যে কোন যৌন বা স্বাস্থ্য সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডা.মনিরুজ্জামান এম.ডি স্যার। কল করুন- 01707-330660

 সন্তান লালন পালনছোটবেলায় আদত—আখলাকই সারাজীবন বাকী থাকে। এজন্যই বাল্যকাল থেকে যৌবন পর্যন্ত যে স্বভাবগুলো শিক্ষা দেওয়ার এবং অভ্যাসে পরিণত কররা দরকার সেবিষয়গুলো ধারাবাহিক বর্ণনা করা হচ্ছে।

১।  ছেলে—মেয়েদেরকে নেকবখত ও দ্বীনদার মেয়েলোকের দুধপান করান উচিৎ। কেননা দুধের আছর চরিত্রের উপর অনেক বেশী পড়ে।

২। মেয়েলোকেরা সাধারণতঃ ছেলে—মেয়েকে সিপাহীর বা ভয়াল জিনিসের ভয় দেখিয়ে থাকে, এরূপ করবে না। এতে ছেলে—মেয়েদের মন কমজোর হয়ে যায়, কাপুরুষ হয়ে যায়।

৩। ছেলে—মেয়েদের দুধপান করার ও খাওয়ার সময় নির্দিষ্ট করে নেয়া উচিৎ। অনিয়ম আহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

৪। ছেলে—মেয়েকে পরিস্কার—পরিচ্ছন্ন রাখবে। এতে স্বাস্থ্য ভাল থাকে ।

৫। ছেলে—মেয়েকে বেশী সাজিয়ে গুজিয়ে রেখো না।

৬। ছেলেদের মাথার চুল বেশী লম্বা হতে দিবে না।

৭। মেয়েরা যে পর্যন্ত পর্দায় থাকতে অভ্যস্ত না হয়, সে পর্যন্ত তাদের অলংকার পরাইও না। কারণ, একে তো এতে জানমালের উপর আশঙ্কা আছে, তাছাড়া ছোট বেলা থেকে যেওরের প্রতি আকর্ষণ হওয়া ভাল নয়।

৮। ছেলে—মেয়েদের হাতে দিয়ে গরীবদের দান করার এবং ভাই—বোনদের এবং অন্যান্য ছেলে—মেয়েদের মধ্যে খাবার জিনিস ভাগ করার অভ্যাস করাবে। কারণ, এতে বাচ্ছাদের দান করার অভ্যাস হবে।

৯। যারা বেশী খায় ছেলে—মেয়েদের সামনে তাদের দুর্নাম করবে। কিন্তু কারও নাম নিয়ে বয়ান করবে না। এরূপ বলবে, যারা বেশী খায়, লোকে তাদের ঘৃণা করে ইত্যাদি। না। (এতে ছেলে—মেয়েদের কম খাওয়ার অভ্যাস হবে)

১০। ছেলেদের সাদা কাপড় পরার অভ্যাস করাবে এবং রঙ্গীন কাপড়ের নিন্দা করবে যে, এটা মেয়েদের পোষাক । তুমি তো পুরুষ তোমার এসব সাজে না।

১১। মেয়েদের সব সময় বা প্রতিদিনই সীতাপাটি এবং বিলাসিতার অভ্যাস করাবে না।

১২। ছেলে—মেয়েদের সব আবদার পুরা করবে না। কারণ, এতে স্বভাব খারাপ হয়ে যায়।

১৩। ছেলে—মেয়েদের চিৎকার করে কথা বলতে দিবে না; বিশেষতঃ মেয়েদের তো খুব তাকীদ করবে; নতুবা বড় হয়েও ঐ কু—অভ্যাস থেকে যাবে।

১৪। যেসব ছেলেদের স্বভাব খারাপ বা লেখাপড়ায় মনোযোগ দেয় না; মুরুব্বীর আদব রক্ষা করে চলে না; গালাগালি করে এরূপ ছেলেদের সঙ্গে কিছুতেই ছেলে—মেয়েদের মিশতে দিবে না।

১৫। রাগ, মিথ্যা কথা, হিংসা, চুরি, চুগলি, খামাখা নিজের কথার উপর জেদ করা, বেহুদা কথা বলা, খামাখা হাসা বা বেশী হাসা, কাউকে ধোকা দেওয়া, ভাল-মন্দ, আদব—তমীয বিবেচনা করে কথা না বলা ইত্যাদি দোষ গুলোর প্রতি ছেলে—মেয়েদের যাতে আন্তরিক ঘৃণা জম্মে সেরূপ উপদেশ দিবে এবং ঘটনা শুনিয়ে ভাল স্বভাব এবং মন্দ স্বভাবের ছবি তাদের হৃদয় পটে একে দিবে। যখনই কোণ একটি দোষ দেখবে তখনই তাম্বীহ করবে এবং বুঝিয়ে উপদেশ দিবে।

১৬। ছেলে—মেয়েরা অসাবধানতা বশতঃ যদি কোন জিনিস ভেঙ্গে ফেলে বা নষ্ট করে ফেলে বা কোন ছেলে—মেয়েকে যদি দুষ্টামী করে মারে বা গালি দেয়, তবে  তৎক্ষণাৎ তাঁর শাস্তির ব্যবস্থা করবে যেন আগামীতে এরূপ কাজ আর না করে; নতুবা এসব ক্ষেত্রে প্রশ্রয় দিলে ছেলে—মেয়ের স্বভাব চিরতরে খারাপ হয়ে যাবে।

১৭। ছেলে—মেয়েদের অসময় ঘুমাতে দিবে  না, সময় মত ঘুমাতে দিবে এবং সময় মত উঠাবে।

১৮। ছেলে—মেয়েদের ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস করাবে, ঘুম থেকে উঠে মুরুব্বিগণকে দেখলেই নম্রভাবে সালাম করতে অভ্যাস করাবে।

১৯। সাত বৎসর বয়স হলে নামায পড়ার অভ্যাস করাবে।

২০। মক্তবে যাওয়ার বয়স হলে সর্ব প্রথমে কুরআন শরীফ পড়াবে। খুব ছোট থাকতে অনেক পড়ার বোঝা চাপিয়ে দিবে না। এতে যেহেন এবং স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যায়।

২১। ছোটবেলার শিক্ষা যাতে দ্বীনদার পরহেযগার ওস্তাদের কাছে হয়, সেদিকে তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখবে।

২২। মক্তবে যেতে না চাইলে কখনও প্রশ্রয় বা ঢিল দিবে না।

২৩। ছেলে—মেয়েদের মাঝে মাঝে আউলিয়াগণের এবং পয়গম্বরদের জীবনী শুনাবে।

২৪। ছেলে—মেয়েদের নাটক—নভেল বা আশেক—মাশুকের গল্প পড়তে দিবে না এবং খেলাফে শরা সভা—সমিতিতে যেতে দিবে না এবং জীব—জন্তুর ফটো বিশেষতঃ উলঙ্গ ছবি কিছুতেই দেখতে দিবে না।

২৫। ছেলে—মেয়েদের এরূপ বিষয় পড়তে দিবে, যাতে ধর্মজ্ঞান ও নৈতিক উপদেশ লাভ হয় এবং দুনিয়ারও আবশ্যকীয় জ্ঞান লাভ হয়।

২৬। ছেলে—মেয়েরা মক্তব থেকে আসলে কিছুক্ষণ তাকে খেলার সময় দিবে সব সময় পড়াতে লাগিয়ে রাখবে না। এতে যেহেন কমজোর হয়ে যায়। কিন্তু এমন খেলা খেলবে যাতে গুনাহ না হয়, হাত পা ভাঙ্গার আশঙ্কা না থাকে এবং খারাপ বালকদের সঙ্গে না মিশে।

২৭। কোনরূপ বাঁশী, বাদ্য বা আতশবাজি কিনবার জন্য ছেলেদের পয়সা দিবে না।

২৮। ছেলে-০-মেয়েদের বায়স্কোপ, যাত্রা, জম্মাষ্টমী ইত্যাদির খেল—তামাশা দেখতে দিবে না।

২৯। ছেলে—মেয়েদের এমন কোন হাতের কাজ অবশ্যই শিখা দিবে, যা দ্বারা দরকার পড়লে হালাল রুজি কামাই করে নিজের এবং পরিবার বর্গের ভরণ-পোষণ করতে পারে।

৩০। মেয়েদেরকে যাতে চরিত্রের উন্নতি হয় এমন বিদ্যা শিক্ষা দিবে। লেখা এত পরিমাণ শিখাবে যাতে আবশ্যকীয় হিসাব এবং আবশ্যকীয় চিঠি—পত্র লিখতে পারে।

৩১। ছেলে—মেয়েদেরকে সব কাজ নিজ হাতে করার অভ্যাস করাবে যাতে অকর্মা বা অলস হয়ে না যায়। রাত্রে শোয়ার সময় বিছানা নিজ হাতে বিছাবে। সকালে উঠে নিজ হাতে বিছানা গুটিয়ে রাখবে। নিজের কাপড় চোপড়ের হেফাযত নিজেই করবে। কাপড়ের সেলাই খুলে গেলে বা ছিঁড়ে গেলে নিজ হাতে সেলাই করে নিবে। যে বাড়িতে পানি আনার, ধান ভানার অভ্যাস আছে সে বাড়ীতে আপনি আনার, ধান ভানার অভ্যাস করাবে। নিজের মালের যত্ম এবং দরদ যাতে পয়দা হয় ও সর্তকতা জম্মে তার জন্য চেষ্টা করবে এবং অকর্মণ্য, অলস বা অসতর্ক হতে দিবে না।

৩২। মেয়েদের গায়ে যেসব জেওর থাকে তা ঘুমাবার পূর্বে এবং ঘুম হতে উঠে যেন ভাল করে দেখে নেয় যে ঠিক আছে কিনা, এর তাকীদ করবে।

৩৩। ছেলে—মেয়ের দ্বারা যখন কোন ভাল কাজ হয়, তখন তাদেরকে খুব সাবাস দিবে এবং আদর করবে বরং কিছু পুরস্কার দিলে আরও ভাল হয়। কারণ এ উপায়ে তাদের ভাল কাজ করার প্রতি আগ্রহ বাড়বে। যখন কোন মন্দ কাজ করে, তখন সকলের সামনে শরম না দিয়ে নির্জনে নিয়ে বুঝাবে যে, দেখ এমন কাজ করলে সমস্ত লোকে তোমাকে নিন্দা করবে, কেউই তোমাকে ভালবাসবে না, ভাল লোকেরা এমন কাজ করে না, লোকে বলবে ছোট লোকের ছেলে, গোনাহগার কাজ করলে দোযখের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে ইত্যাদি। নির্জনে বুঝাবে যাতে শরম ভেঙ্গে একেবারে বে—শরম না হয়ে যায়। পুনরায় যদি এরূপ করে, তবে কিছু শাস্তি দিবে।

৩৪। পাক করা, সেলাই করা, চরখা ঘুরান, ফুল তোলা ইত্যাদি যে কাজ বাড়ীতে হয়, মেয়েদের সেই সব খুব লক্ষ্য করে দেখতে এবং শিখতে বলবে।

৩৫। বাপের ভয় ও হায়বত ছেলে—মেয়েদের দেলে পয়দা করা মার কর্তব্য।

৩৬। ছেলে—মেয়েদের খাওয়া—লওয়া বা খেলাধুলা কোন কাজই গোপনে করতে দিবে না। কারণ তারা যে কাজ গোপনে করে, সে কাজ তাদের নিকট মন্দ বলে তারা গোপনে করে। অতএব, বাস্তবিকই যদি কাজটি মন্দ হয়, তবে তো তা করতেই দিবে না। আর যদি বাস্তবিক পক্ষে মন্দ না হয়, তবে সকলের সামনে তা করতে ক্ষতি নেই।

৩৭। পরিশ্রমের কোন না কোন কাজ ছেলে—মেয়েদের জন্য নিয়মিত রূপে নির্ধারিত করে দিবে যাতে তাদের পরিশ্রমের অভ্যাসও থাকে, কর্মপ্রিয়তা এবং নিয়মানুবর্তিতাও শিখে। যেমন, ছেলেদের জন্য আধা মাইল বা এক মাইল দৌড়ান, মুণ্ডর চালনা (বোঝা ঊঠান, কোদাল দ্বারা কোপান, নৌকা চালান, সাঁতার কাটা ইত্যাদি) এবং মেয়েদের জন্য চরখা কাটা, যাঁতা পিষা, (ধান ভানা) ইত্যাদি। এসব কাজ করাতে এ উপকারও আছে যে, এসব কাজ কে ঘৃণা করবে না।

৩৮। ছেলে—মেয়েদের হাঁটার সময় যেন উপরের দিকে চাইয়া বা (এদিক ওদিক চাইয়া বা ) অতি তাড়াতাড়ি না হাঁটে, এর তাকীদ করবে (এবং খাওয়ার সময়ও যেন এদিক ওদিক না চায়, খাবার দিকে চাইয়া ধীরভাবে খায় এবং পথের দিকে চাইয়া ধীরেভাবে হাঁটে এ অভ্যাস করাবে।

৩৯। ছেলে—মেয়েদের নম্রতা, ভদ্রতা শিক্ষা দিবে, ফখর বা গৌরব করতে দিবে না এবং নিজের কাপড়, নিজের বাড়ী, নিজের বংশ, নিজের বইপুস্তক, দোয়াত—কলম ইত্যাদির উপর গৌরব করতে দেখলে নিষেধ করবে (যে, নিজের তারীফ নিজে করলে এতে গৌরব প্রকাশ পায়, ইহা দূষণীয়।

৪০। ছেলে—মেয়েদের মাঝে মাঝে নিজের ইচ্ছামত রাখবার জন্য বা কোন জিনিস কিনে নিবার জন্য দু—চারটা পয়সা দিবে, কিন্তু গোপনে কিনবার অভ্যাস করতে দিবে না, যা কিনবে প্রকাশ্য কিনবে বা বলে কিনবে।

৪১। ছেলে—মেয়েদের খাওয়া—পিয়ার এবং মজলিসে উঠাবসার আদব—কায়দা শিক্ষা দিবে।-আরো পড়ুন / আপনি পড়ছেনঃ মুসলিম স্বামী স্ত্রী

Syed Rubelপরামর্শ মূলক নিবন্ধনবই থেকেমা ও শিশুছোটবেলায় আদত—আখলাকই সারাজীবন বাকী থাকে। এজন্যই বাল্যকাল থেকে যৌবন পর্যন্ত যে স্বভাবগুলো শিক্ষা দেওয়ার এবং অভ্যাসে পরিণত কররা দরকার সেবিষয়গুলো ধারাবাহিক বর্ণনা করা হচ্ছে। ১।  ছেলে—মেয়েদেরকে নেকবখত ও দ্বীনদার মেয়েলোকের দুধপান করান উচিৎ। কেননা দুধের আছর চরিত্রের উপর অনেক বেশী পড়ে। ২। মেয়েলোকেরা সাধারণতঃ ছেলে—মেয়েকে সিপাহীর বা ভয়াল জিনিসের ভয় দেখিয়ে...Amar Bangla Post