যে কোন যৌন বা স্বাস্থ্য সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডা.মনিরুজ্জামান এম.ডি স্যার। কল করুন- 01707-330660

স্ত্রীমাসআলা-৬৯ : মোহর স্ত্রীর ন্যায্য অধিকার যা আদায় করা স্বামীর জন্য ওয়াজিবঃ

“অন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে তাকে তাঁর নির্ধারিত হক দিয়ে দাও”।(সূরা-নিসাঃ আয়াত ২৪)

মাসআলা-৭০ : স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর ব্যয়ভার বহন করা স্ত্রীর ন্যায্য পাওনা স্বামী সন্তুষ্ট চিত্বে তা পালন করা তাঁর জন্য ওয়াজিবঃ

“হাকিম বিন মোয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করল স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব কি? তিনি বললেনঃ যখন তুমি খাবে তখন তাকেও খাওয়াবে, যখন তুমি নিজে পরিধান করবে তখন তাকেও পরিধান করাবে, তাঁর চেহারার আঘাত করবে না, গালি গালাজ করবে না, আর যদি তাঁর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হয় তাহলে স্বীয় ঘরে রেখেই সম্পর্ক ছিন্ন করবে”। (ইবনু মাযা)[1]

মাসআলা-৭১ : পিতা—মাতার পর সর্বাধিক উত্তম আচরণ পাওয়ার অধিকারী স্ত্রীঃ

“আবু হুরাইরা (রাযীয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ঈমানের দিক থেকে পরিপূর্ণ মুমেন ঐ ব্যক্তি যে চরিত্রের দিক থেকে সর্বোত্তম। আর তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি যে তাঁর স্ত্রীর নিকট সর্বোত্তমঃ।(তিরমিযী)[2]
“আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ একটি দিনার তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় করলে, একটি দিনার তুমি কোন কৃতদাসকে আযাদ করার জন্য খরচ করলে, একটি দিনার তুমি কোন মিসকীনকে দান করলে, একটি দিনার তুমি তোমার পরিবারের জন্য খরচ করলে, সোয়াবের দিক থেকে ঐ দিনারটি সবচেয়ে উত্তম যা তুমি তোমার পরিবারের জন্য খরচ করলে”।(মুসলিম) [3]

“আমর বিন উমাইয়্যা আযযামেরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ স্বামী তাঁর স্ত্রীর জন্য যা কিছু খরচ করে তা সবই সাদকা হিসেবে গণ্য হবে”।(আহমদ) [4]

“আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন মোমেন পুরুষ যেন কোন মোমেন নারীকে অপছন্দ না করে, যদি তাঁর এক দিক অপছন্দ হয় তবে অন্য কোন দিক পছন্দ হবে”।(মুসলিম)[5]

“আবদুল্লাহ বিন যাময়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন তাঁর স্ত্রীকে কৃতদাসের ন্যায় প্রহার না করে, আবার রাতে তাঁর সাথে সহবাস করে”।(বোখারী)[6]

মাসআলা-৭২ : স্ত্রীর দাম্পত্য চাহিদা পূরণ করা স্বামীর জন্য ওয়াজিবঃ

“সাঈদ বিন মোসাইয়্যেব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি সা’দ বিন আবু ওক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওসমান বিন মাযউন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কে স্ত্রীদের কাছ থেকে দূরে থাকতে নিষেধ করেছেন, যদি তিনি ওসমান বিন মাযউদ (রাযিয়াল্লাহুউ আনহু) কে অনুমতি দিতেন, তাহলে আমরা খাসী হয়ে যেতাম (পুরুষত্বকে দুর্বল করে দিতাম)”।[7]

মাসআলা-৭৩ : স্ত্রীকে কোর’আন ও হাদীসের শিক্ষা দেয়া এবং আল্লাহ ভীরু থাকার ব্যাপারে উৎসাহিত করা স্বামীর জন্য ওয়াজিবঃ

“মোয়ায বিন জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেছেনঃ সাধ্য অনুযায়ী পরিবারের প্রতি খরচ করতে থাক, তাদেরকে শিক্ষা দেয়ার জন্য তাদের উপর থেকে লাঠি উঠাবা না। আর তাদেরকে আল্লাহভীরু হওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে থাক”। (আহমদ) [8]

“আলী বিন আবু তালেব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর বাণী “তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও” এর ব্যাখ্যায় বলেছেনঃ তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের পরিবারকে সু শিক্ষায় শিক্ষিত কর”। (হাকেম) [9]

মাসআলা-৭৪ :  স্ত্রীর সম্ভ্রম রক্ষা করা স্বামির উপর ওয়াজিবঃ

“ইবনে ওমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিন ব্যাক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে নাঃ পিতা—মাতার অবাধ্য সন্তান, দাইউস, নারীর সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষ”। (বায়হাকী) [10]

নোটঃ দায়উস বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে, যার স্ত্রীর নিকট গাইর মাহরাম (যাদের সাথে বিয়ে বৈধ) লোক আসে, অথচ এতে তাঁর আত্মমর্যাদা বোধের আঘাত লাগে না।

“সা’দ বিন ওবাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ যদি আমি আমার স্ত্রীর সাথে কোন পর পুরুষকে দেখি, তাহলে তরবারী দিয়ে তাঁর গর্দান উড়িয়ে দিব। নবী  (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা কি সা’দের আত্মমর্যাদা বোধ দেখে আশ্চার্য হচ্ছ? কিন্তু আমি তাঁর চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদা বোধ সম্পন্ন। আর আল্লাহ আমার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদা বোধ সম্পন্ন”। (বোখারী)[11]

মাসআলা-৭৫ : যদি একাধিক স্ত্রী থাকে তাহলে তাদের মাঝে ইনসাফ করা স্বামীর জন্য ওয়াজিবঃ

“আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ যার দু’জন স্ত্রী আছে আর সে তাদের কোন একজনের দিকে  বেশি ঝুকে গেল, (উভয়ের মাঝে ইনসাফ করল না) সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে, যেন সে অর্ধাঙ্গ রোগে আক্রান্ত”।(আবু দাউদ) [12]

আরো পড়ুনঃ Come soon

আপনি পড়ছেনঃ ত্বালাকের মাসায়েল বই থেকে।

[1]  আলবানী লিখিত সহীহ সুনান ইবনু মাযা। খঃ ১, হাদীস নং-১৫০০।

[2]  আলবানী লিখিত সহীহ সুনান তিরমিযী। খঃ ১, হাদীস নং-৯২৮।

[3]  কিতাবুয্‌ যাকা, বাব ফযলুনাফাকা আলাল ইয়াল ওয়াল মামলুক।

[4]  কিতাবুন নিকাহ বাব আলওসিয়্যা বিন্নিসা।

[5]  কিতাবুন নিকাহ বাব আলওসিয়্যা বিন্নিসা।

 

[6]  কিতাবুন্নিকা বাব মা ইয়ুকরিহু মিন যারবিন্নিসা।

[7]  কিতাবুন নিকাহ, বাব মা ইয়ুকরাহু মিনাতাবাত্তুল।

[8]  নাইলুল আওতার, কিতাবুন নিকাহ, বাব ইসসানুল আসীরা ওয়া বায়ান হাক্কু যাওযাইন।

[9]  মানহাজুত্তারবিয়া আন ন্নবুবিয়া লিত্তিফল, লি শাইখ মুহাম্মদ নূর বিন আবদুল হাফিয আসসুওয়াইদ পৃঃ২৬।

[10]  আলবানি লিখিত সহীহ আলা জামে আস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু, খঃ ৩, হাদীস নং-৩০৫৮।

[11]  কিতাবুন্নিকাহ, বাব আলগিবা।

[12]  আলবানি লিখিত সহীহ সুনান আবু দাউদ। খঃ ২, হাদীস নং-১৮৬৭।

Syed Rubelবই থেকেমাসআলা মাসায়েলস্বামী স্ত্রী দাম্পত্য ও অধিকারমাসআলা-৬৯ : মোহর স্ত্রীর ন্যায্য অধিকার যা আদায় করা স্বামীর জন্য ওয়াজিবঃ “অন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে তাকে তাঁর নির্ধারিত হক দিয়ে দাও”।(সূরা-নিসাঃ আয়াত ২৪) মাসআলা-৭০ : স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর ব্যয়ভার বহন করা স্ত্রীর ন্যায্য পাওনা স্বামী সন্তুষ্ট চিত্বে তা পালন করা তাঁর জন্য ওয়াজিবঃ “হাকিম বিন মোয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু...Amar Bangla Post