Breaking News
Home / ইসলাম / শিক্ষামূলক গল্প / আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.) এর কয়েকটি বিস্ময়কর ঘটনা

আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.) এর কয়েকটি বিস্ময়কর ঘটনা

* হযরত মাওলানা আনোয়ারী সাহেব লায়েলপুরী আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরীর (রহ.) বিশিষ্ট ছাত্র ছিলেন। তিনি বলেন-ভাওয়ালপুরের আদালতে আল্লামা কাশ্মীরী (রহ.) ও কাদীয়ানী পক্ষের সম্প্রদায়ের সঙ্গে যে ঐতিহাসিক বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেখানে কাদীয়ানী পক্ষের সাক্ষী শাহ সাহেব (রহ.) কে প্রশ্ন করল- আপনি বলেছেন যে, আমাদের ধর্ম মুতাওয়াতির বা ক্রমাগত। আর তাওয়াতুরের (ক্রমাগমনের) কোন এক প্রকারকে অস্বীকার করলে সে কাফির। অতএব, আপনার দাবী দৃষ্টে বিচার করলে কিংবদন্তী ইমাম রাযী (রহ) কে কাফির বলতে হয়। কেননা “আর রাহামূত শরহে মুসাল্লামুস-সুবূতে” আল্লামা বাহরুল উলূম (রহ.) লিখেছেন, ইমাম রাযী (রহ.) তাওয়াতুরে মা’নুবী বা অর্থগত ক্রমাগমনকে উস্বীকার করেছেন। (মাওলানা আনোয়ারী (রা.) সাহেব বলেন- এ চ্যালেঞ্জের জবাবে শাস সাহেব (রহ.) উক্ত কিতাবটি (পাওয়াতেহুর রাহামূত) তলব করলেন। ঘটনাক্রমে কিতাবটি আমাদের নিকট ছিল না। কিন্তু শাহ সাহেব (রহ.) তৎক্ষণাৎ কোন চিন্তা-ফিকির ছাড়াই বললেন-মাননীয় আদালত। যে কিতাবটির উদ্ধৃতি আমার প্রতিপক্ষ উল্লেখ করেছেন, সেটি এ মুহূর্তে আমার হাতে নেই। তবে আমি বত্রিশ বছর পূর্বে কিতাবটি দেখেছি। তাতে ইমাম রাযী (রহ.) বলেন- আরবী (দুঃখীত আমরা তা এখানে দিতে পারিনি)
এ হাদিসটি তাওয়াতুরে মা’নবীর পর্যায়ে ভুক্ত হবে না। তিনি এ হাদীসটি মুতাওয়াতির হওয়াকে অস্বীকার করেছেন। মুতাওয়াতিরে মা’নুবী -এর প্রামাণ্য হওয়াকে অস্বীকার করেননি। সে প্রহসন ও প্রতারণা মুলক উদ্ধৃতি দিয়েছে। আপনি তাকে বলুন, হয়ত সে ইবারত পড়ুক, নতুবা আমি তাঁর সামনে থেকে কিতাব নিয়ে কিতাবের মূল পাঠ আপনাকে পড়ে শোনাব। কাদীয়ানী মুখপাত্র মূলপাঠ পড়ার পর তা-ই পাওয়া গেল, যা শাহ সাহেব (রহ.) মুখস্থ শুনিয়েছিলেন। জজ সাহেব এতে অত্যান্ত আনন্দিত ও বিস্মিত হল।

হযরত শাহ সাহেব (রহ.) বললেন- মাননীয় জজ সাহেব! প্রতিপক্ষ লোকটি আমাকে নিরোত্তর করতে চেয়েছিলে, কিন্তু আমি যেহেতু একজন জ্ঞান পিপাসু তালিবে ইলম, (ছাত্র) দু’চারটি কিতাব দেখেছি, সেহেতু আমি লাজওয়াব বা নিরোত্তর হওয়ার পাত্র আমি নই ইনশাআল্লাহ। -আনওয়ারে আনওয়ারী-৩১-৩২)
* আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.) বলেন-ছোট বেলায় আমি আমার বাবার সঙ্গে মসজিদে যাওয়া-আসা করতাম। একদিন দেখতে পেলাম, দুইজন নিরক্ষর লোক মসজিদে বিতর্কে লিপ্ত। তাদের একজনের ভাষ্য আখিরাতে দেহ এবং আত্মা উভয়কেই শাস্তি দেওয়া হবে। অন্যজনের দাবী হল-আত্মাকেই কেবল শাস্তি ভোগ করতে হবে, প্রথম জন অর্থাৎ উভয়টির শাস্তির দাবীদার লোকটি তাঁর কথার সমর্থনে উপমা পেশ করল- একজন অন্ধ ও একজন লেংড়া লোক একটি বাগানে চুরি করার জন্য প্রবেশ করল। লেংড়া বলল-আমি পাঁইয়ে হাঁটতে পারি না, অন্ধ লোকটি বলল- আমি ফল দেখতে পাই না। পরিশেষে সমঝোতা হল-লেংড়া লোকটি অন্ধ লোকটির কাঁধে চড়ে ফল ছিড়বে। যথারীতি তাই করা হল।
ইতিমধ্যে গাবানের মালিক এসে হাযির হলে যেমন উভয়কে গ্রেফতার করবে। তেমনিভাবে আখিরাতেও দেহ-আত্মা উভয়টিকে শাস্তি দেওয়া হবে। সাহ সাহেব (রহ.) বলেন- আমি দীর্ঘদিন পর “তাযকিরাতুল কুরতুবী” নামক কিতাব অধ্যায়ন করছিলাম, হঠাৎ তাতে উল্লেখিত উপমাটিই হুবহু হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত হাদীসে দেখে নিরক্ষর লোকটির বিচক্ষণতা ও প্রাকৃতিক অন্তদৃষ্টিতে বিস্মিত ও হতভম্ব হয়ে রইলাম যে, লোকটি কি করে এ জওয়াব দিল! – আনওয়ারে বারী-৩৪।

শাহ সাহেব (রহ.) একদা কাশ্মীরে যাচ্ছিলেন। পথে শিয়াল কোর্ট টারমিনালে গাড়ির অপেক্ষায় বসেছিলেন। হঠাৎ জনৈক পাদ্রী বলল তোমাকে মুসলমানদের পন্ডিত ব্যক্তি বলে মনে হচ্ছে? শাহ সাহেব (রহ.) বললেন- না, আমি একজন তালিবে ইলম। পাদ্রী জিজ্ঞেস করল-ইসলাম সম্পর্কে কিছু না? শাহ সাহেব (রহ.) বললেন-যৎসামান্য । তবে ক্রস সম্পর্কে তোমাদের ধারণা সঠিক বয়। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের সত্যতা প্রমাণে চল্লিশটি দলিল পেশ করলেন। দশটি কুরআন থেকে, দশটি তাওরাত থেকে, দশটি ইঞ্জিল থেকে এবং দশটি যুক্তির আলোকে। -প্রাগুক্ত-৩৬।

* হযরত আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.) একবার আল্লামা ইবনে জারীর তাবারী (রহ.) এর ঘটনা শুনাচ্ছিলেন। আল্লামা ইবনে জারীর তাবারী (রহ.) একবার হাদীসের দরস দান করছিলেন। পথিমধ্যে জনৈক ধনী লোক এসে তাঁর খিদমতে কিছু আশারাফী (স্বর্ণমুদ্রা) ভর্তি একটি থলে পেশ করল। এতে হযরতের দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে না পেরে অবশেষে লোকটি থলেটি রেখে চলে গেল।
ইবনে জারীর (রহ.) থলেটি বাইরে ছুড়ে মারলেন। ফলে থলে ছিড়ে স্বর্ণমুদ্রা গুলো ছিটিয়ে পড়ে থাকল। লোকটি ফিরে দেখে দৌড়ে এসে সেগুলো কুড়াতে লাগল। ইবনে জারীর (রহ.) বললেন-এ মুদ্রা গুলো যখন তুমি আমাকে দিয়েই দিয়েছ, তবে আবার কেন সে গুলো কুড়াচ্ছ? এখন তো এগুলৈ আমার মালিকানাধীন। -প্রাগুক্ত-৬১।

বিভাগঃ ইসলাম / মূল বিভাগ দেখুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

দাম্পত্য জীবনের গল্প

রাসূলের মুচকি হাসি (দাম্পত্য জীবনের গল্প)

রাসূল সাঃ-মের দাম্পত্য জীবনের একটি চমৎকার গল্প পড়ুন। অন্যসব স্ত্রীদের মতো রাসূল (সাঃ)-মের স্ত্রীও নবীজিকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE