Home / সংবাদ সারাদিন / জাতীয় / মরণ নেশা সিসা আসক্ত ঢাকার তরুণীরা

মরণ নেশা সিসা আসক্ত ঢাকার তরুণীরা

সিসাইসমাত জেবিন। পড়ালেখা করেন রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা মানে থাকে বন্ধু আড্ডা। আর আড্ডাতে যতকিছুই থাক না কেন সিসা থাকা চাই। জেবিন জানান, প্রতি সপ্তাহেই বন্ধুদের সঙ্গে কোনো না কোনো লাউঞ্জে সিসা পার্টি থাকে। স্ট্রবেরি এবং এ্যাপল ফ্লেবারটাই বন্ধুদের মধ্যে সবচয়ে জনপ্রিয়। সিগারেট থেকে সিসায় অনেক বেশি মজা পাওয়া যায়।
ইসমাত জেবিনের মতো অনেক তরুণ-তরুণীই আসক্ত হয়ে পড়ছে সিসায়। রাজধানীর বিভিন্ন সিসা লাউঞ্জে এবং রেস্টুরেন্টে সন্ধার পরই সিসা আড্ডায় মেতে থাকে তরুণ-তরুণীরা। তরুণীদের মধ্যেই সিসার জনপ্রিয়তা বেশি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক খুরশীদ আলম বলেন, গত বছর সিসা মাদক নয় বলে রায় দেয়া হয়। তবে সিসার সঙ্গে গাঁজা, ইয়াবাসহ কোনো মাদকদ্রব্যের ফ্লেভার পাওয়া গেলে সেটাকে মাদক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, সিসা পাওয়া যায় এমন লাউঞ্জ এবং রেস্টুরেন্ট গুলোকে আমরা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছি। সিসার জন্য আলাদা কোনো লাইসেন্স প্রয়োজন না হওয়ায় যে কোনো রেস্টুরেন্টই সিসা বিক্রি করতে পারছে। তবে গুলশান, বনানী, উত্তরা এবং ধানমন্ডি এইসব এলাকাতে সিসা বেশি পাওয়া যায়। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় সতেরো থেকে পঁচিশ বছরের ৩০ শতাংশ তরুণ-তরুণী প্রতিনিয়ত সিসা সেবন করেন। ২০০৪ সালের পর মাদক আইনে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। তবে পরীক্ষা করে সিসার ক্ষতিকারক প্রভাব পাওয়া গেলে পরবর্তী সংশোধনীতে সিসাকে মাদক হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে।
মানস এর সভাপতি ডা. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, সিসা হার্বাল দিয়ে বানানো হলেও এতে হাই পাওয়ার কার্বন মনোক্সাইড থাকে। যেটা মস্তিষ্কে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বর্তমানে মেয়েরাও অনেক বেশি সিসা সেবন করেন। তাদের মধ্যে একটা ধারণা দিয়ে দেয়া হয় সিসা মেয়েদের নেশা। তিনি বলেন, সিসা সরাসরি মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলায় এতে আনন্দ পাওয়া যায় অনেক বেশি। একবার সিসা সেবন করলে একটি সিগারেটের থেকে পাঁচ গুণ বেশি ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, এক সেশন সিসায় ৪০-৭০ (পিপিএম) পার্ট পার মিলিয়ন কার্বন মনোক্সাইড থাকে। যেটা সরাসরি রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। যারা সিসা ক্লাবে প্রতিনিয়ত যায় তারাই পরবর্তীতে গাঁজা এবং ইয়াবার মতো মাদকে আসক্ত হয়। অরূপ রতন বলেন, সিসা বন্ধ করতে হলে সিসাকে মাদকের মধ্যে ফেলতে হবে। ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের মতো ক্ষতিকারক মনে করছি না বলেই একটা প্রজন্ম এটার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানের পর সিসা কিছুদিন বন্ধ থাকলেও এখন আবার ব্যাপ্তিটা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে উচ্চবিত্ত শ্রেণির তরুণ-তরণীরাই বেশি পরিচিত বিলাসবহুল এ মাদক সেবনে। তবে বর্তমানে অভিযাত শ্রেণির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এ নেশায় ঝুঁকছে মধ্যবিত্ত শ্রেণিও। বিভিন্ন ফলের নির্যাস দিয়ে তৈরি হয় সিসার উপাদান। প্রচীনকালে হুক্কা নামে প্রচলিত থাকলেও বর্তমানে মাদক দ্রব্য ও ফলের নির্যাশে তৈরি এ নেশার আধুনিক নাম সিসা।
ধানমন্ডির আরেকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক তরুণী জানান, বন্ধুদের সঙ্গে রেস্টুরেন্টে আড্ডার সময় সিসা সেবন করেন তিনি। বিভিন্ন ফলের ফ্লেভার পাওয়া যায় সিসায়। এই তরুণী বলেন, আমাদের আড্ডার চমক সিসা। খুব ভালো পরিবেশে বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের আড্ডার জন্য সিসা সেরা। অভিজাত এলাকাগুলোর প্রায় রেস্টুরেন্ট এবং লাউঞ্জে সিসা পাওয়া যায়। আরেক তরুণ জামিল জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার আগে থেকেই সিসার সঙ্গে তিনি এবং তার বন্ধুরা পরিচিত। এটা আনন্দদায়ক বলেই সবার ভালো লাগে। জামিল বলেন, আমাদের সিসা গ্রুপে অনেক মেয়ে বন্ধুরাও আছেন। মেয়ে ফ্রেন্ডদের অনেকেই স্মোকিং পছন্দ করেন না। কিন্তু সিসার সঙ্গে পরিচিত হবার পর সিগারেটের প্রয়োজন হয় না। সবাই একসঙ্গে ভালো সময়ও কাটাতে পারি।

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

মোবাইলে ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ছে গোপন ভিডিও। কোন পথে বাংলাদেশ?

ইন্টারনেট ও মোবাইলের মাধ্যেম এখন গোপন অথবা যৌন নির্ভর ভিডিও এখন ছড়িয়ে পড়ছে হাতে হাতে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: