যে কোন যৌন বা স্বাস্থ্য সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডা.মনিরুজ্জামান এম.ডি স্যার। কল করুন- 01707-330660

নামাযে ভুল হলে

Download PDF

প্রশ্নঃ সাহু সিজদা কাকে বলে? কখন করতে হয় ও কিভাবে করতে হয় এবং কেন করতে হয় বিস্তারিত জানতে চায়?

উত্তরঃ সাহু শব্দের অর্থ হলো ভুলে যাওয়া। নামাযের ভিতরে ভুলবশত কোন ব্যতিক্রম করা হলে তা পুনরায় শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ে ডানদিকে সালাম ফিরানোর পর অতিরিক্ত যে দু’টো সিজদা  আদায় করা হয় তাকে শরয়তের পরিভাষায় সাহু সিজদা বলা হয়।

সাহু সিজদার বিবরণ

০১. ভুলবশত নামাযে কোন ওয়াজিব তরক করলে কোন ওয়াজিব যথাস্থানে আদায় না করলে অথবা কোন রুকন আগে পিছে আদায় করলে, কোন রুকন বারবার আদায় করলে, অথবা কোন ওয়াজিব পরিবর্তন করে আদায় করলে ইত্যাদি কারণে সাহু সিজদা করতে হয়। কিরাত আস্তের জায়গায় জোরে এবং জোরের জায়গায় আস্তে পড়লে সাহু সিজদা করতে হবে। (আলমগীরী দরুল উলুম ৪র্থ খন্ড)

০২. কেউ যদি সূরা ফাতিহা না পড়ে দোয়ায়ে কুনুত পড়ে তাশাহহুদ না পড়ে অথবা ঈদের নামাযে তাকবির না বলে তবে এসব সিজদা সাহু ওয়াজিব হবে।

০৩. ইমামের ভুলে মুক্তাদীর উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে। যদি ইমাম সাহু সিজদা আদায় না করেন তাহলে মুক্তাদীও আদায় করবে না।

০৪. মুক্তাদী যদি ভুল করে তবে এর দ্বারা ইমামের উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না, এমনকি মুক্তাদীর উপরও ওয়াজিব হবে না।(হেদায়া ১ম খন্ড)

০৫. কেউ যদি তিন বা চার রাকাত বিশিষ্ট নামায ভুলবশত প্রথমে বৈঠক না করে দাঁড়াতে উদ্যত হয় এবং বসার নিকটবর্তী থাকাকালীন তা স্মরণ হয় এমতাবস্থায় সে বসে যাবে এবং তাশাহহুদ পড়ে নিবে। এ অবস্থায় সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। আর যদি সে দাঁড়ানোর নিকটবর্তী হয়ে যায় তাহলে দাঁড়িয়ে যাবে এবং নামায শেষে সাহু সিজদা আদায় করবে।

০৬. কেউ যদি শেষ বৈঠক ভুলে যায়, এমনকি পঞ্চম রাকাতের জন্য সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায় এবং সিজদায় যাওয়ার পূর্বে স্মরণ হয় তবে সাথে সাথে বসে যাবে এবং তাশাহহুদ পড়ে নামায শেষ করে নিবে। এ অবস্থায় তাঁর উপর সিজদা সাহু ওয়াজিব হবে।(হিদায়া ১ম খন্ড)

০৭. কেউ যদি সূরা পড়ার পূর্বেই রুকু করে নেয় তাহলে স্মরণ হবার পর মাথা উঠিয়ে নিবে এবং সূরা পড়বে। অতঃপর রুকু করবে এবং নামায শেষে সাহু সিজদা করতে হবে।(তাতারখানিয়া)

০৮. তা দিলে আরকান তথা নামাযের রুকু সিজদা ধীরস্থিরভাবে আদায় করা ওয়াজিব। কেউ যদি যদি নামাযে তা দিলে আরকান না করে তাহলে সাজদা সাহু ওয়াজিব।(আলমগীরী)

০৯. তিন রাকাত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম বৈঠক যদি কেউ ভুলবশত ছেড়ে দেয় তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।

১০. কেউ যদি প্রথম বৈঠক তাশাহহুদ না পড়ে তবে তাঁর উপর সিজদা সাহু ওয়াজিব হবে। (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদীয়া ৭ম খন্ড পৃঃ ১৮৪)

১১. তাশাহহুদ কিছু অংশ ছেড়ে দিলেও সেজদা সাহু ওয়াজিব হবে। (আলমগীরী)

১২. কেউ যদি তাশাহহুদের জায়গায় সূরা ফাতিহা পড়ে তাহলে সিজদা সাহু ওয়াজিব হবে। (দারুল উলুম ৪র্থ খন্ড, পৃঃ৪০৩)

১৩. প্রথম বৈঠকে একাধিকবার তাশাহহুদ পড়লে সাহু সেজদা ওয়াজিব হবে।(ইমদাদুল ফাতওয়া ১ম খন্ড পৃঃ ৫৪০)

১৪. প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর দরূদ শরীফ পড়ে নিলে তিন শব্দ অথবা তাঁর চেয়ে বেশী সিজদা সাহু ওয়াজিব হবে। (ইমদাদুল ফাতওয়া ১ম খন্ড পৃঃ ৫২৯ দারুল উলুম ৪র্থ খন্ড পৃঃ১২)

১৫. কেউ যদি তাশাহহুদ পড়া ভুলে যায় এবং এবং সালাম ফিরিয়ে নেয় তারপর স্মরণ হওয়ার পর তাশাহহুদ পড়ে তাঁর জন্য সাহু সিজদা করা ওয়াজিব।

১৬. নামাযের মধ্যে যেখানে দাঁড়ানো কর্তব্য সেখানে যদি কেউ বসে যায় অথবা বসার স্থানে দাঁড়িয়ে যায় তাহলে সিজদাহ সাহু ওয়াজিব হবে।

১৭. কেউ যদি বিতের নামাযে দোয়ায়ে কুনুত না পড়ে তাঁর উপর সাহু সিজদা করা ওয়াজিব।(আলমগীরী)

১৮। যদি বিতরের তৃতীয় রাকাতে কেরাত পড়ার পর কুনুত পড়ার পূর্বে তাকবীর না বলে তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব।(আলমগীরী)

১৯. কেউ যদি ঈদের তাকবীর আদায় না করে বা নির্ধারিত পরিমাণ আদায় না করে অথবা যথা নিয়মে আদায় না করে তবে তাঁর উপর সিজদা সাহু ওয়াজিব হবে। (বাহরুর রায়েক)

২০. ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর মতে ঈদের নামাযে একটি তাকবীর ভুলে আদায় না করলেও সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।(জখিরাহ)

২১. ঈদের নামাযে দ্বিতীয় রাকাতে রুকূর তাকবীর ছেড়ে দিলে সিজদা সাহু ওয়াজিব হবে। (আলমগীরী)

২২. কোন ব্যক্তি যোহরের নামায পাঁচ রাকাত পড়ল। চতুর্থ রাকাতে তাশাহহুদ পরিমাণ বৈঠক করেছে, তাহলে যদি প্রথম রাকাতের সিজদা করার পূর্বেই স্মরণ হয় তাহলে বসে যাবে। সালাম ফিরাবে এবং সাহু সিজদা করবে। পঞ্চম রাকাতের সিজদা করার পর মনে হলে আর ফিরে আসবে না বরং পঞ্চম রাকাতের সাথে আরো এক রাকাত মিলিয়ে নিবে এবং সিজদা সাহু করবে। অতিরিক্ত দুটি রাকাত নফল হিসেবে গণয় হবে। তবে এটা যোহরের নামাযের দু’রাকাত সুন্নাত হিসেবে গণ্য হবে না।

২৩. ফজরের নামাযে তাশাহহুদ পরিমাণ বসার পর তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলে এবং সিজদা দ্বারা উক্ত রাকাত সংযুক্ত করলে সে রাকাত শেষে সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করবে। চতুর্থ রাকাত পরবে না। (আলমগীরী)

২৪. নামাযে একাধিক ভুল হলে এর জন্যে মাত্র একবার সাহু সিজদা আদায় করলেই নামায সহীহ হয়ে যাবে।

২৫. বিতের বা ওয়াজিব নামাযে ইমামতির সময় চুপে চুপে কেরাত পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে। (তাতারখানিয়া)

২৬. যদি বিতের নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় সন্দেহ হয় যে এটি দ্বিতীয় না তৃতীয় রাকাত তাহলে ঐ রাকাতে কেরাত শেষে দোয়ায়ে কুনুত পড়বে। সর্বশেষে সাহু সিজদা আদায় করবে।(আলমগীরী)

২৭. যদি ভুলে নামাযের কোন ফর কাজ ছুটে যায় তাহলে সাহু সিজদা করলেও নামায দুরস্ত হবে না, বরং পুনরায় পড়তে হবে।

২৮. ভুলে সূরা ফাতিহা পড়েনি, শুধু অন্য সূরা পড়েছে অথবা প্রথমে অন্য সূরা পড়েছে। অতঃপর সূরা ফাতিহা পড়েছে তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।

২৯. প্রথমে দু’রাকাতে সূরা পড়েনি এবং শেষ দু’রাকাতেও সূরা পড়তে ভুলে গেছে এবং শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর এ কথা স্মরণ হয়েছে সাহু সিজদা করে নিবে, নামায সহীহ হয়ে যাবে।

৩০. সূরা ফাতিহা পড়ার পর ভাবতে লাগলো যে, এখন কোন সূরা পড়বে এবং ভাবতে ভাবতে এতো সময় চলে গেল, যে সময়ের মধ্যে তিনবার সুবহানআল্লাহ পড়া যায় তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।

৩১. সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়ার পরে দাঁড়িয়ে ভুলে কিছু ভাবতে লাগলো এবং রুকুতে যাওয়ার আগে তিনবার সুবহানআল্লাহ পড়া যায় পরিমাণ সময় অতিবাহিত হয়ে গেল তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।

৩২. আত্তাহিয়্যাতু পড়ার জন্য বসে ভুলে অন্য কিছু পড়া শুরু করেছে অথবা সূরা ফাতিহা পড়া শুরু করেছে তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।

৩৩. সাহু সিজদা করার পর যদি এরূপ কোন কাজ ঘটে যার জন্য সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় তাহলে আগের সিজদাই এর জন্য যথেষ্ট হবে, আবার নতুন করে সিজদা করতে হবে না।

৩৪. ফরয নামাযের শেষের দু’রাকাতে অথবা এক রাকাতে ভুলে সূরা ফাতিহা না পড়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে রুকুতে চলে গেছে, তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না।

৩৫. নামাযের শুরুতে ভুলে সানা পড়েনি বা রুকুতে সুনহানা রাব্বিয়াল আজীব অথবা সিজদায় সুবহানা রাব্বিয়াল আলা পড়েনি অথবা রুকু থেকে উঠার সময় সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলেনি অথবা নিয়ত বাধার সময় কান পর্যন্ত বা কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠায়নি, কিংবা শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতের পর দরুদ  শরীফ বা দোয়ায়ে মাসুরা না পড়েই সালাম ফিরিয়ে দিয়েছে। এ সকল অবস্থায় সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না।

লেখকঃ হাফেজ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন।

Syed RubelনামাযDownload PDF প্রশ্নঃ সাহু সিজদা কাকে বলে? কখন করতে হয় ও কিভাবে করতে হয় এবং কেন করতে হয় বিস্তারিত জানতে চায়? উত্তরঃ সাহু শব্দের অর্থ হলো ভুলে যাওয়া। নামাযের ভিতরে ভুলবশত কোন ব্যতিক্রম করা হলে তা পুনরায় শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ে ডানদিকে সালাম ফিরানোর পর অতিরিক্ত যে দু’টো সিজদা  আদায় করা...Amar Bangla Post