উঠেছে তাঁর ফল কোথায় যাবে? আজ ঘরে ঘরে যে স্ত্রী-পুরুষের মধ্যে এত অশান্তি, জটিলতা, মনের অমিল, তাঁর মূল হেতুটি কোথায়? মেয়েদের মধ্যে এত স্ত্রীরোগ, বাধকের ব্যাথা, হিষ্টিরিয়া, শিরঃপীড়া, স্নায়ুদৌর্বল্য, যৌন অসাড়তা, এই সবেরই বা কারণ কি? আমরা চিকিৎসার ক্ষেত্রে মনোযবনিকার অন্তরালে ঢুকে নানারূপ দেখেশুনে এটুকু অন্তত খুব ভালো রকমই জেনেছি যে এই সমস্ত অঘটনের মূলে রয়েছে মেয়েদের যৌন অতৃপ্তি। যৌন জীবন তাদের অধিকাংশেরই ব্যর্থ হয়েছে।স্বামী হয়তো যথেষ্টই ভালোবেসেছে, স্বামীকেও তারা ভালোবেসেছে, কিন্তু তবুও যৌন মিলনে তারা তৃপ্তি পায় নি। যদি সেই দিক দিয়ে জৈব ক্ষুধাটা মিটে যেতো তাহলে নিশ্চয়ই তারা স্বতন্ত্র ধরনের মানুষ হতো। তাদের স্বাস্থ্যও থাকতো ভালো, আর মনেও কোনো গন্ডগোল ঘটতো না।

অনেকের ধারণা, সঙ্গমে পুরুষের যেমন একটা চরম অবস্থা আসে অর্থাৎ সুখের দিক দিয়ে সে একটা চরম পরিণতিতে গিয়ে পৌঁছতে পারে, মেয়েদের বেলা সেই ধরনের কিছু নেই। তাদের যেটুকু তৃপ্তি হয়, তাঁর, মধ্যে এমন কোনো  নির্দিষ্ট পরিণতি থাকতে পারে না যেমন পুরুষের বেলাতে আছে। শুধু তাই নয়, পুরুষের যেমন বীর্যপাত হয়ে থাকে, মেয়েদের তেমন কিছু নেই। অতএব বীর্যপাতের দরুণ যে আলাদা একটা সুখের অনুভূতি, মেয়েদের তরফে বুঝি তেমন জিনিসের কোনো প্রশ্নই নেই।

বলা বাহুল্য এ সকল ধারণা একেবারেই ভুল। মেয়েরাও প্রকৃতি যৌন সুখ পেতে পারে এবং সেই সুখ বাড়তে বাড়তে পুরুষের মতোই চরম পরিণতিতে গিয়ে পৌঁছতে পারে। পুরুষের মতো বলা ঠিক হলো না, কারণ ওদের তৃপ্তির যখন সেই চরম মুহূর্ত উপস্থিত হয় তখন পুরুষের চেয়েও তাঁর সম্ভোগ ব্যাপকতা ও গভীরতা অনেক বেশি। এর কারণ পুরুষ যৌন তৃপ্তি অনুভব করতে পারে একমাত্র তাঁর লিঙ্গটির দ্বারা। কিন্তু নারী সেই সুখ অনুভব একসঙ্গে তিনটি যৌন অঙ্গের দ্বারা,– প্রথম অঙ্গ যোনি, দ্বিতীয় অঙ্গ শিশ্নিকা, তৃতীয় ওঞো জরায়ু। চরম ক্রিয়ার সময় পুরুষের কেবল লিঙ্গটিতেই যেমন বিশিষ্ট প্রকার আক্ষেপ ঘটতে থাকে, নারীর বেলা ঠিক তেমনি ধরনের আক্ষেপ ঘটতে থাকে উপর্যুপরি ঐ তিনটি স্থানে। একদিকে যেমন যোনিগাত্রের মাংসপেশীগুলির ঘন ঘন সংকোচনের ক্রিয়া চলতে থাকে অন্যদিকে তেমনি শিশ্নিকার ক্ষুদ্র অঙ্গটি পুরুষের লিঙ্গের মতোই উত্তেজনায় দাঁড়িয়ে উঠে তারই মতো চাঞ্চল্য অনুভব করতে থাকে। আবার জরায়ুর বহির্মুখটি তখন একটু নিচের দিকে অগ্রসর হয়ে এসে ঘন ঘন খোলা বোজার প্রক্রিয়ার দ্বারা পাম্পের মতো যেন কিছু শুষে নেবার প্রয়াস করতে থাকে, এটা যেন পুরুষের শুক্রকে ভিতরে টেনে নেবার প্রয়াস। এই যে তিন দিক থেকে তিন রকমের চাঞ্চল্য শুরু হয়ে যায়, এর দ্বারা অনেক মেয়েদের যোনির মধ্যে ঐ সময়ে কিছু রসক্ষরণও হয়ে থাকে। সে রস যদিও শুক্রের মতো নয় এবং যদিও তা পরিমাণে প্রচুর নয়, কিন্তু তবুও সেটা তৃপ্তিকালীন স্রাব। তাঁর মধ্যে থাকে যোনিমধ্যস্থ ছোটখাটো রসস্রাবী গন্ডগুলির রস, এবং জরায়ুর মুখ থেকে পুনঃ পুনঃ চাপের দ্বারা নির্গত হবে না এ কথা মনে করাও ভুল। প্রকৃতপক্ষে অনেকেরই কিছু একটা ক্ষরণ হয়ে থাকে এবং সেটা তারা টের পায়।

পুরুষ ও নারীর যৌন তৃপ্তির পার্থক্য এই, যে পুরুষের লিঙ্গটির সেই সময়কার আচরণ চোখেও দেখা যায় এবং যোনিমধ্যে অনুভব করতেও পারা যায়। কিন্তু নারীর গভীর অঙ্গ সমূহে যা ক্রিয়া হবার তা হতে থাকে ভিতরে, সুতরাং সে নিজে ছাড়া অপর কেউ তাঁর বিন্দুমাত্র আভাস পায় না। কিন্তু সেদিক দিয়ে কিছু বোঝা না গেলেও কোনো এক গভীরতম তৃপ্তির সূচনার তাঁর নাসারন্ধ্র ফুলে ওঠে, ঘন ঘন নিঃশ্বাস পড়তে থাকে, চোখের তারা দুটি বড় হয়ে উঠে, গলার শিরাগুলি ফুলে ওঠে, সারা দেহ থর থর করে কাঁপতে থাকে, অনেক নারী সঙ্গমে চরমতৃপ্তি পর্যায়ে পোঁছে মুখ দিয়ে আহ…উহ…ওহ প্রভৃতি নানারকম শীৎকার ধ্বনি করতে থাকে এবং দুই বাহু দিয়ে স্বামীর গন্ডদেশ এবং দুই পা দিয়ে নিতম্ব জড়িয়ে ধরে। স্বামীকে যোনি থেকে লিঙ্গ বিচ্ছিন্ন করতে দিতে চায় না এবং অন্তিম মুহূর্তে হয়তো একবার অত্যন্ত শিউরে উঠে দেহটি স্থির হয়ে যায়, চোখের পল্লব বুজে যায়, এবং মাথাটি লতার মতো লুটিয়ে পড়ে। তখন বোঝা যায় তৃপ্তি হতে হতে এবার অবসান ঘটেছে। এই তৃপ্তির শেষ মুহূর্তটি উপস্থিত হবার সময় মেয়েরা কেউ কেউ দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে, আর গোঙানির মতো একরকম শব্দ করতে থাকে। এই অবস্থাকে বলে সঙ্গমে নারীর চরম তৃপ্তি বা ইতিহর্ষ লাভ, ইংরেজী পরিভাষায় যাকে বলা হয় orgasm. প্রতিবারের সঙ্গমে নারী একাধিকবার চরমতৃপ্তি বা ইতিহর্ষ লাভ করতে পারে(Mltiple Orgasm)।

আরো এক দিকে দিয়ে পুরুষে ও নারীতে তৃপ্তি উপভোগের পার্থক্য আছে। পুরুষের একমাত্র লক্ষ্য কতক্ষণে সে যোনিমধ্যে লিঙ্গটিকে প্রবেশ করাতে পারবে। কোনোগতিকে এইটুকু ঘটাতে পারলেই তাঁর কার্যসিদ্ধি । লিঙ্গটি যখন সম্পূর্ণ ভাবে ঢুকে গেল তখন থেকে উভয়পক্ষের নিতম্বের উত্থান পতনের দ্বারা মৈথুনের প্রক্রিয়াটি হতে থাকলো, অল্পক্ষণ পরেই শুক্রপাতে পুরুষের তৃপ্তির অবসান হলো। পুরুষ ভাবে যে এ ছাড়া নারীকে খুশী করে সঙ্গমে সম্মত করবার জন্য। পরস্পরের যৌন অঙ্গই যখন সংযুক্ত হয়ে গেছে তাঁর পরে শুধু মৈথুন ক্রিয়াটি শেষ করা ছাড়া আর অন্য কিছু করবার প্রয়োজন কি?

কিন্তু নারী যেমন উপভোগ চায় তা ঠিক এই ধরণের নয়। প্রথমত যোনির সুখের দিকে তাঁর আসল লক্ষ্যী নয়। যোনিকে সঙ্গমে প্রবৃত্ত করা সম্বন্ধে প্রথম দিকটাই তাঁর রীতিমতো আতংকই থাকে। সে জানে যে যোনিস্থান তখনও এ কাজের জন্য প্রস্তুতই হয় নি। উত্তেজনার রসে ভিজে যথেষ্ট নরম এবং স্ফীত না হলে লিঙ্গ প্রবেশে যোনিতে যথেষ্ট ব্যথায় লাগবে। সুতরাং ওর জন্য আপাতত ব্যগ্র নয়। আর এই কথাটি শুনতে আশ্চর্য লাবে, কিন্তু যোনিটিই তাঁর তৃপ্তি অনুভবের সর্বশ্রেষ্ঠ কাম কেন্দ্রস্থান নয়। বলতে গেলে বহু তৃপ্তি-পিপাসিত যৌন কেন্দ্র তাঁর শরীরের সকল অঙ্গে ছড়ানো আছে, সে চায় তাঁর প্রিয়কে সকল অঙ্গ দিয়েই উপভোগ করতে। তাঁর মুখে, কানে, চোখে, গলায়, বগলে, বুকে,স্তনের বৃন্তে, নাভীতে, উরুতে, কামাদ্রিতে, শিশ্নিকাতে, মূলাধারপীঠে, এমন বহু জায়গায় বহু যৌন অনুভূতির ক্ষেত্র আছে যার কাছে যোনিটি তুচ্ছ হয়ে যায়। নারী আগে চায় সেই সকল স্থানেই প্রিয়ব্যক্তির স্পর্শ বৈদ্যুতিক স্পর্শ। স্পর্শের দ্বারা নারী যেমন দেহে মনে উত্তেজিত হয়ে ওঠে, এমন আর কোনো কিছুতেই নয়। মিলনের প্রথম অবস্থা থেকে তাঁর সারা দেহটাই কেন্দ্রে কেন্দ্রে তৃপ্তি লাভের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। তাঁর দেহের বিশেষ বিশেষ স্থানে প্রিয় ব্যক্তি স্পর্শ কিংবা চুম্বানাদি কিংবা মৃদু দংশনের দ্বারা উদ্দীপিত করলেই নারী মনের মতো তৃপ্তি পেতে শুরু করে। সেই সকল বিষয়ে কিছুমাত্র গ্রাহ্য না করে যদি পুরুষের কেবল যোনির দিকেই লক্ষ্য যায়, এবং যদি সে কেবল তাঁর মধ্যেই লিঙ্গটি প্রবেশ করিয়ে নিশ্চিন্ত হয়, তবে তখন নারীর মনে একটা হতাশা জাগে। সে নিশ্চিন্ত বুঝে নেয় যে অতঃপর আর একটুও বিলম্ব হবে না। এবার কেবল মৈথুনেই পুরুষের সমস্ত আগ্রহ নিযুক্ত হয়ে থাকবে, আর অচিরেই তাঁর তৃপ্তির আশার সমাপ্তি ঘটবে।

নারী কিন্তু প্রথম থেকেই কামনা করে এসেছে যে এমনভাবে যেন সব কিছু তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে না যায়। তাঁর আন্তরিক ইচ্ছাটুকু ছিল এই যে, আগে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ ধীরে ধীরে তৃপ্তিলাভ করুক। চুম্বনে, আলিঙ্গনে, আস্বাদে, আঘ্রাণে, ধর্ষণে, মর্দনে, লেহনে এবং চোষণে শরীরের সকল অংশ আগে আনন্দবোধের চরম সীমায় গিয়ে উপনীত হোক, পর্যাপ্ত রসস্রাবে যোনিস্থান প্লাবিত হয়ে যাক, অবশেষে যথাসময়ে পুরুষের লিঙ্গটি যোনি মধ্যে প্রবেশ করে তৃপ্তির চরম শীর্ষে তাকে নিয়ে যাক। তখন আর তাঁর কঠিন লিঙ্গ প্রবেশে কোনো আতংক নেই, ব্যথাদায়ক মৈথুন ক্রিয়ার বিরুদ্ধেও কোনো আপত্তি নেই, কারণ ততক্ষণে সে এরই জন্য রীতিমতো প্রস্তুত হয়ে উঠেছে। তখন পুরুষের চরম মুহূর্তের সময়টিতে তারও মুহূর্ত এক সঙ্গেই মিলিত হয়ে যাবে, আর দুজনে একত্রেই মহা তৃপ্তি উপভোগ করবে।

 নারী চায় এমনি ধরনের সর্বাঙ্গীণ সঙ্গম। পুরুষ ইচ্ছা করলে নারীকে প্রত্যেক বারেই এমনি সঙ্গমদানে তৃপ্ত করতে পারে। কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরে কেবল শৃঙ্গারের উপাচারগুলি প্রয়োগ করতে থাকলেই হলো। তাকে আবিস্কারের দ্বারা জেনে নিতে হবে যে, কোন বিশেষ প্রক্রিয়াতে তাঁর সঙ্গিনী সবচেয়ে বেশি রকম উত্তেজিত হয়। সুতরাং তাকে নিত্য নতুন নতুন ভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ইচ্ছা এবং চেষ্টা থাকলে এটুকু আবিস্কার করতে পারা পুরুষের পক্ষে কিছুই কঠিন নয়,এবং তাতে তাঁর ধৈর্যচ্যুতিও হবার কথা নয়, কারণ সঙ্গমের সঙ্গিনীকে উত্তেজিত করে তোলাবার মধ্যেও এক রকমের আনন্দ আছে। পুরুষ এই নিয়েই নিযুক্ত থেকে সেই সময় কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরলে তাঁর বিশেষ ক্ষতিও হবে না। কারণ শেষ পর্যন্ত সার্থক সঙ্গম ঘটবেই, এবং যেটুকু নিজস্ব তৃপ্তি তাঁর কাম্য সেটুকু সে পাবেই। তাঁর আগে সঙ্গিনীকে সে উত্তমরূপেই উত্তেজিত করে নিক। যখন সে উত্তেজনার আতিশয্যে চরম সীমার কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছবে, তখন পুরুষ নিশ্চিন্ত মনে মৈথুন ক্রিয়াতে নিযুক্ত হয়ে পড়ুক। যদি নারীর তৃপ্তি তখন আগে ঘটে যায়, তাতেও কোনো ক্ষতি নেই। নারীর তৃপ্তি লাভের পরেও পুরুষের তৃপ্তিটুকু অনায়াসে ঘটতে পারে এবং তা বেশি পরিমাণেই। কিন্তু পুরুষের তৃপ্তির পরে নারীর তৃপ্তি পাওয়া আর সম্ভব হয় না। পুরুষের সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সমস্ত অঙ্গ শিথিল হয়ে যায়, তাঁর লিঙ্গ সংকুচিত হয়ে যায়, তখন আর সে চেষ্টা করেও কিছু করতে পারে না।

সঙ্গমকালে আরো কয়েকটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হয়, তাহলে খুব তাড়াতাড়ি তাঁর সমাপ্তি হয় না। প্রথমত লিঙ্গ প্রবেশ করাবার সময় সেটি পিচ্ছিল করা থাকলেও প্রথমেই সবটুকু ঢুকিয়ে দেবার জন্য ব্যগ্র হওয়া উচিত নয়। খানিকটা ঢুকলেই অমনি থাক, একটু বিশ্রাম। দ্বিতীয় বা তৃতীয় বারের চেষ্টায় সবটুকু ধুকে গেলে তখন আবার কিছু বিশ্রাম। তারপর ধীরে ধীরে মৈথুন ক্রিয়া শুরু। বীর্যপাত হবার উপক্রম দেখলেই আবার কিছুক্ষণ বিশ্রাম। সেই ভাবটা কেটে গেলে আবার তখন মৈথুন শুরু। এমনিভাবে অগ্রসর হতে  থাকলে শুক্রপাত খুব তাড়াতাড়ি হয়না। এই সময় পরস্পরে কেমন বোধ করছে একটু জানাজানি করা ভালো। তাহলে নারীর তৃপ্তি যখন আসন্ন তখন সময় বুঝে মৈথুন শেষ করা যায়। পুরুষের বীর্যপাতের পরেও নারীর তৃপ্তি হতে কিছু বিলম্ব থাকে তাহলে পুরুষ তৎক্ষণাৎ লিঙ্গটি বাইরে বের না করে নিয়ে সেই অবস্থাতেই যোনির মধ্যে রেখে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে থাকবে। একটু বিশ্রাম নিলেই আবার সে মৈথুন নিযুক্ত হতে পারে এবং নারীকে শেষ পর্যন্ত তৃপ্তি দিতে পারে। দুজনের তৃপ্তির পরেও লিঙ্গ কিছুকাল যোনির মধ্যে তেমনিভাবেই রাখা দরকার, কারণ নারীর বেলা তৃপ্তির পরের রেশটুকুও একটু দীর্ঘস্থায়ী। তাড়াতাড়ি বিযুক্ত হলে সেটুকু তাঁর বাদ পড়ে যায়।

 কোনো কোনো স্বামী ভালো রকমেই জানে যে সঙ্গমে কেবল নিজের তৃপ্তি পাওয়াটাই যথেষ্ট নয়, স্ত্রীকেও সেই তৃপ্তি দেওয়া দরকার। তারা প্রকৃতই স্ত্রীকে ভালোবাসে, তাই যথাসম্ভব চেষ্টাও করে যাতে স্ত্রী তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হয়। কিন্তু কতকগুলি ভুল ধারণার ফলে তাদের সে ঐকান্তিক চেষ্টাও অনেক সময় ব্যর্থ হয়ে যায়। তারা এই ভয়েতেই সব চেয়ে বেশি অস্থির হয় যে, মৈথুন ক্রিয়াকে তারা বেশিক্ষণের জন্য বিলম্বিত করতে পারবে না। কিছুক্ষণ মৈথুনের পরেই তাদের বীর্য লিঙ্গ থেকে খসে পড়ে যাবে, এবং স্ত্রীকে তৃপ্তি দেবার তখন কোনো সুযোগই হবে না। তাই তারা প্রাণপণে চায় তাদের রতিশক্তিকে বাড়িয়ে নিতে, অর্থাৎ মৈথুন ক্রিয়ার সময়টাকে যথাসম্ভব বিলম্বিত করতে। ঐ সাময়িক ক্রিয়াটির উপরেই তাদের যত লক্ষ্য। তাদের ধারণা ওই ক্রিয়া যতই দীর্ঘ হবে, ততই সঙ্গিনী সুখী হবে। তাই সেই শক্তিকে দীর্ঘতর করতে হঠযোগ মুষ্টিযোগ ব্যায়ামযোগ প্রভৃতি কোনো যোগেরই ক্রটি হয় না। তারা হেকিমের কাছে ছোটে ইউনানী মলম সংগ্রহের জন্য, কবিরাজের কাছে ছোটে ধ্বজবজ্রস্কুশ বটিকার জন্য, ডাক্তারের কাছে ছোটে হরমোন ও ভিটামিন প্রভৃতি ইঞ্জেকশনের জন্য।

দ্বিতীয় কথা, কেবল রতিক্রিয়াটি বেশিক্ষণ যাবত করতে থাকলে অনেক সময় তাতেও বিশেষ কোনো লাভ নেই। যে স্ত্রীলোকের সহজে যৌন সুখ ঘটলো না, তার হয়তো আধ ঘন্টা কালের অবিশ্রান্ত ঘর্ষণাদিতে তৃপ্তি না হয়ে বিরক্তি আসবে। মনে করা যাক কোনো স্বামী আধ ঘণ্টা পর্যন্ত মৈথুনক্রিয়া করবার শক্তি পেয়েছে। স্ত্রীর কাছে উপস্থিত হয়েই সে প্রস্তাবনা ও প্রস্তুতি নিয়ে বাজে সময় নষ্ট না করে সোজাসুজি রতিক্রিয়াটি শুরু করে দিলো, এবং আধ ঘন্টা পর্যন্ত তাতেই রত হয়ে রইল। এটুকু নিঃসন্দেহে বলা যায় যে স্ত্রী বাধ্য হয়ে চুপ করে থাকলেও তাতে সে কোনোই সুখ পাবে না। শৃঙ্গারবর্জিত রতিক্রিয়ার দ্বারা অমন যোনিপীড়নের যৌন সুখ মোটেই তার কাম্য নয়। তার তৃপ্তিলাভের আদর্শ এর থেকে সম্পূর্ণ রূপেই স্বনন্ত্র। ঐ রকম সুদীর্ঘ নীরস সঙ্গমদানের বদলে, আদরে আলিঙ্গনে আলাপনে শৃঙ্গারে আধ ঘন্টা বা এক ঘন্টা বাজে সময় অতিবাহিত করে তখন যদি দু’মিনিটের মধ্যেই রতিক্রিয়া শেষ করে ফেলা যায়, তবে তাতেই সে অনেক বেশি সুখী হবে। ঐ দু’মিনিট সময়ই তখন তার পক্ষে যথেষ্ট, কারণ সে মনোমতো শৃঙ্গার উপভোগের দ্বারা আগের থেকে সম্পূর্ণ রূপে প্রস্তুত হয়ে তৃপ্তির প্রায় সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তারপর আরো এক । শৃঙ্গারাদিতে অতোখানি সময় মহানন্দে  উপভোগ করবার পরে তখন যদি তার যোনিস্থানের মধ্যে রতিক্রিয়ার সম্পূর্ণ সমাপ্তিটুকু নাই ঘটে, তাতেও তার বিশেষ ক্ষতি হয় না। যত রকমের তৃপ্তি তার পাবার আকাঙ্ক্ষা ছিল, স্বামীর আগ্রহপূর্ণ ভালোবাসা ও আদর আলিঙ্গনে প্রায় সমস্তই মিটে গিয়ে তার অন্তরাত্মা যথেষ্ট তৃপ্ত হয়েছে। বাকি যেটুকু অসমাপ্ত রয়ে গেল সেটুকু তার কাছে তখন তুচ্ছ। পুরুষের পক্ষে এই ধরণের অসমাপ্তিতে সন্তুষ্ট থাকবার কথা ধারণাই করা চলে না। কিন্তু নারীর পক্ষে এটা বলা চলে। তবে উপযুক্ত শৃঙ্গারের দ্বারা যথেষ্ট প্রস্তুতির পরে রতিক্রিয়া শুরু করলে তা যদি খুব অল্পস্থায়ীও হয়, তবু তাতে ওই ধরণের ব্যর্থতা ঘটবার সম্ভাবনাও থাকে খুবই কম।

অতএব এখানে সকলকে এই কথাটি বিবেচনা করতে হবে যে, অল্পক্ষণের শৃঙ্গারের পরে অধিকক্ষণের রতিক্রিয়া, অথবা অধিকক্ষণের শৃঙ্গারের পরে অল্পকক্ষণের রতিক্রিয়া, এই দুইটির মধ্যে কোনটি নারীর কাম্য?

প্রকৃতপক্ষে রতিক্রিয়ার সময়টুকু কত মিনিট বিলম্বিত করতে পারা যাবে তাই নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াটা নিরর্থক। মেয়েদের কাছে আসল রতিক্রিয়াটির চেয়ে শৃঙ্গার ক্রিয়াগুলোই অধিক মূল্যবান আর অধিক আনন্দদায়ক। এই কথাটা বিশেষ করে মনে রাখা দরকার। আদর আলিঙ্গন বর্জিত স্থুল রতিক্রিয়াতে পুরুষের স্পৃহা থাকলেও মেয়েদের কোনো উত্তেজনাই আসে না। সকল নারীর পক্ষে এ কথা সত্য না হতে পারে, কিন্তু অধিকাংশের পক্ষে নিশ্চয়ই সত্য। সেইজন্য রতিক্রিয়ার চেয়ে শৃঙ্গারকে অনেক বেশি প্রাধান্য দিতে হবে, আর পুরুষকে তারই সম্পূর্ণ সুযোগ নেবার চেষ্টা করতে করতে ক্রমশ অগ্রসর হতে হবে।

 

এই পদ্ধতি পুরুষদের পক্ষে অভ্যাস করা বিশেষ কঠিন হবে না, যদি সর্বাঙ্গীণ সার্থকতার জন্য এমনি করাই দরকার এটুকু কথা যৌন জীবনের প্রথম থেকেই তারা স্পষ্ট জানতে পারে। শুধু তাই নয়, এও বোঝা দরকার যে সঙ্গমে নিযুক্ত থাকবার সময়েও ঐ সকল উত্তেজনাদায়ক আদর আপ্যায়ন আলিঙ্গন তাদের যথাসম্ভব চালিয়ে যেতে হবে। তখনও সে বিষয়ে অবহেলা করলে চলবে না। তবেই রতিক্রিয়াতে উভয়ের আনন্দের মাত্রা সমান ভাবে বেড়ে যেতে থাকবে।

মেয়েদের উত্তেজনা জাগাবার জন্য কি কি আনুষাঙ্গিক প্রক্রিয়া করতে হয় তার উদাহরণ এর পূর্ববর্তী অধ্যায়ে কতক পরিমাণে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেইগুলিই যথেষ্ট নয়, বিশেষ বিশেষ নারীর উত্তেজনা জাগাবার জন্য অনেক সময় বিশেষ বিশেষ উপায় উদ্ভাবন করতে হয়। কার পক্ষে কোনটা বেশি তৃপ্তিদায়ক হবে তা বলা যায় না, সেটা খুঁজে বের করে নিতে হয়। সাধারণত স্বামী যদি অন্ধ না থেকে স্ত্রীর গূঢ় তৃপ্তিরহস্যটুকু খুঁজে বের করবার চেষ্টা করে, তাহলে স্ত্রীও সেটি তাকে জানিয়ে দেয়। সেটা যদি খুব সামান্য ব্যাপারও হয়, তবু তাকে কিছুমাত্র উপেক্ষা করা চলে না।

আমরা জানি কোনো ভারতীয় ভদ্রলোকের এক ইউরোপীয় পত্মীর কথা। মহিলাটি অত্যন্ত শান্ত স্বভাব এবং স্নেহবতী ছিলেন, কিন্তু রতিক্রিয়াতে তার আশ্চর্য রকমের অনাসক্তি ছিল। নিতান্ত স্নেহের বশেই তিনি অনিচ্ছা সত্বেও  সঙ্গমে সম্মতি দিতেন, কিন্তু সঙ্গমকালে একান্ত নিশ্চেষ্ট হয়ে মৃতবৎ পড়ে থাকতেন। তার স্বামী এতাকে নিছক যৌন অসাড়তা মনে করে তার অনেক চিকিৎসাও করালেন, কিন্তু তাতে কিছুই গল হয়নি। নানারকম পরীক্ষা করতে করতে তিনি দৈবাৎ আবিস্কার করলেন যে সঙ্গমের সময় যদি কোনো স্তনের বোঁটা দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরা যায়, তৎক্ষণাৎ মহিলাটি দারুণ উত্তেজিত হয়ে বোঁটাটি ছাড়িয়ে নেবার জন্য একতা অস্বাভাবিক প্রয়াস করতে থাকেন। অথচ কিছুতেই না ছাড়লে  তিনি যেন একটা যৌনতৃপ্তির আস্বাদ পেতে থাকেন। এমন অদ্ভুত অদ্ভুত ব্যাপার কতই আছে। কিন্তু যেখানে এমন একটা প্রয়োজনীয় তৃপ্তির প্রশ্ন সেখানে কোনো কিছুকেই অদ্ভুত মনে করা উচিত নয়।

যৌন মিলনে মেয়েদের দিক দিয়ে তৃপ্তি পাবার গুপ্তরহস্যটি যে কেমন ধরণের হতে পারে, আশা করি কতক পরিমাণে তার আভাষ দিতে পেরেছি। ওদের পক্ষে আগে চাই মনের জাগরণ ও প্রস্তুতি, তার পরে চাই শরিরের বহুস্থানে বিশেষ বিশেষ রকমের সংস্পর্শ ও সম্ভোগ, তবেই শেষকালে হবে সুনির্দিষ্ট যৌন তৃপ্তি।

প্রতি সঙ্গমেই তাদের এমনি ভাবে গোড়া থেকে প্রস্তুত করে নেওয়া দরকার। কাল তো যথেষ্ট শৃঙ্গার লীলা হয়ে গেছে, অতএব রাত্রে আর অতো কিছুর দরকার নেই, এমন ভাবলে চলবে না। মেয়েরা এইটুকু জানে যে, যৌন সঙ্গম মাত্রই হলো প্রেম নিবেদনের একটা অঙ্গ। তাই যখন এরা দেখে যে ওর মধ্যে পুরুষের লিঙ্গসুখের স্বার্থটাই হয়ে পড়েছে সব চেয়ে প্রবল, তখন ওদের অন্তর বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। তাতে দাম্পত্য সুখ ঠিক জমে না। ঘরে ঘরে এর থেকেই অশান্তির ও চিত্তবিকারের মাত্রা বেড়ে চলেছে। আর কিছু নয়, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে খোলাখুলী ভাবে তৃপ্তি পাবার দিক দিয়ে একটা বোঝাপড়া করে নিতে হবে, আর সেই অনুসারে দুজনকে চলতে হবে। স্বামী জানুক স্ত্রী কিসে তৃপ্তি পায়, আর স্ত্রীও জানুক তাই। দুজনেই নিজেদের কথা জানাজানি দ্বারা পরস্পরকে তৃপ্ত করতে সাধ্যমত প্রয়াস করুক। এই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গমনীতি।

সঙ্গমক্রিয়া করবার নানা রকমের ভঙ্গী অর্থাৎ আসন আছে। কার কোন রকম আসনে কোন অবস্থায় সব চেয়ে বেশি সুখ ও সুবিধা হবে সেটাও এখানে বিবেচ্য। কোনো কোনো পুরুষের একরকম আসনে বেশি সুবিধা হয়, কোনো কোনো নারীর কিন্তু বিশেষ সম্পূর্ণ অন্যরকম আসনে হয়। এতএব এই দিক দিয়েও কিছুমাত্র সংকোচের অবকাশ না রেখে পরস্পরের মধ্যে পরিস্কার একটা বোঝাপড়া গড়ে ওঠা দরকার। একরকম আসনে কেবল পুরুষেরই সুবিধা হচ্ছে আর নারীর হচ্ছে অসুবিধা, অথচ একতরফা ইচ্ছাতে সেই এক আসনেই নিত্য রতিক্রিয়া ঘটে যাচ্ছে, এমন হওয়া বাঞ্চনীয় নয়। পুরুষও স্বতন্ত্র রকম আসনের সুবিধাগুলো জানে না আর নারীও কিছু বলেনা, সেইজন্যই এমন অবাঞ্চনীয় অবস্থাটা এসে পড়ে। একঘেয়েমি দূর করবার জন্যও মাঝে মাঝে রকমারী ভাবে রতিক্রিয়া করা দরকার,এবং বিশেষ লক্ষ্য করে দেখে নেওয়া দরকার যে কোন আসনে নারীপক্ষের বেশি সুবিধা হচ্ছে। বাৎস্যায়ন প্রভৃতি শাস্ত্রকারগণ এই জন্য বহুবিধ আসনের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেছেন, আর বিভিন্ন দম্পতিকে তার প্রত্যেকটির ফলাফল পরীক্ষা করে দেখতে বলেছেন।

নিম্মজাতীয় প্রানীদের মিথুনভঙ্গী একটি মাত্রই হয়ে থাকে, তার কারন তাদের দেহের গঠনের জন্য দ্বিতীয় কোনো ভঙ্গীতে চেষ্টা করাও তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, আর তেমন বুদ্ধিবৃত্তিও তাদের নেই। তাদের একমাত্র প্রয়োজন কোনোগতিকে স্বজাতীয় নারীদেহের যোনি মধ্যে বীর্যপাত করা, সেটুকু সম্পূর্ণ বা অসম্পূর্ণভাবে সমাধা হয়ে  গেলেই যথেষ্ট। কিন্তু মানুষের দেহগঠনও বিচিত্র রকমে সাবলীল, আর তাদের রতিক্রিয়ার মধ্যে বুদ্ধিপূর্বক বহু বৈচিত্র্যও আসতে পারে। আমাদের উপস্থিত সে বিষয়ে বিশদ আলোচনা করবার দরকার নেই, কিন্তু সুবিধা ও অসুবিধার দিক দিয়ে মোটামুটি চার রকম স্বতন্ত্র মিথুন ভঙ্গীর কথা এখানে উল্লেখ করা উচিত।

(১) প্রথম ভঙ্গীটি হলো (চিরায়ত) সবচেয়ে সাধারণ। নারি চিৎ হয়ে শুয়ে থাকে, জানু ফাঁক করে হাঁটু দুটি অল্প মুড়ে রাখে, পায়ের পাতা দুটি রাখে শয্যায়। পুরুষের দেহ তার উপরে উপুড় হয়ে পড়ে তাকে সম্পূর্ণ অথবা আংশিকভাবে আচ্ছাদন করে রাখে। এই অবস্থায় লিঙ্গটিকে সে যোনিমধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেয়। নারীর পাছার নিচে একটি ছোট বালিশ দিয়ে রাখলে এই ভঙ্গীটির পক্ষে কিছু সুবিধা হয়,বিশেষত পুরুষের লিঙ্গ টি যদি আকারে ছোট থাকে। এমনি ভূমিসাৎ পূর্বক মৈথুন করায় পুরুষের পক্ষে নারীকে সম্পূর্ণরকমে অধীন করে দখল করে নেবার মর্মটাই যেন প্রকাশ পায়। পুরুষেরা তাই সচরাচর এইভাবে সঙ্গম করতে চায়। পুরুষের দিক দিয়ে এতে সুবিধাও অনেক আছে। নারীকে নিচে ফেলে রেখে পুরুষ উপরে চড়ে থাকাতে সে ইচ্ছামতো চাপ প্রয়োগ করতে অথবা আপন ভাবে অঙ্গচালনা করতে পারে। আরো সুবিধা এই যে, সে সামনাসামনি চেয়ে প্রিয়ার মুখের ভাব ও লক্ষণগুলি পূর্বাপর সমস্তই দেখতে পায়, সঙ্গে সঙ্গে ইচ্ছামতো চুম্বন বা আলিঙ্গন করতে আর স্তনে অথবা নিতম্বে হস্তপ্রদান করতে পারে। কিন্তু এর দ্বারা বিলম্বিত প্রকৃতির ও অপেক্ষাকৃত অসাড় ধরণের নারীর দিক দিয়ে কোনো সুবিধা নেই। এর দ্বারা পুরুষের লিঙ্গের সঙ্গে নারীর শিশ্নিকার প্রায়ই কোনো সাক্ষাৎ সংস্পর্শ ঘটে না, আর যনির ভিতরকার দৈর্ঘ্য যদি কম থাকে, কিংবা জরায়ু যদি একটু বাঁকা অবস্থায় থাকে, কিংবা লিঙ্গটি যদি পিছনের কোনের দিকে না গিয়ে সামনের কোনের দিকে সজোরে প্রবেশ করে, তাহলে এর দ্বারা নারীর যথেষ্টই আঘাত লাগতে পারে। এমন অবস্থায় তার তৃপ্তির অনুভূতি পেতে যথেষ্ট বাঁধা ঘটতে থাকে, আর শেষ পর্যন্ত সে চরম সুখাবস্থায় গিয়ে পৌঁছতে পারেনা। সুতরাং সকল নারীর পক্ষে এভঙ্গী সুবিধাজনক নয়।

এই সামনাসামনি সঙ্গমের ভঙ্গীর মধ্যেও নানারকম বৈচিত্র্য আছে। যেমন-শুয়ে না পড়ে দুজনে বসা অবস্থাতেও মুখোমুখি আলিঙ্গনে আবদ্ধ থেকে রতিক্রিয়া করতে পারে। এতে নারী-পুরুষের পা-ছড়ানো কোলের উপর মুখোমুখি বসে তার নিজের পা দুটিকে ফাঁক করে পুরুষের কোমরের দুই পাশ দিয়ে প্রসারিত করে দেয়। এইভাবে নারীকে কলে বসিয়ে পুরুষ অনায়াসে তার লিঙ্গটি যোনির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দিতে পারে। তখন বুকের সঙ্গে বুক সংলগ্ন করে দুজনেই দুজনকে বাহুর দ্বারা আলিঙ্গন করে ধরে, এবং পরস্পরে সামনে পিছনে দুলতে দুলতে যথাক্রমে চাপ দিতে পারে। এই প্রক্রিয়াটির সুবিধা এই, যে এতে রতিক্রিয়াকে কিছুক্ষণ বিলম্বিত করা যায়, আর দুজনেই দুজনের সর্বাঙ্গে দিয়ে বেষ্টন করে থাকতে ও মুখে মুখ, বুকে বুক সংলগ্ন করে থাকাতে দুজনেই সঙ্গমকালে একটা নিবিড় বসান্নিধ্য উপভোগ করতে থাকে।

আরো একরকমের বৈচিত্র্য আছে, তাতে নারী থাকে খাটের উপর শুয়ে, আর পুরুষ থাকে তার সামনে নিচে দাঁড়িয়ে। উঁচু খাটের উপর একান্ত কিনারার কাছে পাছা রেখে নারী উঁচু বালিশে পিঠ দিয়ে আড়াআড়ি চিৎ হয়ে শোয়, আর পা দুটিকে ফাঁক করে মাটির দিকে ঝুলিয়ে দেয়। খাট যদি নিচু হয় তবে পাছাটি অবশ্যক মত উঁচু করে রাখে কোমরের নিচে গুঁজে দেওয়া একটি বালিশের উপর। পুরুষটি তখন নারীর দুই পায়ের ফাঁকের মধ্যে দাঁড়িয়ে সঙ্গমে নিযুক্ত হয়। গর্ভবর্তী নারীদের পক্ষে এই ভাবের সঙ্গমে বিশেষ সুবিধা আছে। এতে পেটের উপর কিছু মাত্র চাপ পড়ে না।

(২) দ্বিতীয় প্রকারের ভঙ্গী যাকে চলতি কথায় বলে বিপরীত বিহার। এতে পূর্বোক্ত ভঙ্গীর ঠিক বিপরীত রকমের ব্যবস্থা। অর্থাৎ পুরুষ থাকবে চিৎ হয়ে শুয়ে, নারী উঠবে তার বুকের উপরে। ঘোড়ার চড়ে বসার মতো ভঙ্গীতে নারী পা দুটি দুপাশে গাক করে পুরুষের জানুর উপর উথে বসবে, উবু হয়ে বসাতে তার হাঁটু দুটি থাকবে উপর দিকে মোরা, অথবা হাঁটু গেড়ে বসাতে শয্যার সঙ্গে সংলগ্ন; যখন যেমন সুবিধা। তার দেহকান্ডটি থাকবে খাড়া হয়ে, অথবা সুমুখ দিকে ঝুকে দুপাশে দুই হাতের উপর দেহের  ভর রেখে। সঙ্গমের সময় পুরুষ নিচের থেকে উপর দিকে চাপ দেবে, আর নারী দেবে উপর থেকে নিচের দিকে অথচ একটু সামনের দিকে। এই ভঙ্গীতে পুরুষের পক্ষ থেকে না হলেও নারীর পক্ষ থেকে নানারকমের সুবিধা আছে। প্রথম কথা এই যে, পুরুষের লিঙ্গটিকে সে আপন সুবিধামতো যে কোনো দিকে খুশি চাপিয়ে নিতে পারবে, আর কমবেশি যতটা পর্যন্ত মৈথুনের চাপ তার ভালো লাগে এবং সহ্য হয় ঠিক ততটা পর্যন্তই সে স্বয়ং প্রয়োজনমতো নিয়ন্ত্রিত করে নিতে পারবে। পুরুষ নিচে পড়ে থাকায়  সে কখনই বেশি জোরে চাপ দিতে পারবে না, সুতরাং এই ভঙ্গীতে মৈথুনের সময় নারীর কোনো আঘাত লাগবার সম্ভাবনাই থাকবে না। এতে প্রথম থেকেই সে নিশ্চিন্ততা অনুভব করতে পারবে। আর দ্বিতীয় কথা, সে ধীরে সুস্থে বহুক্ষণ রতিক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবে, মধ্যপথে হঠাৎ সমাপ্তির কোনো আশঙ্কা করতে হবে না। ইতিমধ্যে পুরুষের যদি বীর্যপাত হয়ে যায় তাতেও ক্ষতি কোনো নেই, তার পরে তার লিঙ্গটি যদি কিছুটা শিথিল হয়ে যায় তাতেও ক্ষতি নেই। তখনও রতিক্রিয়া চলতে পারবে, তবে পুরুষকে আরো কিছুক্ষণ চুপ করে পড়ে থাকতে হবে, এই মাত্র। নারী নিজেই উপর থেকে চাপ দিতে থাকায় পুরুষের লিঙ্গটি আংশিক শিথিল হয়ে ছোট হয়ে গেলেও ফসকে বেরিয়ে যাবে না। নারীর তরফে সম্পূর্ণ যৌনসুখ পাচ্ছে না, সেখানে এই পন্থাই অবলম্বন করা উচিত। এতে পুরুষের পক্ষে প্রধান আপত্তি এই হতে পারে যে, সে রতিক্রিয়াকে আপন মনোমতো ভাবে নিয়ন্ত্রিত করতে পারে না, আর নিষ্ক্রিয়ের মতো নিচে পড়ে থাকার দরুণ সে নিজেকে হয়তো একটু অধীনস্থ বোধ করে। কিন্তু এ প্রশ্নেরও একটা মীমাংসা আছে। যেখানে পুরুষের খুব শীঘ্র বীর্যপাত হয়ে যায়, আর নারীর তখনও পর্যন্ত উত্তেজনার সমাপ্তি ঘটে না, সেখানে একই দিনের বা একই রাত্রির মিলনে কিছুক্ষণ সময়ের ব্যবধানে উপর্যুপরি দু’বার সঙ্গম করলে দুই পক্ষের হোক মেটে। সেখানে প্রথম সঙ্গমটি হোক পুরুষকেই উপরে নিয়ে, আর দ্বিতীয় সঙ্গমটি তার বিপরীত প্রকারে। অর্থাৎ প্রথম বারে থাকুক পুরুষেরই পুরাপুরি সক্রিয়তার পালা, কিন্তু দ্বিতীয় বারে থাকুক নারীর। এতে প্রথম বারের ক্রটি দ্বিতীয় পূরণ হয়ে যাবে, কারো কিছু ক্ষোভ থাকবে না। তার পরে দুই তিন দিনের মতো রতি বিরতির একটা ব্যবধান থাকলে একদিনে উপর্যুপরি দু’বার রতিক্রিয়াতে অসুবিধা হবেনা। একই দিনে দু’বার সঙ্গমে প্রথম প্রথম বারের অপেক্ষা দ্বিতীয় বারের রতিক্রিয়া স্বভাবতই অনেকটা বিলম্বিত হয়। সেইজন্য যৌন বিশেষজ্ঞেরাও অনেক ক্ষেত্রে এই উপদেশ দিয়ে থাকেন। এতে নারীর পক্ষ থেকে আপত্তির একটা কারণ ঘটে, তাদের সংকোচ। তারা প্রথমটায় কিছুতেই পুরুষের উপরে উঠে বসতে রাজি হয় না। কিন্তু প্রেমের ও মিলনের ব্যাপারে সংকোচ বা লজ্জার কোনো স্থান নেই। এইভাবে মাঝে মাঝে সঙ্গম ক্রিয়া করতে নারীকে অভ্যাস করিয়ে নিতে হবে। সক্রিয় রতিবিলাসে নিযুক্ত নারীর দেহভঙ্গী ও স্তন দুটি পুরুষ চোখ চেয়ে দেখতে থাকার দরুণ যদি খুব লজ্জা লাগে, তবে পুরুষের তখন উচিত হবে আপনা থেকেই চোখ বুজে থাকা।

(৩) তৃতীয় প্রকার ভঙ্গী হলো পিছন দিক থেকে সঙ্গম করা, যেমন অন্যান্য প্রাণীরা করে থাকে। এও নানারকম বৈচিত্র্যের সঙ্গে করা যায়। নারী হাঁটু গেড়ে বসে পাছার দিকটা উঁচু করে রেখে কনুইতে ভর দিয়ে মাথাটা নামিয়ে বালিশে কাৎ করে রাখলো, এবং যোনিমুখ সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় পেয়ে পুরুষ পিছনে থেকে অক্লেশে লিঙ্গ প্রবেশ করিয়ে দিল, এমন ভাবেও হতে পারে। অথবা নারী পিছন ফিরে পা ফাঁক করে দাঁড়িয়ে সামনের কোনো উঁচু টেবিলে বা খাটের উপর বুক রেখে শুয়ে পড়লো, পুরুষ পিছন দিক থেকে দাঁড়িয়েই সঙ্গম করতে লাগলো, এমনও হতে পারে।। তৃতীয় উপায় কোলের উপর উপবেশনের অবস্থায়! পুরুষ চেয়ারের উপর বসে লিঙ্গটিকে প্রস্তুত করে রাখবে। নারী তার দিকে পিছন ফিরে পা দুটি খুব ফাঁক করে এমনভাবে পুরুষের লিঙ্গটিকে যোনির মুখে লাগিয়ে নিয়ে তার কোলের উপর বসে পড়লো, যাতে বসবার সঙ্গে সঙ্গে লিঙ্গ যোনির মধ্যে আমূল প্রবিষ্ট হয়ে গেল। পরস্পরের সুবিধা নতো সংস্থান হয়ে গেল তখন ধীরে ধীরে দোল খেতে ও ইচ্ছামতো চাপ দিতে লাগলো। অনভ্যস্ত থাকলে এই শেষ উপায়টি নারীর পক্ষে ক্লান্তিজনক মনে হতে পারে। কিন্তু আমরা এমন স্বামী স্ত্রীর কথা জানি যারা বেশির ভাগ এই উপায়েই সঙ্গমক্রিয়া করে থাকে যেহেতু অন্যরকম ধরনের সঙ্গমে পুরুষটির সুখ হলেও নারীটির হয় না। ঐ নারীটির যৌনসুখ জাগরণের বিশিষ্টতা এই যে, সঙ্গমের কালে তার শিশ্নিকাতে হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করতে চাই, নতুবা তার কোন উত্তেজনাই হবে না। প্রথম প্রথম সঙ্গমের সময় সেই নারী নিজেই আপন শিশ্নিকাতে হাত দিতে চেপে থাকতো। তখন ক্রমে ক্রমে স্বামী ব্যাপারটা বুঝতে পারে। স্ত্রীকে নিজের দিকে পিছন করে কোলে বসিয়ে নিয়ে যখন সে সঙ্গম করতে থাকে, তখন পিছন থেকে হাত বাড়িয়ে সে শিশ্নিকাটি ধরে সর্বক্ষণ নাড়াচাড়া করতে থাকে। এতে ঐ নারীর এত বেশি তৃপ্তি হয় যে স্বামীর বীর্যপাত হবার আগেই সে তার চরম তৃপ্তির সীমায় পৌঁছে যায়। এই ভঙ্গী অনেকেই পছন্দ করবে না। কিন্তু একজনের কাছে যেটা খুব অস্বাভাবিক মনে হতে পারে, অন্যজনের কাছে সেটা সর্বাপেক্ষা স্বাভাবিক। এমনি ভাবের সঙ্গমভঙ্গী বিশেষ করে গর্ভবর্তী নারীদের পক্ষে খুবই উপযুক্ত।

(৪) চতুর্থ প্রকারের ভঙ্গী হলো নরনারী দুজনেই পাশাপাশি শুয়ে। এটা সামনাসামনি শুয়েও হতে পারে, আবার পিছন দিক থেকেও হতে পারে। তবে পিছন দিকের অপেক্ষা সুমুখের দিক থেকেই এতে সুবিধা হয়। এক কাতে শুয়ে নারী তার উপর দিকের জানুটি একটু উঁচু করে থাকে, পুরুষ তখন লিঙ্গ প্রবেশের সুযোগ পায়। বিশ্রম্ভালাপ করতে করতে হঠাৎ খুব উত্তেজনা এসে পড়লে অনেকে উঠাউঠির হাঙ্গামা না করে ঐ অবস্থাতেই সঙ্গমে নিযুক্ত হয়ে যায়। এই ভাবে সঙ্গমক্রিয়া ধীরে ধীরে হতে থাকলে তা অনেকক্ষণ পর্যন্ত চলতে পারে। তারপরে উত্তেজনা আরো অধিক হলে তখন কেউ কেউ হয়তো আবার ভঙ্গী পরিবর্তন করে নেয়, কেউ বা ঐভাবেই সমাপ্ত করে। তবে মোটা লোকদের পক্ষে এই ভঙ্গীতে বিশেষ সুবিধা হয় না।

নতুন নতুন বৈচিত্র্যের দ্বারা একটু নতুন রকম আনন্দলাভ করবার জন্য কত লোক যে কতরকম ভাবে রতিক্রিয়া করে থাকে তা জানা কিংবা বর্ণনা করা অসম্ভব। কেউ কেউ আবার রতিক্রিয়া উপভোগের দিক দিয়েও অনেক রকম বৈচিত্র্য অভ্যাস করে। এমন লোক আছে যারা সঙ্গমে নিযুক্ত হয়েই তারপর স্তম্ভনের দ্বারা সেই অবস্থাতেই থেকে যায়, রতিক্রিয়া শেষ হয়ে যাবার মতো কোনোরকম অঙ্গচালনা করেনা।

যোনিমধ্যে স্থিরভাবে লিঙ্গ রেখে ঠিক তেমনি ভাবে থেকে তারা এক ঘন্টা পর্যন্তও কাটিয়ে দেয়, তারপর ওতেই তৃপ্ত হয়ে বীর্যপাত সমাপ্ত না করে বিযুক্ত হয়ে যায়।

যাদের এমন সংযমের শক্তি আছে তারা নিশ্চয়ই তাতে দীর্ঘ উপভোগের একটা সুখ এবং গৌরব অনুভব করে, কিন্তু সাধারণের পক্ষে এমন অভ্যাস করা বাঞ্চণীয় নয়। উত্তেজনায় উদগত শুক্রকে বারে বারে নিরোধ করতে থাকলে তাতে নার্ভের এবং স্বাস্থ্যের হানি পৌঁছানোর পর বীর্য যখন স্খলিত হবার উপক্রম হয় অমনি স্থির হয়ে থেমে যায়। কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে আবার ধীরে ধীরে ক্রিয়া শুরু করে। এমনি বারে বারে বীর্যকে আটকে রেখে তারা বহুক্ষণ পর্যন্ত রমণে নিযুক্ত থেকে অনেক দেরীতে বীর্যপাত করে। এতে যদি দুজনেই ইচ্ছুক হয় এবং দুজনেই আনন্দ পায় তাহলে অবশ্য কোনো কিছু বলার নেই, কিন্তু এও সকলের পক্ষে নির্বিঘ্ন নয়। উত্তেজনাকে বারে বারে ঐভাবে দমন করে যেতে থাকলে শেষে স্নায়ুযৌর্বল্য ঘটতে পারে। যা স্বাভাবিক সেই পর্যন্তই করা উচিত। তার গন্ডী ছাড়িয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করবার চেষ্টা সকলের পক্ষে সহ্য হয় না।

কতবার কতদিন অন্তর সঙ্গম ক্রিয়া করা যেতে পারে এই প্রশ্ন নিয়েও অনেকে মনে মনে বিচার করতে থাকে। কিন্তু এটা ঠিক বিচারের বিষয় নয়, এটা ব্যক্তিগিত চাহিদার ব্যাপার। যার যতবার সঙ্গম করতে স্বাভাবিক আগ্রহ জম্মাবে, সে ততবারই করবে। প্রকৃত আগ্রহ না জম্মালে তখন বিরত থাকাই উচিত। প্রথম যৌবনে ইচ্ছাটা খুব ঘন ঘনই হয়, তার পরে ক্রমে ক্রমে সেটা আপনা থেকেই কমে আসে। একজনের কাছে এমন এই ইতিহাস শোনা গেল, উনিশ বছর বয়সে বিবাহ করবার পর থেকে সে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে তিন বছর কাল পর্যন্ত দৈনিক তিনবার করে সঙ্গম করে এসেছে, এবং তার স্ত্রীও তাতে সমান আগ্রহে যোগ দিয়েছে। তিন বছর পরে দোইনিক একবারের বেশি সঙ্গমেচ্ছা হচ্ছে না দেখে এটা তার পক্ষে একটা অসুস্থতা ভেবে সে চিন্তিতা হয়ে নিজের চিকিৎসা করাতে এসেছিল। কিন্তু এমনটা খুবই অসাধারণ, হাজারের মধ্যে একজনের পক্ষেও সম্ভব কিনা সন্দেহ

আপনি পড়ছেনঃ মেডিক্যাল সেক্স গাইড থেকে>>সঙ্গম

আপনি আরো সাহায্য নিতে পারেন নিচের দুইটি পোস্ট থেকে।

১ স্ত্রীর দ্রুত বীর্যপাত ঘটানোর কৌশ

প্রিয় পাঠক/পাঠিকাঃ আমাদের সাইটের পোস্ট পড়ে যদি আপনার কাছে ভালো তাহলে শেয়ার করুণ। এবং আপনার বন্ধুদের কে আমন্ত্রণ জানান আমাদের সাইটে যোগ দেওয়ার জন্য।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

যৌন মিলনের নিয়ম

যৌন মিলনের চারটি নিয়ম (যৌন মিলনের টিপস)

যৌন মিলনের চারটি নিয়ম আছে। নিয়ম মেনে যৌন মিলন করলে অনেক আনন্দ লাভ করা যায়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *