Breaking News
Home / বই থেকে / একুশ (ব্যথিত হৃদয়)

একুশ (ব্যথিত হৃদয়)

পরদিন পিতাপুত্র যখন গ্রামের বাড়িতে পৌঁছল তখন গ্রামের লোকজন সাকিবকে দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ল। সেই ছোট্ট সাকিব এখন কত বড় হয়ে গেছে! গ্রামের আবাল বৃদ্ধ বণিতা সবাই সাকিবকে দেখে খুশি হলো। বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা তাকে দোয়া দিতে লাগল। এই আনন্দ আর খুশিভরা দিনেও একটি মানুষের মুখে হাসি নেই। কেমন যেন একটা বিমর্ষ ভাব তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। ভিতরে ভিতরে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তিনি।

কে সে লোকটি! কে হতে পারে সে?

রাশেদা খানম। হ্যাঁ, রাশেদা খানমের মুখে আজ হাসি নেই।যেদিন তিনি শাকিলের মুখে সাকিবের বেঁচে থাকার সিংবাদ শুনেছিলেন, সেদিনই তাঁর চেহারা কালো হয়ে গিয়েছিল। প্রতিহিংসার এক বহ্নি শিখা দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠেছিল তাঁর হৃদয় মন্দিরে।আজ রাশেদা খানম মনে মনে বারবার বলছেন, আহা, যদি এই সাকিব নামের অপদার্থটার কোনো খোঁজই না পাওয়া যেত! যদি ওর অস্তিত্বই পৃথিবী থেকে বিলীন হয়ে যেত! সে না থাকলে তো আমরাই এই বিশাল সম্পত্তির মালিক হতাম। কিন্তু এখন!

বাড়িতে এসে পা রাখতেই সাকিবের স্মৃতিতে ভেসে ওঠে সৎমায়ের নির্মম আচরঙুলো। ফলে সাকিবের চোখ দুটি তখন শুঙ্ক ছিল না। কেউ লক্ষ্য করলে দেখতো, সে আখিঁ দুটিতে কি অসহ্য বেদনা ফুটে ওঠেছিল। কিন্তু নিজকে সামলে নেয় সাকিব। মনে মনে মাকে সে ক্ষমা করে দেয়। ভাবে, আল্লাহ পাক যা করেন মঙ্গলের জন্যেই করেন। কারণ তখন যদি সৎমা আমার সাথে এরূপ আচরণ না করতেন, তবে হয়তো আমার জীবন অন্যভাবে পরিচালিত হতো। এতদিনে আমি হয়তো শার্ট-প্যান্ট পড়নেওয়ালা কোনো সরকারী কর্মকর্তা হতাম। দাড়ি মুণ্ডানো কোনো ফাসেক হতাম! আলেম ও হাফেজ হওয়ার মতো সৌভাগ্য আমার হতো না। এমনকি হয়তো একথাও জানতে পারতাম না যে, দাড়ি রাখা ওয়াজিব। না রাখলে কিংবা ছাঁটাছাটি করলে কবীরা গোনাহ হয়।

সাকিব সৎমায়ের ঘরে গিয়ে তাকে সালাম দেয়। কুশলাদি জিজ্ঞেস করে। কিন্তু এই অহংকারী মহিলা আপন কর্মে ব্যস্ত থেকেই কোনোরকম দায়সারা গোছের জবাব দেন। সৌজন্য হিসেবেও তিনি সাকিবের সামনে এসে দুটি কথা জিজ্ঞেস করলেন না। এতদিন কোথায় ছিল, কেন সে ফিরে এলো না, কিভাবে কেটেছে তাঁর দিনগুলো–কিছুই তিনি জানতে চাইলেন না। অথচ তাঁর কারণেই সাকিব আজ পনের বছর যাবত আপন জম্মস্থান ছেড়ে দূরে, বহুদূরে অবস্থান করছে!

সাকিব দশদিন বাড়িতে ছিল। বাড়িতে গিয়ে সে শুনল, লাবণী নামের তাঁর একটি সৎবোন ছিল। সে মারা গেছে।

কিভাবে মারা গেছে?–এই প্রশ্ন যখন সাকিব করল তখন তাকে শোনানো হলো ঐ কাহিনী যে কাহিনী সে শোনেছিল মাদরাসা দারুর রাশাদের ছাত্র সোহেলের মুখ থেকে। ঘটনা শুনে সাকিব বিস্ময়ে বিমুঢ় হয়। তাঁর চোখ দিয়ে দরদর করে পানি ঝরতে থাকে।বাড়িতে অবস্থান কালে সাকিব কয়েকবার তাঁর সৎভাই সেন্টুকে ও ছোট বোন খালেদাকে মাদরাসায় ভর্তি করার ব্যাপারে পিতামাতার সাথে আলাপ করেছে। বলেছে, ওদেরকে আমি ঢাকায় নিয়ে যাই। সেখানে ভাল মাদরাসায় ভর্তি করে দেব। সমস্ত খরচও আমি বহন করব।

যাও নিয়ে যাও। আমার কোনো আপত্তি নেই। বললেন, সাকিবের পিতা আতাউর রহমান সাহেব। আর খরচের কথা বলছ? খরচ তোমাকে দিতে হবে না। আমিই মাসে মাসে টাকা নিয়ে যাব অথবা মানি অর্ডার করে পাঠিয়ে.. .. .. .. ।

আতাউর রহমান সাহেব তাঁর কথা শেষ করতে পারলেন না। রাশেদা খানম ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বলে ওঠলেন, খালেদার ব্যাপারে তোমরা যা মনে চায় করো। কিন্তু আমার সেন্টুকে আমি দেব না। ওকে আমি ব্যারিস্টার বানাব।

সাকিব ও তাঁর পিতা রাশেদা খানমকে অনেক বুঝাল। কিন্তু কে শুনে কার কথা! তাঁর কথা একটাই। কোনো অবস্থাতেই সে তাঁর একমাত্র ছেলেকে মৌলবী বানাবে না। ফকীরী বিদ্যা(!) শিখাবে না। জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিত করে তাকে ব্যারিস্টার কিংবা বড় কোণো অফিসার বানাবে।

রাশেদা খানমের এ কঠোর মনোভাবের কারণে শুধু খালেদাকে নিয়েই সাকিব ঢাকায় চলে আসে। অতঃপর তাকে নাঈমার সাথে একই মাদরাসায় ভর্তি করে দেয়।–আরো পড়ুন

আপনি পড়ছেনঃ ব্যথিত হৃদয় (ইসলামীক উপন্যাস)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE