Home / World Blog / বাংলা ব্লগ / নারী অধিকারের পরিপন্থী আইন ‘মেরি ইওর রেপিস্ট’
মেরি ইওর রেপিস্ট

নারী অধিকারের পরিপন্থী আইন ‘মেরি ইওর রেপিস্ট’

তুরস্ক থেকে মরক্কো পর্যন্ত বেশ কিছু দেশে 'মেরি ইওর রেপিস্ট' বা "ধর্ষক কে বিয়ে" এর কালো আইন আছে বা ছিল এই মাস পর্যন্ত। এই আইনের আওতায় একজন ধর্ষক তার ধর্ষিতাকে বিয়ে করলে তার ধর্ষণ মাফ করে দেয়া হয়, বা ধর্ষণকে সহিংস কোন আচরন হিসাবে দেখা হয় না।

স্বভাবতই এই আইন দারা ধর্ষক সাজামুক্ত হয়ে যায়। আবার ঐ সমস্ত দেশে বিবাহিতদের মাঝে ধর্ষণের ব্যাপারে কোন আইন নাই। অর্থাৎ উইদিন এ ম্যারেজ স্বামী ইচ্ছা মতন স্ত্রীকে ধর্ষণ করতে পারবে, কিন্তু আইনত তা ধর্ষণ নয়। অবশ্য এখন অনেকেই বলবেন, বিবাহিত জীবনে একজন স্ত্রীর কর্তব্য স্বামীর সকল ধরনের সেক্সুয়াল ডিজায়ার পুরন করা। সেখানে ধর্ষণ বলতে কিছু নাই। আমি তাদের সাথে সম্পূর্ণ দ্বিমত এই ব্যাপারে। কিন্ত তা ভিন্ন আলোচনা।

'মেরি ইওর রেপিস্ট' আইনে ধর্ষিতাকে একজন অমানুষের সাথে বিয়ে দিয়ে সারাজীবনের জন্য একটা জলন্ত চুলায় ফেলে দেয়া হয়। ধর্ষকের কয়েক মুহূর্তের আনন্দ, ধর্ষিতার সারা জীবনের কান্নায় পরিণত হয়। কোন সাধারন মানুষ তার মেয়ে বোনকে জেনেশুনে কখনও একজন ধর্ষকের সাথে বিয়ে দিবে না বলেই আমি মনে করি। আর একটি মেয়ে ধর্ষিতা হলেই তার মেয়ে হিসাবে সম্মান কমে যায় বলেও আমি মনে করি না। এখানে বলে রাখি ধর্ষণ মেয়ের ইচ্ছা তে হয় না, তার উপর জোর করে হয় বলেই একে ধর্ষণ বলে, না হলে তাকে বলে কন্সেন্সুয়াল সেক্স। যা আইনত দণ্ডনীয় নয় যদি না তা অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে বা ছেলের সাথে ঘটে।

" Rape is not sex, rape is an act of violence where the perpetrator displays power over the survivor."

মরক্কোতে ২০১৪ সালে 'মেরি ইওর রেপিস্ট" আইন বিশ্বের কড়া নজরে আসে যখন সেখানে ১৬ বছর বয়সী ধর্ষিতা র‍্যাট পয়জন খেয়ে আত্মহত্যা করে। সেই মেয়ে তাকে ছুরির মুখে ধর্ষণ করা ধর্ষককে বিয়ে করার চাইতে মরন কে বেছে নেয়। আরেক ১৫ বছর বয়সি ধর্ষিতা সেখানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এমন হাজার হাজার কেইস আছে 'মেরি ইওর রেপিস্ট' এর বিয়ে গুলোকে কেন্দ্র করে। সেখানে নারী অধিকার কর্মী থেকে শুরু করে ইস্লামিস্ট নারী , সাধারন নারী, জনগন ফুসে উঠে এই আইনের বিরুদ্ধে। এবং অবশেষে মরক্কোর সংসদ এই আইন বাতিল ঘোষণা করে।

গতবছর নভেম্বরে তুরস্ক প্রায় ৩০০০ হাজার ধর্ষককে এই আইনের আওতায় কারাগার থেকে মুক্তি দিতে গেলে তুরস্কের নারী অধিকার কর্মী আর জনগন এই আইনের বিরুদ্ধে জোর প্রচেষ্টা চালালে সেখানেও 'মেরি ইওর রেপিস্ট' আইন বাতিল করা হয়।

এই অগাস্ট মাসেই লেবানন আর জর্ডান এই আইন বাতিল করেছে। জুলাই তে বাতিল করেছে তিউনিসিয়া। মিসর ১৯৯৯ সালেই এই আইনকে বাতিলের খাতায় লিখেছে। বিশ্বে এখন পর্যন্ত আরও ১২ টা দেশ আছে যেখানে এই আইন বলবত যার মধ্যে আছে ইরাক, সিরিয়া, বাহরাইন, তাজিকিস্তান, লিবিয়া, ফিলিপাইন।

এই আইনের বিলুপ্তি অবশ্যই নারী মর্যাদার জয় এবং নারীদের অবস্থান উন্নয়নে, এবং তাদের প্রতি সকল ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে এক বিরাট পদক্ষেপ।

লেখিকাঃ সাবিনা আহমেদ। 

লেবানন নারীদের ধর্ষণের আইন বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

লেবানন

lebanon

marry-your-rapist law

ধর্ষককে বিয়ের প্রতিবাদে জর্দান নারীদের প্রতিবাদ

Jordan women

জর্দান নারী

জর্দান আপনার ধর্ষণ আইন বিয়ে বাতিল


তিউনিসিয়া নারীদের আনন্দোল

Tunisia women

ছবিঃ সাবিনা আহমেদ। 

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

চলন্ত বাসে ধর্ষণ

চলন্ত বাসর (চলন্ত বাসে ধর্ষিত হওয়া থেকে যেভাবে রক্ষা পেলো তরুণী)

রাত ৮:৩০ গলফ ক্লাবের সামনে থেকে মিরপুরের উদ্দেশ্যে বাসে উঠলাম আমরা তিন বন্ধু।আঃ রহমান, সাজিদ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *