Breaking News
Home / বই থেকে / আটাশ (ব্যথিত হৃদয়)

আটাশ (ব্যথিত হৃদয়)

খালেদার বিয়ে হওয়ার কয়েকদিন পরই আল ফালাহ রিচার্স সেন্টার থেকে একটি সেমিনার স্মারক বের হলো। এই স্মারক-গ্রন্থের যাবতীয় ব্যয়ভার হাজী বশীর সাহেব একাই বহন করলেন। শুধু তাই নয়, সাকিবদের রিচার্স সেন্টারের কার্যক্রম দেখে হাজী সাহেব এতই খুশি হলেন যে, ইতোমধ্যে তিনি সেন্টারের জন্য দশটি কম্পিউটার এবং প্রায় তিন লক্ষ টাকার কিতাব-পত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনে দিলেন। এতে সেন্টারের কার্যক্রম আরো ত্বড়িত গতিতে এগিয়ে চলল। প্রথম এডিশনে ৫০০০ কপি স্মারক গ্রন্থ ছাপা হয়েছিল। এসব কপি খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ায় হাজী সাহেবের পরামর্শ অনুযায়ী আরো ১০,০০০ কপি ছাপা হয়। আনন্দের বিষয় এই যে, এই গ্রন্থ যারাই পড়েছে তারাই মুগ্ধ হয়েছে, বিস্মিত হয়েছে। বলতে বাধ্য হয়েছে, বর্তমান যুগে এমন বই অত্যন্ত প্রয়োজন।

এই গ্রন্থের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল, সেমিনারের প্রদত্ত মাওলানা সাকিবুল হাসানের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যটি। সর্বশ্রেণীর মানুষের উপর এই বক্তব্য এতটাই প্রভাব সৃষ্টি করেছে যে, অসংখ্য পাঠক মোবাইল এবং চিঠির মাধ্যমে মাওলানাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অনেক উচ্চশিক্ষিত লোক তো ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি এও বলেছেন যে, স্মারক থেকে আপনার বক্তব্যটি পাঠ করে সর্বাধিক উপকৃত হয়েছি। আপনি নারীদের মর্যাদা, অবস্থান, পর্দা, স্বাধীনতার ইত্যাদি বিষয়ে সে সারগর্ভ ও যুক্তিযুক্ত আলোচনা করেছেন তাতে আমাদের হৃদয়ের বদ্ধ কপাট খুলে গিয়েছে। আমাদের চিন্তা ধারার পরিবর্তন ঘটেছে। আল্লাহ পাক আপনাকে দীর্ঘজীবি করুক এবং আপনার জবান ও কলমকে করুন আরো শানিত। মোটকথা এই স্মারক গ্রন্থ অতি অল্প সময়ের মধ্যে গোটা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে ফেলে।

স্মারক গ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ার প্রায় মাস খানেক পর রিচার্স সেন্টার থেকে আরেকটি বই বের হয়। বইটির নাম দেওয়া হয়, ভুলের মাশুল। অত্র বইয়ে অবৈধ প্রেমের করুণ পরিণতি সম্পর্কিত দশটি সত্য কাহিনীও অন্তর্ভুক্ত হয়। সেই গ্রন্থে ছন্দনামে আরো স্থান পায় শাকিল ও লাবণীর হৃদয়স্পর্শী কাহিনীও। এ বইটিও অতি অল্প সময়ে পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে। সবচেয়ে আনন্দের কথা হলো, এ বই পাঠ করার পর অনেক যুবক-যুবতী তাদের ভুল বুঝতে পারে এবং এ ভয়ঙ্কর পথ পরিহার করে সঠিক পথে ফিরে আসে। সেই সাথে তারা মুসলিম যুবক-যুবতীদেরকে আলর পথের দিশা দেওয়ার নিমিত্তে এ ধরনের আো বই বের করার জোর আবেদন জানায়।

সাকিবকে কেন্দ্র করে হাজী বশীর সাহেব, মুফতি শফীউল্লাহ এ মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদের মধ্যে একটি গভীর আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠেছিল। দেখলে মনে হয়, এ সম্পর্কে যেন ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের চাইতেও বেশি মজবুত, বেশি শক্ত, বেশি অটুট, যা কখনো ছিন্ন হওয়ার নয়। একথা অবশ্য পাঠকবৃন্দ আগেই জেনে ফেলেছেন।

একদিন মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ সাহেব মুফতি সাহেবের কাছে গেলেন। তারপর দু’জনে মিলে সাকিবের বিয়ে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলেন।

মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ বললেন-মুফতি সাহেব! সাকিবের তো বিয়ের বয়স হয়েছে।

হ্যাঁ, আমিও এ ব্যাপারে চিন্তা করছি।

তাঁর জন্য কোনো মেয়ে দেখেছেন কি?

মেয়ে আর দেখব! মেয়ে তো দেখাই আছে।

আপনি কোন মেয়ের কথা বলছেন ঠিক বুঝতে পারছি না।

অনুমান করতে পারছেন তো?

হ্যাঁ, অনুমান করতে পারছি।

বলুন তো কে সে?

আমার অনুমান যদি সত্যি হয়, তবে সে হাজী সাহেবের মেয়ে নাঈমা ছাড়া আর কেউ নয়।

আপনি ঠিক ধরতে পেরেছেন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

তা কাজ কুতটুকু এগুলেন?

তেমন একটা এগুতে পারি নি।

কারণ?

কারণ তেমন কিছু নয়। সাকিবের বোন খালেদা বিয়ের উপযুক্ত ছিল না সেজন্য সাকিবের ব্যাপারটাকে আমি তেমন প্রাধান্য দেই নি।

এখন তো সে বাধা দূর হয়েছে। খালেদার বিয়ে হয়ে গেছে।

হ্যাঁ, এখন আর কোনো বাধা নেই। আমি ভেবেছিলাম দু’একদিনের মধ্যেই এ ব্যাপারে আপনার সাথে পরামর্শ করব এবং পরামর্শ মোতাবেক দু’জন মিলে যা করার করব। এখন আল্লাহর মেহেরবানীতে আপনি যখন এসে গেছেন, এবার বলুন আমরা কিভাবে সামনে অগ্রসর হতে পারি।

আমার তো মনে হয় আমরা সাকিবের আব্বা জনাব আতাউর রহমান সাহেবকে ঢাকায় এনে তাঁর কাছে নাঈমার ব্যাপারটি খুলে বলি। আমাদের কথা শুনে তাঁর পছন্দ হলে আমরা দু’জন একদিন হাজী সাহেবের কাছে প্রস্তাব নিয়ে যাব। আমার বিশ্বাস দু জনের কেউই আমাদের কথা প্রত্যাখ্যান করবেন না।

না, না প্রত্যাখ্যান করার তো প্রশ্নই আসে না। সেদিন তো আতাউর রহমান সাহেব আমাকে সাকিবের একটি মেয়ে দেখতে বলেও গেছেন। সেই সাথে এও বলেছেন যে, আপনারা সাকিবকে মানুষ করেছেন, নিজের হাতে গড়ে তুলেছেন, সুতরাং তাঁর ব্যাপারে আপনারা যা বলবেন, যা করবেন, সবই আমরা বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নিব। আপনাদের পছন্দের উপর আমাদের কোনো পছন্দ নেই। আপনি কি তখন সাকিবের আব্বাকে নাঈমার ব্যাপারে কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন?

হ্যাঁ, সামান্য একটু আভাস দিয়েরছিলাম। তবে বিস্তারিত কিছুই বলি নি। এরপর দুজনের মধ্যে সাকিবের বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে আরো অনেকক্ষণ আলাপ আলোচনা হয় এবং শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, তারা-প্রথমে সাকিবদের বাড়িতে গিয়েই তাঁর আব্বার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পেশ করবেন।-আরো পড়ুন

আপনি পড়ছেনঃ ব্যথিত হৃদয় (ইসলামীক উপন্যাস)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE