Home / বই থেকে / সুন্নাহ সম্পর্কে জাহেল বা অজ্ঞ ব্যক্তির সাথে কথপোকথন

সুন্নাহ সম্পর্কে জাহেল বা অজ্ঞ ব্যক্তির সাথে কথপোকথন

সুন্নাহসুন্নাহ সম্পর্কে জাহেল বা অজ্ঞ ব্যক্তির সাথে কথপোকথন

ইমাম আল-আজুররী তাঁর ‘আশ-শরী‘আহ’ (الشريعة) নামক গ্রন্থেবলেন: জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিবর্গের জন্য উচিৎ হলো, যখন তারা কোনো ব্যক্তিকে বলতে শুনবে: কোনো বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যা আলেমগণের নিকট প্রমাণিত, তারপর জাহেল বা মূর্খ ব্যক্তি তার বিরোধিতা করে বলল: আমি আল্লাহ তা‘আলার কিতাবের মধ্যে যা আছে, তা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করব না, তখন-

আলেমের ওপর কর্তব্য হবে এটা বলা যে, তুমি একজন মন্দ লোক, আর তুমি এমন এক ব্যক্তি, যার ব্যাপারে আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করেছেন এবং আলেমগণও তোমার ব্যাপারে সতর্ক করেছে।

আর তাকে বলতে হবে: হে জাহেল‍! আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ফরযসমূহ সার্বিকভাবে অবতীর্ণ করেছেন এবং তাঁর নবীকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তিনি জনগণকে তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তা সুস্পষ্ট করে বর্ণনা করে দেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿وَأَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ ٱلذِّكۡرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيۡهِمۡ وَلَعَلَّهُمۡ يَتَفَكَّرُونَ ٤٤﴾ [النحل: ٤٤]

“আর আমরা তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি, যাতে তুমি মানুষকে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিতে পার- যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছিল, যাতে তারা চিন্তাভাবনা করে।” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৪৪]

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর বিরোধী এ ব্যক্তিকে বলতে হবে: হে মূর্খ! আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَ﴾ [البقرة: ٤٣]

“আর তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠা কর ও যাকাত দাও।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪৩]

তুমি আল্লাহ তা‘আলার কিতাব আল-কুরআনের মধ্যে কোথায় পাবে যে, ফযরের সালাত দুই রাকাত? যোহরের সালাত চার রাকাত? আসরের সালাত চার রাকাত? মাগরিবের সালাত তিন রাকাত? আর এশার সালাত চার রাকাত?

আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের মধ্যে ছাড়া আর কোথায় তুমি পাবে সালাতের বিধিবিধান ও সময়সূচী? আর কোথায় পাবে কিসে সালাতকে পরিশুদ্ধ করে এবং কিসে সালাতকে বাতিল বা নষ্ট করে দেয়?!

আর অনুরূপভাবে যাকাতের বিষয়টিও; আল্লাহ তা‘আলার কিতাবের মধ্যে তুমি কোথায় পাবে দুইশত দিরহাম থেকে পাঁচ দিরহাম যাকাত দিতে হবে? আর বিশ দিনার থেকে দিতে হবে অর্ধ-দিনার? চল্লিশটি ছাগল থেকে যাকাত দিতে হবে একটি ছাগল? আর পাঁচটি উটের যাকাত দিতে হবে একটি ছাগল দিয়ে? আর যাকাতের সকল বিধিবিধান আল্লাহ তা‘আলার কিতাবের মধ্যে কোথায় তুমি পাবে?

অনুরূপভাবে আল্লাহ তা‘আলার সকল ফরয তিনি তাঁর কিতাবের মধ্যে ফরয করে দিয়েছেন, কিন্তু সেগুলোর বিস্তারিত বিধিবিধান সম্পর্কে জানা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ব্যতীত সম্ভব নয়।

এটা হলো মুসলিম সম্প্রদায়ের আলেমগণের কথা; যে ব্যক্তি এর বিপরীত কিছু বলবে, সে মুসলিম মিল্লাত থেকে খারিজ (বের) হয়ে যাবে এবং নাস্তিকদের দলে শামিল হবে। আমরা হিদায়াত পাওয়ার পর পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে আল্লাহ তা‘আলার নিকট আশ্রয় চাই।[1]

* * *

সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের কারণসমূহ

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَ وَأُوْلِي ٱلۡأَمۡرِ مِنكُمۡۖ فَإِن تَنَٰزَعۡتُمۡ فِي شَيۡءٖ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ إِن كُنتُمۡ تُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۚ ذَٰلِكَ خَيۡرٞ وَأَحۡسَنُ تَأۡوِيلًا ٥٩﴾ [النساء: ٥٩]

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর, আরও আনুগত্য কর তোমাদের মধ্যকার ক্ষমতাশীলদের, অতঃপর কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটলে তা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসূলের নিকট, যদি তোমরা আল্লাহ ও আখেরাতে ঈমান এনে থাক। এ পন্থাই উত্তম এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৯]

ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বলেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা তাঁর ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন… আর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গের কারও আনুগত্য করাটা তখনই কেবল অপরিহার্য (ওয়াজিব) হবে, যখন তার আনুগত্য করার বিষয়টি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত হবে, নিঃশর্তভাবে তার (প্রশাসনিক ব্যক্তির) আনুগত্য করা যাবে না। …অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন:﴿فَإِن تَنَٰزَعۡتُمۡ فِي شَيۡءٖ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ﴾ “অতঃপর কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটলে তা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসূলের নিকট), আর এটা হলো অকাট্য দলীল এ ব্যাপারে যে, যখনই গোটা দীনের কোনো বিষয়ে মানুষের মাঝে মতভেদ ঘটবে, তখন আবশ্যক হলো সে মতভেদপূর্ণ বিষয়টি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট উপস্থাপন করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ব্যতীত অন্য কারও নিকট উপস্থাপন না করা। কারণ, যে ব্যক্তি মতবিরোধপূর্ণ বিষয়টিকে সমাধান করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ব্যতীত ভিন্ন কারও নিকট পেশ করল, সে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশের বিরোধিতা করল, আর যে ব্যক্তি ঝগড়া বা বিরোধের সময় আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ব্যতীত অন্য কারও ফয়সালা বা মীমাংসার দিকে আহ্বান করে, সে ব্যক্তি মূলত জাহেলিয়্যাতের দিকেই আহ্বান করে। অতএব, বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানের গণ্ডীতে প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সে বিরোধকারীদের বিরোধপূর্ণ প্রত্যেকটি বিষয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট উপস্থাপন করবে। আর এ জন্যই আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:﴿إِن كُنتُمۡ تُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۚ﴾ “যদি তোমরা আল্লাহ ও আখেরাতে ঈমান এনে থাক” অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন:﴿ذَٰلِكَ خَيۡرٞ وَأَحۡسَنُ تَأۡوِيلًا﴾ “এ পন্থাই উত্তম এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর” অর্থাৎ আমি তোমাদেরকে আমার আনুগত্য করার এবং আমার রাসূল ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গের আনুগত্য করার যে নির্দেশ দিয়েছি সে বিষয়টি মেনে চলা এবং সমাধানের জন্য তোমাদের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ প্রত্যেকটি বিষয় আমার ও আমার রাসূলের নিকট পেশ করার কাজটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে তোমাদের ইহকালে ও পরকালে এবং তা উভয় জগতে তোমাদের সৌভাগ্যের কারণ হবে; আর তোমাদের শেষ পরিণাম হবে অতি উত্তম ও প্রকৃষ্টতর।

সুতরাং এ বিষয়টি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে বিচারক বা সালিস মানার বিষয়টি হলো দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্যবান হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ বা উপলক্ষ। আর যে ব্যক্তি বিশ্বব্যবস্থা ও তার মধ্যকার সংঘটিত ক্ষতি ও দুর্যোগ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করবে, সে ব্যক্তি জানতে পারবে যে, দুনিয়ার প্রতিটি মন্দ ও অকল্যাণের কারণ হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধাচরণ করা এবং তাঁর আনুগত্যের গণ্ডী থেকে বের হয়ে যাওয়া। আর দুনিয়ার মধ্যকার প্রতিটি কল্যাণ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করার কারণেই অর্জিত হয়। অনুরূপভাবে আখেরাতের খারাপি, যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ও আযাবের বিষয়টিও অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে শুধু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে। সুতরাং দুনিয়া ও আখিরাতের অকল্যাণ ও বিপদ-মুসীবত আপতিত হওয়ার বিষয়টি প্রত্যাবর্তন ও নির্ভর করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধাচরণ করার দিকে।

অতএব, মানুষ যদি যথাযথভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করে, তাহলে পৃথিবীতে কখনও কোনা মন্দ ও অকল্যাণ হবে না, আর এ তো হলো পৃথিবীতে সংঘটিত সাধারণ দুর্যোগ ও বিপদ-মুসীবতের কথা, আর বান্দা নিজে যে মন্দ, যন্ত্রণা ও দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত হয়, সে বিষয়টির বেলায়ও একই কথা। কারণ, তা শুধু রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধাচরণ করার কারণেই হয়ে থাকে। কেননা, তাঁর আনুগত্য করার বিষয়টি হলো এমন দুর্গ, যে কেউ তাতে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ হয়ে যাবে; আর তা হলো এমন এক গুহা, যে কেউ তাতে আশ্রয় নিবে সে মুক্তি পেয়ে যাবে। সুতরাং বুঝা গেল যে, দুনিয়া ও আখিরাতের অকল্যাণ ও বিপর্যয়ের একমাত্র কারণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন, সে সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং তাঁর আনুগত্যের গণ্ডী ও পরিমণ্ডল থেকে বেরিয়ে যাওয়া।[2]

وصلى الله على نبينا محمد و على آله و صحبه و سلّم.

“আল্লাহ রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীগণের প্রতি”।

সমাপ্ত

 

[1]‘আশ-শরী‘আহ’: ১/৪১০-৪১২।

[2]‘যাদুল মুহাজির ইলা রাব্বিহী’, পৃ. ২৯, ৩০

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

শ্রেষ্ঠ মানুষ, সৎ লোক

সৎ লোকদের নিদর্শন (হাদীস)

 37-عَنْعَبْدِاللهِبْنِعَمْرٍورَضِيَاللهُعَنْهُمَا،قَالَ:  قِيْلَلِرَسُوْلِاللهِصَلَّىاللَّهُعَلَيْهِوَسَلَّمَ: أَيُّالنَّاسِأَفْضَلُ؟قَالَ: "كُلُّمَخْمُوْمِالْقَلْبِصَدُوْقِاللِّسَانِ"،قَالُوْا: صَدُوْقُاللِّسَانِنَعْرِفُهُ،فَمَامَخْمُوْمُالْقَلْبِ؟قَالَ: " هُوَالتَّقِيُّالنَّقِيُّ،لاَإِثمَفِيْهِ،وَلاَبَغْيَ،وَلاَغِلَّ،وَلاَحَسَدَ". (سننابنماجه،رقمالحديث 4216،وصححهالألباني). 37 – অর্থ: আব্দুল্লাহ বিন আমর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *