Home / World Blog / বাংলা ব্লগ / তুরস্ক সেনাবাহিনী কতটা শক্তিশালি জানেন তো?

তুরস্ক সেনাবাহিনী কতটা শক্তিশালি জানেন তো?

সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বে অন্যতম শক্তিধর দেশ তুরস্ক। জনশক্তি, যুদ্ধাস্ত্র, প্রযুক্তি-প্রশিক্ষণ ও সামরিক ব্যয়সহ বিভিন্ন দিক থেকে তুর্কি সামরিক বাহিনী বিশ্বের সেরা বাহিনীগুলোর একটি। ১৯৫২ সাল থেকেই দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য।
সমরশক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের ২০১৬ সালের র‌্যাংকিংয়ে বিশ্বে সামরিক শক্তির দিক থেকে তুরস্কের অবস্থান অষ্টম। শক্তিশালী সামরিক বাহিনীগুলোর এই তালিকায় ১২৬টি দেশের মধ্যে তুরস্কের ওপরে অবস্থান করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ভারত, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জাপান। জার্মানি, ইতালি কিংবা পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তানও এ ক্ষেত্রে তুরস্কের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। দেশটির ২০১৬ সালের সামরিক বাজেট ১ হাজার ৮১৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।

০১ গঠন ও আয়তন ঃ সংবিধান অনুযায়ী তুর্কি সামরিক বাহিনীর বর্তমান কমান্ডার ইন চিফ বা সর্বাধিনায়ক দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। আর বাহিনীর কার্যক্রম সমন্বয় ও পরিচালনা করেন চিফ অব জেনারেল স্টাফ বা সশস্ত্রবাহিনী প্রধান। গত ১৫ জুলাইয়ের অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় চিফ অব স্টাফ জেনারেল হুলুসি আকারকে বিদ্রোহী সেনারা বন্দী করলে দায়িত্ব দেয়া হয় জেনারেল উমিত দানদারকে। এর পর থেকে তিনিই ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া স্থল, নৌ ও বিমান প্রতিটি বাহিনীর একজন করে জেনারেল পদমর্যাদার কমান্ডার ও লেফট্যানেন্ট জেনারেল পদমর্যাদার চিফ অব স্টাফ নিয়োজিত থাকেন। সামরিক বাহিনীর সদর দফতার রাজধানী আঙ্কারায়।
তুর্কি সামরিক বাহিনীর বর্তমান সদস্যসংখ্যা ৪ লাখ ১০ হাজার। আর রিজার্ভ সদস্য রয়েছে আরো এক লাখ ৭৮ হাজার ৭০০ জন। আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যসংখ্যা এক লাখ ৫২ হাজার। সব মিলে দেশটির বর্তমান সামরিক জনশক্তি ৭ লাখেরও বেশি।

০২ সেনাবাহিনী ঃ ‘তুর্কি স্থলবাহিনী’ নামে পরিচিত দেশটির সেনাবাহিনী। যার সদস্যসংখ্যা প্রায় চার লাখ। এই বাহিনীর বর্তমান কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেনারেল সালিহ জেটি চোলাক। চিফ অব স্টাফ লেফট্যানেন্ট জেনারেল ইহসান উইয়ার।

প্রধানত চারটি ডিভিশন রয়েছে তুরস্কের সেনাবাহিনীর ফার্স্ট আর্মি (ইস্তাম্বুল), সেকেন্ড আর্মি (মালাতায়া), থার্ড আর্মি (ইরজিনকান) ও আজিয়ান আর্মি (ইজমির)। এই ডিভিশনগুলোর অধীনে রয়েছে ১০টি কমান্ড। আর কমান্ডগুলোর অধীনে রয়েছে শতাধিক সেনা ব্রিগেড। এ ছাড়্া রয়েছে সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিমান, নৌ ও পুলিশিং ইউনিট।

বাহিনীর উল্লেখযোগ্য যুদ্ধসরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ট্যাংক ৩ হাজার ৭৭৮টি, আর্মারড ফাইটিং ভেহিকেল (এএফভি) ৭ হাজার ৫৫০টি, স্বচালিত কামান (এসপিজি) ১ হাজার ১৩টি, ভ্রাম্যমাণ কামান (টিএ) ৬৯৭টি, বহুমুখী রকেট ব্যবস্থা (এমএলআরএস) ৮১১টি।

বিশেষ অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০০টি এমজিএম-১৪০ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা। এই ক্ষেপণাস্ত্র ১০০ মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। চলতি বছরই নিজস্ব প্রযুক্তিতে উৎপাদিত আলটায় ট্যাংক যুক্ত হয়েছে তুর্কি বাহিনীতে। আছে আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল মিজরাক-ইউ। আছে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ৬০০ সাঁজোয়া যান বিএমসি কিরপি। পান্টার হুইটজার নামক অত্যাধুনিক কামান, যার পাল্লা ২৫ মাইল।

তুরস্ক সেনাবাহিনী
ছবিঃ তুরস্ক সেনাবাহিনী

০৩ বিমান বাহিনী ঃ তুর্কি বিমান বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল আবদিন উনাল, চিফ অব স্টাফ লেফট্যানেন্ট জেনারেল মোহাম্মদ সানভার। এ বাহিনীর মোট সদস্যসংখ্যা ৬০ হাজার।

প্রধানত পাঁচটি ডিভিশনে বিভক্ত তুর্কি বিমানবাহিনী। ফার্স্ট এয়ার ফোর্স কমান্ড (এসকিশেইর), সেকেন্ড এয়ার ফোর্স কমান্ড (দিয়ারবাকির), স্টাফ ডিভিশন কমান্ড, ট্রেনিং কমান্ড (ইজমির), লজিস্টিক কমান্ড (আঙ্কারা)।

এই কমান্ডগুলোর অধীনে রয়েছে ৯টি যুদ্ধবিমান ঘাঁটি। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও ড্রোন ঘাঁটিসহ রয়েছে আরো ১১টি ঘাঁটি ও ৪১টি স্কোয়াড্রন।
মোট বিমানসংখ্যা ১০০৭টি, যুদ্ধবিমান ২০৭টি, প্রশিক্ষণ বিমান : ২৭৬টি, হেলিকপ্টার ৪৪৫টি, সামরিক হেলিকপ্টার ৬৪টিএ

তুরস্কের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধবিমানের মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী অত্যাধুনিক এফ-১৬ ফ্যালকন। গত বছরের ২৪ নভেম্বর এই বিমানটিই তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশকৃত রাশিয়ার এসইউ-২৪এম বোম্বার ভূপাতিত করেছে। সতর্ক করার পরও রাশিয়ার বিমানটি তুর্কি আকাশসীমা ছেড়ে না যাওয়ায় মাত্র ১৭ সেকেন্ডের মধ্যে সেটি অগ্নিগোলকে পরিণত হয়।

আছে ইসরাইলের তৈরী মনুষ্যবিহীন বিমান আইএআই হিরন। এর সংখ্যা দশটি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী সর্বাধুনিক প্রযুক্তির তিনটি প্রিডেটর ড্রোন রয়েছে তুরস্কের। প্রিডেটর ড্রোন শত্রুকে নিজের উপস্থিতি জানতে না দিয়েই মিসাইল হামলা করতে সক্ষম। এর সংখ্যা শিগগিরই বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১১৫টি ব্ল্যাকহক সামরিক হেলিকপ্টার ক্রয়ের চুক্তি করেছে তুরস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথভাবে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং -২ জঙ্গিবিমান উৎপাদন করছে। গোকতুর্ক-১ ও গোকতুর্ক-২ নামে দুটি গোয়েন্দা স্যাটেলাইট রয়েছে তুরস্কের।

তুরস্কের বিমান বাহিনী
ছবিঃ তুরস্কের বিমান বাহিনী

০৪ নৌবাহিনী ঃ তুর্কি নৌবাহিনীর কমান্ডার অ্যাডমিরাল বুলেন্ত বোস্তানুগলু, চিফ অব স্টাফ ভাইস অ্যাডমিরাল সারদার দুলগার। এই বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ৪৮ হাজার ৬০০ জন।

এ বাহিনীর প্রধান ঘাঁটিগুলো হলো, নৌবহর কমান্ড (ফ্লিট), উত্তর সমুদ্র এলাকা কমান্ড, দক্ষিণ সমুদ্র এলাকা কমান্ড, নৌপ্রশিক্ষণ কমান্ড এবং আরো রয়েছে তিনটি বিশেষ বাহিনী কমান্ড। এই কমান্ডগুলোর অধীনে রয়েছে ১৮টি নৌঘাঁটি।

তুর্কি নৌবাহিনীর যুদ্ধ সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ফ্রিগেট ১৬টি, বিশেষ রণতরী ৮টি, সাবমেরিন ১৩টি, উপকূল প্রতিরক্ষা যান ২৯টি, মাইন ব্যবস্থাপনা যান ১৫টি, হেলিকপ্টার ও বিমান মোট ৫১টি, ব্যবহৃত বন্দর ৯টি। জার্মানির তৈরি টাইপ-২০৯ সাবমেরিনগুলোর প্রত্যেকটি ১৪টি টর্পোডো বহন করতে সক্ষম। আছে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরী যুদ্ধজাহাজ।

তুরস্ক নৌবাহিনীছবিঃ তুর্কি নৌবাহিনী

০৫ ন্যাটো ঘাঁটি ঃ ১৯৫২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ন্যাটো জোটে যোগ দেয় তুরস্ক। এরপর থেকে দেশটি এই সামরিক জোটের ইস্টার্ন কমান্ড হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। ন্যাটোতে যোগ দেয়ার পর তুরস্কের সামরিক সক্ষমতা প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তারা কৃষ্ণসাগর, আজিয়ান সাগরসহ ওই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে। বর্তমানে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আয়তনের দিক থেকে তুর্কি সামরিক বাহিনীর অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই। তুরস্কে মোট ২৪টি ঘাঁটি রয়েছে ন্যাটোর।

তুরস্কে ন্যাটোর সবচেয়ে বড় ঘাঁটি ইনসিরলিক বিমান ঘাঁটি। তিন হাজার ৩২০ একর জায়গার ওপর নির্মিত এই ঘাটিটির অবস্থান দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আদানায়। ইনসিরলিক ঘাঁটিতে প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন বিমান সেনা ও আরো কয়েক হাজার ব্রিটিশ ও তুর্কি সেনা রয়েছ। ১৯৫৫ সালে এই ঘাঁটিটি চালু হয়েছে। বর্তমানে ইরাক ও সিরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা পরিচালিত হয় এই ঘাঁটি থেকে। তবে তুরস্কে ন্যাটো তথা মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত সবচেয়ে পুরনো ঘাটি ইজমির বিমান ঘাটি। ১৯৫২ সালে এখানে প্রথম মার্কিন সেনারা অবস্থান নেয়। অন্যান্য ঘাঁটিগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ্আছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

এ ছাড়া তুরস্কে মোতায়েন রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পিজিএম-৯ জুপিটার পারমানবিক ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা। আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়টিক ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। শিগগিরই তুরস্কে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপন করবে যুক্তরাষ্ট্র।

সৌজন্যঃ এমটিনিউজ২৪ডটকম​

আরো পড়ুন ঃ পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কতটা শক্তিশালী জেনে নিন

About Syed Rubel

Creative Writer/Editor And CEO At Amar Bangla Post. most populer bloger of bangladesh. Amar Bangla Post bangla blog site was created in 2014 and Start social blogging.

Check Also

রূপা খাতুন, ধর্ষণ

ধর্ষণের মিছিল থামান, নয়তো একদিন আপনার কন্যারা এই মিছিলের শ্লোগানের শিকার হবে।

ধর্ষণ মানেই গায়ের জোরে নিজের ইচ্ছা চরিতার্থ করার মনোবৃত্তি। নৃশংসতা ধর্ষণের মনোবৃত্তির দোসর। আজকাল প্রায় …

One comment

  1. দারুণ একটি তথ্য জ্ঞানের আর্টিকেল পড়লাম। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *