Home / ইসলাম / শিক্ষামূলক গল্প / অতিরিক্ত অর্থ (হযরত আবু বকর (রাঃ) গল্প)
আবু বকর সিদ্দীক

অতিরিক্ত অর্থ (হযরত আবু বকর (রাঃ) গল্প)

প্রথম খলীফা হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সবচেয়ে প্রিয় সাহাবী। সকল সাহাবী তাঁকে মানেন। তাঁকে শ্রদ্ধা করেন। রাসূলুল্লাহর ইন্তেকালের পর সবাই মিলে তাঁকে খলীফা মনোনীত করেছেন, মুসলিম উম্মার প্রধান ব্যক্তি তিনি।

খলীফা মানে মুসলমানদের বাদশাহ। অথচ খলীফা হওয়ার পর তাঁর সকল আয়-উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ, দেশ এবং জাতির ভালো-মন্দের প্রতি নজর রাখাই তাঁর সার্বক্ষণিক দায়িত্ব। একারণেই শীর্যস্থানীয় সাহাবীগণ তাঁকে অনুরোধ করেছেন রাষ্ট্রীয় কোষাগার বায়তুল মাল থেকে মাসিক একটি ভাতা গ্রহণ করার জন্য। তিনি তাতে সম্মতি হয়েছেন।

বায়তুল মাল থেকে সামান্য কিছু ভাতা তিনি প্রতিমাসে গ্রহণ করেন। টানাটানি করে কোনভাবে তাঁর সংসারের খরচ চলে যায় তাতে।

একবার খলীফা—পত্নীর ইচ্ছে হলো,  কিছু মিষ্টি জাতীয় খাবার রান্না করে তিনি পরিবারের সবাইকে খাওয়াবেন। কিন্তু ইচ্ছে হলেই তো উপায় হয় না। এর জন্য আয়োজন করতে হবে।

প্রতিমাসে বায়তুল মাল থেকে সংসার খরচের জন্য যা  পাওয়া যায়, তাতের রোজকার খাবার-দাবার কোন মতে চলে যায়। মিষ্টি রান্না করতে হলে এর চেয়ে অতরিক্ত কিছু অর্থের প্রয়োজন।

সেই অতিরিক্ত অর্থের জোগান আর কে দেবে। ভখলীফার স্ত্রী সময় সুযোগ বুঝে স্বামী আবু বকরের কানে একদিন কথাটি তুললেন—

ঃ একদিন সামান্য মিষ্টি রান্না করা ইচ্ছা করেছিলাম। কোন ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো হয়।

ঃ মিষ্টির জন্য যে অর্থের প্রয়োজন, তা আমার কাছে নেই। খলীফার সাফ সাফ জবাব।

            খলীফার স্ত্রী বললেন—

ঃ বায়তুল মাল থেকে যা পাওয়া যায়, তা থেকে সঞ্চয় করে করে মিষ্টির ব্যবস্থা করা যাবে।

স্ত্রীর কথা শুনে খলীফা নিরব রইলেন।

এদিক খলীফার স্ত্রী প্রতিদিন সংসার খরচ থেকে একটু করে বাঁচাতে লাগলেন। টানাটানির সংসার বহু কষ্ট করে কিছু অর্থ সঞ্চয় করলেন। এরপর মিষ্টির আয়োজন করার আগে সঞ্চয়ের বিষয়টি খলীফাকে একদিন জানালেন।

সাদামাটা এক ঘেয়ে খাবার খেয়ে পরিবারের সবাই ক্লান্ত হয়ে গেছে। মিষ্টির মত রুচিকর একটা কিছু এবার সবার জন্যই ব্যবস্থা করা যাবে। সুস্বাদু খাবার খেয়ে সবাই খুশী হবে। এরকম ভাবতে ভাবতে খলীওফার স্ত্রীর মন খুশিতে ভরে গেলো। তিনি খলীফাকে আনন্দেই সংবাদটি দিলেন।

কিন্তু খলীফা এবার গম্ভীর হয়ে গেলেন। এরপর বায়তুল মালে খবর পাঠালেন তিনি। বায়তুল মালের লোক খলীফার বাঁড়িতে এসে হাজির হলো। খলীফা—পত্নী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেন, খলীফা তাঁর সঞ্চিত অর্থ বায়তুল মালের লোকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। খলীফা-পত্নী ভাবতেই পারেন নি যে, এতদিন ধরে জমা করা, কষ্ট করে করে সঞ্চয় করা সামান্য অর্থ খলীফা বায়তুল মালে তুলে দিবেন।

বায়তুল মালে সঞ্চিত অর্থ জমা দিয়ে খলীফা হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) নির্লিপ্ত কণ্ঠে বললেন—এই সঞ্চয়ের ঘটনায় প্রমাণ হলো যে, এ পরিমাণ অর্থ বায়তুল মাল থেকে না তুললেও আমার সংসারের খাবার  খরচ চলে যাবে। এ কারণেই  এই অর্থটুকু অতিরিক্ত। অতিরিক্ত সম্পদ আমি কিছুতেই বায়তুল মাল থেকে গ্রহণ করতে পারি না

রাজা-বাদশাদের কোন অভাব থাকে না। অভাব অনটন তাঁদের ছুঁতেই পারে না। সিন্দুকে থাকে কাড়ি কাড়ি টাকা। দামি আলমিরায় থরে থরে সাজানো থাকে হাজার রকম পোশাক। আর সুস্বাদু খাবার-দাবারে তো ঘর বোঝাই থাকে। কোন কিছুর প্রয়োজন হলে চাকর বাকরদের হুকুম দিলেই হলো; সঙ্গে সঙ্গে তা হাজির হয়ে যায়।

দুনিয়ার রাজা-বাদশাহদের ধারাই এমন। এর উল্টো হতে কেউ কখনো দেখেনি। কিন্তু আল্লাহর রাসূলের সাহাবীগণ সব কিছুই উল্টে-পাল্টে দিয়েছেন। তাঁদের দু’চোখের সামনে ছিলো আখেরাত। তাঁরা সংযম আর দারিদ্রের মধ্যেই নিজেদেরকে অভ্যস্ত করে তুলেছেন।

অতিরিক্ত কোন কিছু তাঁরা রাখতে চাইতেন না। অতিরিক্ত কোন সম্পদ তাঁরা বায়তুল মাল থেকে তুলতেন না। যত কষ্টই হোক, যত অনটনই থাকুক তাঁরা এ নিয়ম ভাঙ্গেন নি।

বাদশাহ হওয়ার পর, খলীফা হওয়ার পর এই নিয়ম আরো কড়াকড়ি ভাবেই তাঁরা মানতেন।

খলীফা হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রাঃ) হিসাবে কষলেন। সঞ্চিত অর্থের পরিমাণটুকুকে অতিরিক্ত হিসাবে চিহ্নিত করলেন। তারপর সব সময়ের জন্যই সেই অর্থ নিজের জন্য বরাদ্দ করা বাতিল করে দিলেন।

আপনি পড়ছেনঃ সাহাবায়ে কেরামের গল্প বই থেকে।

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

উমর (রাঃ) অনুতাপ

হযরত উমর (রাঃ) এর অনুতাপ। (গল্প)

সারাক্ষণ তিনি ব্যস্ত থাকেন।  তিনি ব্যস্ত থাকেন সাধারণ মানুষের জন্য।  দেশের জন্য। জাতির জন্য। নিজের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *