Home / World Blog / বাংলা ব্লগ / পাকিস্তান সেনাবাহিনী : কিছু কথা ও কিছু বিশ্লেষণ
Pakistan Army

পাকিস্তান সেনাবাহিনী : কিছু কথা ও কিছু বিশ্লেষণ

দেশটির জন্মলগ্ন থেকেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতাবান একটি সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। পাকিস্তানে বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্যের বিষয়টি বেশ জটিল এবং সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সামরিক বাহিনীর অবস্থান সব সময় উপরেই থাকে। আবার এও সত্য যে পাকিস্তানের রাষ্ট্র পরিচালনায় সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের কারণে বেসামরিক সরকার কোন সময়ই একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠতে পারেনি।

যেখানে পাকিস্তানের বেসামরিক পক্ষ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং অযোগ্যতার দরুন দুর্বল, সেখানে সামরিক বাহিনী তাদের সুশৃঙ্খলতার দরুন সব সময় সফলভাবে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানে জঙ্গিবাদ উত্থান, পতন, আর কন্ট্রোলেও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বিশাল ভূমিকা পালন করে আসছে।

বর্তমান বিশ্বের জনপ্রিয় ওয়েস্টার্ন গণতন্ত্রের ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনায় সামরিক বাহিনীর এমন তৎপরতাকে বেশ নিন্দনীয় হিসেবে দেখা হলেও, পাকিস্তানের মতো একটি দেশের বাস্তবতায় পাশ্চাত্যের এই মডেল মনে হয়না পুরাপুরি প্রযোজ্য। আজন্ম শত্রু ভারতকে হিসেবের মধ্যে রেখেই রাষ্ট্রটিকে টিকে থাকতে হচ্ছে। বলতে গেল জন্মলগ্ন থেকেই ভারতের সাথে কোন না কোন প্রকৃয়ায় দেশটির যুদ্ধ লেগেই আছে। এমন পরিস্থিতিতে বেসামরিক সরকার প্রকৃয়ার উপর দেশটির জনগনও একচেটিয়া ভরসা করতে পারেনি। ফলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরাট শক্তি নিয়ে টিকে থাকার বিষয়টি সেই দেশের জনগনের ইচ্ছের বিরুদ্ধে ঘটছে এমনটি বলা যাবে না। কাজেই অন্যান্য দেশের মতো পাকিস্তানের বেসামরিক ও সামরিক অবস্থানের বিষয়টি এতো সরল ভাবে দেখার সুযোগ নাই।

স্বাধীনতার পর থেকেই ভারত পাকিস্তানের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। যার কারণে পাকিস্তান তার রাষ্ট্রীয় সব ব্যাপারের মাঝে প্রতিরক্ষা বিষয়কে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। অর্থাৎ আগে রাষ্ট্রের স্বাধীনতা তারপর বাদবাকি সব। আর এসবই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ক্ষমতায়নের প্রধান কারণ। এই ব্যাপারটা আরও ভালো করে বুঝতে হলে ব্রিটিশরা কিভাবে ভারত উপমহাদেশ ত্যাগ করে চলে যায় তা দেখতে হবে।

ব্রিটিশ রাজ ভারত ছাড়ার পূর্ব নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগে,বেশ কিছু প্রিন্সলি স্টেট, বিশেষত কাশ্মীর আর হায়দারাবাদকে অনিশ্চয়তার মাঝে ফেলে, হিন্দু মুসলমানের মাঝে দাঙ্গা শুরু হয়ে যাওয়ার পর, পাকিস্তান আর ভারতের মাঝে দ্বন্দ্ব আর বিদ্বেষের বিজ পুতে ভারত ত্যাগ করে। এতে করে জন্মলগ্নেই দুই দেশের মাঝে বিরোধ শুরু হয়ে যায়। যেই বিরোধের ধারা দুই দেশ আজও বয়ে বেড়াচ্ছে।

পাকিস্তানের জন্ম বছর ১৯৪৭, আর ১৯৪৭-১৯৪৮ এ কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের সাথে প্রথম যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে পাকিস্তান। ফলশ্রুতিতে পাকিস্তানের রাজনীতিবিদদের মনে নিজেদের স্বাধীনতা নিয়ে বাড়তি সচেতনতার সঞ্চার হয়, এবং শুরুতেই রাষ্ট্রীয় বাজেটের প্রায় ৭০% সামরিক খাতে বরাদ্দ রাখে। শুধু তাই নয়, ভারত থেকে নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষায় পাকিস্তান সরকার তার সামরিক বাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দেয় এবং সামরিক বাহিনীর আভ্যন্তরীণ বিষয়গুলিতে কোনরূপ হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকে। অর্থাৎ পাকিস্তানের স্বাধীনতা রক্ষায় তার সামরিক বাহিনী যে কোন ডিসিশান নেয়ার ক্ষমতা পায়।

১৯৭১ এর যুদ্ধ ছাড়া পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আজ পর্যন্ত পাকিস্তানের জনগনকে তেমন ভাবে নিরাশ করেনি। যদিও এটাকে বাংলাদেশের সাথে যুদ্ধ হিসেবে পাকিস্তান কখনও দেখে নাই। তাদের কাছে বিষয়টা ভারতের মদদে পূর্ব-পাকিস্তান (আজকের বাংলাদেশ) একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে জড়িয়ে যায়। তাছাড়া এই যুদ্ধে পাকিস্তানের তরফে পূর্ন সামরিক শক্তি প্রয়োগের সুযোগ ছিল না। যুদ্ধ তাতিয়ে ওঠার আগেই সংঘাতময় পরিস্থিতির অবসান ঘটে। জন্ম হয় স্বাধীন বাংলাদেশের। আমরা পাকিস্তানকে ৭১ -এর ইমোশনের আলোকে দেখলে আজকের দিনে পারমানবিক শক্তিধর এবং বিশ্ব যুদ্ধবাণিজ্যের অন্যতম ফ্যাক্টর রাষ্ট্র পাকিস্তানকে বুঝতে পারব না এবং বুঝতে ভুল করব।

১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে তাদের পরাজয় আর নৃশংসতা পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক অধ্যায়। এই পরাজয়ের পর পাকিস্তানের নিজ জনগনের কাছে সামরিক বাহিনীর অবস্থান আর আগের মতো থাকেনি। তবে মাত্র ৬ বছর পরেই সামরিক বাহিনী আবার আগের সম্মানজনক জায়গায় ফিরে আসে। ১৯৭৭ সালে, জেনারেল জিয়াউল হক সামরিক ক্যু করে ক্ষমতায় এসে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে আবারও তার পূর্ববর্তী ড্রাইভিং সিটে নিয়ে যান, এবং এরপর থেকে কোন বেসামরিক সরকারকে সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের সুযোগ আর দেয়া হয় নাই।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান যেই হিংস্রতা আর নৃশংসতা দেখিয়েছিল তা একদিকে যেমন ঘৃণিত এবং অপরাধ। যা নিয়ে কোন বিতর্ক করার সুযোগ নেই। অন্যদিকে এর পরে বাহিনীটির সামরিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যে বিপুল প্রজেক্ট নেয়া হয়েছিল তার ফলে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, স্পেশালি সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কুয়েত এর সামরিক বাহিনীতে পাকিস্তানি সামরিক অফিসারদের নেতৃত্ব আর একটিভ অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ।

বর্তমানে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে পরম বন্ধু হোল চীন, যার সাথে যৌথ ভেঞ্চারে পাকিস্তান মেইন ব্যাটেল ট্যাঙ্ক থেকে শুরু করে, যুদ্ধ বিমান, ট্রেইনিং বিমান, সাবমেরিন, বিভিন্ন সামরিক বাহন নির্মাণ করে আসছে। এছারাও পাকিস্তান ড্রোন, মিসাইল, বিশেষত আইসিবিএম, আর্মস এন্ড এম্যুনিশান, যুদ্ধ জাহাজ ইত্যাদি নিজেরাই নির্মাণ করছে। মুসলিম বিশ্বে পাকিস্তান হচ্ছে একমাত্র নিউক্লিয়ার পাওয়ার কান্ট্রি। তার উপর তেলের দাম কমার পর থেকে গালফ দেশসমুহ এখন আমেরিকার চাইতেও পাকিস্তানের সামরিক উপদেষ্টা আর ট্রেইনিং এর উপর ভালো জোর দিচ্ছে।

"You can’t afford having these very expensive contracts with western companies and contractors, so what [the GCC] will do is go toward cheaper contractors, so that’s why they are looking towards China, towards Pakistan, towards Turkey – it’s just the natural move," said Andreas Krieg, a professor at the Defence Academy of the United Kingdom’s Joint Command and Staff College.

পাকিস্তান গালফ দেশসমুহের সশস্ত্র বাহিনীকে শুধু যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে তাই নয়, বরং হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীতে নিয়োজিত, যার মাঝে উল্লেখযোগ্য হোল সৌদি সেনাবাহিনীতে পাকিস্তানি সেনাদের পূর্ণ ব্যাটেলিয়ান নিয়োগ। সৌদি সামরিক বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বাজেটের একাংশ আসে সৌদি আরব আর আরব আমিরাত থেকে।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ চীন থেকে যেই ৪৪ টি মেইন ব্যাটেল ট্যাংক এমবিটি-২০০০ কিনেছে, তা আসলে পাকিস্তান-চিনের যৌথ উদ্যোগে বানানো পাকিস্তানের আল খালিদ ট্যাংকের এক্সপোর্ট ভার্শান। পাকিস্তানের বানানো অস্ত্র-সরঞ্জাম অধুনা পুরা মধ্যপ্রাচ্যে ভালো বাজার পেতে যাচ্ছে, যার কারনে সম্প্রতি পাকিস্তান অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি দুবাইতে তাদের অফিস খুলেছে। সামরিক খাতে পুরা মধ্যপ্রাচ্য চীনের দিকেও হাত বাড়িয়েছে আর সেক্ষেত্রে পাকিস্তান হতে যাচ্ছে একটি প্রধান গেটওয়ে টু চীন।

সৌদি আরবের উদ্যোগে ৪০ টি মুসলিম রাষ্ট্রকে নিয়ে যে ইসলামিক মিলিটারি এলায়েন্স গঠিত হয়েছে তার নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন সদ্য রিটায়ার করা পাকিস্তান সামরিক বাহিনী প্রধান জেনারেল রাহিল শরীফ। Mr Sharif "will use his experiences and knowledge to remove internal misunderstandings among Muslim countries" and his role will benefit "anti-alliance countries, including Iran", Pakistan’s national security adviser Nasser Janjua।

যেখানে পুরাতন বন্ধুপ্রতিম দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কের ভাটা পড়েছে সেখানে পাকিস্তান ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা দিন দিন বাড়ছে।পাকিস্তান বুদ্ধিমত্তার সাথে ইরান আর আফগানিস্তানের সাথেও তার উঁচু লেভেলের কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও বালুচিস্তানে ইরান বিরোধী বালুচ বিদ্রোহীদের কারনে ইরান-পাক সম্পর্ক বেশ নাযুক, তবুও পাকিস্তান চাচ্ছে ইরানের সাথে একটা সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে, আর সেখানেও পাক সামরিক বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

Last month, Pakistan’s current army chief, General Qamar Bajwa, told Mr Honardoost, Iran’s ambassador, that enhanced military cooperation between their two countries "will have a positive impact on regional peace and stability," Dawn newspaper reported.

"Pakistan Army greatly values historical relationship between the two brotherly countries (Pakistan, Iran) which can never be compromised at any cost." …General Qamar Bajwa
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব, ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আর পাকিস্তানের আভ্যন্তরীন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যা পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যাবশ্যকীয় একটি বিষয়।

লেখিকাঃ সাবিনা আহমেদ। 

এই লেখায় আপনার রেটিং দিন

0%

প্রিয় পাঠক-পাঠিকা, লেখিকার এই মতামত পড়ে আপনার কাছে কেমন লেগেছে তার উপর ভিত্তি করে আপনি একটি রেটিং দিন। আপনি রেটিং দিতে নিচের পাঁচটি তারা থেকে আপনার রেটিং তারাতে ক্লিক করুন। সর্বোচ্চ রেটিং দিতে ৫ম তারাতে ক্লিক করুন।

বাংলা ব্লগ থেকে আরো পড়ুন
User Rating: 4.27 ( 5 votes)

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

বিয়ে

পুরুষের বিয়ে মানেই মৃত্যু নাকী উজ্জীবিত! কোনটি সত্য?

বউ আমার আসল তার পরিবারকে ছেড়ে, অথচ উল্টা আমাকেই অনেকে বলা শুরু করল, "বিয়ে তো …

One comment

  1. darun ekoti post. thank u sabina apu

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *