Breaking News
Home / বই থেকে / ঊনত্রিশ (ব্যথিত হৃদয়)

ঊনত্রিশ (ব্যথিত হৃদয়)

আজকাল সাকিবকে নিয়ে বশীর সাহেবের বাসায় প্রায়ই কথাবার্তা হয়। একদিন একখিলি পান স্বামীর মুখে তুলে দিতে দিতে বশীর সাহেবের স্ত্রী স্বামীকে উদ্দেশ করে বললেন–

সাকিব তো খুব ভদ্র, দয়ালু ও মার্জিত ছেলে। তাই না?

হ্যাঁ, একথা তো সবাইকে স্বীকার করতে হবে।

তাছাড়া ছেলেটির যোগ্যতাও তো কম নয়।

তাও ঠিক। তো হঠাৎ করে এসব কথা বলছ যে!

আমার মনে একটি কথা বারবার উঁকি দিচ্ছে। কিন্তু বলতে সাহস পাচ্ছি না।

নির্ভয়ে বলো।

কথাটি হলো, সাকিব যদি নাঈমাকে পছন্দ করে….।

যা বলতে চাও, বলে যাও। ভয়ের কোনো কারণ নেই।

মানে বলছিলাম কি, সাকিবদের বাড়ি থেকে যদি নাঈমার জন্য কোনো প্রস্তাব আসে!

সাকিব আমাদের উপর অপরিসীম ইহসান করেছে। তাঁর ইহসানের বদলা দেওয়া কস্মিনকালেও আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সুতরাং তুমি যা বলতে চাচ্ছ, তা যদি বাস্তব হয়, তাহলে হৃষ্টচিত্তে আমি তা মেনে নেব।

দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে নাঈমা সবকিছু শুনে ফেলে। সে তাঁর পিতা-মাতার উপর এজন্য খুশি যে, তাঁর পছন্দের সাথে তাদের পছন্দ মিলে গেছে। তারাও সাকিবকে পছন্দ করেছে। তাই তাঁর মনে তামান্না, সাকিবদের পক্ষ থেকে যেনো দ্রুত পয়গাম আসে। তারপর সে…..। আনন্দের আতিশয্যে নাঈমা এর চেয়ে বেশি ভাবতে পারে না। আনন্দে তাঁর হৃদয়-মন বারবার নেচে ওঠে। হৃদয়ের অনন্ত সুর, শব্দের আকৃতিতে কণ্ঠ চিরে বেরিয়ে আসে।

নাঈমা এখন আগের চে’ বেশি অপরূপা, অধিক সুন্দরী। মায়াময় তাঁর দৈহিক সৌন্দর্য। কারণ, হৃদয়ের আনন্দের জোয়ার তাঁর শিরায় শিরায় রক্তের বান নিয়ে এসেছে। রক্তের লালিমায় তাঁর চেহারা গোলাপী আকার ধারণ করে বড় চিত্তাকর্ষী ও মায়াময়ী করে তুলেছে।

পিতা-মাতার সম্মতির কথা স্পষ্ট শুনতে পেয়ে আকাশসম খুশি নিয়ে বাগানে এসে দাঁড়ায় নাঈমা। এই আনন্দঘন মুহূর্তে হঠাৎ নাজমা এসে হাজির হলো। কিন্তু নাঈমা তা আঁচ করতে পারল না। বিড়ালের মতো অতি সন্তর্পণে নাজমা এগিয়ে গেল। তারপর আচানক পশ্চাৎ দিক দিয়ে তাঁর ডাগর চোখ দুটি চেপে ধরল। বলল, কী খবর? এত আনন্দিত মনে হচ্ছে যে!

না, তেমন কিছু না। শীতল স্নিগ্ধ বাতাসটা মনটাকে বেশ প্রফুল্ল করে তুলেছে কিনা তাই খুব ভালো লাগছে।

নাজমা চোখ ছেড়ে দিয়ে নাঈমার লজ্জাভরা চোখে চোখ রেখে বলল, বুঝেছি, আসল কথা আমার থেকে লুকানো হচ্ছে! আমি কি তোমার আনন্দিত হওয়ার আসল কারণটি বলে দিব?

বলো দেখি।

সাকিব তোমাদের সাথে যে অভাবনীয় আচরণ করেছে, অর্থাৎ যার ওসিলায় তোমরা যে দীন পেয়েছ, সে কারণে তোমার পিতা-মাতা তোমাকে তাঁর গলার মালায় গেঁথে দিতে প্রস্তুত হয়েছেন। আমার অনুমান মিথ্যা না হলে এ বিষটাই তোমাকে এত আনন্দিত করেছে।

তুমি কি ভাবে তা জানলে?

আমি জানব না মানে! সকালে খালাম্মা ও ব্যাপারে আমার মায়ের সাথে কথা বলছিলেন। তাদের কথা থেকেই ব্যাপারটা কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলাম। আর এখন তোমাকে এতটা উৎফুল্ল দেখে তোমার ভবিষ্যৎ কোন দিকে গড়াচ্ছে তা ভালো করেই টের পেলাম।

নাজমার কথা শুনে নাঈমা যারপর নাই বিস্মিত হয়ে তাঁর দিকে বিস্ময়ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।-আরো পড়ুন

আপনি পড়ছেনঃ ব্যথিত হৃদয় (ইসলামীক উপন্যাস)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE