Home / যৌন জীবন / যৌনবাহী রোগ / যৌন রোগ- গণোরিয়া-সিফিলিস_এইডস

যৌন রোগ- গণোরিয়া-সিফিলিস_এইডস

Sexual-Impact-of-Alcohol-Consumptionগণোরিয়া-সিফিলিস_এইডস

সাধারণত যৌন রোগ বলতে দুই রকমের বিশিষ্ট রোগকেই বোঝায়। একটি হলো গণোরিয়া আর একটি সিফিলিস। এই দুই রোগ যৌন অঙ্গসমূহের পক্ষে বিশেষ সংক্রামক। এই দুইটি আক্রমণের সম্ভাবনা থেকে সকলেরই বিশেষ সাবধান হওয়া দরকার।এই দুটি রোগ সাধারণত যৌন সংসর্গ ছাড়া অন্য উপায়ে শরীরের মধ্যে প্রবেশ করতে পারেনা। একেবারেই যে পারেনা তা নয়, কিন্তু যৌন সংস্পর্শ ছাড়া আর কোনো উপায়ে এ রোগ দুটি হবার সম্ভাবনা খুবই কম। সেই জন্যই একে স্বতন্ত্রভাবে বিশেষ করে যৌন রোগ বলা হয়ে থাকে। পুরুষ নারীর কাছ থেকে আর নারী পুরুষের কাছ থেকে সঙ্গমকালে এই দুইটি রোগের ছোঁয়াচ পায়। কোনো নারো হতে কোনো পুরুষে এবং সেই পুরুষ হতে আবার অন্য কোনো নারীতে, এমনি ভাবেই এই দুইটি রোগ মানুষের মধ্যে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। অথচ অনেকেই এ কথা ঠিক জানে না, অথবা পৃঃ১৯৪
জানলেও বিশেষ গ্রাহ্য করে না। অজ্ঞতায় ও অবহেলায় কত পুরুষ যে নারীর দ্বারা এবং কত নারী যে পুরুষের দ্বারা ঐভাবে সংক্রামিইত হচ্ছে তা কল্পনার অতীত। আমাদের দেশে এই দুটি বিশ্রী রোগ পুরুষেরা বারবণিতার কাছ থেকে, আর তাদের স্ত্রীরা তাদের সংক্রামিত স্বামীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে থাকে। স্বামী হয়তো দুর্বল মুহূর্তে কোনো এক রোগাগ্রস্ত স্ত্রীলোকের যৌন সংস্পর্শে এসে পড়েছিল, সেই একটি মাত্র সংস্পর্শের দ্বারাই গনোরিয়া নামক রোগটি তার শরীরে প্রবেশ করল। সে হয়তো ভালো করে এ কথা বুঝতে পারবার আগেই আবার আপন স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত সঙ্গমে লিপ্ত হলো। যখন দেখা গেল যে স্পষ্ট রোগ জম্মেছে এবং সাবধান হওয়া দরকার, তার আগেই হয়তো স্ত্রীও সংক্রামিত হয়ে গেছে। অতএব প্রায় একসঙ্গেই দুজনকে ঐ রোগে আক্রমণ করলো। অজ্ঞতা হেতু কেউই তা গ্রাহ্য করলো না কিংবা অভাব হেতু ভালো চিকিৎসা করালো না। তারপরে সেই স্ত্রীর জরায়ু থেকে যখন সন্তান প্রসব হলো তখন এই রোগের সংস্পর্শের ফলে শিশুর চোখ দুটি চিরজীবনের জন্য অন্ধ হয়ে গেল। এমন ঘটনা এই দেশে নিতান্ত বিরল নয়। পৃঃ১৯৫
কেমন করে এই সব দুর্ঘটনা ঘটা সম্ভব হয়? সে কথা সকলেরই জেনে রাখা দরকার এই জন্য, যে রোগটার উৎপত্তি কেমন করে হচ্ছে সে কথা ঠিক ভাবে জানা জা থাকলে ঠিকভাবে তার প্রতিকার করাও সম্ভব হবে না। প্রথমে গণোরিয়া রোগটির কথাই ধরা যাক। এ রোগের উৎপত্তি সম্বন্ধে যে কত লোকের কত রকম ধারণা আছে তা ভাবলে খুবই আশ্চর্য লাগে। কেউ বলে গণোরিয়া রোগীর প্রস্রাবের উপর প্রস্রাব করলে তাই থেকে গণোরিয়া হয়। কেউ বলে দোষাক্ত পানির ছিটা গায়ে লাগলে তাই থেকে হয়। কেউ বলে গামছা ব্যবহার করলে হয়, কেউ বলে শরীরটা অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে বা হঠাৎ কষে গেলে তাই থেকে হয়। কিন্তু এ সব কথার কোনোটাই যুক্তিযুক্ত নয়। আগুনে যেমন হাত ঠেকলে তবেই হাতটা পুড়বে, তাছাড়া সেই হাত পুড়ে যাবার কোনো কারণ নেই—গণোরিয়া যুক্ত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে তেমনি সাক্ষাৎ সঙ্গম ঘটলে তবেই গণোরিয়া হবে, তা ছাড়া হবার কোনো কারণ নেই। এই কথাটি নিঃসন্দেহে জেনে রাখা উচিত যে গণোরিয়া হবার ঐ একটি মাত্রই রাস্তা, গণোরিয়া হয়েছে এমন মানুষের সঙ্গে সঙ্গম। আসলে গনোরিয়া রোগটি ঘটাবার জন্য এক নির্দিষ্ট রকমের জীবাণু আছে। তার নাম নীসারের জীবাণু। মাইক্রোস্কোপের নিচে ফেললেই দেখা যায় যে এই জীবাণু পৃঃ১৯৬
খুদি খুদি বিস্কুটের দানার মতো সর্বদাই থাকে জোড়ায় জোড়ায় মিলে। ঐ জীবাণু ছাড়া কখনো কারো গণোরিয়া রোগের আক্রমণ হয় না। অর্থাৎ ঐ জীবাণু শরীরের মধ্যে প্রবেশ করলে তবেই গণোরিয়া হবে, নতুবা না। যৌনস্থানের ঝিল্লী প্রদেশের উপরেই এদের বিশেষ ক্রিয়া। ঝিল্লীগাত্রে গিয়ে পড়লেই এরা কিছুক্ষণের মধ্যে তার ভিতরে প্রবেশ করে এবং সেখানে নির্দিষ্ট রকম ক্ষতের সৃষ্টি করে। তাই থেকে হয় মূত্রপথে জ্বালা যন্ত্রণা এবং তার পরে পূঁজের সৃষ্টি। কারো যৌন অঙ্গের মুখের কাছে দুধের মতো ঘোলাটে পুঁজের একটি বিন্দু লেগে আছে দেখলেই বুঝতে পারা যায় যে গণোরিয়া হয়েছে। ঐ বিন্দুমাত্র পুঁজের মধ্যে থাকে কোটি কোটি জীবাণু। পুরুষ লোকের গণোরিয়া হলে তার লিঙ্গের মুখের কাছাকাছি কয়েকবার দোহন করার মতো টিপতে থাকলে মূত্রপথের ভিতর থেকে ঘন গোছের এক ফোঁটা সাদা পুঁজ মুখের কাছে নিশ্চয় বেরিয়ে আসে তাই দেখে আর কোন সন্দেহ থাকে না যে লোকটির গণোরিয়া হয়েছে। সেই অবস্থায় তার সঙ্গে সঙ্গম করলে ঐ পুঁজের দ্বারাই সঙ্গমিত নারীর শরীরেও গণোরিয়া হয়।পুরুষের পক্ষে গণোরিয়া প্রথম সংক্রামিত হবার পর চব্বিশ ঘন্টা দুই তিন সপ্তাহের মধ্যে তার প্রথম লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। কিন্তু নারীর শরীরে গণোরিয়ার লক্ষণ দেখা দেয় বিলম্বে। মেয়েদের পক্ষে মূত্রপথের মুখেও গণোরিয়া হতে পারে, কিংবা জরায়ুর মুখেও হতে পারে। ঠিক যোনির মধ্যে সাধারণত গণোরিয়ার ক্ষত হয় না। যদি মূত্রনালীর মুখে হয় তাহলে তার ফলে তাদের মূত্রত্যাগ কালে যথেষ্ট জ্বালা যন্ত্রণা থাকে। কিন্তু জরায়ুর মুখে হলে অনেক সময় তার জন্য কোনো কষ্টই থাকে না, পৃঃ১৯৭
সুতরাং রোগটা স্পষ্টভাবে বোঝাও যায় না। সেই জন্য যে সমস্ত নারীর কাছে গিয়ে পুরুষ রোগজীবাণু সংগ্রহ করে আনে, তারা নিজেরাই জানেনা যে তাদের শরীরে ঐ রোগটি আছে। এমন কি তাদের যৌনস্থান পরীক্ষার দ্বারাই এ রোগ ধরা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু রোগ কখনো নিরুপদ্রবে থাকে না। কিছুকাল পরে ওর জীবাণুগুলি ধীরে ধীরে জরায়ুর মধ্যে গিয়ে প্রবেশ করে। সেখান থেকে পরে ডিম্বনালীর মধ্যেও চলে যায় ও সেখানে দারুণ এক প্রদাহের সৃষ্টি করে। তখন স্পষ্টই বোঝা যায় যে গণোরিয়া থেকেই সেই বিশেষ নাড়ির প্রদাহ রোগটি জম্মেছে। এ রোগ তখন তার পক্ষে মারাত্মকও হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় নাড়ি থেকে ক্রমে পেটের ভিতর চলে গিয়ে এই জীবাণু পেরিটোনাইটিসের সৃষ্টি করতে পারে, কিংবা রক্তের মধ্যে প্রবেশ করে সমস্ত রক্তটাকেই বিষাক্ত করে তুলতে পারে। তখন এ রোগ অতি গুরুতর আকার ধারণ করে।এ রোগটি নিবারণের উপায় কি? গণোরিয়া—আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে রীতিমতো সঙ্গম না হলে গণোরিয়া হবার কোনো সম্ভাবনা নেই, এই কথাটিই আগে নিশ্চিত বলে জানতে হবে। এ রোগ থেকে অব্যাহতি পেতে হলে যার গণোরিয়া আছে তার সঙ্গে যৌন সংস্পর্শ আদৌ করা চলবে না। কারো এই রোগ হয়েছে বলে জানা মাত্রই তৎক্ষণাৎ পৃঃ১৯৮
তার সঙ্গে ছোঁয়াছুঁয়ি ও ঘনিষ্ঠতা এমেবারে বন্ধ করে দিয়ে অবিলম্বে তার উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। আজকাল পেনিসিলিন ও সালাফাথিয়াজোল প্রভৃতি অব্যর্থ ওষুধ আবিস্কার হওয়াতে গণোরিয়া আরোগ্য করা খুব সহজ হয়ে গেছে।ঐ গুলি উপযুক্ত মাত্রায় প্রয়োগ করলে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই তরুণ গণোরিয়া সেরে যায়, দুই তিন দিনের মধ্যে তো নিশ্চয়ই সারে। ঐ সব চিকিৎসায় অনেক কালের পুরানো গণোরিয়াও আরোগ্য হয়ে যাচ্ছে। পূর্বে লোকের ধারণা ছিল যে গণোরিয়া বিশেষত পৃঃ১৯৯
পুরানো গণোরিয়া অতি দুরারোগ্য রোগ। এখন আর সে কথা বলবার প্রয়োজন নেই। ভালো রকম বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার দ্বারা সকল গণোরিয়াই এখন আরোগ্য হতে পারে। সম্পূর্ণ আরোগ্য হয়ে যাব্র পরে কারো সঙ্গে সঙ্গম করলে রোগ হবার কোনো ভয় নেই। রোগটি নিঃশেষ হয়ে গেলে তখন আবার সব কিছুই করা যায়, কিন্তু তার আগে কিছুমাত্র সংস্পর্শ নয়।যেখানে গণোরিয়ার লক্ষণ স্পষ্টভাবে জানা যাচ্ছে না অথচ সন্দেহ করবার কারণ আছে, সেখানে প্রত্যেকের নিজের তরফ থেকে প্রতিরোধের উপায় অবলম্বন করতে থাকাই সুযুক্তি। সাবধান হয়ে থাকবার নিশ্চয়ই একটা মূল্য আছে। গণোরিয়া রোগটি সম্বন্ধে সাবধান হবার খুব সহজ উপায় প্রত্যেক সঙ্গমের পরেই যৌনস্থান পার্মাঙ্গ্যানেটের পানি দিয়ে উত্তমরূপে ধুয়ে ফেলা। কোনো জীবাণু থাকলে এই ওষুধের দ্বারা সেগুলি অচিরে নষ্ট হয়ে যায়। আর একটি সোজা উপায় মূত্রত্যাগ করা। প্রতি সঙ্গমের পরেই যদি মূত্রত্যাগ করা যায় তাহলে সমস্ত মূত্রপথটি তৎক্ষণাৎ ধুয়ে পরিস্কার হয়ে যায়, এবং সেখানে কিছু জীবাণু প্রবেশ করে থাকলেও মূত্রের দ্বারা সেগুলি নষ্ট হয়ে স্রোতের সঙ্গে ধুয়ে বেরিয়ে যায়। এই দুটি উপায়ের কোনোটিই কঠিন নয়। ইচ্ছা করলে সকলেই এগুলি অভ্যাস করে নিতে পারে, এবং সাধারণত তাই করাই নিরাপদ। কেবল গণোরিয়ার জীবাণু নয়, উভয় পক্ষের যৌন অঙ্গাদির মধ্যে অন্যান্য নানারকমের দোষাক্ত জীবাণু দৈবাৎ থেকে যেতে পারে। মূত্রত্যাগ ও পার্মাঙ্গ্যানেটের পানির ধোলাই করার দ্বারা সেগুলি সমস্তই নষ্ট হয়। কিছুদিন যাবত অভ্যাস করলে তখন প্রত্যেকবার সঙ্গমের পরে আপনা থেকেই মূত্রত্যাগ করবার চেষ্টা জাগে। অভ্যাসে এটি অনায়াসেই হয়। মুত্রত্যাগ ও ধোলাই এক সঙ্গে করা হলে যৌন সংস্পর্শের দ্বারা সহজে কোনো রকমের যৌন রোগই আসতে পারে না। বিশেষত মেয়েদের পক্ষে এই অভ্যাসটি করে রাখা খুবই উপকারী। স্বামীকে অবিশ্বাস করবারও কোনো প্রয়োজন নেই, ভয়ে ভয়ে থাকবারও প্রয়োজন নেই, নিজের শরীরকে এইভাবে সাবধানে রাখলে নিশ্চিন্ত মনে থাকা যায় এবং বহুবিধ রোগকে এড়িয়ে যাওয়া যায়। পুরুষেরাও এ অভ্যাস করতে পারে।সন্দেহস্থলে ক্যাপ ব্যবহার করলেও গণোরিয়ার সংক্রমণ নিবারিত হয়। পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ের মধ্যে যে কেউ ক্যাপ লাগিয়ে নিতে পারে। নারীর পক্ষে এ ক্ষেত্রে মেনসিঙ্গা পেসারি নেওয়াই শ্রেয়। ক্যাপের আবরণ ভেদ করে রোগের সংক্রমণ কখনই প্রবেশ করতে পারে না।গণোরিয়া হয়েছে এমনি অমূলক সন্দেহও অনেকের মনে জম্মাতে দেখা যায়। তারা মনের ধোঁকায় লিঙ্গের মুখ টিপে দেখতে থাকে যে গণোরিয়ার মতো লক্ষণ কিছু ঘটেছে কিনা। দৈবাৎ কখনো একটু রসের মতো বেরুতে দেখলেই তারা ভাবে নিশ্চিত গণোরিয়া হয়েছে। কিন্তু আসল গণোরিয়া হলে তাতে সামান্য একটু পানীয় পদার্থই দেখা দেবে না, তাতে বেরোবে রীতিমতো সাদা অথবা হলদে রং—এর ঘন পুঁজ। যখন পানির বা রসের মতো কিছু দেখা যাচ্ছে তখন বুঝতে হবে তা আর যাই হোক, গণোরিয়া নয়। বস্তুতপক্ষে বারে বারে টিপতে থাকার দরুণই এমন হয়। লিঙ্গের ভিতরকার মুত্রনালীর ঝিল্লী খুবই নরম, আর সেখানে অনেক ছোট ছোট গ্ল্যাণ্ডও আছে। পৃঃ২০০
অনেক বার টিপলেই তার থেকে কিছু রস বেরিয়ে আসে। টিপে দেখার অভ্যাসটি ছেড়ে দিলে এই সব দোষ আপনিই সেরে যায়।এরপরে সিফিলিসের কথা। এ রোগটিও জীবাণু ভিন্ন হয় না। এ রোগের জীবাণু গণোরিয়ার জীবাণু অপেক্ষা আরো অনেক বেশী সুক্ষ্ম। এর জীবাণু দেখতে অনেকটা যেন লম্বা করে টানা স্প্রিং—এর প্যাঁচের মতো, অথবা সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম বাঁকযুক্ত হিলিবিলি সাপের মতো। এই জীবাণুর নাম স্পাইরোকীট প্যালিডা। মানুষের রক্তের মধ্যেই এরা বাস করতে চায় এবং রক্তের সঙ্গেই এদের সংশ্রব । কার দেহের চামড়াতে ঈষৎ কাটা—ছেঁড়ার দরুণ অল্প একটু প্রবেশ পথ পেলেই এরা সেখান দিয়ে অনায়াসে রক্তের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং অনুকুল স্থানে থাকতে থাকতে সংখায় বেড়ে গিয়ে একদিন যথাকালে রোগের সৃষ্টি করে। তখন সঙ্গমের দ্বারা সেই রুগ্ন ব্যক্তির ক্ষতস্থান বা রক্ত থেকে সুস্থ ব্যক্তির রক্তে ঐ জীবাণু ঢুকে তারও দেহে সিফিলিস রোগটি জম্মায়। এ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে এই রোগ সংক্রামিত হবার সম্ভাবনা নেই।গণোরিয়া এবং সিফিলিস, এই দুই সংক্রামক রোগই সঙ্গমের সাহায্য একজন থেকে অন্যজনে সংক্রামিত হয়, কিন্তু দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। গণোরিয়া আক্রমণ করে স্থানীয় ঝিল্লীকে, কিন্তু সিফিলিস আক্রমণ করে শরীরের সমস্ত রক্তস্রোতকে।সিফিলিস রোগটি ঘটবার জন্য ক্ষতের সঙ্গে ক্ষতের কিংবা রক্তেরসের সঙ্গে রক্তরসের সাক্ষাৎ সংস্পর্শে হওয়া চাই। দুইজন নরনারীর মধ্যে যদি এমন হয় যে, একজনের আছে সিফিলিস আর অন্যজনের নেই, তাহলে তাতেই তাদের সঙ্গমের দ্বারা যে সুস্থ ব্যক্তিটির সিফিলিস নিশ্চয় হবে এমন কোনো কথা নেই। ক্ষতের বা রক্তের জীবাণুর সঙ্গে অপরের রক্তের রক্তের সংযোগ না ঘতলে সঙ্গম সত্বেও কিছুই হবে না। অবশ্য তেমন ক্ষেত্রে সঙ্গমকালে ঐ সংযোগটি হবার সম্ভাবনা আছে যথেষ্ঠ । সঙ্গমক্রিয়ার সময়ে দুজনেরই যৌন অঙ্গের কোমল স্থানগুলিতেএবং বিশেষ বিশেষ জোড়ের মুখে রীতিমতো ঘর্ষণ চলতে থাকা স্বাভাবিক। এই ঘর্ষণের ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নরম চামড়াগুলির বহুস্থানে ছিঁড়ে যায়, ফেটে যায়, অথবা একটু একটু ছাল উঠে যায়্য। সিফিলিসের জীবাণুর গতিবিধির পক্ষে অতিসামান্য ছিদ্র পেলেই যথেষ্ট। সিফিলিস যার হয়েছে তার লিঙ্গের বা যৌনির কোথাও একটু ফেটে কিংবা ছিঁড়ে যাওয়াতে সেখানকার রক্তরস থেকে সঙ্গে সঙ্গে ঐ রোগের বহু বহু জীবাণু নির্গত হয়ে আসবে। সুস্থ জনের যেখানে যেখানে কিছুমাত্র ফেটে বা কেটে গেছে সেইখান দিয়ে ঢুকে সেই জীবাণু তৎক্ষণাৎ তার রক্তের মধ্যে প্রবেশ করবে। বস্তুতপক্ষে এমনিভাবে সিফিলিস হয়, অথচ যে ব্যক্তি রোগটি দিল সে সেও এ কথা জানতে পারেনা, আর যে নতুন রোগটি পেলে সেওনা। তবে এখানে আরো একটি কথা বলা দরকার । কেবল যে সঙ্গমের দ্বারাই সিফিলিস হবে, নতুবা আর অন্যভাবে হবে না, এমন কোনো ধরা বাঁধা নিয়ম নেই। মোটের সঙ্গম হলো না, কেবল পরস্পরেরর মুখের সঙ্গে মুখের মধ্যে দাঁতের গোড়ায় কোথাও বিশেষ রকম ক্ষত আছে—এমন যদি হয় তাহলে ওদের দুজনে চুম্বন করার ফলে কিছুদিন পরে ঐ দ্বিতীয় পৃঃ২০১
জনের জিভে কিংবা ঠোঁটে সিফিলিসের প্রাথমিক ক্ষত বেরিয়ে পড়া কিছুই আশ্চর্যের কথা নয়। আমরা এমনি একটি সত্য কথা জানি বলেই বলছি। কোনো এক ভদ্রলোকের স্ত্রী অন্তঃসত্বা, এবং সেই অবস্থায় সে স্বামীকে সঙ্গম করতে দিতে নিতান্তই অনিচ্ছুক। সেই কারনে স্বামীটি তার সঙ্গে সঙ্গম করা আপাতত ছেড়েই দিয়েছিলেন। একদিন খুবই উত্তেজিত হওয়াতে স্ত্রীকে তিনি লিঙ্গটি একটু লেহন করতে বারে বারে অনুরোধ করেন। সঙ্গম থেকে নিষ্কৃতি পাবার জন্য স্ত্রী অগত্য তাঁর এই অনুরোধটি রক্ষণ করে। কিছুকাল পরে তার ঠোঁটে একটি সন্দেহজনক ক্ষত দেয়া দেয়। পরীক্ষায় জানা যায় সেটি সিফিলিসের ক্ষত। অবশ্য এমন ধরণের ঘটনা বিরল। সাধারণত যৌন সঙ্গমের দ্বারাই সিফিলিস হয়, এবং যৌনস্থানেই তার প্রথম ক্ষত দেখা দেয়। তার কারণ আর কিছু নয়, এবং যৌনস্থানেই তার প্রথম ক্ষত দেখা দেয়। তার কারণ আর কিছু নয়, নরনারীর আসল সংস্পর্শ ঘটে সাধারণত সঙ্গমের দ্বারাই । আর জীবাণুরা সাধারণত যৌনস্থানের ক্ষতের মধ্যেই বহু পরিমাণে আশ্রয় নিয়ে থাকে।গণোরিয়ার লক্ষণগুলি অতি শীঘ্র অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই প্রকাশ পায়, কিন্তু সিফিলিসের প্রথম লক্ষণটিও প্রকাশ পায় অনেক বিলম্বে। অর্থাৎ এই রোগের জীবাণুর প্রথম প্রবেশ যেদিন ঘতলো, রোগের প্রথম দ্রষ্টব্য চিহ্নিটি প্রকাশ পাবে অন্ততপক্ষে তার তিন সপ্তাহ থেকে পাঁচ সপ্তাহ কাল পরে। তিন সপ্তাহের আগে তো কখনই নয়। এতেই বিপদের সম্ভাবনা আরো বেড়ে যায়। তিন সপ্তাহ থেকে পাঁচ সপ্তাহ যথেষ্টই দীর্ঘকালের ব্যবধান। ঐ সময়ের মধ্যে কোনো সংক্রামক রোগের কিছুমাত্র চিহ্ন নেই, অথচ সেই ব্যক্তির যৌনস্থানের ভিতরকার রক্তে রয়েছে অসংখ্য সংক্রামক জীবাণু। সঙ্গমকামী মানুষ স্বভাবত এতদিন পর্যন্ত সুস্থ শরীর নিয়ে সঙ্গমক্রিয়া ভাদ দিয়ে থাকেনা। সে বাইরের থেকে নতুন রোগ জীবাণু এনে নিশ্চিন্তমনে ইতিমধ্যে আপন ঘরের স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার সঙ্গম করে থাকে, এমন কি স্ত্রী ছাড়াও অন্যান্য স্ত্রীলোকের সঙ্গে ঐ সময়ের মধ্যে বহু সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া তার পক্ষে বিচিত্র নয়। ঐ ব্যক্তি যদিও রোগ দেখা দেবার সঙ্গে সঙ্গে ভয় পেয়ে সঙ্গম থেকে বিরত হবে এবং চিকিৎসাও করাবে, কিন্তু মাঝের কয়েকদিনের ব্যবধানের মধ্যে যার যার সঙ্গে সে যৌন সংস্পর্শ ঘটাবে তাদের প্রত্যেকেরই সিফিলিস হবার সম্ভাবনা রইল এ কথা বলা বাহুল্য।জীবাণুর সংক্রমণের তিন সপ্তাহ থেকে পাঁচ সপ্তাহ পরে সিফিলিসের প্রথম চিহ্নটি প্রকাশ পায় ছোট একটি দানার মতো শক্ত এবং চারপাশে উঁচু বেড় দেওয়া বিশিষ্ট ক্ষতের আকারে। সিফিলিসের এই ধরণের প্রাথমিক ক্ষতের নাম শ্যাংকার। এই শ্যাংকারের সামান্য ক্ষতটি দেখে মোটেই ভয়াবহ মনে হয়না, কারণ এই বিশিষ্ট ক্ষতের মধ্যে পুঁজ প্রায়ই হয়না কিংবা তেমন কোনো ব্যথাও থাকে না। সুতরাং রোগী এই ক্ষত দেখে মনে মনে একটু চিন্তিত হলেও একে ততটা গ্রাহ্যেক মধ্যে আনেনা। তিন চার সপ্তাহ আগে কোথায় সঙ্গম ঘটেছিল সেকথা সে তখন হয়তো ভুলেও গেছে। ক্ষতটি আকারেও সাধারণত বাড়েনা, প্রায় একরকম অবস্থাতেই থেকে যায়। এর সঙ্গে আরো কিন্তু একটি লক্ষণ প্রকাশ পায়, গ্ল্যাণ্ডের স্ফীতি । দুই কুঁচকির বিচিগুলি এর সঙ্গে সঙ্গে বেশ ফুলে ওঠে। সেখানে কিছু ব্যথাও থাকতে পারে। এই সঙ্গে কিছু জ্বরও দেখা দিতে পারে। পৃঃ২০২
বলা বাহুল্য অগ্রাহ্য করলেও এই অবস্থা খুবই সংক্রামক এবং এ অবস্থায় যার সঙ্গেই সঙ্গম করা যায় তারই সিফিলিস হতে পারে। কারণ ঐ ক্ষতের মধ্যে থাকে অসংখ্য জীবাণু।এমনি ভাবে আবার তিন সপ্তাহ থেকে পাঁচ সপ্তাহ কেটে যায়। ইতিমধ্যে সমুচিত চিকিৎসা করা হলে তো কোনো কথাই নেই, কিন্তু চিকিৎসা কিছু করা না হলেও ইতিমধ্যে প্রাথমিক ক্ষতটি অনেক সময় আপনা থেকেই আরোগ্য হয়ে মিলিয়ে যায়। কিন্তু ক্ষতটি অদৃশ্য হয়েছে বলে যে রোগটিও সেরে গেছে তা মোটেই নয়। প্রায় দুই মাস থেকে আরাই মাসের মধ্যে এই রোগের দ্বিতীয় প্রকাশের অবস্থা এসে পড়ে, এবং তখন থেকে সেই দ্বিতীয় অবস্থার সিফিলিসের নানারকম চিহ্ন শরীরের চারদিকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেতে থাকে। তখন হয়তো শরীরের এখানে ওখানে বসন্তের লক্ষণের মতো অকস্মাৎ ঝাঁকে ঝাঁকে অনেক র‍্যাশবা গুটি বেরিয়ে পড়ে, কিংবা লাল লাল রকমারী দানা বেরোয়, কিংবা বহুস্থানে নানারকম ঘা ফুটে বেরোতে দেখা যায়, কিংবা চর্মরোগের মতো কালো অথবা সাদা ছোপ ছোপ দাগ উঠে সর্বাঙ্গ ছেয়ে যায়। সিফিলিস রোগটি এ সময় হয়ে উঠে ঠিক যেন বহুরূপী, কখন কিভাবে আত্মপ্রকাশ করবে তার কিছুই বলা যায় না। এই ধরণের চিহ্ন দেখেই লোকে বলে গায়ে পারা বেরিয়েছে। সাধারণের মধ্যে বদ্ধমূল ধারণা যে পারা খাইয়ে দেওয়াতেই এই গুলি হয়ে থাকে। অজ্ঞ লোকেরা প্রায়ই বলে যে তাড়াতাড়ি ঘা সারবার জন্য কেউ কাঁচা পারা খাইয়ে দিয়েছে, সেই পারা এখন চার দিকে ফুটে বেরিয়েছেন। এ যে কতখানি অযুক্তির কথা তা বলাই নিষ্প্রয়োজন। কাঁচা পারা সত্যই কেউ খায়না, এবং খেলেও তাতে অমন ধরণের কোনো অনিষ্ট হয় না। পারা খেলেও তা কখনো হজম হয় না, এবং কখনই চামড়া দিয়ে ক্ষতের আকারে ফুটে বেরোতে পারে না। সুতরাং ও সকল কোথা আগাগোড়াই ভুল। আসলে হঠাৎ সর্বশরীরে ক্ষতের সৃষতি হয় সিফিলিসের জীবাণুরই দ্বারা, অন্য কোনো কারনে নয়। রোগের এই দ্বিতীয় অবস্থা পাঁচ বছর থেকে সাত বছর পর্যন্ত চলতে পারে। এই অবস্থাটি অপর জনের পক্ষে অত্যন্ত সংক্রমক। ঐ সকল ঘায়ের রস অতি সূক্ষ্ম পরিমাণেও অন্য কারো রক্তের বা রক্তরসের সঙ্গে মিশলে তারও নিশ্চয় সিফিলিস হবে তাতে সন্দেহ নেই। সকলের পক্ষেই এদের সঙ্গে সমস্ত রকম সংস্পর্শ বাঁচিয়ে চলা উচিত।পাঁচ সাত বছর পরে দেখা দেয় রোগের তৃতীয় অবস্থা। তখন রোগের জীবাণু শরীরের আরো গভীরতর প্রদেশ গুলিতে প্রবেশ করেছে। এরা তখন একে একে হাড়ের ভিতর পর্যন্ত আক্রমণ করে, বড় বড় রক্তশিরাকে আকরমণ করে, মস্তিক পর্যন্ত আক্রমণ করে। তার ফলে দেখা দেয় মস্তিক বিকার ও পক্ষাঘাত।স্ত্রীলোকদের পক্ষেও এ রোগ যথেষ্ট মারাত্মক। যদিও অনেক সময় প্রাথমিক ক্ষতটি যোনিস্থানের খাঁজের মধ্যে কোথা লুকিয়ে থাকাতে দৃষ্টি এড়িয়ে যায়, কিন্তু তারপরে ক্রমে ক্রমে রোগের সমস্ত রকম লক্ষণই যথাসময়ে প্রকাশ পেতে থাকে। সিফিলিসের সংক্রমণযুক্ত স্ত্রীলোকের গর্ভবতী হলে প্রায়ই তাদের গর্ভপাত হতে থাকে, অথবা তারা পৃঃ২০৩
বারে বারে মৃত সন্তান প্রসব করতে থাকে। এটি হলো স্ত্রীলোকের সিফিলিসের একটি বিশিষ্ট লক্ষণ। অর্থাৎ তারা গর্ভস্থ সন্তানকে এই রোগের সংক্রমণ বারে বারেই প্রদান করে। সেই সন্তান যদি তাসত্বেও প্রসবের পরে জীবিত থাকে, তাহলে তারা আজীবন নানাবিধ অসুস্থতার দ্বারা পৈতৃক ও মাতৃকভাবে পাওয়া রোগের সর্বাঙ্গীণ লক্ষণ সমূহ প্রকাশ করতে থাকে।গণোরিয়া অপেক্ষা সিফিলিস যে অনেক বেশী অনিষ্টকারী তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই রোগ সম্বন্ধে সাবধান হওয়া খুব কঠিন, কারণ এই রোগকে চেনা গণোরিয়া অপেক্ষা অনেক বেশি দরূহ। যখন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা দিয়েছে তখন অবশ্য চেনা যায়, কিন্তু রোগের প্রথম অবস্থায় এবং মাঝে মাঝে অনেক সময় এর কোনরূপ লক্ষণই থাকে না। শরীর বাহ্যিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ দেখাচ্ছে অথচ রক্তের মধ্যে রয়েছে জীবাণু, এমন প্রায়ই হয়। সে অবস্থায় রক্ত পরীক্ষা ব্যতীত এ রোগটি ধরবার কোনোই উপায় নেই। যে নির্দিষ্টরূপ পরীক্ষার দ্বারা এই রোগটি ধরতে পারা যায় তার নাম ভাসারম্যান পরীক্ষা। সন্দেহস্থলে এই পরীক্ষাটি করিয়ে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো প্রকারের সন্দেহ মেটাবার উপায় নেই। এই পরিক্ষাটি যদি না আবিস্কার হতো তাহলে আজ সমাজের অবস্থা কেমন দাঁড়াত সে কোথা অনুমান করা যায়না।

সিফিলিওস থেকে নিষ্কৃতি পাবার উপায় কি?

এ সম্বন্ধে প্রথম উপায় হলো রোগটিকে জানা। যার সঙ্গে স্থায়ীভাবে যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হতে চলেছে তার শরীরে এই রোগ আছে কিনা সেই কথা আগে নিঃসন্দেহরূপে জানা দরকার। যদি না থাকে তাহলে এ কথা নিশ্চিত যে তার সঙ্গে সহবাসে সিফিলিস হওয়া যায় না। পাশ্চাত্য দেশে ও আমেরিকায় তাই অনেক নর-নারী আজকাল বিবাহের আগে পরস্পরের রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে নেয়। আমাদের দেশে অবশ্য এতটা সম্ভবও নয় এবং তার প্রয়োজনও কেউ বোধ করেনা। এখানে ধরেই নেওয়া হয় যে বিবাহিত স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কারো এমন রোগ নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে কখন কখনো আবিস্কার হয়ে যায় সে সম্পূর্ণ নিরীহ প্রকৃতির স্বামীটির এই রোগ ইতিপূর্বে হয়েছিল। সে কথা জানা যায় প্রায়ই অনেক পরে, যখন স্ত্রীর স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে গেছে এবং সে একটির পর একটি মৃত সন্তান প্রসব করছে। কিংবা বারে বারে তার গর্ভপাত হচ্ছে। ঐ সকল স্বামী হয়তো অজ্ঞনতা হেতুই ভেবে দেখেনা যে তাদের অতীত জীবনের কথা চাপা দিয়ে রেখে কিংবা শরীরে রোগ পুষে রেখে এমনভাবে অবহেলা করা তাদের স্ত্রীর ও ভবিষ্যৎ সন্তানদের পক্ষে কতখানি মারাত্মক। তাদের সমস্ত সংসারটাই এই অবিবেচনা ও অবহেলার দ্বারা নষ্ট হয়ে যায়। এ অপরাধের তখন আর প্রায়শ্চিত্ত নেই। সিফিলিস যে কখনো হয়েছিল এইটাই মানুষের অপরাধ নয়, কারণ অন্যান্য রোগ যেমন শরীরের পক্ষে সাময়িক দুর্ঘটনা, এ রোগও ঠিক তেমনি। কিন্তু অপরাধ সেইখানে যেখানে জানা থাকলেও অপরের প্রতি নিজের দায়িত্ব সম্বন্ধে অবহেলা করা হয়। যেখানে নিজের মনে কিছুমাত্র সন্দেহ আছে সেখানে নিজের থেকেই একবার রক্ত পরীক্ষা করিয়ে স্থিরনিশ্চয় হওয়া উচিৎ যে এই

পৃঃ২০৪
রোগের কোনো চিহ্নমাত্র নিজের শরীরে আছে কিনা। যদি থাকে তাহলে স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে আদৌ সংশ্লিষ্ট হবার আগেই চিকিৎসার স্বারা সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য হয়ে নেওয়া বিশেষ দরকার। এ দরকার কেবল নিজের মঙ্গলের জন্য নয়, স্ত্রী পুত্রের জীবনরক্ষা করবার জন্যই রোগটিকে সারাতে হবে। আজকাল এর চিকিৎসাও খুব সহজ, আর অল্পকালের মধ্যেই ঐ রোগের কবল থেকে সম্পূর্ণরূপে আরোগ্যলাভ করা যায়। নিওস্যালভারসন আবিস্কার হওয়াতে এর চিকিৎসা খুবই সহজ হয়ে গিয়েছিল, বিসমাথ চিকিৎসার দ্বারা সমর্থিত হওয়াতে তা আরো বেশী সহজ হয়ে গেছে। এই দুইরূপ চিকিৎসা একত্রে প্রয়োগ করতে থাকলে দুই তিন মাসের মধ্যেই নিশ্চিত সম্পূর্ণ রোগমুক্ত হওয়া যায়। আরোগ্য হয়ে গেলে তখন আর সঙ্গমে প্রবৃত্ত হতে কোনোই বাধা নেই।সন্দেহস্থলে স্ত্রী ও পুরুষ উভয়েই ব্যক্তিগত ভাবেও এই সিফিলিস রোগের সংক্রমণ যথাসম্ভব বাঁচিয়ে চলতে পারে। সব চেয়ে সহজ উপায় ক্যাপ ব্যবহার করা। ক্যাপের অন্তরাল ভেদ করে জীবাণুরা কখনো এক শরীর থেকে অন্য শরীরে প্রবেশ করতে পারে না। যেখানে রোগের জীবাণু রয়েছে কিনা সেকথা কিছুমাত্র জানা নেই অথচ সঙ্গমে লিপ্ত হতে হচ্ছে সেখানে ক্যাপটি খুব মজবুত হওয়া চাই, এবং তা খুবই সাবধানে ব্যবহার করা চাই। সে ক্যাপ দৈবাৎ ছিঁড়ে গেলে কিংবা ফুটো হয়ে গেলেই তখন মহা বিপদ।ক্যাপ ব্যবহার করা ছাড়াও আরেকটি উপায় আছেঃ তা হলো মেচনিকফ নামক বৈজ্ঞানিকের আবিস্কৃত একরকম মলম ব্যবহার করা। তার নাম ক্যালোমেল মলম (৩০% ক্যালোমেল অয়েণ্টমেন্ট)। সঙ্গমের পূর্বে ও পরে এই মলম ব্যবহার করলে কারো সিফিলিস হয় না। বানরের দেহে পুনঃপুনঃ পরীক্ষার দ্বারা নিশ্চিতরূপে এ কথার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু মলমটি কেবল মাখিয়ে দিলেই চলবে না। সঙ্গমের পূর্বে পাঁচ মিনিট যাবত এই মলম সম্পূর্ণ লিঙ্গটিতে অথবা যোনিতে রীতিমতো মালিশ করতে হবে, এবং সঙ্গমের পরে সাবান দিয়ে পরিস্কার করে ধুয়ে নিয়ে আবার একবার মালিশ কুরতে হবে। এতটা সাবধান হতে পারলেই তবেই সন্দেহ স্থলে ঐ রোগ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে। সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলবার নির্দেশটিও বিশেষ উপকারী। সাবান দিয়ে উত্তমরূপে ধুয়ে ফেললে তার দ্বারাও অধিকাংশ জীবাণু নষ্ট হয়ে যায়।সিফিলিস সম্বন্ধেও অনেকের মনে নানারক্ম অহেতুক ভীতি জম্মায়। সন্দিগ্ধ লোকেরা লিঙ্গের উপরে যা কিছু ঘটতে দেখে তাকেই মনে করে সিফিলিস। বলা বাহুল্য লিঙ্গের উপরে কোনোরকম ঘা হলেই যে সিফিলিসের ঘা এমন মনে করা বোকামী। সিফিলিস ছাড়াও সেখানে অন্যরকমের ঘা হতে পারে। সঙ্গম থেকেই সংক্রমণের দ্বারা হয়ে থাকে, কিন্তু এর জীবাণু অন্য জাতের, সুতরাং এর চিকিৎসা আছে অন্যপ্রকার । এ রোগ কষ্টদায়ক হলেও সিফিলিসের মতো অনিষ্টকারী নয়। অপরিস্কার থাকার দরুণ লিঙ্গমুণ্ড ও তার উপরকার চামড়ার মাঝখানে ময়লা জমে লাল দগদগে এক রমকের পৃঃ২০৫
ঘা হয়, পরিস্কার রাখলে এবং কিছু ওষুধ প্রয়োগ করলে তা শীঘ্রই সেরে যায়। লিঙ্গের উপর মাঝে মাঝে আরো একরূপ নির্দোষ ধরণের দানা উঠতে দেখা যায়, তার নাম হার্পিস। এ ছাড়া লিঙ্গের গায়ে ফুসকুড়িও হতে পার, খোষ পাঁচড়াও হতে পারে। স্ত্রীলোকদের যোনিদ্বার অপরিস্কার থাকার দরুণ নানারকম চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। সব কিছুই যে সিফিলিস এমন মনে করা উচিৎ নয়। সিফিলিসের বিশেষ রকমের ঘা দেখলেই তাকে চেনা যায়। সন্দেহস্থলে অহেতুক ভয় না পেয়ে তৎক্ষণাৎ ডাক্তার দেখালেই সব সন্দেহ মিটে যায়। একটি আশ্চর্যের কথা এই যে যাদের বাস্তবিক সিফিলিস হবার কোনোই সম্ভাবনা ঘটেনি, তারাই সিফিলিসকে এব চেয়ে বেশী ভয় করে, তাদেরই যৌনস্থানে যত ফুসকুড়ি প্রভৃতি নানা উৎপাত ঘটতে থাকে, এবং তারাই বারে বারে ডাক্তারের কাছে ছোটে।

নিঃশব্দ মৃত্যুদূত এইডস

ক্যান্সার বা পরিবেশ দূষণ নয়, আগামী দু’হাজার সালের মধ্যে সারা বিশ্বে যে যৌনরোগটি মানবজাতির জীবনে মরণব্যাধি রূপে বিভীষিকার রূপ নেবে তার নাম ‘এইডস’ (AIDS), অর্থাৎ অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রম। সমগ্র বিশ্বে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ ইতিমধ্যেই এই কালান্তক রোগের শিকার হয়ে গেছে এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সমীক্ষায় জানা যাচ্ছে একবিংশ শতাব্দী শুরুর আগেই প্রায় ৪ কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাহীনতায় ভুগবে। এর মধ্যে ২৫% রোগীই ভারতের।এই রোগের সম্ভাব্য কারণ হলো, বেপরোয়া অবাধ যৌন সম্ভোগ, শিরায় নেশার ইঞ্জেকশন নেওয়া এবং জীবণুমুক্ত ইঞ্জেকশন (Disposal Syringe) ব্যবহার না করা। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো ‘ব্লাড ব্যাঙ্ক’।এইডস আজ সমগ্র ভৌগলিক সীমারেখা পার হয়ে সারা বিশ্বে মহামারীরূপে ছড়িয়ে পড়ছে। ভারতের বোম্বে ও চেন্নাই শহরে বারবণিতাদের জন্য এই রোগ দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।

ভারতে প্রায় ২০ লক্ষ বারবণিতা আছে। কলগার্ল, স্ট্রীট প্রস্টিটিউট ও রক্ষিতা মিলে আরও কয়েক লক্ষ—সব মিলিয়ে সংখ্যাটা কোটি হওয়াও অসম্ভব নয়। এদের অধিকাংশের স্বাস্থ্যবিধির উপর নজর রাখার কোন বিধিব্যবস্থা নেই। সরকারও পুরোপুরি এ ব্যাপারে উদাসীন।

বোম্বে শহরে কম করে ২০ হাজারের মতো পতিতা আছে। এদের মধ্যে অন্তত ৮ হাজারজন পতিতাই এইডস রোগে আক্রান্ত। তবুও সেখানে ৫ থেকে ১০ শতাংশের বেশি কনডমের ব্যবহার বাড়েনি। কারণ, যৌনমিলনে চরম তৃপ্তি লাভ হবে না—এই ধারণায় পতিতালয়ের গমনকারীরা কনডম ব্যবহার করতে চায় না, আর খদ্দের হারাবার ভয়ে পতিতারাও তাদের কনডম ব্যবহারের জন্য চায় দেয় না।

পৃঃ২০৬
বিশ্বের বড় বড় শহরে যৌনকর্মীদের মাধ্যমে এইডস ছড়ায়। আফ্রিকাতে ২০০০ সাল নাগাদ প্রতি ২০ জনে একজন করে এইডস রোগের শিকার হবে।সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জানা যাচ্ছে যে, এইডস –এর জীবাণু (HIV+) কখনই নিস্ক্রিয় থাকে না। বরঞ্চ দীর্ঘকাল শরীরের অস্থিমজ্জা ও লসিকার মধ্যে আত্মগোপন করে থাকে ও সর্বোপরি মরণ কামড় বসায়। গবেষণায় আরও জানা গেছে যে, টনসিল, প্লীহা, মাংসপিন্ড, অ্যাডেনয়েড গ্ল্যাণ্ড—এ অতি সহজে এইডস ভাইরাসের সমাবেশ ঘটতে পারে। ফলে ভাইরাস দেহের প্রধান রক্তকোষগুলিতে দ্রুত সংক্রামিত হয়ে কোষগুলিকে টুকরো টুকরো করে ভেঙ্গে ফেলে, যে কোষগুলি জীবাণুকে পরিস্রুত করে বের করে দেয়। পরিণাম স্বরূপ জীবদেহের পরিস্রুতকারী কোষগুলি ধ্বংস্প্রাপ্ত হয় এবং রক্তকোষগুলি সংক্রামিত হয়ে দেহের রক্ত সঞ্চালন (Blood Circulation) প্রক্রিয়ার (System) মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শেষ হয়ে যায় এবং সামান্য সংক্রামক রোগেও মৃত্যু অবধারিত। পৃঃ২০৭

শেয়ার করুণ।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *