Home / বই থেকে / রোযা পালনকারীর জন্য কখন ইফতার করা হালাল

রোযা পালনকারীর জন্য কখন ইফতার করা হালাল

সূর্যের গোলাকার বৃত্ত অদৃশ্য হওয়ার সাথে সাথেই আবু সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ইফতার করতেন।

উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,

قَالَرَسُولُاللَّهِصَلَّىاللهُعَلَيْهِوَسَلَّمَ: «إِذَاأَقْبَلَاللَّيْلُمِنْهَاهُنَا،وَأَدْبَرَالنَّهَارُمِنْهَاهُنَا،وَغَرَبَتِالشَّمْسُفَقَدْأَفْطَرَالصَّائِمُ»

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন রাত্র এ দিক থেকে ঘনিয়ে আসে ও দিনএদিক থেকে চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায়, তখন সাওম পালনকারী ইফতার করবে”।[1]

‘আব্দুল্লাহ ইবন আবু আওফারাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনিবলেন,

«كُنَّامَعَرَسُولِاللَّهِصَلَّىاللهُعَلَيْهِوَسَلَّمَفِيسَفَرٍوَهُوَصَائِمٌ،فَلَمَّاغَرَبَتِالشَّمْسُقَالَلِبَعْضِالقَوْمِ: يَافُلاَنُقُمْفَاجْدَحْلَنَا،فَقَالَ: يَارَسُولَاللَّهِلَوْأَمْسَيْتَ؟قَالَ: انْزِلْفَاجْدَحْلَنَاقَالَ: يَارَسُولَاللَّهِ،فَلَوْأَمْسَيْتَ؟قَالَ: انْزِلْ،فَاجْدَحْلَنَا،قَالَ: إِنَّعَلَيْكَنَهَارًا،قَالَ: انْزِلْفَاجْدَحْلَنَا،فَنَزَلَفَجَدَحَلَهُمْ،فَشَرِبَالنَّبِيُّصَلَّىاللهُعَلَيْهِوَسَلَّمَ،ثُمَّقَالَ:إِذَارَأَيْتُمُاللَّيْلَقَدْأَقْبَلَمِنْهَاهُنَا،فَقَدْأَفْطَرَالصَّائِمُ»

“কোনো এক সফরে আমরারাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম।আর তিনি ছিলেন সাওম পালনকারী। যখন সূর্য ডুবে গেল তখনতিনি দলের কাউকে বললেন, হে অমুক! উঠ। আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সেবলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ!সন্ধ্যা হলে ভালো হতো। তিনি বললেন, নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সেবলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ!সন্ধ্যাহলে ভালো হতো। তিনি বললেন, নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সেবলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ!সন্ধ্যাহলে ভালো হতো। তিনি বললেন, নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন।সে বলল, দিন তো আপনার এখনো রয়েছে।তিনি বললেন, তুমি নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। তারপর সে নামলো এবং তাঁদেরজন্য ছাতু গুলিয়ে আনলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পান করলেন, তারপর বললেন, যখন তোমরা দেখবে, রাত একদিক থেকে ঘনিয়ে আসছে, তখন সাওম পালনকারী ইফতার করবে”।[2]

পানি বা সহজলভ্য অন্য কিছু দিয়ে ইফতার করবে

‘আব্দুল্লাহ ইবন আবু আওফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«سِرْنَامَعَرَسُولِاللَّهِصَلَّىاللهُعَلَيْهِوَسَلَّمَوَهُوَصَائِمٌ،فَلَمَّاغَرَبَتِالشَّمْسُقَالَ: انْزِلْفَاجْدَحْلَنَا،قَالَ: يَارَسُولَاللَّهِلَوْأَمْسَيْتَ؟قَالَ: انْزِلْفَاجْدَحْلَنَا،قَالَ: يَارَسُولَاللَّهِ،إِنَّعَلَيْكَنَهَارًا،قَالَ: انْزِلْفَاجْدَحْلَنَا»،فَنَزَلَفَجَدَحَثُمَّقَالَ: إِذَارَأَيْتُمُاللَّيْلَأَقْبَلَمِنْهَاهُنَا،فَقَدْأَفْطَرَالصَّائِمُوَأَشَارَبِإِصْبَعِهِقِبَلَالمَشْرِقِ»

“আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে রওয়ানা দিলাম এবং তিনিসাওমদার ছিলেন। সূর্য অস্ত যেতেই তিনি বললেন, তুমি সওয়ারী থেকে নেমে আমাদের জন্যছাতু গুলিয়ে আন। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আর একটু সন্ধ্যা থেকে দিন।তিনি বললেন, তুমি নেমেযাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ!এখনো তো আপনার সামনে দিন রয়েছে।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। তারপরতিনি সওয়ারী থেকে নামলেন এবং ছাতু গুলিয়ে আনলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙ্গুলদ্বারা পূর্বদিকে ইশারা করে বললেন,যখন তোমরা দেখবে যে, রাত এদিক থেকে আসছে, তখনই সাওমদারদের ইফতারের সময় হয়ে গেলো”।[3]

ইফতার ত্বরান্বিত করা

সাহল ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকেবর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেন:

«لاَيَزَالُالنَّاسُبِخَيْرٍمَاعَجَّلُواالفِطْرَ»

“লোকেরা যতদিন যাবৎ ওয়াক্ত হওয়ামাত্র ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের ওপর থাকবে”।[4]

ইবন আবু আওফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«كُنْتُمَعَالنَّبِيِّصَلَّىاللهُعَلَيْهِوَسَلَّمَفِيسَفَرٍ،فَصَامَحَتَّىأَمْسَىقَالَلِرَجُلٍ: انْزِلْفَاجْدَحْلِيقَالَ: لَوِانْتَظَرْتَحَتَّىتُمْسِيَ؟قَالَ: انْزِلْفَاجْدَحْلِي،إِذَارَأَيْتَاللَّيْلَقَدْأَقْبَلَمِنْهَاهُنَا،فَقَدْأَفْطَرَالصَّائِمُ»

“একসফরে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত সাওম পালন করেন।এরপর একব্যাক্তিকে বললেন, সওয়ারী থেকে নেমে ছাতু গুলিয়ে আন। লোকটি বলল, আপনি যদি (পূর্ণ সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত)অপেক্ষা করতেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুনরায় বললেন, নেমে আমার জন্য ছাতু গুলিয়েআন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,যখন তুমি এদিক (পূর্বদিক) থেকে রাত্রির আগমনদেখতে পাবে তখন সাওম পালনকারী ইফতার করবে”।[5]

আবু ‘আতিয়্যা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«دَخَلْتُأَنَاوَمَسْرُوقٌ،عَلَىعَائِشَةَرَضِيَاللهُعَنْهَا،فَقَالَلَهَامَسْرُوقٌ: رَجُلَانِمِنْأَصْحَابِمُحَمَّدٍصَلَّىاللهُعَلَيْهِوَسَلَّمَ،كِلَاهُمَالَايَأْلُوعَنِالْخَيْرِ،أَحَدُهُمَايُعَجِّلُالْمَغْرِبَوَالْإِفْطَارَ،وَالْآخَرُيُؤَخِّرُالْمَغْرِبَوَالْإِفْطَارَ،فَقَالَتْ: مَنْيُعَجِّلُالْمَغْرِبَوَالْإِفْطَارَ؟قَالَ: عَبْدُاللهِ،فَقَالَتْ: هَكَذَاكَانَرَسُولُاللهِصَلَّىاللهُعَلَيْهِوَسَلَّمَيَصْنَعُ»

“আমি ও মাসরুক রহ. ‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার নিকটগেলাম। এরপর মাসরুক রহ. তাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে দুইব্যক্তি যারা কল্যাণজনক কাজে কোনো প্রকার অবহেলা প্রদর্শন করেনা। তাঁদের একজনমাগরিব এবং ইফতারের মধ্যে ত্বরা করেন। আর অপর জন মাগরিব ও ইফতারে বিলম্ব করেন। তিনি (‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা)বললেন সে কোনো ব্যক্তিযে মাগরিব ও ইফতার ত্বরা করেন? তিনি বললেন, তিনিহলেন ‘আব্দুল্লাহ।‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।”[6]

মাগরিবের সালাতের পূর্বে ইফতার করা মুস্তাহাব এবং যে সব জিনিস দ্বারা ইফতার করা মুস্তাহাব

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«مَارَأَيْتُرَسُولَاللَّهِصَلَّىاللَّهُعَلَيْهِوَسَلَّمَقَطُّصَلَّىصَلَاةَالْمَغْرِبِحَتَّىيُفْطِرَوَلَوْعلىشربةمنماء»

“আমিরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেকখনওমাগরিবেরসালাতইফতারেরপূর্বেপড়তেদেখিনি,কমপক্ষেএকঢোকপানিপানকরেহলেওআগেইফতারকরতেন।[7]

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«كَانَالنَّبِيُّصَلَّىاللَّهُعَلَيْهِوَسَلَّمَيُفْطِرُقَبْلَأَنْيُصَلِّيَعَلَىرُطَبَاتٍ،فَإِنْلَمْتَكُنْرُطَبَاتٌفَتُمَيْرَاتٌ،فَإِنْلَمْتَكُنْتُمَيْرَاتٌحَسَاحَسَوَاتٍمِنْمَاءٍ».

“তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মাগরিবের) সালাত আদায়েরআগেই কিছু তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না পেলে কিছু শুকনা খেজুর দিয়েইফতার করে নিতেন। আর যদি শুকনা খেজুর না পেতেন তবে কয়েক ঢোক পানি পান করে নিতেন।”[8]

রমযানে ইফতার করার পরে যদি সূর্য দেখা দেয়

আসমা বিনতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«أَفْطَرْنَاعَلَىعَهْدِالنَّبِيِّصَلَّىاللهُعَلَيْهِوَسَلَّمَيَوْمَغَيْمٍ،ثُمَّطَلَعَتِالشَّمْسُ،قِيلَلِهِشَامٍ: فَأُمِرُوابِالقَضَاءِ؟قَالَ: لاَبُدَّمِنْقَضَاءٍوَقَالَمَعْمَرٌ: سَمِعْتُهِشَامًالاَأَدْرِيأَقَضَوْاأَمْلاَ

“নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একবার মেঘাচ্ছন্ন দিনে আমরা ইফতার করলাম, এরপর সূর্য দেখা যায়। বর্ণনাকারী হিশামকে জিজ্ঞাসা করাহলো, তাদের কি কাযা করারনির্দেশ দেওয়া হয়েছিল? হিশামরহ. বললেন, কাযা ছাড়া উপায় কি? (অপর বর্ণনাকারী)মা‘মার রহ. বলেন, আমি হিশামকে বলতে শুনেছি, তাঁরা কাযা করেছিলেন কিনা তা আমি জানিনা।”[9]


[1]সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৫৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১০০।

[2]সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৫৫, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১০১।

[3]সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৫৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১০১।

[4]সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৫৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৯৮।

[5]সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৫৮, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১০১।

[6]সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৯৯।

[7]সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৩৫০৪। শুয়া‘ইব আরনাবূত বলেন, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ। আলবানী রহ. ‘তা‘লিকাতুল হাসান ‘আলা সহীহ ইবন হিব্বান’ এ একে সহীহ বলেছেন।

[8]তিরমিযী, হাদীস নং ৬৯৬, ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব। আবূ দাউদ, ২৩৫৬, আলবানী রহ. বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। সহীহ ইবন হিব্বান, ১৫৭৬। ইমাম হাকিম ও যাহাবী রহ. একে সহীহ বলেছেন।

[9]সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৫৯। 

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

দোয়ায়ে কুনুত

বেতর নামাজে কুনূতের দোয়া

49- عَنِالْحَسَنِبْنِعَلِيٍّرَضِيَاللهُعَنْهُمَا،قَالَ: عَلَّمَنِيْرَسُوْلُاللَّهِصَلَّىاللَّهُعَلَيْهِوَسَلَّمَكَلِمَاتٍأَقُوْلُهُنَّفِيْقُنُوْتِالْوِتْرِ: "اَللَّهُمَّاهْدِنِيْفِيْمَنْهَدَيْتَ،وَعَافِنِيْفِيْمَنْعَافَيْتَ،وَتَوَلَّنِيْفِيْمَنْتَوَلَّيْتَ،وَبَارِكْلِيْفِيْمَاأَعْطَيْتَ،وَقِنِيْشَرَّمَاقْضَيْتَ؛إِنَّكَتَقْضِىْوَلاَيُقْضَىعَلَيْكَ،وَإنَّهُلاَيَذِلُّمَنْوَّالَيْتَ،وَلاَيَعِزُّمَنْعَادَيْتَ،تَبَارَكْتَرَبَّنَاوَتَعَالَيْتَ". (سننأبيداود،رقمالحديث 1425،واللفظله،وجامعالترمذي،رقمالحديث 464،وسننالنسائي،رقمالحديث 1745،وسننابنماجه،رقمالحديث  1178،قالالإمامالترمذيعنهذاالحديثبأنه:  حسن،وصححهالألباني). 49 – অর্থ: আল হাসান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *