রমযানে স্ত্রী সহবাস

অনেকের ধারণা রমযান মাসে স্বামী স্ত্রী সুহবাস একেবারেই নিষিদ্ধ। এটা একটা ভুল ধারণা। রমযান মাসে ইফতারের পর “সুবহে সাদিক” অর্থাৎ সাহরী খাওয়ার শেষ সময় পর্যন্ত সহবাস করা নিষিদ্ধ।

সুবহি সাদিকের পর থেকে ইফতার করার পূর্ব মুহূর্তে পর্যন্ত অর্থাৎ রোযা থাকা অবস্থায় অবৈধভাবে হস্তমৈথুন অথবা অন্য কিছুতে ঘর্ষণ ইত্যাদি পথে বীর্যপাত করলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। যদি কেহ জোরপূর্বক সহবাস করতে বাধ্য করায় তাতেও রো্যা নষ্ট হয়ে যাবে। যদি কেহ জোরপূর্বক সহবাস করতে বাধ্য করায় তাতেও রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং পরে তাকে এ রোযা কাযা হিসেবে করতে হবে। এর জন্য তার কোনরূপ কাফফারা দিতে হবে না। রমযান মাসে দিনের বেলায় স্বপ্নদোষ হলে তাতে রোযা ভঙ্গ হবে না এবং কোনুরূপ কাফফারাও দিতে হবে না। পবিত্র রমযান মাসে রোযা অবস্থায় কিংবা অন্য যে কোন মাসে নফল রোযা বা কাযা রোযা রাখা অবস্থায় দিনের বেলা সুহবাস করা হারাম। অবশ্য ইফতারের পর সহবাস করতে নিষেধ নেই। তবে শারীরিক ক্লান্তির জন্য শেষ রাতে সাহরির পূর্বেও সহবাস করে নিতে পারে। এমতাবস্থায় সাহরীর খাওয়ার সময় কম থাকলে সাহরী খেয়ে গোসল করলেও চলবে। তবে খাওয়ার পূর্বে অযু করে নিতে হবে। যদি জেহ সাহরীর পরে সুবহি সাদিক অর্থাৎ সাহরী খাওয়া শেষ সময়ও সহবাস করে তবুও সে রোযা রাখতে পারবে। তবে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে যে, সহবাস করতে থাকা অবস্থায় যাতে সুবহে সাদিক না হয়ে যায়। অবশ্য এ সময় যৌন মিলনে লিপ্ত না হওয়াই ভাল। উত্তম হবে তারাবীহ নামাযের পর সাহরীর পূর্বে যে কোন সুবিধামত সময়ে সহবাস করা।

রোযা রাখা অবস্থায় সঙ্গমে লিপ্ত হলে যে কাফফারা দিতে হয়-তা নিন্ম হাদিস থেকে যেভাবে প্রমাণিত হয়েছে;

“হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বলেনঃ তোমাকে কিসে ধ্বংস করল? সে বললঃ আমি রমযানে (রোযা অবস্থায়) আমার স্ত্রীর উপর নিপতিত হয়েছি অর্থাৎ সহবাস করে ফেলেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ তুমি কি একটি ক্রীতদাস মুক্ত করার সামর্থ রাখ? সে বলল না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ তাহলে তুমি কি ক্রমাগত দু’মাস রোযা রাখতে পারবে? সে বললঃ না, জিজ্ঞেস করেনঃ ষাট জন মিসকীন খাওয়ামোর সাধ্য কি তোমার আছে? সে বলল, না। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, বস। এ সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে একটি পাত্র আনা হল। পাত্রটি ছিল ওজনের। তাতে খেজুর ভর্তি ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ এ পাত্রের খেজুর গুলো তুমি দান করে দাও। তখন লোকটি বললঃ মদীনায় আমার অপেক্ষা অধিক গরীব আর কেহ নেই। তা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হেসে দিলেন। এতে তার দন্তরাজি প্রকাশিত হল। তিনি বলেনঃ তুমি এটা নিয়ে যাও এবং তোমার ঘরের লোকদের খাওয়াও”।

এ হাদীস থেকে সুস্পষ্ট বুঝা যায়, লোকটি ইচ্ছাপূর্বক ও সচেতনভাবেই স্ত্রী সহবাসে প্রবৃত্ত হয়ে সে জেনে বুজেহ এ কাজ করেছিল। কেননা সে যে পাপ করেছে তার পরিণতি ধ্বংস হওয়া ছাড়া আর কিছু না। তাই লোকটি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে বলেছিল—“ধ্বংস হয়ে গেছি!” একজন ঈমানদার ব্যক্তিরই এ ধরণের বিপদের মধ্যে নিপতিত হলে এবং এমন কাজ করলে চরম লজ্জা ও অনুতাপ এবং অন্তরে তীব্র ক্ষোভ ও বেদনা প্রকাশ পায়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) লোকটিকে কাফফারা আদায়ের পরামর্শ দিলেন। এর অর্থ, রোযাদার দিনের বেলায় স্ত্রী সহবাস করলে তাকে কাফফারা আদায় করতে হবে। পরপর তিন ধরণের কাফফারা প্রস্তাব করা হয়। ক্রীতদাস মুক্ত বা ক্রমাগত দু’মাস রোযা করা কিংবা ষাটজন মিসকিন খাওয়ানোর প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু এর প্রত্যেকটি প্রস্তাবেই সে নিজের অক্ষমতা বলে। এতে বুঝা যায়, এ ধরণের অপরাধের এটাই কাফফারা। যেটা তার পক্ষে সম্ভব সে সেটাই করবে।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছেঃ

“রোযার রাত্রিতে স্ত্রী সহবাস তোমাদের জন্য জায়েয করা হয়েছে।” (সূরাঃ বাক্বারা-১৮৭)

তাফসীর এ আয়াতের তাফসীরে ইবনে কাসীরে বলা হয়েছে যে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক এত গাঢ় যার জন্য রোযার রাত্রেও তাদেরকে মিলনের অনুমতি দেয়া হচ্ছে এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হচ্ছে যে, ইফতারের পূর্বে বা পরে কেহ ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত্রির মধ্যেই জেগে উঠলেও সে পানাহার এবং স্ত্রী সহবাস করতে পারতনা। কারন, তখন এ নির্দেশ ছিল। অতঃপর মহান আল্লাহ এ আয়ত অবতীর্ণ করে নির্দেশ  উঠিয়ে নেন। এখন রোযাদার ব্যক্তি মাগরিব থেকে সুবহি সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস করতে পারবে।

একদিন কাইস বিন সুরমা (রাঃ) সারাদিন জমিতে কাজ করে সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন, কিছু খাবার আছে কি? স্ত্রী বলেন, কিছুই নেই, আমি যাচ্ছি এবং কোথাও হতে নিয়ে আসছি। তিনি যান,  আর এদিকে তাঁকে ঘুম পেয়ে বসে। স্ত্রী ফিরে এসে তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে খুবই দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এখন এ রাত্রি এবং পরবর্তী সারাদিন কিভাবে কাটবে? অতঃপর দিনের অর্ধভাগ অতিবাহিত হলে হযরত কায়েস (রাঃ) ক্ষুধার যন্ত্রণায় চেতনা হারিয়ে বে-হুশ হয়ে যান। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সামনে এ আলোচনা হয়। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং মুসলমানেরা সন্তুষ্ট হয়।

যেহেতু আল্লাহ তা’আলা রোযাদারের জন্য স্ত্রী সহবাস ও পানাহারের শেষ সময় সুবহি সাদিক নির্ধারণ করেছেন। কাজেই এর দ্বারা মাসআলার উপর দলীল গ্রহণ করা যেতে পারে যে, সকালে যে ব্যক্তি অপবিত্র অবস্থায় উঠল, অতঃপর গোসল করে তার রোযা পুরা করে নিল, তার উপরে কোন দোষ নেই।

সূত্র – স্বামী স্ত্রীর মধুর মিলন বই থেকে।

অনেকের ধারণা রমযান মাসে স্বামী স্ত্রী সুহবাস একেবারেই নিষিদ্ধ। এটা একটা ভুল ধারণা। রমযান মাসে ইফতারের পর “সুবহে সাদিক” অর্থাৎ সাহরী খাওয়ার শেষ সময় পর্যন্ত সহবাস করা নিষিদ্ধ। সুবহি সাদিকের পর থেকে ইফতার করার পূর্ব মুহূর্তে পর্যন্ত অর্থাৎ রোযা থাকা অবস্থায় অবৈধভাবে হস্তমৈথুন অথবা অন্য কিছুতে ঘর্ষণ ইত্যাদি পথে বীর্যপাত করলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। যদি কেহ জোরপূর্বক সহবাস করতে বাধ্য করায় তাতেও রো্যা নষ্ট হয়ে যাবে। যদি কেহ জোরপূর্বক সহবাস করতে বাধ্য করায় তাতেও রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং পরে তাকে এ রোযা কাযা হিসেবে করতে হবে। এর জন্য তার কোনরূপ কাফফারা দিতে হবে না। রমযান মাসে দিনের বেলায়…

এই আর্টিকেলটিকে আপনি একটি রেটিং দিন

User Rating: 2.78 ( 2 votes)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *