যে কোন যৌন বা স্বাস্থ্য সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডা.মনিরুজ্জামান এম.ডি স্যার। কল করুন- 01707-330660

valobasar golpoকাছির ও জামিল দুই বন্ধু। দুজনেই আরবী সাহিত্যের বিখ্যাত কবি। জামিল ভালোবাসে সাবিনা নামের একটি মেয়েকে। আর কাছিরের প্রেমিকার নাম ইযযা। সাবিনা ও কাছীর একে অন্যের প্রতিবেশী। এ সূত্রে সাবিনার বাড়িতে কাছীর অবাধে যাতায়াত করতে পারে। তার অভিভাবকরাও তাকে যথেষ্ট স্নেহ করে।

কাছীর ইযযার প্রেমের বিষয়টি তখন প্রায় সবাই জানতো। একদিন কাছীর সাবিনার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ খোশগল্পে মেতে উঠলো। সেখানে থেকে বাড়ি ফিরে দেখলো তার প্রাণের বন্ধু জামিল বেড়াতে এসেছে। বন্ধুকে দেখে তার খুশীর সীমা রইলো না। প্রায় জড়িয়ে ধরে বললো, কেমন আছিস?

:  ভালো, তোর খবর কি?

: এই তো কোনরকম।

:  এতদিন পর আমার কথা মনে পড়লো?

: মনে তো পড়ে সব সময়। কিন্তু নানা ব্যস্ততায় আর আসা হয়ে উঠে না। এবার দৃঢ় সংকল্প করে রেখেছিলাম যতো ব্যস্ততাই থাকুক তোকে দেখতে আসবো।

কাছীরের মুখে দুষ্টমির হাসি খেলে গেল। মুখ টিপে মৃদু হাসি দিয়ে বললো, আমাকে দেখতে এসেছিস না কি অন্য কাউকে?

জামিলের বুঝতে বাকি রইলো না, কাছীর কার কথা বলছে। লজ্জায় মাথা নিচু করে বললো ধুর, আর কে হতে যাবে?

কাছীর তড়িঘড়ি করে বলে উঠলো থাক আর লজ্জা পেতে হবে না। বলতো, সাবিনার সাথে শেষ কবে তোর দেখা হয়েছে?

এ প্রশ্ন শুনে জামিল আনমনা হয়ে গেলো।

উদাস নয়নে আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো, প্রায় বছরখানেক তার সাথে যোগাযোগ নেই। শেষবার যখন দেখেছিলাম তখন সে এক পাহাড়ের পাদদেশে কাপড় ধুচ্ছিলো।

বন্ধুর বিরহ কাছীরের মনেও দোলা দিয়ে গেল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে হঠাৎ বলে উঠলো, আচ্ছা দোস্ত, তুমি কি তার সাথে দেখা করতে চাও? শোনামাত্রই জামিলের দু’চোখ আনন্দে ঝলমল করে উঠলো।

পর মুহূর্তে বিষণ্ন মুখে বললো তাকে দেখার জন্য মন উতলা হয়ে আছে কিন্তু, কিভাবে সম্ভব? ওর বাবাতো শিয়ালের চেয়েও ধূর্ত। মেয়েকে সব সময় চোখে চোখে রাখে। তার চোখ ফাঁকি দিয়ে দেখা করা প্রায় অসম্ভব। কাছীর আশ্বস্ত করে বললো, এ নিয়ে মোটেও দুশ্চিন্তা করবি না। আমি সব ব্যবস্থা করবো।

উঠে দাঁড়িয়ে বললো, আচ্ছা দোস্ত চলি। সোজা গিয়ে হাজির হলো সাবিনাদের বাড়িতে। সাবিনার বাবা তাকে দেখে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন। কারণ সে একটু আগেই এ বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে চলে গিয়েছিল। এতো তাড়াতাড়ি ফিরে আসার কি কারণ থাকতে পারে?

তবুও হাসিমুখে জিজ্ঞাসা করলেন কি বাবা এতো তাড়াতাড়ি ফিরে এলে যে, জরুরী কিছু? কাছীর এক গাল হেসে জবাব দিলো; না চাচা জরুরী তেমন কিছু নয়।

ইযযার জন্য একটি কবিতা লিখেছিলাম অনেক আগে। কবিতাটি মন থেকে মুছে গিয়েছিল। আজ হঠাৎ মনে পড়ে গেল। তাই ভাবলাম আপনাকে গিয়ে শুনিয়ে আসি।

: বেশ করেছ। তাহলে শুনাও তোমার কবিতা।

কাছীর বললো—

আমি তাকে বললাম হে ইযযা , আমি আমার বন্ধুকে পাঠালাম একটি দায়িত্ব দিয়ে। আর বন্ধু একজন দায়িত্বশীল মানুষ। (তাকে বিশ্বাস করা যায়) যেদিন তোমার সাথে আমার শেষ দেখা হয়েছিলো সেদিনের কথা কি মনে পড়ে? তুমি একটি পাহাড়ের পাদদেশে কাপড় ধুচ্ছিলে।

কাছীরের কবিতা সজাগ ও কানখাড়া করে সাবিনা ভিইতর থেকে শুনিছিলো। কবিতা আবৃত্তি হওয়া মাত্রই তীক্ষ্ণ কন্ঠে চিৎকার করে উঠলো

এই যা, যা এখান থেকে।

চিৎকার শুনে তার বাবা উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞাসা করলেন, কি রে মা, কি হয়েছে? কাকে ধমকাচ্ছিস?

সাবিনা বিরক্ত স্বরে বললো, আর বলবেন না বাবা, এক নেড়ি কুকুর সব সময় আমাকে জালাতন করে। পাহাড়ের পিছন থেকে দুপুরে এবং রাত্রে আসে আর আমাকে জালিয়ে মারে। সেই কুকুরটাকেই তাড়িয়ে দিচ্ছিলাম। তার বাবা আশ্বস্ত স্বরে বললেন, ও তাই বল, আমি ভাবলাম কি না কি। কিছুক্ষণ পর কাছীর উঠে দাঁড়ালো, বলল তাহলে চাচা, আজ আমি উঠি।

: ঠিক আছে এসো।

কাছীর দ্রুত জামিলের কাছে গিয়ে বলল, সাবিনা তোকে পাহাড়ের পিছনে দুপুরে এবং রাত্রে দেখা করতে যেতে বলেছে ।

সূত্রঃ প্রতিভার গল্প বই থেকে

Syed Rubelকিছু গল্পbangla golpo,bangla love story,golpo,valobashar golpo,প্রেমিক প্রেমিকাদের ভালোবাসার গল্প,প্রেমের কবিতা,প্রেমের গল্প,বাংলা গল্প,ভালোবাসার গল্পকাছির ও জামিল দুই বন্ধু। দুজনেই আরবী সাহিত্যের বিখ্যাত কবি। জামিল ভালোবাসে সাবিনা নামের একটি মেয়েকে। আর কাছিরের প্রেমিকার নাম ইযযা। সাবিনা ও কাছীর একে অন্যের প্রতিবেশী। এ সূত্রে সাবিনার বাড়িতে কাছীর অবাধে যাতায়াত করতে পারে। তার অভিভাবকরাও তাকে যথেষ্ট স্নেহ করে। কাছীর ইযযার প্রেমের বিষয়টি তখন প্রায় সবাই জানতো।...Amar Bangla Post