Home / ইসলাম / মাসআলা মাসায়েল / স্ত্রীর সাথে সহবাস না করার কসম খাওয়া সম্পর্কে মাসআলা
সহবাসের কসম

স্ত্রীর সাথে সহবাস না করার কসম খাওয়া সম্পর্কে মাসআলা

বিবাহের পরে স্বামী স্ত্রীর সাথে অজ্ঞাত বশত বা কারণ বশত সহবাস না করার কসম  খায়  তবে নিচের দেওয়া মাসআলা গুলো অনুসুরণ করে এর সমাধান করে নিতে হবে। 

০১। মাসাআলাঃ এক ব্যক্তি কসম খাইয়া বলিল খোদার কসম, এখন আর সহবাস করিব না; খোদার কসম, তর সহিত কখনও সহবাস করিব না; কসম খাইতেছি যে, তোমার সহিত ছোহবত করিব না, অথবা অন্য কোন প্রকারে বলিল, এ সমস্ত অবস্থায় হুকুম হইল এই—যদি সহবাস না করিয়া থাকা অবস্থায় চার মাস অতীত হয়ে যায়, তবে স্ত্রীর উপর বায়েন তালাক পড়িবে। এখন পুনঃবিবাহ ব্যতীত স্বামী-স্ত্রির ন্যায় সহবাস করিতে পারিবে না। যদি চার মাসের ভিতর কসম ভঙ্গ করে এবং সহবাস করে, তবে তালাক হইবে না, অবশ্য কসম ভঙ্গের কাফফারা দিতে হইবে। এইরূপ কসমকে শরীয়াতের ভাষায় “ঈলা” বলে।

০২. মাসআলাঃ হামেশার জন্য সহবাস না করার কসম খাইল না; বরং শুধু চার মাসের জন্য কসম খাইল, যেমন বলিল, খোদার কসম চার কাল তোমার সহিত সহবাস করিব না, ইহাতে ঈলা হয়ে যাবে। ইহারও বিধান এই যে, ৪ মাস সহবাস না করিলে বায়েন তালাক পতিত হবে। ৪ মাসের পূর্বে সহবাস করিলে কসমের কাফফারা দিতে হইবে। কসমের কাফফারা সম্বন্ধে পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে।

০৩. মাসআলাঃ চার মাস হতে কম সময়ের কসম খেলে তাহাতে ঈলা হবে না। এমন কি, চার মাসের একদিন কমের কসম খেলেও ঈলা হবে না। অবশ্য যত দিনের কসম খাওয়া হবে, ততদিনের পূর্বে সহবাস করিলে কসম ভঙ্গের কাফফারা দিতে হবে। সহবাস না করিলে তালাক বর্তিবে না, কসমও পুরা থাকিবে।

০৪. মাসআলাঃ কেহ শুধু চার মাসের জন্য খেলে কিন্তু কসম ভাঙ্গিল না, চার মাসের পর তালাক বর্তিল। তালাকের পর ঐ পুরুষের সঙ্গে বিবাহ হইল। এখন চার মাস পর্যন্ত সহবাস না করিলে কোন ক্ষতি হবে না।

হামেশার জন্য কসম খাইল, যেমন বলিল, ‘কসম খাইতেছি যে, এখন হইতে আর তোমার সহিত সহবাস ক্লরিব না’। অথবা বলিল, ‘খোদার কসম, তোমার সহিত কখনও সহবাস করিব না’। সে কসম ভঙ্গ করিল না। চার মাস পর তালাক হয়ে যাবে। এরপর তাহাকে বিবাহ করিল, বিবাহের পর চার মাস পর্যন্ত সহবাস করিল না, এখন পুনরায় তালাক হয়ে যাবে। তৃতীয়বার তাহাকেই বিবাহ করিল, তাহারও হুকুম এই যে, এই বিবাহের পর যদি চার মাস সহবাস না করে, তবে তৃতীয় তালাক পতিত হবে। এখন অন্য স্বামীর সহিত বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত ইহার সহিত বিবাহ হতে পারবে না। অবশ্য যদি দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিবাহের পর সহবাস করিত, তবে কসম ভঙ্গ হইত। তাহা হলে আর কখনও তালাক পড়িত না, অবশ্য কসম ভঙ্গের কাফফারা দিতে হইত।

০৫. মাসআলাঃ যদি এইরূপে আগে পিছে তিন বিবাহের তিন তালাক হয়ে গেল। তাঁর পর স্ত্রী অপর স্বামী গ্রহণ করিল, এখন এই স্বামী তালাক দিল। এমলতাবস্থায় ইদ্দত শেষে প্রথম স্বামীর সহিত পুনরায় বিবাহ হল, সে সহবাস করিল না। এখন তালাক হবে না, যত দিনই সহবাস না করুক না কেন। কিন্তু যখনই সহবাস করিবে কসম ভঙ্গের কাফফারা দিতে হবে। কারন সে যে কসম খেয়েছিল “কখনও তাঁহার সহিত সহবাস করিবে না” সে কসম ভঙ্গ হয়ে গেছে।

০৬। মাসআলাঃ স্ত্রীকে বায়েন তালাক দেওয়ার পর যদি তাঁহার সহিত সহবাস করার কসম খায়, তবে ঈলা হইবে না। এখন যদি পুনরায় বিবাহের পর সহবাস না করে তবে তালাক বর্তিবে না। কিন্তু সহবাস করিলে কসম ভঙ্গের কাফফারা দিতে হবে। যদি রজয়ী তালাক দেওয়ার পর ইদ্দতের ভিতর এইরূপ কসম খায়, তবে ঈলা হবে। যদি রজ’আত করে এবং সহবাস না করে, তবে চার মাস পর তালাক বর্তিবে। যদি সহবাস করে, তবে কসমের কাফফারা দিবে।

০৭. মাসআলাঃ খোদার কসম খায় নাই; বরং বলিল, ‘যদি তোমার সহিত সহবাস করি, তবে তুমি তালাক। তাতেও ঈলা হয়ে যাবে। সহবাস করিলে রজয়ী তালাক হবে, কসমের কাফফারা দিতে হবে না। সহবাস না করিলে চার মাস পর বায়েন তালাক হইবে।

আর যদি বলে; ‘তোমার সহিত সহবাস করিলে আমার উপর এক হজ্জ অথবা এক রোযা, এক টাকা খয়রাত অথবা এক কোরবানী, এই সকল ছুরতেও ঈলা হবে। যদি সহবাস করে, তবে যে কথা বলেছে তা করতে হবে, কাফফারা দিতে হবে। যদি চার মাস সহবাস না করে, তবে তালাক হবে।

সূত্রঃ বেহেশতী জেওর।  

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

নফস কি একটি নাকি তিনটি?

একবিংশতম মাসআলা: নফস কি একটি নাকি তিনটি? কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ﴿يَٰٓأَيَّتُهَا ٱلنَّفۡسُ ٱلۡمُطۡمَئِنَّةُ٢٧﴾ [الفجر: …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: