যে কোন যৌন বা স্বাস্থ্য সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডা.মনিরুজ্জামান এম.ডি স্যার। কল করুন- 01707-330660

স্ত্রী হাদিস

মহিলা বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস তুলে ধরা হলো। আশা করি মুসলিম বোনেরা এ হাদিস গুলো পড়ে উপকৃত হবেন।মহিলা বিষয়ক ৩৩ টি হাদিস পড়ুন। নিজের জীবনেকে হাদিসের আলোকে গড়ে তুলুন।

হাদিস-১:  রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে মহিলা (নিয়মিত) পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়েছে, রমযান শরীফের রোযা রেখেছেন, নিজের গুপ্তস্থানের হিফাযত করেছে, (অর্থাৎ ব্যভিচার থেকে বিরত রয়েছে) স্বামীর আনুগত্য করেছে (তার কথা মেনে চলেছে) এমন মহিলা বেহেশতের যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। (তারবানী)

হাদিস-২: রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ মহিলাদের জন্য দুটি পর্দা রয়েছে, একটি হলো নিজের স্বামী অপরটি হলো কবর। এর মধ্যে কবর হলো অধিক পর্দার স্থান। অতএব এ দুটিকেই নিজের আওতায় আনতে পারলেই প্রকৃত কল্যাণ লাভ হবে।

হাদিস-৩: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ নেককার বিধবা মহিলাকে আকাশে শাহীদা উপাধীতে ভূষিত করা হয়।

অর্থাৎ আসমানে তার সকল কারয বিবরণীতে তাকে শাহিদা (শাহাদাতপ্রাপ্তা) সম্মানজনক নামে ভূষিত করা হয়।

হাদিস-৪: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে মহিলার স্বামী মারা যায় সে যেন রঙ্গিন কাপড়, অলংকার, মেহেদী এবং সুরমা ব্যবহার না করে। অর্থাৎ বিধবা মহিলা তার স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালনের জন্য সাজগোজ ইত্যাদি পরিত্যাগ করবে (এটাকেই শরীয়তের পরিভাষায় ইদ্দত বলে) ।

হাদিস-৫: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে মহিলা একান্ত অসুবিধা ছাড়া তার স্বামীর নিকট তালাক চায় তার জন্য বেহেশতের সুগন্ধি হারাম।

হাদিস-৬ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে মহিলা তার স্বামীর প্রতি অসন্তুষ্ট থাকে তার উপর আল্লাহর লালত পতিত হয়।

হাদিস-৭: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে মহিলা তার স্বামীকে সন্তুষ্ট রেখে দুনিয়া হতে বিদায় নেয় সে অবশ্যই বেহেশতের প্রবেশ করবে।

হাদিস-৮: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ হে মহিলাগণ! জেনে রাখ স্বামীই তোমার জান্নাত ও জাহান্নাম।

হাদিস-৯: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ সর্বোত্তম মহিলা ঐ মহিলা যার দিকে তার স্বামী তাকালে স্বামীকে সে খুশী করে দেয় এবং স্বামী তাকে কোন কাজের হুকুম দিলে সে তা মেনে চলে এবং সে তার নিজের এবং স্বামীর ধন—সম্পদের ব্যাপারে স্বামীর অপছন্দনীয় কোন আচরণ করে না।

অর্থাৎ সে তার স্বামীকে খুশী রাখার জন্য সর্বদাই সচেষ্ট থাকে।

হাদিস-১০: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি স্বামী—স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া বিবাদ বাঁধিয়ে দেয় সে আমার উম্মতের আওতাভুক্ত নয়।

সুতরাং মহিলাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা দরকার। কেননা অনেক মহিলার মধ্যে ও অভ্যাস পাওয়া যায়। এমন মহিলাকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার উম্মতের বহির্ভূত বলে উল্লেখ করেছেন। তাই সকল মা—বোনদের তাওবা করে এ কাজ হতে বিরত থাকা উচিৎ।

হাদিস-১১:  রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে মহিলা সুগন্ধি লাগিয়ে পুরুষদের মজলিসের নিকট দিয়ে যাতায়াত করে সে মহিলা যিনাকারিনী।

কত বড় আফসোসের কথা যে, যেসব মহিলা সুগন্ধি লাগিয়ে হাটে—বাজারে ও রাস্তা—ঘাটে চলাফেরা করে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যিনাকারিনী বলে আখ্যায়িত করেছেন। এতদ—সত্বেও আক মহিলারা বিনা দ্বিধায় সেজেগুজে রাস্তাঘাটে বিচরণ করে।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুণ।

হাদিস-১২: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ আমি একদা একটি যুবককে জনৈকা বেগানা যুবতীর সাথে নির্জনে এক সাথে দেখতে পেয়ে আশংকা করলাম যে শয়তান হয়ত এ সুযোগের অপব্যবহার করে তাদেরকে গুনাহে লিপ্ত করার চেষ্টা করবে অর্থাৎ উভয়েই চরিত্র নষ্ট করে মেয়েটির ইজ্জত ভুলুন্ঠিত করে দিবে।

হাদিস-১৩: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা মহিলাদের নিকট আসা-যাওয়া করা থেকে বেঁচে থাক। তখন জনৈক সাহাবী আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! দেবর (স্বামীর ভাই) কি ভাবীর নিকট আসা-যাওয়া করতে পারবে? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, দেবর (ভাবীর জন্য) মৃত্যুতুল্য। অর্থাৎ বিষপানে যেমন পার্থিব জীবনের মৃত্যু আনয়ন করে তেমনিভাবে ভাবীর নিকট দেবরের আসা—যাওয়াও ভাবীর ঈমান ও আখেরাতকে বরবাদ করে দেয়।

হাদিস-১৪: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ আমার উম্মতের নারীদের জন্য হাম্মামখানা হারাম।

অর্থাৎ মহিলাদের এমন  গোসলখানা বা পুকুরের ঘাটে গোসল করা ঠিক নুয় যেখানে বেগানা নারী—পুরুষের একত্রে সমাগম ঘটে।

হাদিস-১৫: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে মহিলা সুগন্ধি ব্যবহার করে সে যেন আমাদের সাথে ঈশার নামাযে অংশ গ্রহণ না করে।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ)—এর যুগেও মহিলারাও তাঁর পিছনে জামাআতের সাথে নামায আদায় করত। সে সময় তিনি তাদেরকে খুশবু ব্যবহার করে মসজিদে আসতে নিষেধ করেছেন। কেননা খুশবু ছড়ালে মহিলার দিকে পুরুষের দৃষ্টি যেতে পারে এবং পরবর্তীতে এট ফেতনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

আমাদের মা—বোনদের চিন্তা করা উচিৎ যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর যুগেও মহিলাদের যখন সুগন্ধি লাগিয়ে পুরুষদের সঙ্গে নামায পড়তে আসাও নিষেধ ছিল। তাহলে বর্তমানে এই ফেতনা—ফাসাদের যুগে এ ব্যাপারে কতটুকু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে সেটা সহজেই অনুমান করা যেতে পারে। অথচ বর্তমানে আমাদের মা—বোনেরা সাজগোজ করে কড়া সুগন্ধি লাগিয়ে বিনা দ্বিধায় পার্ক, মেলা ও মার্কেটে যাতায়াত করে। এমন আত্মমর্যাদাহীন কার্যকলাপ ত্যাগ করে তাওবা করা উচিৎ।

হাদিস-১৬: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ বেগানা পুরুষদের সামনে সাজগোজ করে হেলে দুলে চলাফেরাকারিনী মহিলারা কিয়ামতের অন্ধকারের ন্যায়, যার মধ্যে কোন আলো থাকবে না। আল্লাহ তাআলাও বলেছেন—তোমরা জমিনের উপর দন্ত করে চলাফেরা কর না । কেননা ইহা তাকাব্বুরী যাহা আল্লাহ তাআলার অপছন্দ আর শয়তানের পছন্দ। অর্থাৎ এমন মহিলা, যে পুরুষের সাথে হেলেদুলে চলে তাঁর মাঝে কোনই মঙ্গল নেই শুধুমাত্র অমঙ্গলই আসবে। কারণ শয়তান এর দ্বারা পুরুষদের যিনায় লিপ্ত করতে পারে। অতএব এটা কঠিন কাজ বলে বিবেচিত হবে।

হাদিস-১৭: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে মহিলার তিনটি নাবালেগ শিশু মারা যায় আর সে সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণ করে সে অবশ্যই বেহেশতে প্রবেশ করবে। অতএব যদি কেউ এ ধরণের মুসিবতের সন্মুখীন হয় সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের আশা করে। বিলাপ করে কাঁদা বা অভিযোগসূচক বাক্য উচ্ছারণ করা মুসলমানদের কাজ নয়। আল্লাহর সম্পদ আল্লাহ নিয়ে গিয়েছেন এ বলে মনকে সান্ত্বনা দিবে। তবে চিৎকার না করে এবং অভিযোগ বাক্য উচ্ছারণ না করে নীরবে ক্রন্দন করা এবং অশ্রু বের হওয়াতে কোণ অসুবিধা নাই।

হাদিস-১৮: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম মহিলা হলো। যে অতি সুন্দরী এবং তাঁর বিয়ের দেনমোহর হয় অতি অল্প। (দায়লামী)

এসব গুণ হলো মহিলাদের প্রশংসনীয় গুণ স্বামির ক্ষমতা না থাকা সত্বেও অতিরিক্ত মোহরের বোঝা তাঁর মাথায় চাপিয়ে দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এর পরিণামও খারাপ হওয়ার আশংকা আছে। কেননা অনেক স্বামীই মনে করেন যে, মোহর তো দিতেই হবে না অথচ এরূপ নিয়্যত স্বামী গুনাহগার হবে। অতএব সর্বদা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মোহর ধার্য করবে।

হাদিস-১৯: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ সন্তান মারা যাওয়ার পর ঐ শোকাহত মহিলাকে যে ব্যক্তি শান্ত্বনা দিবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে বেহেশতের পোশাক পরিধান করাবেন।

অর্থাৎ কোন মহিলার সন্তান মারা গেলে তোমরাও তাঁর সাথে কান্নাকাটিতে শরীক না হয়ে তাকে এমন শান্ত্বনা মূলক কথা বার্তা বল যাতে সে ধৈর্য ধারণ করতে পারে। তাহলে এর বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তোমাদিগকে রোজ কিয়ামতে বেহেশতের পোশাক দান করাবেন।

হাদিস-২০: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ হে মহিলাগণ! তোমরা তাসবীহ, তাহলীল, তাকদীস অর্থাৎ পাঠ করার প্রতি যত্মবান হও এবং তাসবীহ পড়ার সময় আঙ্গুল দ্বারা (কতবার পড়লে তা) গণনা করবে। নিশ্চয় এ আঙ্গুলগুলোকে (কিয়ামতের দিন বাকশক্তি দিয়ে) জিজ্ঞাসা করা হবে এবং আল্লাহ তাআলার রহমত হতে কখনও নিরাশ হবে না।

হাদিস-২১: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ দরবারে ঐ স্বামী সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি বলে প্রমাণিত হবে যে নিজ স্ত্রির গোপন কথা অন্যের নিকট প্রকাশ করে দেয় (এমনিভাবে কোন কোন মহিলার এমন অভ্যাস যে, স্বামী—স্ত্রীর গোপন ও বিশেষ অবস্থার কথা নিজের বান্ধবীদের কাছে প্রকাশ করে দেয়, এরূপ করা কবীরা গুনাহ। এ অভ্যাস অবশ্যই পরিহার করবে।  )

হাদিস-২২: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যখন স্বামী সহবাসের উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে কাছে ডাকে এবং স্ত্রী কোন শরীয় উযর ছাড়া স্বামীর ডাকে সাড়া না দেয় তবে ভর পর্যন্ত ঐ মহিলার উপর ফেরেশতারা লানত করতে থাকে।

হাদিস-২৩: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তিন ধরণের মানুষের নামায কবুল হয় না এবং তাদের কোন নেক কাজ আকাশের দিকে (আল্লাহর দরবারে) উঠে না। (ক) পলাতক গোলাম যতক্ষণ সে তাঁর মনিবের নিকট ফিরে না আসে এবং তাঁর হাতে ধরা না দেয়। (খ) ঐ মহিলা যার প্রতি স্বামী অসন্তুষ্ট। (গ) নিশাগ্রস্ত ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত নেশামুক্ত হয়ে নেশা হতে তাওবা না করে।

কত বড় চিন্তার বিষয় যে স্ত্রী তাঁর স্বামীকে অসন্তুষ্ট করল তাঁর প্রতি আল্লাহ তাআলাও অসন্তুষ্ট হয়ে যায়। ফলে তাঁর নামায ও অন্যান্য নেক আমল কবুল হয় না।

হাদিস-২৪: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মুহাজির ও আনসারদের এক মজলিসে উপবিষ্ট ছিলেন এমন সময় একটি উট এসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে সেজদা করল। সাহাবাগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে যখন পশু—পাখী, বৃক্ষলতা সেজদা করে তবে তাদের চেয়ে তো আমরাও সেজদা করার বেশী হকদার। এ কথার পর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, তোমরা একমাত্র স্বীয় মাবুদের ইবাদত কর এবং আমার সম্মান রক্ষা কর। যদি আমি কোন মানুষের জন্য কাউকে সিজদা করার অনুমতি দিতাম তাহলে স্ত্রীকে আদেশ করতাম সে যেন তাঁর নিজ স্বামীকে সেজদা করে। স্ত্রীর উপর স্বামীর এত হক রয়েছে যে, স্বামী যদি স্ত্রীকে হুকুম করে যে, হলুদ পাহাড়ের পাথর সাদা পাহাড়ে নিয়ে যাও তাহলে উক্ত কাজটি নিরর্থক হওয়া সত্বেও স্ত্রীর জন্য এ আদেশ পালন করা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

হাদিস-২৫: হাদিস-২৪: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ  কোন মহিলা যেন কোন পুরুষকে নিজে বিবাহ করে তাঁর সমুদয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করার হীন আশায় তাঁর নিজ বোনকে (এই পুরুষের পূর্বের স্ত্রীকে) তালাক দিতে প্ররোচিত না করে। কেননা তুমি ততটুকুই পাবে যা তোমার ভাগ্যে নির্ধারিত আছে (এর বেশী কিছুই পাবে না)।

ব্যাখ্যাঃ যেমন কোন ব্যক্তির অধীনে স্ত্রীরূপে একজন মহিলা আছেন। সে অন্য এক মহিলাকে বিবাহ করতে চায়। ঐ মহিলা তাকে বলল যে, তুমি যদি তোমার বর্তমান স্ত্রীকে তালাক দাও তাহলে তোমার সাথে আমার বিবাহ হতে পারে কিংবা এক ব্যক্তির ঘরে দুজন স্ত্রী আছে একজন তাঁর সতীন সম্পর্কে বলল যে, তাকে যদি তালাক না দাও তাহলে আমি তোমার ঘর সংসার করব না। হাদিস-২৪: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর আচরণ করতে নিষেধ করেছেন। কেননা প্রত্যেকে তাই পাবে যা তাঁর ভাগ্যে আছে।

হাদিস-২৬: হাদিস-২৪: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ বেগানা মহিলার প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপকারী পুরুষ এবং বেগানা পুরুষের প্রতি নজর দেয় এমন মহিলা (উভয়ের) প্রতি আল্লাহ তাআলার লানত।

বর্তমানে আমাদের মা—বোনেরা ও ব্যাপারে একেবারেই বেপরোয়া ও উদাসীন বিশেষতঃ বিবাহ-শাদীর অনুষ্ঠানে তারা খুবই উদাসীন হয়ে যান এবং বেগানা পুরুষদের সামনে অবাধে আসা—যাওয়া করে।

মনে রাখবেন এমন মহিলাদের উপর আল্লাহ তাআলার লানত পতিত হয় এ ব্যাপারে আমাদের সকলের সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।

হাদিস-২৭: হাদিস-২৪: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যখনই কোন পুরুষ কোন বেগানা মহিলার সাথে নির্জনে মিলিত হয় তখন শয়তান তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে তাদের মধ্যে এসে উপস্থিত হয়।

অর্থাৎ শয়তান তাদেরকে প্ররোচনা দিয়ে কুকর্মে লিপ্ত করে।

হাদিস-২৮: হাদিস-২৪: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তারা অর্থাৎ হিজড়ারা যেন তোমাদের ঘরে প্রবেশ না করে।

বর্তমানে দেখা যায় এসব কমবখত হিজড়াহণ কোন মহিলার সন্তানদি হওয়ার সংবাদ পেলেই সেখানে নির্দ্বিধায় ঢুকে পড়ে আর মহিলারা এ কথা ভেবে পর্দা করে না যে, তারা তো পুরুষ নুয় আসলে এটা একান্ত ভুল ধারণা। হাদিস-২৪: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হিজড়াদের থেকে পর্দা করার নির্দেশ দিয়েছেন। পর্দার ব্যাপারে হিজড়ারাও পুরুষের ন্যায়।

হাদিস-২৯: হাদিস-২৪: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ  (তাঁর দুজন সহধর্মিণীকে লক্ষ্য করে) তোমরা এর সাথেও পর্দা কর। হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) বলেন, এ আব্দুল্লা ইবনে মাকতুম তো অন্ধ; সে আমাদেরকে তো দেখতেও পায় না, চিনতেও পারে না। এদের সাথে পর্দা কেন? রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, এরা অন্ধ বটে কিন্তু তোমরা তো অন্ধ নও। তোমরা তো তাদেরকে দেখতে পাচ্ছ।

অর্থাৎ নবী পত্মীগণ মনে করেছিলেন যে, অন্ধ পুরুষদের সঙ্গেমহিলাদের কিসের পর্দা? কিন্তু এ হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, যেমনি ভাবে পুরুষের জন্য মহিলাদের প্রতি তাকানো বৈধ নয়, তরূপ মহিলার জন্যও পরপরুষের প্রতি তাকানো জায়েয নাই।

হাদিস-৩০: হাদিস-২৪: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ মেয়েলোক পর্দার আড়ালে থাকার জিনিস। যদি ( বিনা দরকারে পর্দার আড়াল থেকে) বের হয় তখন শয়তান তাঁর পিছনে লেগে যা।

অর্থাৎ শয়তান পর পুরুষের নিকট তাকে আকর্ষণীয় করে তোলে এবং চরিত্রহীন লোকেরা তাকে সুন্দরী মনে করে তাঁর পিছু লেগে যায়। অথবা শয়তান পুরুষের সঙ্গে বসে ঐ মহিলা সম্পর্কে আলোচনা জুড়ে দায়। অর্থাৎ মহিলারা একান্ত প্রয়োজন ছাড়া যেন পর্দার আড়াল হতে বের না হয়। কেননা এ কমবখত শয়তান মানুষের দৃষ্টিকে ঐ মহিলার প্রতি ফিরিয়ে দেয়। আর বখাটে লোকেরা আমাদের মা—বোনদের সম্পর্কে সব বিশ্রী কল্পনায় মেতে উঠে।

বর্তমানে অনেকেই তো বোরকা পরে না আর যারা পরে তারা অনেকেই বোরকাকে সাজিয়ে গুছিয়ে একটি ফ্যাশনের বস্তু বানিয়ে নিয়েছে। তদ্রুপ পায়জামা কামিছে ফুল করা আবশ্যক মনে করা হয়। যাতে পর পুরুষের নজর এ দিকে নিবদ্ধ হয়।

অথচ বোরকা ত বানানোই হয় পর্দার জন্য। আর আমরা এটাকে সৌন্দর্য ও আকর্ষণের বস্তু বানিয়ে নিয়েছি এটা কেমন উলটা কাজ হলো।

এ বেপর্দার কারণেই তো বহু মহিলা বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে উধাও ও অপহৃত হয়ে গিয়েছে। আর তাদেরকে কি কাজে লাগানো হচ্ছে ও কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেটা কাহারো অজানা নয়। এসব কিছুই বেপর্দা ও শরীয়ত অনুযায়ী আমল না করার কুফল।

হাদিস-৩১: হাদিস-২৪: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ  ঐ বিবাহ সর্বাধিক বরকতময় যে বিবাহ বোঝার দিক দিয়ে বেশী হালকা হয় । অর্থাৎ পাত্রপক্ষ বা পাত্রীপক্ষ কোন পক্ষের উপরই অধিক বোঝা চাপানো হয় না। আজকাল আমাদের সব বিবাহ শাদী বরকতশূন্য। নাজায়েয ও অযথা রুসম ও বেওয়াজের কারণে কত গরীবের মেয়ের যে যৌবন শেষ হয়ে গেল তার ইয়ত্তা নেই। যৌতুক দেয়ার ক্ষমতা বেচারা অভিভাবকের না থাকায় কেউ তার মেয়ে বিয়ে করতে রাজি হয় না। কেননা বিনা যৌতুকে বিবাহ করলে সমাজে তারা ছোট হয়ে যাবে।

সুতরাং আমাদের বিবাহ শাদীকে বরকতময় বানানোর জন্য একান্ত সমস্ত অহেতুক রুসুম রেওয়াজ ও কুসংস্কার পরিহার করা একান্ত প্রয়োজন।

হাদিস-৩২: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ কোন মহিলা যেন অন্য মহিলার সাথে চলাফেরা করার পর নিজের স্বামীর নিকট তার বর্ণনা এমনভাবে না দেয় যেন স্বামী তাকে দেখছে। কেননা হতে পারে তার মন ঐ মহিলার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে। অতঃপর তোমাকে কেঁদে বেড়াতে হবে।

হাদিস-৩৩: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ঐ সমস্ত মহিলার উপর আল্লাহ তাআলার লানত যারা পুরুষের আকৃতি গ্রহণ করে এবং ঐ সমস্ত পুরুষের উপর লানত যারা মহিলাদের আকৃতি গ্রহণ করে। অর্থাৎ মহিলাদেরকে পুরুষের লেবাস পোশাক ও চলাচলন অবলম্বন করতে নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং আমাদের এ ব্যাপারে সর্বদা সর্তক থাকা উচিৎ।

এই বইয়ের বাকী অংশ পড়ুন/ আপনি পড়ছেন/ মুসলমান স্বামী স্ত্রী

Syed Rubelইসলাম ও নারীবই থেকেমহিলা বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস তুলে ধরা হলো। আশা করি মুসলিম বোনেরা এ হাদিস গুলো পড়ে উপকৃত হবেন।মহিলা বিষয়ক ৩৩ টি হাদিস পড়ুন। নিজের জীবনেকে হাদিসের আলোকে গড়ে তুলুন। হাদিস-১:  রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে মহিলা (নিয়মিত) পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়েছে, রমযান শরীফের রোযা রেখেছেন, নিজের গুপ্তস্থানের হিফাযত করেছে, (অর্থাৎ ব্যভিচার...Amar Bangla Post