যে কোন যৌন বা স্বাস্থ্য সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডা.মনিরুজ্জামান এম.ডি স্যার। কল করুন- 01707-330660

ইসলামী যৌন বিজ্ঞান গ্রন্থের গ্রন্থকার বলেনঃ যে কোন অবস্থায় সন্তানের যদি যৌন মিলনের দোষাবলীর আশ্রয় গ্রহণ করার আশংকা থাকে তাহলে বিবাহ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। সুতরাং যৌবন, স্বাস্থ্য ও চরিত্র রক্ষার জন্য নর-নারীর পরিণতি বয়সে অবিলম্বে বিবাহ হওয়া একান্ত আবশ্যক। কারণ, এ সময়ের মধ্যে বালক তার পরিবেশ সম্পর্কে বেশ ভাল জ্ঞান অর্জন করে ফেলে। তাছাড়া এ সময় যুবক-যুবতীদের মনে কামভাব তীব্রতর হয় ও পরস্পরের মধ্যে আকর্ষণ সৃষ্টি হয়ে যৌনক্ষুধা মিটাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগে। তবে কৈশোরে অপরিণত বয়সে যখন যৌন জ্ঞান তীব্র হয়নি কিন্তু এ সময় হতেই অনেকে যৌন তৃপ্তি মিটানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠে। ফলে কখনও কখনও কচি ছেলে-মেয়েদের যৌনক্রীড়ায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। অসৎ পরিবেশে অথবা মাতা-পিতার অসতর্কতার কারণে তাদের এ প্রবৃত্তিটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। তাছাড়া অনেক সময় মাতা-পিতা তাদের সন্তানদের অপরিণত বয়স বলে মনে করে তাদের সাক্ষাতে যৌন মিলনে লিপ্ত হয়, ফলে শিশুর মনে এর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তারা পুরাপুরি না বুঝলেও তাদের মনে ওর একটা দাগ পড়ে যায়। অতএব, এ ব্যাপারে পিতা-মাতারও যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। আমরা যাকে অবুঝ মনে করি, সেও যে অনেক কিছু বুঝে, আমরা তা ভাবি না। ফলে মাতা-পিতার অসতর্কতার দরুন অনেক শিশুই অতি অল্প দিনেই যৌনবাসনা পরিতৃপ্তির কায়দা-কানুন শিখে ফেলে এবং অন্যের সাথে তা অভ্যাস করতে গিয়ে চরিত্রহীন হয়ে পড়ে। তাছাড়া বর্তমান সমাজের ব্যর্থতার কারণ হল, তা সন্তানদের যে আইন ও বিধি-বিধানের আনুগত্য করাতে চায় নিজেরা আবার সে পথের বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যেমন যৌনতা ও প্রবৃত্তির কামনা-বাসনার একমাত্র পথ অশ্লীল সাহিত্য, নগ্ন ছবি অথবা অর্ধনগ্ন  ছবি, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, যৌন উত্তেজনাকর নৃত্যগীতের আসর এসব সন্তানদের সৎ ও পবিত্র জীবন-যাপনের সহায়ক কোন দিনই হতে পারে না। ভিভি, ভিসিআর, ডিস এ তিনটি ধ্বংসাত্মক বস্তুই মানুষের মাঝে ভয়াবহ পরিণতি সৃষতি করেছ-যার দ্বারা প্রায় প্রতিটি যুবক-যুবতী অনিচ্ছাসত্ত্বেও অসচ্ছরিত্রের হয়ে পড়ে। ধীরতে ধীরে তার স্বভাব ও কর্মকান্ডে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে। আর যেহেতু এ তিনটি বস্তুর অধিকাংশ ব্যবহারই হচ্ছে আজকের সমাজে শুধু অহেতুক তামাশা, বেহায়পনা, অশ্লীলতা ও দ্বীনহীন কর্মাকান্ডে। ফলে এগুলো মানব সমাজে ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।

আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

“যেসব লোক পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।”(সূরা-নূর-১৯)

আল্লাহ পাক যেটাকে অশ্লীল ও নির্লজ্জতা বলে চিহ্নিত করে দিয়েছেন, তার প্রচার কোন ঈমানদার লোকই সহ্য করতে পারে না। তাই ইসলামী সমাজে এ নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতার প্রচারকে মোটেই সমর্থন করা হয়নি।

ইসলামী আইনে যৌন অপরাধের শাস্তি

ইসলাম ব্যভিচার হওয়ার সম্ভাব্য সব পথ বন্ধ করে দিয়েছি। কোন ব্যক্তি যদি ব্যভিচারের অপরাধ সাহস দেখায় তাহলে পূর্ণভাবে তাকে দমন করা ও ব্যভিচারকে চিরতরে নির্মূল করে দেয়া উচিত। যেসব লোক সমাজকে কলুষিত করতে চায়, সমাজ থেকে তাদের বিতাড়িত করে দেয়া উচিত। এ পথে সে লোক যতটা সাহস দেখাবে, ইসলামের আইন তার জন্যে ততটা কঠোর হবে। নারী-পুরুষের অবৈধ প্রেম চর্চাকারীকে বাধা দিতে হবে এবং যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তাদের প্রকাশ্যভাবে বেত্রাঘাত করে শাস্তি দিতে হবে। আর যে লোক বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও যৌন মিলনে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করবে, ইসলামী সমাজে তার বেঁচে থাকার অধিকার নেই।

এক্ষেত্রে পিতা-মাতার ভূমিকা

লজ্জা ও আত্মমর্যাদাবোধ ব্যতীত মানব সমাজে কখনো শান্তি নিরাপত্তা অর্জন হতে পারে না। আজকে এর ভয়াবহ পরিণতি আমাদের সামনেই রয়েছে। অন্যায়-অপকর্ম, নির্লজ্জতা ও বেহায়পনার এ চিত্র আমাদের সামনে দৃশ্যমান। যার বহু দৃষ্টান্ত আজকের সমাজের দিকে তাকালে দেখা যাবে। লজ্জা ও আত্মমর্যাদা মানব সন্তানরা স্বীয় মাতা-পিতার গৃহ থেকে অর্জন করে থাকে। মানুষের লাজ-লজ্জা ধ্বংস হয়ে যাওয়াই হচ্ছে টিভির নির্লজ্জ প্রোগ্রামগুলোর একমাত্র কারণ। অবাধ যৌনাচার সর্বসাধারনের মাঝে এমনভাবে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে যে, কল্পনাও করা যায় না। অশ্লীল সাহিত্য অধিক প্রচারের মাধ্যমে নির্লজ্জ ক্রিয়া-কর্ম পূর্ণমাত্রায় শেখানো হচ্ছে। আজকাল প্রায় সকল শিশুদের মধ্যে এমন দেখা যায় যে, তারা টিভির প্রোগ্রামের সকল নাম বলতে পারে। টিভি শিশুদের বিশেষ করে বালক-বালিকাদের উপর এক ভয়ানক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে চলছে। টিভি দেখার অধিক আগ্রহ এবং অবাধ মেলামেশা সম্পর্কিত প্রোগ্রাম ছেলে-মেয়েদের উপর ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া করে চলেছে। এ মর্মান্তিক অবস্থা থেকে সন্তানদের রক্ষা করতে হলে মাতা-পিতাকে সজাগ হতে হবে এবং যাতে দৃষ্টিসীমার বাইরে কিছু না করতে পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। মাতা-পিতাকে তাদের দায়িত্ববোধের প্রতি যত্মশীল হওয়া একান্ত কর্তব্য। সন্তানদেরকে ভালবাসার পাশাপাশি ভাল-মন্দ এবং ইসলামিক ও অনিসলামিক কার্যকলাপের পার্থক্যের শিক্ষাদান একান্ত গুরু দায়িত্ব।

যেভাবে যৌন অপরাধ সংঘটিত হয়

টেলিভিশনে দেখানো নারীদের অর্ধনগ্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলোর উপর শিশুদের যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় তা সহজেই অনুমেয়। টিভির সামনে বাবা-মার সঙ্গে অশ্লীল প্রোগ্রাম বিনা দ্বিধায় দেখতে থাকে আর এরই ফলে কুপ্রবৃত্তি, অবাধ মেলামেশা এবং বিপথগামীতার এরূপ অসংখ্য ঘটনা সমাজে ভরপুর। আজকাল যুবক-যুবতীদের নির্লজ্জ কর্মকান্ড ও অন্যায় অপকর্ম প্রকাশ্য দিবালোকে চলচে। এর একমাত্র কারণ টিভি, ভিসিআর ও ডিস প্রওগ্রাম ইত্যাদি। মুসলমানদের এক একটি ঘর যেরন সিনেমা  হলে পরিণত হচ্ছে এবং যে নির্লজ্জতা ও বেহায়পনা এক সময় এক বিশেষ স্থানসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, আজ তা সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে।

আত্মীয়তার সুযোগে যৌন অপরাধ

টি,ভি, ভিসি-আর ও ডিস প্রোগ্রাম ছাড়াও কিশোর-কিশোরীদের চরিত্র নষ্ট হতে পারে কয়েকটা কারণে। যেমন দেহ নতুন যৌবন আগমনকালে দাদা-দাদী বা নানা-নানীদের মুখে কুরুচিপূর্ণ গল্প অথবা স্কুলের দুশ্চরিত্রা সহপাঠিনীদের কাছ থেকে প্রেমপত্র ও অশ্লীল যৌন বিষয়ক পুস্তকাদি পাঠ করে যৌন জ্ঞান ও যৌন মিলন সম্পর্কে পটুন হয়ে যাওয়া। তাদের চরিত্র নষ্ট হওয়ার আরেকটা বিশেষ দিক হচ্ছে যখনই যৌন মিলন সম্পর্কে ধারণা এসে যায় তখনই বাড়িতে সমবয়সী ঝি, চাকরদের সাথে খুব সহজেই মেলা-মেশার একটা সুযোগ নিতে চেষ্টা করে। তাছাড়া চাচাত, মামাত, ফুফাত, খালাত ভাইবোনগন বাড়িতে বেশি আনাগোনা করে অথবা একই বাড়িতে বসবাস করে যৌন মিলন সম্পর্কে প্রথমে ফিসফিস করে কথাবার্তা এবং পরে পরস্পর প্রাকটিক্যাল যৌন মিলনে লিপ্ত হয়ে চরিত্রকে নষ্ট করে। এছাড়াও বাড়িতে কারও নতুন বিবাহ হলে তাদের মিলন দৃশ্য যে কোনভাবে গোপন পথে আড়িপেতে দর্শন অথবা বাড়িতে ছাদ থেকে বা পার্শ্ববর্তী গৃহে স্বামী-স্ত্রীর গুপ্তাঙ্গ ও যৌন মিলনের দৃশ্য গোপনে দেখে নিজের মধ্যে মিলনের সাধ শতগুণে বাড়িয়ে তুলে ও চরিত্রকে নষ্ট করে।

প্রেমের নামে বিবাহ বর্হিভূত যৌন অপরাধ

আজকাল বিবাহিতদের মধ্যে লাভ-ম্যারেজের সংখ্যাই অধিক। তবে কিছু কিছু এখনও দেখা যায় যে অভিভাবকদের পছন্দমত পাত্রীকে বেছে নেয়া হচ্ছে। প্রেম করে বিয়েতে কোন রোমান্স থাকে না। লাভ-ম্যারেজের লাভ আগেই হয়। প্রেম করে বিয়েতে কোন রোমান্স থাকে না। লাভ-ম্যারেজের লাভ আগেই হয়। প্রেম করে বিয়ে করলে বিবাহের রাত্রে নতুন করে পরস্পরকে জানার যে অজানা আনন্দ, দেহমিলনের আস্বাদ, তা পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের আগে প্রেমের ফসল স্বরূপ অবৈধ সন্তান জন্মাতে দেখা যায়। এজন্য অবৈধ গর্ভপাতের সংখ্যাও কম নয়।

ধর্মীয় দৃষ্টিতে বিয়ের পূর্বে কোন মেয়ের সাথে প্রেম প্রীতি অর্থাৎ দেখা সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা বলা নিষিদ্ধ ও পাপ। ইসলাম এমনই এক বিজ্ঞান সম্মত ধর্ম যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার কুফল বা পরিণাম অবশ্যই রয়েছে।

নারী বিপথে কেন যায় বা বিপদের দিকে তার আকর্ষণ বৃদ্ধি কেন-এটি একটি জটিল প্রশ্ন। এর সংক্ষিপ্ত ও সহজ উত্তর হচ্ছে নারীদের পর্দার খেলাফ। তবে বিভিন্ন সময় অনুশীলন করে যে সব কারণ মোটামুটি দেখা গেছে তা এখানে বলা হল।

০১. বাল্যকালে থেকে দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের (যেমন মামাত ভাই, জ্যাঠাত ভাই প্রভৃতি) সাথে বেশি বেশি মেলামেশার অভ্যাস। এর দ্বারা বিপথে যাবার প্রবৃত্তিও বৃদ্ধি পায়।

০২. স্কুলে-কলেজে নানা লোকের সাথে গোপনে মেশা।

০৩. অবিবাহিদের বাবা-মা (অভিভাবকদের) দ্বারা টিভি, ভিসি-আর ও ডিস প্রোগ্রামের মাধ্যমে সন্তানদের বিপথে যাওয়া ও তাদের যৌন কামনাকে বৃদ্ধি করার পথ পরিস্কার করা।

০৪. ছেলেবেলা থেকে পুরুষ ভোগের ইচ্ছা মনের মধ্যে থাকা ও অত্যাধিক যৌন কামনা।

৫. যৌন বিকৃতি এবং অন্যায় কাজ করার প্রতি প্রবল আকর্ষণ। বিশেষ করে কোন পুরুষের প্রতি সুপ্ত আকর্ষণ।

৬. ভালবেসে কারও সাথে বেরিয়ে এসে পরে অশান্তিতে ভোগা।

ইসলামী আইন-কানুন ও মুসলমানরাই সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছিল। কারণ, ইসলামী আইন-কনুনেই আছে সামাজিক জীবনের জটিল সমস্যার সমাধান। এইডস-এর মত রোগের সমস্যা সমাধান। কিন্তু হতভাগা মুসলমানরাই পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ল। অপরকে পথ দেখান তো দূরের কথা বরং নিজেরাই ইসলামী জীবন ব্যবস্থা হতে দূরে সরে গিয়ে অন্যের অনুসরণ ও অনুকরণ করতে লাগল। (তথ্যসূত্রঃ ইসলামী যৌন বিজ্ঞান)-পরিপূর্ণ স্বামী স্ত্রীর মধুর মিলন

Syed Rubelযৌন বিষয়ক নিবন্ধনইসলামী যৌন বিজ্ঞান গ্রন্থের গ্রন্থকার বলেনঃ যে কোন অবস্থায় সন্তানের যদি যৌন মিলনের দোষাবলীর আশ্রয় গ্রহণ করার আশংকা থাকে তাহলে বিবাহ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। সুতরাং যৌবন, স্বাস্থ্য ও চরিত্র রক্ষার জন্য নর-নারীর পরিণতি বয়সে অবিলম্বে বিবাহ হওয়া একান্ত আবশ্যক। কারণ, এ সময়ের মধ্যে বালক তার পরিবেশ সম্পর্কে বেশ...Amar Bangla Post